অর্থনৈতিক আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ বিনোদন শিক্ষা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

 

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত

এসএসসি  পরীক্ষা  শেষ  হতে  না  হতেই  সৌম্য  যেন  নড়ে চড়েবসল। কোথা  ও   ঘুরতে  যেতে  হবে ।  কিন্তু  কীভাবে   বাবার  তােসময়  নেই, মাও যেতে  পারবে    না । পরীক্ষা  শেষ  হয়েছে  দুদিন  হলাে । দেখতে দেখতে  ফোর  জিগতিতে  সময়  পার  হয়ে  যাবে , টেরও  পাওয়া  যাবে না । এর  আগে জেএসসি  পরীক্ষার  পরে  ছুটিটা  একদম  মাঠে  মারা গেছে । এবারতা  হতে  দেয়া  যাবে  না বলে সৌম্য  খুব   চিন্তায় 

পরীক্ষার খবর।

 

 আছে।আগের  দিন  তাে  নেইআগের  দিনে  ছেলে – মেয়েরা  পরীক্ষারছুটিতে, সামার  ভ্যাকেশনে  বাবা – মার  সাথে  গ্রামে  দাদাবাড়ি   নানাবাড়ি বেড়াতে  যেত ।  এখনাে  যায়  তবে  সংখ্যাটা  কমে  এসেছে।মনে হয়। এখন  তাে অনেকের  দাদাবাড়ি , নানাবাড়ি  শহরে তাছাড়া গ্রামগুলাে এখন  উন্নয়নের ছোঁয়ায় কেমন যেন হাফ শহর হাফ শহর হয়ে গেছে।বাবার কাছে গ্রামের অনেক গল্প শুনেছে সৌম্য। সৌম্যের বাবার

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

কিংবা দাদার কোনাে গ্রামের বাড়ি নেই। ওনারা শহরের মানুষ।সৌম্যের বাবার নানাবাড়ি গ্রামে। সেখানে নাকি ওর বাবা প্রতিবছরবেড়াতে যেতেন। গ্রামের ওই বাড়িতে বছরে একবার না গেলেওর বাবার মন খারাপ হয়ে যেত। অথচ তিনি এখন আর গ্রামেযাবারই সময় পান না সৌম্য জীবনজীবিকার টানাপােড়েন বােঝে না। কিন্তু এটা বােঝেসংসার চালাতে, ব্যবসা চালাতে বাবাকে অনেক পরিশ্রম করতেহয়; অনেক

 

কষ্ট করতে হয়। এর মাঝে যেটুকুন সময় পান তখনইঘুরতে বের হন। সৌম্যদের তখন খুব মজা হয়। বাবা-মায়ের বন্ধু-বান্ধব মিলিয়ে পাঁচ ফ্যামিলি ও তাদের বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে দলবলবেঁধে তখন ঘােরাঘুরি করা হয়। খুব, খুব মজা হয় সে সময়।দলবেঁধে ঘােরাঘুরির কথা মনে হতেই সৌম্যের মনটা আরাে খারাপ হয়ে যায়।

 

নতুন কিছো পড়ুন  – বাইছাইকেল,আমাদের জীবনে ছোট্ট একটি উপকারী জিনিস।

 

বাবা-মা কিংবা আঙ্কেল-আন্টিরা কেউ এখন সময় দিতে পারছেন না। কিন্তু এখন না গেলে পরে তাে আর হবে না। রেজাল্টহবার পরপরই কলেজে অ্যাডমিশনের চাপ। তারপর নতুন কলেজ,নতুন ক্লাস, নতুন স্যার-ম্যাডাম, নতুন বন্ধু-বান্ধব। ওহ, সব নতুননতুন, তখন তাে আর নড়াই যাবে না।এদিকে আরেক চিন্তা। আগামীকাল ওদের পাড়ায় কাবাডি প্রতিযােগিতা। সৌম্যের ওপর ওদের টিমের অনেক কিছু নির্ভরকরছে। সৌম্য ভালাে কাবাডি খেলে। পাড়ার শহিদ রতন স্পাের্টিংক্লাবের সদস্য সে।এরও একটা ইতিহাস আছে। ওর তাে শরীর-স্বাস্থ্য বেশভালাে;

অনেকে আদর করে মােটু বলে ডাকে

 

ওদের ইংলিশ মিডিয়ামস্কুলের বার্ষিকক্রীড়া প্রতিযােগিতা, আন্তঃস্কুল ক্রীড়াপ্রতিযােগিতাসহ অন্যগুলােতেঅংশগ্রহণের জন্য স্পাের্টস টিচারসুমন স্যার ওদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার প্রতি জোরদেন। স্যারের কথা, ইংলিশ মিডিয়াম পড়লে হবে কি, এরা তােসব এ দেশেরই সন্তান। উনি ছাত্র-ছাত্রীদের যাচাই-বাছাই করেফুটবল, কাবাডি, ভলিবল, মােরগ যুদ্ধ, হ্যান্ডবল খেলার প্রশিক্ষণদেয়া শুরু করেন

 

সম্যকে উনি পছন্দ করেন হাডুডু বা কাবাডিদলের জন্য। সৌম্যের শরীর স্বাস্থ্যের সাথে সাথে জোরও খুব। খুবসহজেই সে খেলাটা রপ্তকরে ফেলে। অল্প দিনেই ওদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজের কাবাডি দলের সেরা খেলাে য়াড় হয়েওঠে। আর ও তাে এমনিতেই ফাজিল দি গ্রেট। তার ওপর যদিকেউ কাবাডি খেলায় ওর ফাজলামাে দেখে, হেসে গড়াগড়ি খাবে।

https://usabcnews.com/%e0%a6%8f%e0%a6%87-%e0%a6%97%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8/

ও খুব মজা করে লাফ-ঝাপ দিয়ে খেলে। ফলে খেলায় ওরদক্ষতার সাথে সাথে পারফরম্যান্সটাও হয়ে ওঠে দেখার মতাে।এরই মধ্যে আবার স্পাের্টস টিচার সৌম্যের পেছনে লাগেন শরীরনিয়ে। তিনি বলেন, সৌম্যর ত সুন্দর ফিগারটা মােটা হয়ে তিনিনষ্ট হতে দেবেন না। লাগিয়ে দেন ওকে নিয়মিত ব্যায়াম করতে ।প্রথম দিকে ভীষণ বিরক্ত হতাে ও। এত অত্যাচার কার সহ্য হয়!নিয়মিত হাঁটবে, দৌড়, বুক ডন, ডাম্বেল করাসহ আরাে কতরকমের ব্যায়াম। এরপর আছে আবার ডায়েটিং। ক্যালােরি মেপেমেপে ডায়েট চার্ট করে দিয়েছেন সুমন স্যার। এসব অত্যাচারেসৌম্য সিদ্ধান্ত নিল, এত কষ্ট তাে সহ্য করা যায় না। হাডুডু খেলামেনে নেয়া যায়। ব্যায়ামও না হয় কষ্ট করে মেনে নেয়া যায়, কিন্তুখাওয়া নিয়ে অত্যাচার!

 

কখনাে না, নাে-নেভার।কোনােভাবেপে মেনে নেয়া যাবে না। এই স্কুল বদলাতে হবে।কিন্তু স্কুল বদলাতে চাইলেই তাে হবে না; এত সহজ নয়। তারওপর তখন ক্লাস নাইনে পড়ায় অলরেডি বাের্ড রেজিস্ট্রেশনও করাহয়েছে। তাই স্কুল চেঞ্জ করা সম্ভব নয়। এক কাজ করা যেতেপারে। সুমন স্যারকে একটা শিক্ষা দিতে হবে যেন অন্তত ওরডায়েটিংয়ের ব্যাপারে ছাড় দেন। কিন্তু স্যারের সাথে তাে বেয়াদবিকরা যাবে না। এদিকে

 

ডায়েটিংয়ের অত্যাচারও তাে সহ্য হচ্ছেনা। মহা চিন্তায় পড়ে সৌম্য।সুমন স্যার অনেক হ্যান্ডসাম। নিয়মিত খেলা ও ব্যায়াম করার ফলেওনার শরীরে সবসময় আলাদা রকম একটা সতেজতা কাজ করে।সৌম্য মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, দুই উপায়ে সুমন স্যারকে শায়েস্তা

Related Posts

অলসতা সারা জীবনের কান্না

  অলসতা   অলস হওয়া মানে পরকালীন পরিতাপে ভস্ম হওয়ার আগেই দুনিয়ার অনুতাপে পুড়েমরা। অলসদের ব্যাপারে ইমাম ইবনুল জাওমি বলেন,সমবয়সী বন্ধুরা জ্ঞানে ও বিজ্ঞানে অগ্রগামী হয় আর সে…

আমার এত দুঃখ কেন

      আমার এত দুঃখ কেন     মাঝে মাঝে ভীষণ কষ্ট লাগে। বুকের ভেতরে বাসা বাঁধে দুঃখের কালো মেঘ। অবিরামবৃষ্টিরধারার মতো বিষণ্ণতা এসে আছড়ে পড়ে মনের…

সুখ দুঃখের সংসার

প্রতিটি মানুষের জীবনের দুটো গল্প থাকে   , একটা সুখের, একটা দুঃখের,আমরা শুধু দুঃখটাকেই মনে রাখি,সবসময় না পাওয়া জিনিসগুলো নিয়ে পড়ে থাকি, এটা থেকেই ডিপ্রেশন নামক ভয়ংকর রোগটা…

প্রতিবন্ধীদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত

  প্রতিবন্ধীদের সুযোগ করে দেওয়া উচিত   আমার খবরের চ্যানেল যারা আছেন তাদেরকে বলছি-দয়া করে আমার কথাগুলোতে কষ্ট পাবেন না- আপনাদের অনেককেই দেখি আপনারা প্রায়ই মজার ছলে,হাসির ছলে…

সাফল্যের চাবি আপনার হাতে

নতুন বছরে নিজকে সফল করতে পারেন   নতুন বছর শুরু হয়েছে। সবারই ইচ্ছা তার এ বছরটি যেন গত বছরের থেকেআরাে বেশি ভালাে ও সুন্দর কাটে। আর আপনার এ…

কক্সবাজার  ভ্রমণ ২০২১

  কক্সবাজার  ভ্রমণ   নভেম্বরের ২৩ তারিখে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা উঠলো কক্সবাজারের – সেন্ট মার্টিন।তারিখ ও ঠিক করে ফেললাম ৫ ই ডিসেম্বর। কথা অনুযায়ী ট্রেনে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *