শিক্ষা

আমার এত দুঃখ কেন

 

 

 

আমার এত দুঃখ কেন

 

 

মাঝে মাঝে ভীষণ কষ্ট লাগে। বুকের ভেতরে বাসা বাঁধে দুঃখের কালো মেঘ। অবিরামবৃষ্টিরধারার মতো বিষণ্ণতা এসে আছড়ে পড়ে মনের উঠোনে। আকাশছোঁয়া হিমালয় যেনতার সমস্ত ঐশ্বর্য নিয়ে ভেঙে পড়তে চায় বুকের ওপর। জগৎসংসার তখন বিষাক্ত লাগে।মঝে মাঝে প্রচণ্ড দুঃখবোধে ভেঙে পড়ি আমরা। হয়তো হঠাৎ করে হারিয়ে বসিকোনো প্রিয় মানুষকে।

খুব আশা করে থাকি এবারের পৌষের শীতে মায়ের হাতেবানানো ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা খাব বলে। কিন্তু পৌষ আসার আগেই মা হয়তোদুনিয়ার পাঠ চুকিয়ে ওপারে পাড়ি জমিয়েছেন। অথবা, আস্তে আস্তে করে জমানোটাকা, যে টাকা দিয়ে বাবাকে ঈদে উপহার দিয়ে চমকে দেবো ভেবেছিলাম, ঈদ আসার আগেই হয়তো বাবা চলে গেছেন রবের সাক্ষাতে।

এমনও হতে পারে, ভালো বেতনের কোনো চাকরি হঠাৎ করেই চলে গেল। অথবা,আমার এক বন্ধু আমার সমান যোগ্যতা নিয়ে জীবনে সাঁই সাঁই করে উন্নতি করছে,কিন্তু আমি কিছুই করতে পারছি না। আমার বন্ধু আমার সমান খাটা-খাটুনি করেখুব ভালো রেজাল্ট করছে, কিন্তু আমি পারছি না।পারিবারিক অথবা দাম্পত্য জীবনটাও খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ব্যবসায় লোকসানহচ্ছে। খেতে নষ্ট হচ্ছে ফসল। উর্বরতা হারাচ্ছে আবাদি জমি। মরে যাচ্ছে গবাদি মন খারাপের দিনে
খুব মন খারাপ? হৃদয়ের অন্দরমহলে ভাঙনের জোয়ার? চারপাশের পৃথিবীটাকে বিশ্বাদ আর বিরক্তিকর লাগছে? মনে হচ্ছে, আপন মানুষগুলো দূরে সরে যাচ্ছে?

 

হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জন,

 

 

প্রিয়মানুষ? কিংবা অাচিত, অন্যায্য সমালোচনায়ক্ষতবিক্ষত অন্তর? নিন্দুকের নিন্দায় হৃদয়ের গভীরে গভীর দুঃখবোধের প্লাবন?তাহলে চলুন আমরা ঘুরে আসি অন্য একটা জগত থেকে।বলছিলাম সেই সময়কার কথা যখন পৃথিবীতে রাজত্ব করছিল সবচাইতে নিকৃষ্ট, নির্দয়,নরপিশাচ শাসক ফিরাউন। সম্ভবত, পৃথিবী আর কখনোই তার মতন দ্বিতীয় কোনোজালিম শাসককে অবলোকন করবে না। তার অত্যাচার আর নির্যাতনের মাত্রা ছিল অতি ভয়ংকর হবেই-বা না কেন? নিজেকে সে ‘খোদা’ দাবি করত। খোদার শান,

মান আর মর্যাদার আসনে কল্পনা করে সে নিজেকে ভাতের একচ্ছত্র অধিপতি ধরেনিত। তার এই মিথ্যে দাবির সাথে যারাই দ্বিমত করত, তাদের কপালে জুটত—মৃত্যু!সেই মৃত্যুগুলো কোনো সাধারণ মৃত্যু ছিল না। কাউকে আগুনে পুড়িয়ে মারত, কাউকেপানিতে চুবিয়ে মারত। যেন মৃত্যুর বাহারি আয়োজনে ভরপুর থাকত তাঁর সংসদ।ফিরাউন হরে ধরে বনি ইসরাইলের পুত্র সন্তানদের হত্যা করত। ফিরাউন জানত,তাকে বধ করার জন্য এই বনি ইসরাইলের মধ্যেই সত্য ইলাহের একজন সত্য নবি
প্রেরিত হবে। সে ভাবত, বনি ইসরাইলের ঘরে জন্ম নেওয়া সকল পুত্র সন্তানকেহত্যা করতে পারলেই তার পথের কাঁটা সাফ করে ফেলা যাবে।আর মুহাম্মাদ কেবল একজন রাসুল! তার পূর্বে নিশ্চয় অনেক রাসুল বিগতহ য়েছেন।

যদি মুহাম্মাদ মারা যান কিংবা তাকে হত্যা করা হয়, তবে কি
তোমরা আল্লাহর রাস্তা থেকে পলায়ন করবে? (জেনে রাখো) যে ব্যক্তি
আল্লাহর রাস্তা থেকে পলায়ন করে, সে আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে
পারে না। আর আল্লাহ শীঘ্রই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান প্রদান করবেন।
আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মুখে এই আয়াত শুনে মুহূর্তেই স্তম্ভিত হয়ে যান উমাররাযিয়াল্লাহু আনহু। তিনি বললেন, ‘মনে হলো এই আয়াত আমি আজই প্রথম শুনলাম!উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর মতন একজন বিশিষ্ট সাহাবিও অল্প কিছু সময়ের জন্যবিস্মৃত হয়েছিলেন সেদিন। শোকের আতিশয্যে তিনি ভুলতে বসেছিলেন, মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লামও মৃত্যুবরণ করতে পারেন। একজন নবি, প্রেরিত

রাসুল; আসমানি কিভাবের ধারক-বাহক। জগতে পদচিহ্ন রাখা সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।এমন মানুষেরও মৃত্যু হতে পারে? — ভাবনার এমন দোটানায়, বিস্মৃতির এমন ঘোরেনিমজ্জিত ছিলেন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু। আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর মুখ থেকেকুরআনের একটি আয়াত শুনেই সেদিন তার এই ঘোর ভাঙল। বুঝতে পারলেন,
অতি শোকে এক মহাসত্য, এক মহাবাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন তিনি। এমননয় যে, এই আয়াত এর আগে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু শোনেননি। ইতঃপূর্বে অনেকঅনেক বার তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করেছেন। অনেক মানুষকে তিনি এইআয়াত পড়ে শুনিয়েছেন, শিখিয়েছেন। তারপরও তিনি বললেন, ‘মনে হলো এইআয়াত আমি

 

 

আজই প্রথম শুনলাম

 

 

‘ এই যে আবু বক্কর রাযিয়াল্লাহু আনহ্বর একটিবেলা ফুরাবার আগেনবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুর দিন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু একেবারেপাগলের মতো হয়ে গেলেন। ‘নবিজির মৃত্যু হতে পারে’–এই ব্যাপারটা তিনিবিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তিনি হয়তো ভাবলেন, আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত একজনরাসুল, যাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বাছাই করেছেন গোটা মানবজাতিরজন্যে, যার ওপর নাযিল হয়েছে আসমানি গ্রন্থ আল-কুরআন, মহান আল্লাহ সুবহানাহুওয়া ভাঙ্গালা যার সাথে সাত আসমানের ওপরে সাক্ষাৎ করেছেন, তার কীভাবে মৃত্যুহতে পারে?

উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু তখন অধিক শোকে পাথর। ‘মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লামও একজন মানুষ। মানুষ হিশেবে তার মৃত্যু হওয়াটাই স্বাভাবিক।আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সৃষ্ট কোনো বস্তুকেই অমরত্ব দান করেননি’—এইধ্রুব সত্য থেকে তার মন তখন খানিক সময়ের জন্য বিস্তৃত হলো। নবিজির প্রয়াণদিবসে এই কথাগুলো বোঝার মতন অবস্থা উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুর ছিল না। শোকেমুহামান অবস্থায় তিনি গর্জে উঠেন। বললেন, ‘যে ব্লবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের মৃত্যু হয়েছে, তাকেই আমি হত্যা করব। ১

Related Posts

অলসতা সারা জীবনের কান্না

  অলসতা   অলস হওয়া মানে পরকালীন পরিতাপে ভস্ম হওয়ার আগেই দুনিয়ার অনুতাপে পুড়েমরা। অলসদের ব্যাপারে ইমাম ইবনুল জাওমি বলেন,সমবয়সী বন্ধুরা জ্ঞানে ও বিজ্ঞানে অগ্রগামী হয় আর সে…

সুখ দুঃখের সংসার

প্রতিটি মানুষের জীবনের দুটো গল্প থাকে   , একটা সুখের, একটা দুঃখের,আমরা শুধু দুঃখটাকেই মনে রাখি,সবসময় না পাওয়া জিনিসগুলো নিয়ে পড়ে থাকি, এটা থেকেই ডিপ্রেশন নামক ভয়ংকর রোগটা…

প্রতিবন্ধীদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত

  প্রতিবন্ধীদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত   আমার খবরের চ্যানেল যারা আছেন তাদেরকে বলছি-দয়া করে আমার কথাগুলোতে কষ্ট পাবেন না- আপনাদের অনেককেই দেখি আপনারা প্রায়ই মজার ছলে,হাসির ছলে…

কক্সবাজার  ভ্রমণ ২০২১

  কক্সবাজার  ভ্রমণ   নভেম্বরের ২৩ তারিখে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা উঠলো কক্সবাজারের – সেন্ট মার্টিন।তারিখ ও ঠিক করে ফেললাম ৫ ই ডিসেম্বর। কথা অনুযায়ী ট্রেনে…

ছােট অভ্যাস বড় সাফল্য

আমার গল্প     স্কুলজীবনের শেষদিনে সােফমাের উচ্চ বিদ্যালয়ে, একটি বেসবল ব্যাটের দ্বারাআঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলাম আমি। আমার বন্ধু একটি ফুলসুইং বলকে পুরোদমে মারতেচেয়েছিল। হঠাৎ ব্যাটটি তার হাত থেকে পিছলে…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার

    তথ্য মাধ্যমে চাকরি বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত   চাকরির ধরন ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রয়ােজনীয় অভিজ্ঞতাপত্রপত্রিকায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক চাকরির বিজ্ঞাপন সাধারণত ইংরেজিতেই প্রকাশিত হয়েথাকে। তাই…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *