আন্তর্জাতিক

কবিরাজি শিক্ষা।

 

কবিরাজি শিক্ষা

 

রােগমাদৌ পরীক্ষেত ততোহনস্তমৌষধ।ততঃ কর্ম ভিষ পশ্চাৎ জ্ঞানপূৰ্ব্বং সমাচরেৎ চরক-সংহিতা।প্রথমতঃ রােগ-পরীক্ষা করিয়া, তৎপরে তাহার ঔষধ কল্পনা পূর্বক চিকিৎসা করিবে; ইহাই সমুদায় চিকিৎসাশাস্ত্রের উপদেশ।রােগ-পরীক্ষার প্রয়ােজনীয়তা।–বস্তুতঃ, চিকিৎসার প্রধান অঙ্গ-রােগ-পরীক্ষা। যথাযথরূপে রােগ নিশ্চয় না হইলে, তাহার ঔষধও নিশ্চয়হইতে পারে না। যাহার যে নাম, তাহাকে সেই

 

নাম ধরিয়া না ডাকিলে যেমন তাহার উত্তর পাওয়া যায় না, অথবা অনেক সময়ে সেই অযথা আহূত ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হইয়া উঠে, সেইরূপ অনিশ্চিত রােগের কোনরূপ ঔষধদ্বারা প্রতিকারের আশা করা যায় না; পরন্তু তাহারা অধিকাংশ স্থলেই রােগবৃদ্ধি বা জীবন নাশ পর্যন্ত অনিষ্ট ঘটিয়া থাকে। অতএব প্রথমতঃ রােগ পরীক্ষা করা নিতান্ত অবশ্যক।

 

পরীক্ষার উপায় ।-সক্ষেপতরােগ-পরীক্ষার তিনটা উপায় শাস্ত্রোপদেশ, প্রত্যক্ষ ও অনুমান। প্রথমতঃ রােগীর নিকট সমুদায় অবস্থা অবগত হইয়া শাস্ত্রোপদিষ্ট লক্ষণের সহিত মিলাইতে হইবে; তাহার পর অনুমান

 

দ্বারা রােগের আরম্ভক দোষ ও তাহার বলাবল নিশ্চয় করিয়া লইতে হইবে।রােগীর নিকট অবস্থা অবগত হইবার সময়ে সমুদায় ইন্দ্রিয়রাই প্রত্যক্ষ করা আবশ্যক। রােগীর বর্ণ, আকৃতি, পরিমাণ (ক্ষীণতা বা পুষ্টতা, ও কান্তি,এবং মল-মূত্র, নেত্র প্রভৃতি যাবতীয় দর্শনযােগ্য বিষয় গর্শনারা; রােগীর মুখ হইতে তাহার সমস্ত অবস্থা এবং অন্ত্রকুজন,

 

 

https://usabcnews.com/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%b8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%95/

 

 

সন্ধিস্থান বা অলিপৰ্ব্বসমুহের দুটন প্রভৃতি শরীরগত যে সকল লক্ষণ শ্রবণ করা আবশ্যক, তাহা শ্রবণকারী;শারীরিক গন্ধ প্রকৃত আছে কি বিকৃত হইয়াছে, তাহার পরীক্ষার জন্য সর্বশরীরগত গন্ধ এৎ মল, মূত্র, শুক্র ও বান্তপদার্থ প্রভৃতির গন্ধ মাণদ্বারা এবং সন্তাপ নাড়ীগতি প্রভৃতি স্পর্শদ্বারা প্রত্যক্ষ করিতে হয়। কেবল স্বকীয় রসনেত্রিকায়

 

কোন বিষয় প্রত্যক্ষ করা অসম্ভব ;. এ মধুমেহানিতে মূত্রাদির মিষ্টতা,যােগবিশেষে সর্বশরীরের বিরসত ও রক্তপিত্তে রক্তের আস্বাদ জানিবার আবশ্যক হইলে, তাহা অন্য প্রাণির পরীক্ষা করিবে। শরীরে উকুনাদি কীটের উৎপত্তি হইলে সৰ্ব্বশরীরের বিরসতা, এবং বহুলপরিমাণে মক্ষিকার উপবেশনারা সৰ্ব্ব-শরীরের মিষ্টতা অনুমান করিতে হয়। মূত্র মিষ্টান্মাদ হইলে তাহাতে পিপীলিকা লাগিয়া থাকে। রক্তপিত্তে প্রাণরক্ত বমন হইয়াছে কি না সন্দেহ হইলে, তাহা কাক ও কুকুরাদি জন্তুকে খাইতে দিবে ; তাহারা তাহা খাইলে—প্রাণরক্ত, এবং খাইলে রক্তপিত্তের রক্ত বলিয়া নিশ্চয় করিবে। অগ্নিবল, শারীরিক বল, জ্ঞান ও স্বভাব, প্রভৃতি বিষয়গুলি কাৰ্যবিশেষত্বারা অনুমান করিয়া লইতে হয়

 

 

ক্ষুধা,পিপাসা, রুচি, অরুচি, সুখ, গ্লানি, নিদ্রা ও স্বপ্নদর্শন প্রভৃতি বিষয় রােগীকে জিজ্ঞাসা করিয়া জানিতে হয়। অতি সামান্য বিভিন্ন দুই তিনটী রোগের মধ্যে।কোন্ রােগ হইয়াছে, নিশ্চয় করিতে না পারিলে, সামান্য ঔষধ-প্রয়ােগে উপকার বা অপকার দ্বারা, তাহা নিশ্চয় করিয়া লইতে হয়। লক্ষণ বিশেষষ্কার রােগের সাধ্যতা, যাপ্যতা এবং অসাধ্যতা নিশ্চয় করিবে এবং অরিষ্ট-লক্ষণদ্বারা রােগীর মৃত্যুবিষয় অবগত হইবে।এই সমস্ত বিষয়ের মধ্যে নাড়ী-পরীক্ষা, পরীক্ষা, নেত্ৰ-পরীক্ষা, জিহ্বা-পরীক্ষা প্রভৃতি, এবং অরিষ্ট-লক্ষণ সহজে নিশ্চয় করা যায় না; এজয় যথাক্রমেপ্রত্যেকের বিশেষ নিয়ম লিখিত হইল

নাড়ী পরীক্ষা

 

নাড়ী-পরীক্ষা।-ইন্তের মণিবন্ধস্থলে-অনুষ্ঠ-অঙ্গুলির মূলভাগে যে একটী গ্রন্থি আছে, তাহার নিদেনে অঙ্গুলি-স্পশার নাড়ীর স্পন্দনবিশেষ বিৰেচনা করিয়া, বােগ-পরীক্ষা করার নাম নাড়ীপরীক্ষা নাড়ী পরীক্ষাকালে পুরুষের দক্ষিণহলের এবং স্ত্রীলােকের বামহন্তের নাড়ী পন্থীক্ষা করিতে হয়।যেহেতু স্ত্রী-পুষে শরীরভেদে নাড়ীসমূহের মূলভাগ বিপরীতভাবে বিন্যস্ত ;সুং পুরুষের দক্ষিণছন্তে যে নাড়ীর স্পন্দন অনুভূত হয়, তাহাই স্ত্রীলােকের

কবিরাজি শিক্ষা

 

 

বামহন্তে অনুভূত হইয়া থাকে। এতদ্ব্যতীত পদদ্বয়ে, গুলফ-গ্রন্থির সিলভাগে,এবং কণ্ঠ, ‘নাসিকা ও উপস্থদেশেও নাড়ী-স্পন্দন অনুভব করা যায়। মুমবঅবস্থায় যখন হস্তনাড়ী স্পষ্ট অনুভব করিতে পারা যায় না, তখনই ঐসকল স্থানে নাড়ী পরীক্ষা করিবার নিয়ম প্রচলিত আছে।

 

 

পরীক্ষার নিয়ম -রােগীর হন্তের পরীক্ষণীয় নাড়ীর উপর পরীক্ষকেরলক্ষিণহন্তের তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা এই অঙ্গুলি স্থাপন পূর্বক বামহন্ত দ্বারা রােগীর সেই হী ঈষৎ সঙ্কুচিত করিয়া, কনুয়ের মধ্যে যে নাড়ীর স্পন্দন অনুভূত হয়, প্রথমে সেই নাড়ীটী অল্প পীড়িত করিয়া তাহার পরক্ষণে রােগীর মণিবন্ধস্থানে তনী অঙ্গুলির নীচে নাড়ীর যে প্রথম স্পন্দন হইবে, তাহারা বায়ুর, দ্বিতীয় স্পন্দনদ্বারা পিত্তের ও তৃতীয় স্পন্দনদ্বারা শ্লেষ্মর গতিভেদ প্রভৃতি নিশ্চয় করিতে হয়। কেহ কেহ বলেন, তর্জনীর নীচে যে স্পন্দন হয়, তাহা দ্বারা বায়ু, মধ্যমার নিম্নৱৰ্ত্তী স্পন্দনদ্বাৰা পিত্ত এবং অনামিকার নিবর্তী স্পন্দন দ্বারা কফ অনুমান করিবে।

 

 

নতুন কিছু পড়ুনকবিরাজি শিক্ষায় সন্তাহিক -পরীক্ষা। মূর্ত-পরীক্ষা , নেত্ৰ-পরীক্ষা, জিহ্বা-পরীক্ষা

 

 

নাড়ী-পরীক্ষার নিষিদ্ধ সময়।তৈলমর্দনের পর, নিদ্রিত অবস্থায়,,ডােন সময়ে বা ভােজন করার পরেই, ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত হইলে, অগ্নি বা রৌদ্র-সন্তাপে সন্তপ্ত হইলে, এবং ব্যায়ামাদি শ্রমজনক কাৰ্য্যের পর নাড়ী পরীক্ষা করা উচিত নহে। যেহেতু ঐ সকল সময়ে নাড়ীর গতি বিকৃত হইয়া উঠে, এবং তজ্জন্য পরীক্ষার বিষয় সম্যক অনুভব করা যায় না।

 

 

সুস্থব্যক্তির নাড়ীর গতি।-সুব্যক্তির নাড়ী কেঁচোর গতির ন্যায়, অর্থাৎ ধীরে ধীরে স্পন্দিত হয়, অথচ তাহাতে কোনরূপ জড়তা লক্ষিত হয় না। কিন্তু সময়বিশেষে সুস্থব্যক্তির নাড়ীও অনুরূপ হইয়া থাকে; যথা : প্রাতঃকালে নাড়ী স্নিগ্ধ, মধ্যাহ্নকালে উষ্ণ, এবং অপরাই সময়ে দ্রুতগতিদো ষের প্রকোপভেদে নাড়ীর গতি।-অসুস্থ অবস্থায় বায়ুরআধিক্য থাকিলে বক্রভাবে, পিত্তে, আধিক্যে চঞ্চলতাৰে, এবং কফের আধিক্যে স্থিরভাবে নাড়ী স্পন্দিত হইয়া থাকে। সাধারণতঃ এইরূপ গতি হইতে আরওকয়েক প্রকার বিশেষ গতি কল্পনা করা আবশ্যক; যথা—বায়ুর গতি হইতে সর্প জলৌকা প্রভৃতি গতির গম গতি; পিত্ত চঞ্চল-গতি হইতে

 

নাড়ী পরীক্ষা

 

 

কাক, লাবপক্ষী, ও ভেফের গতির ন্যায় ; এবং কফ স্থিরগতি হইতেরাজহংস, ময়ুর, পারাবত, ঘুঘু ও কুকুট প্রভৃতির গতির ন্যায় গতি অনুমান করিতে হয়। দুইটা দোষের আধিক্য অবস্থায় বায়ু ও পিত্ত এই দুই দােষ প্রবল থাকিলে, নাড়ীর গতি কথন সর্পের কখন বা ভেকের গতির ন্যায় লক্ষিত হয় ;বায়ু ও শ্লেষ্মা এই দুই দোষ প্রবল থাকিলে, নাড়ীর গতি কখন সর্পের কখনও বা ৰাজহংস প্রভৃতির গতির গায় অমিত হয় ; এবং পিত্ত ও শ্লেষ্মা এই দুই দোষ প্রবল থাকিলে, নাড়ীর গত

 

কখনও ভেক প্রভৃতির ন্যায়, কখনও বা ময়ুর প্রভৃতির ন্যায় অনুভূত হইয়া থাকে। তিন দােষের আধিক্য অবস্থায়,পৃথক পৃথক দোষভেদে সর্প, লাব, হংস প্রভৃতি যেসকল জীবের গতি নির্দিষ্ট হইয়াছে, ক্ষণে ক্ষণে তাহাদেরই অন্যতম জীবের গতির স্যায় নাড়ীগতি লক্ষিত হয়। ত্রিবিধ গতির অনুভব বিষয়ে যদি প্রথমেই বায়ু লক্ষণ—সাদির গতি,তৎপরে

 

পিত্ত-লক্ষণ-লাব প্রভৃতির গতি এবং তার পর কফ-লক্ষণ-হংসপ্রভৃতির গতি অনুভূত হয়, তবেই পীড়া মুখসাধ্য বলিয়া জানিবে ।আর তাহার বিপরীত হইলে, অর্থাৎ সর্পগতির পরে হংসগতি অথবা হংস-গতির পরে লাব-গতি-এইরূপ অনুভূত হইলে, রােগ অসাধ্য বলিয়া নিশ্চয়করিতে হইবে।জ্বরপূৰ্বে নাড়ীর গতি-সাধারণজরের পূর্বাবস্থায় অর্থাৎ জারবেগহইবার পূর্বসময়ে নাড়ীর গতি দুই তিনবার ভেকাদি জীবের গতির ন্যায় মন্তর হইয়া থাকে। কিন্তু ঐরূপ গতি ধারাবাহিকরূপে অবস্থিত থাকিলে দাহ প্রকাশ পায়। সন্নিপাত-কারের পূর্ব-অবস্থায় নাড়ী প্রথমে লবপক্ষীর ন্যায় ঝরু ভাবে, তৎপরে তিত্তির-পক্ষীয় স্থায় উদ্ধভাবে এবং পরিশেষে বাৰ্তাৰু পক্ষীর ন্যায় মন্থরভাবে স্পন্দিত হয়।

 

জ্বরবেগে নাড়ীর গতি।—জরুবেগ হইলে, নাড়ী উষ্ণস্পর্শ এবংঅধিক বেগবতী হয়। অতিশয় অদ্রব্য তােজন করিলে, এবং মৈথুনের পরঅর্থাৎ যে রাত্রিতে মৈথুন করা যায় সেই রাত্রিতে অথবা তাহার পরদিনপ্রাতঃকালেও নাড়ী উষ্ণস্পর্শ বইয়া থাকে, কিন্তু তাহা বেগগামী হয় না ।এই লক্ষণদ্বারাই জরকালীন নাড়ীগতির সহিত ইহার বিভিন্নতা অনুমান
করিতে হয়।

কবিরাজি শিক্ষা

 

 

বাতজ-জ্বরে নাড়ীর গতি-সাধারণতঃ বাতজ-রে, বায়ুর আধিক্যঅবস্থায় যে সকল নাড়ীগতির লক্ষণ কথিত হইয়াছে, তাহাই প্রকাশ পাইয়া থাকে। বায়ু সঞ্চিত হইবার সময়ে, অর্থাৎ গ্রীষ্ম-ঋতুতে, আহার-পরিপাক-কালে,এবং মধ্যাহ্নে ও মধ্য রাত্রি সময়ে বাত-জ্বর হইলে, নাড়ীর মৃদুমন, কৃশতা ও বিলম্বে স্পন্দন হয়। বায়ুর প্রকোপকালে, অর্থাৎ বর্ষা-ঋতুতে, আহারপরিপাকের পরে, এবং অপরাহু ও শেষরাত্রি সময়ে বাতজ-এর হইলে,, নাড়ীর স্থূলতা,কঠিনতা, এবং শীঘ্রগতি হইয়া থাকে।

 

পিত্তজ জ্বরে নাড়ীর গতি।-পিত্তজ-রে নাড়ীর গ্রন্থিলতা ( গাঁট গাঁট বােধ) ও জড়তা বােধ হয় না, অথচ তর্জনী, মধ্যমা ও অনামিকা, এই তিন অঙ্গুলির নীচেই স্পষ্টরূপে, স্পন্দিত হয়, এবং গতিবেগও অধিক হইয়াথাকে। পিত্তের সঞ্চয়কালে, অর্থাৎ বর্ষা-ঋতুতে, আহারের পরেই এবং প্রাতঃ-কালে ও সায়ংকালে পিত্তজর হইলেও ঐ সমস্ত লক্ষণ ব্যতীত স্বতন্ত্র কোন লক্ষণ অনুভূত হয় না। পিত্তের প্রকোপকালে, অর্থাৎ শরৎ-ঋতুতে, আহারের পরিপাক,অবস্থায়, এবং মধ্যাহ্নে ও মধ্যরাত্রি সময়ে পিত্তর হইলে, নাড়ী কঠিন হইয়া এত অধিক দ্রুতবেগে গমন করে যে, বােধ হয় যেন মাংসাদি ভেদ করিয়া নাড়ী উপরে উঠিতেছে

 

শ্লেষ্মজ-রে নাড়ীর গতি।- প্লেয়ার আধিক্য অবস্থায় যেরূপ নাড়ীর গতি নির্দিষ্ট হইয়াছে, সাধারণ শ্লেষ্মজরেও ঐরূপ গতি ভিন্ন অন্য কোন লক্ষণ অনুভব করা যায় না। গেমার সঞ্চয়কালে অর্থাৎ হেমন্তে ও শীত ঋতুতেআরকালে এবং সন্ধ্যাসময়ে ও শেষরাত্রিতে, অথবা প্লেয়ার প্রকোপকালে, অর্থাৎ বসন্ত ঋতুতে আহারের পরে এবং প্রাতঃকালে ও সন্ধ্যার পরে মেজর হইলে, নাড়ী তন্তুর ন্যায় কৃশ এবং তপ্তজল-সিক্ত রজ্জতে যেরূপ শীতল অনুভূত হয়, সেইরূপ শীতলস্পর্শ হইয়া থাকে। প্লেয়ার, সঞ্চয় ও প্রকোপ-কালভেদে গেজ নাড়ীগতির কোন বিভিন্নতাই অনুমান করা যায় না।

 

 

বিদোষে নাড়ীর গতি।– বায়ু ও পি এই বিপােষ জনিত অরে নাড়ী চঞ্চল, পুল ও কঠিন হয়, এবং যেন দুলিতে দুলিতে গমন করিতেছে বলিয়া বােধ হয়। বাতম্নেজরে নাড়ী ম ম গমন করে এবং ঈষৎ উষ্ণ বলিয়া বােধ হয়। এই জয়ে শ্লেষ্ম ভাগ গল্প ও বায়ু গকিধিক থাকিলেমাড়ী  রুক্ষ হয় এবং ধারাবাহিকরূপে প্রথষভাবে গমন কৰিগাকে। পিরে নাড়ী ব, কখন অধিক তৃল, কখন বু অল্পমাত্র শীতল, এবং মূহগামী হইয়া থাকে।

 

ক্লিদোষে নাড়ীর গতি।–ত্রিদোষের আধিকা অবস্থায়নাড়ীর গতিযেরূপ ফথিত হইয়াছে, ত্রিদেষসন্নিপাত জ্বরেও সাধারণতঃ সেইরূপ গৃতি লক্ষিত হইয়া থাকে। তদ্ভিন্ন ইহার কারও কতকগুলি বিশেষ নিয়ম নির্দিষ্ট আছে। সেই সকল নিয়ম অনুসারে এই অরে সাধ্যতা, অসাধ্যতা প্রভৃতি বিবেচনা করিতে হয়।

 

ত্রিদোষে বিশেষ নাড়ীর গতি।—ত্রিদোষনিত প্রায় সমুদায় রােগইভয়ানক। বিশেষতঃ কারবােগ ত্রিদৃেষিজনিত হইলে, অতি অল্পকমধ্যেই তাহাতে অরিষ্ট (মৃত্যু) লক্ষণ প্রকাশিত হয়। সেইজন্য সন্নিপাতজরে নাড়ী-পরীক্ষাবিষয়ক আরও অনেকপ্রকার উপদেশ জানা আবশ্যক। ত্রিদোষ-আরে নাড়ীতে তিন দোষের সম্যক প্রকাশ পাইলেওঅপরাকালে নাড়ী পরীক্ষা করিলে যদি প্রথমে  বায়ুর স্বাভাবিক বৃক্ৰগতি, তৎপরে পিত্তের স্বাভাবিক চঞ্চলগতি, এবং তাহার পর প্লেয়ায় স্বাভাবিক বক্ৰগতির উপলব্ধি হয়, তাহা হইলে রােগ সাধ্য ;

 

কিন্তু ইহার বিপরীতভাব অনুভুত হইলে লােগ কষ্টসাধ্য বা অসাধ্য বিবেচনা করিবে।এতঙ্কিম সন্নিপাত-জ্বরের অসাধ্যতা অনুভব জন্য আরও কতকগুলি বিশেষ লক্ষণ নির্দিষ্ট আছে; যথা—নাড়ীর গতি কথন ধীর, কথন শিথিল, কখন খলিত, কখন ব্যাকুল অর্থাৎ ব্যক্তির ন্যায় ইতস্ততঃ প্ৰধাবিত, কখন সূক্ষ্ম, কখন বা এক-বায়েই বিলীন হইতে, অথবা মাঝে মাঝে অঙ্গুঠমূল হইতে বিচ্যুত হইলে অর্থাৎ এক একবার অঙ্গুষ্ঠেয় নিম্নভাগে নাড়ীস্পন্দন

 

অনুভূত হইতেছে না, আবার পর ক্ষণেই, অনুভূত হইতেছে,—এইরূপ ভাবাপন্ন হইলে, অসাধ্যলক্ষণ বুঝিতে হইবে।কিন্তু ভারবহন, মুজ্জা, ভয়, শােক প্রভৃতি কারণে নাড়ী-গতির এইরূপ যে সমস্ত লক্ষণ প্রকাশ পাইয়া থাকে, তাহা অসাধ্যলক্ষণ নহে। ফলতঃ বাৰতীয় অসাধ্য লক্ষণ প্রকাশ পাইলেও, যতক্ষণ পর্যন্ত নাড়ী অমূল হইতে একেবারে বিদ্যুত হয়, ততক্ষণ, তাহা অসাধ্যের পরিচায়ক নহে।

 

এইরূপ সমুদায় রােগেই অসুল হইতে নাড়ী বিদ্যুত না হওয়া পর্যন্ত তাহাকে একেবারে অসাধ্যবলা যায় না।বায়ু, পিত্ত ও কফ এই দোষত্রখ-দুঃক্তের সহিত মিশ্রিত হইলে, মধ্যমাঙ্গুলি-নিবেশকালে নাড়ীর সন্তাপ অনুভূত হইয় থাকে।

 

কবিরাজি-শিক্ষা।ঐকাহিক বিষয়ে নাড়ীর গতি-ঐকাহিক-বিষয়ে নাড় কোন সময়ে অঙ্কুলের পার্শ্ববর্তী, আবার কোন সময়ে অমূলে অবস্থিত হয়।তৃতীয় ও চতুর্থ জয় নাড়ী উষ্ণস্পর্শ হয়, এবং ঘূর্ণিতজলের গায় গতি অবলম্বন করিয়া ক্রমে ক্রমে দূরবর্তী হইতে থাকে। অন্যান্য পীড়ার অসাধ্য অব-
স্থাতেও নাড়ীর গতি এইরূপ অনুভূত হয় বটে, কিন্তু তাহাতে সন্তাপ থাকে না।আগন্তুক-জ্বরে নাড়ীর গতি তজ-আরে নাড়ী অধিকতর বেগ-গামী ও উষ্ণস্পর্শ হইয়া থাকে। ক্রোধ-জয়ে নাড়ী যেন অন্য নাড়ীকে অবলম্বনকরিয়া কিঞ্চিৎ বক্রভাবে গমন করে। কানজরে নাড়ী যেন অনাড়ীর সহিত  জড়িত হইয়া গমন করে; কিন্তু ইহাতে জ্বরের প্রকোপ অধিক হইলে, নাড়ী উষ্ণ স্পর্শ এবং দ্রুতগতি হইয়া থাকে। লােকে

 

অভিলষিত বিষয় না পাইলে যেমন ইতস্ততঃ চঞ্চলভাবে গমন করে, আরকালে কামাতুর হইলে নাড়ীগতিও সেরূপ ন্য প্রাপ্ত হয়। জর থাকিতে স্ত্রীসংসর্গ করিলে নাড়ী ক্ষীণ ও মৃদুগামী হয়, আর কালে দধিভােজন করিলে, নাড়ীর বেগ অধিক হয়, এবং তাহার উষ্ণতাও অধিক হইয়া থাকে। অতিশয় অন্নভােজন দ্বারা জব কিংবা অন্য কোন রােগ উৎপন্নহইলে, তাহাতে নাড়ী অধিকতর সন্তপ্ত হয়। কঁজিভােন জন্য অবাদি পীড়ায় নাড়ীগতি মৃদু হইয়া থাকে।

 

অজীর্ণে নাড়ীর গত।অজীর্ণরােগে নাড়ী কঠিন হয়, এবং উভয়-পার্থে জড়িতভাবে মন্দ মন্দ গমন করে; তন্মধ্যে আমাজীর্ণ অবস্থায় নাড়ী স্কুল, ভার ও অল্প কঠিন, পাজীর্ণে পুষ্টিহীন ও মন্দগামী এবং বাতাজীর্ণ অধিক  কঠিন হইয়া থাকে। অগ্নিমান্দ্য ও ধাতুক্ষয় রােগে নাড় ক্ষীণ, শীতল ও অতিশয় মৃগতি হইয়া থাকে, কিন্তু অগ্নি প্রদীপ্ত থাকিলে নাড়ী লঘু ও বলবতী হয়।বিসূচিকায় নাড়ীর গতি।—বিলুচিকায়াগে নাড়ীর গতি ভেক-গতির ব্যায় হয়, এবং অনেকসময়ে এই

 

রােগে নাড়ীস্পন্দন স্পষ্ট অনুভব করা যায় না। তথাপি অনুমুল হইতে নাড়ী বিচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত এই রােগ অসাধ্য বলিয়া বিবেচনা করিবে না। বিলম্বিকাৰৰাগেও নাড়ীগতি ভেকগতির স্বায় হইয়া থাকে।অতিসারে নাড়ীর গতি।অতিসারােগে ছেদের নিতান্ত নিৰ্ব্বীৰ্য্য হইয়া পড়ে। আমার্তিসারে মাড়ী মূল ও জড়বৎ হইয়া থাকে।

 

 

গ্রহীতে নাড়ীর গতি।—গ্ৰহণীরােগে হস্তস্থিত নাড়ীর গতি ভেক- গতির ন্যায় হয়, এবং পস্থিত নাড়ী হংসগতির দায় স্পন্দিত হয়।মলমূত্রনিরােধে নাড়ীর গতি।-মল ও মূত্র উভয়ের একসঙ্গে নিরােধ অথবা মল ও মূত্র উভয়ের পৃথকভাবে নিরােধ হইলে, মলমূত্রের বেগ ধারণ কৰিলে এবং বিচিকা, অশয়ী, মূত্রকৃচ্ছ, আর প্রভৃতি রােগে মল-মূত্র বন্ধ হইয়া মাড়ী সূক্ষ্ম ভেকগতির ন্যায় স্পন্দিত হইয়া থাকে। সাধারণতঃ

 

আনাই এবং মূত্রকৃচ্ছ্বরােগে নাড়ী কঠিন ও গুৰু হইয়া থাকে।শূলরােগে নাড়ীর গতি ।—শলয়ােগসমূহের মধ্যে বায়ুজনিত, শূল- রােগে নাড়ী সৰ্ব্বদা ৰক্ৰগতি, পিত্তজনিত শূলরােগে নাড়ী অতি উষ্ণ, এবং আম-শূপে অথবা ক্রিমি-শূলে নাড়ী পুষ্ট বলিয়া অনুমিত হয়।প্রমেহে নাড়ীর গতি।-প্রমেহরােগে নড়ী মধ্যে মধ্যে ফেন গ্রন্থিবিশিষ্ট । গাঁ গাঁ) বলিয়া বােধ হয়। ইহার সহিত আমদোষ মিশ্রিত থাকিলে নাড়ী ঈষৎ উষ্ণস্পর্শও হইয়া থাকে।

 

বিষ্টন্তে ও গুল্মে নাড়ীর গতি।—বিষ্টয়ােগে গুল্মরােগে নাড়ীর গতি বক্র হয়। কিন্তু এই রােগ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পাইবার পূর্বে নাড়ী লতার ন্যায় বেগে উদ্ধগামী হইয়া থাকে। বিশেষতঃ গুলুরােগে নাড়ী চঞ্চল এবংপারাবতের ন্যায় ঘূৰ্ণিত হইতেছে বলিয়া অনুমিত হয়। উন্মাদ প্রভৃতি বায়ুরােগেও নাড়ীর গতি ঐরূপ হইয়া থাকে।ব্ৰণাদিরােগে নাড়ীর গতি।—ব্রণাদি রােগে ব্রণের অপৰু অবস্থায় নাড়ীর গতি পিত্তপ্রকোপজনিত নাড়ীগতির ন্যায় লক্ষণযুক্ত হয়। ভগ-করে ও নাড়ীত্ৰণ রােগে নাড়ীগতি বায়ুপ্রকোপজনিত নাড়ীগতির ন্যায় এবং অতিশয় উষ্ণ হইয়া থাকে।

 

 

বিষভক্ষণে নাড়ীর গতি।—বিষ ভক্ষণ করিলে, অথবা সর্পাদি বিষাক্ত প্রাণিকর্তৃক নষ্ট হইলে শরীরমধ্যে যখন বিষ ব্যাপ্ত হইতে থাকে, সেইসময়ে নাড়ী অত্যন্ত অস্থিরভাবে চলতে থাকে।অপরাপর রােগসমূহে নাড়ীগতির ভেজান তাদৃশ অনুভব করা যায় না,এজন্য অনর্থক তাহা লিখিয়া, গ্রন্থকলেবর বর্ধিত করা অনাবশ্যক বিবেচনায়সে সমুদায় অংশ পরিত্যক্ত হই

কবিরাজি শিক্ষা

 

 

রােগপরীক্ষা ব্যতীত নাড়ীর গতিবিশেষদ্বারা রােগীর মৃত্যুকালও অনুমানকরা যায়। তাহাও নাড়ীপরীক্ষার অন্তর্গত, সুতরাং সেইসমস্ত বিষয়ও আলাে-চিত ইতেছে।মৃত্যুড়ীর লক্ষণ।-যে রােগীর নাড়ী কিছুক্ষণ বেগে গমন করিয়া পুনৰ্ব্বার শান্ত হইয়া যায়, কিন্তু তাহার শরীরে যদি শােথ না থাকে, তবে সেই বােগীর সঞ্চয় বা অষ্টম দিনে মৃত্যু হয়।যাহার নাড়ী কখন কেঁচোর ন্যায় কুশ ও মসৃণ হয়, এবং কেঁচোর মৃত ত্রু-ভাবে গমন করে, কখন সর্পের ন্যায় পুষ্ট হইয়া প্রবলভাবে বক্ৰগতি অবলম্বন করে, কখন বা অশি কিংবা একেবারে অদৃশ্য হইয়া যায়, অথবা শারীরিক কশতা কিংবা শােখাদির জন্য স্থূলতা অনুসারে নাড়ীও কৃশ কিংবা স্কুল

 

অনুভূতহয়, তাহায় একমাস পরে মৃত্যু ঘটিয়া থাকে।বাহার নাড়ী ঋন (অষ্ঠমূল) হইতে অর্ধষব-পরিমিত স্থান ঋলিত হয়,তাহার তিন দিনের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত।যদি কাহারও মধ্যমা ও অনামিকা অঙ্গুলির নীচে নাড়ীস্পন্দন অনুভূত নাহইয়া কেবল তর্জনীর নীচে অনুভূত হয় তাহার চারিদিন মাত্র আয়ুষ্কাল বুঝিতে হইবে।

 

:: সন্নিপাতজ্বরে যাহার শারীরিক-সন্তাপ অধিক, কিন্তু নাড়ী অত্যন্ত শীতল,তাহার তিনদিন পরে মৃত্যু হয়।ভ্মরগতির ন্যায় নাড়ীগতি হইলে, অর্থাৎ অতিদ্রুতগতিতে দুই একবার মাত্রস্পন্দিত হইয়া কিছুক্ষণ একেবারে অদৃশ্য এবং পরক্ষণে পুনৰ্বার ঐরূপভাবেস্পন্দন করিয়া আবার অদৃশ্য,-ক্ষণে ক্ষণে এইরূপ স্পন্দন অনুভূত হইলে, এক- দিনের মধ্যে মৃত্যু অনুমান করিবে। যদি কাহারও তর্জনী-অঙ্গুলীর নীচেনা ড়ীস্পন্দন প্রায়ই অনুভূত না হয়, অথচ কখন কখন অনুভব করা যায়, তাহার কালশহরের মধ্যে মৃত্যু ঘটিকা থাকে।

 

যাহার নাড়ী তর্জনী-নিবেশস্থলের উদ্ধভাগে বিদ্যুৎফুরণের ন্যায় ক্ষণেকণে.. স্পন্দিত হইতে থাকে, তাহার জীবন একদিনমাত্ৰ বুঝিতে হইবে।অর্থাৎ সেইরূপ দুণের আরম্ভকাল হইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাহার প্রাণ |

 

নাড়ী পরীক্ষা

 

যাহার মাড়ী স্বস্থান (অষ্ঠমুল) হইতে ঋলিত হইয়া, এক একবার স্পন্দিত হয়, অথচ তাহার হৃদয়ে যদি অত্যন্ত জালা কে, তাহা হইলে সেই
আলায় শান্তি না হওয়া পর্যন্ত তাহার জীবন অবস্থিত থাকে, অর্থাৎ আলাশান্তির সঙ্গে সঙ্গেই তাহার প্রণবায়ু বহির্গত হয়।নাড়ী-পরীক্ষার সহজ উপায়।নাড়ীস্পন্দন অনুভব করিয়া তাহারভেদজ্ঞান অথবা তাহারা লােগনিশ্চয় করা, এবং রােগের সাধ্যসাধ্য অবস্থাপরিজ্ঞাত হওয়া নিতান্তই কষ্টসাধ্য। কেবল শাস্ত্রের উপদেশহারা তাহা কোনক্রমেই অনুভব করা যায় না। প্রতিনিয়ত বহুসংখ্যক রােগীর নাড়ী-স্পন্দনবি শেষ বিবেচনার সহিত লক্ষ্য করিতে করিতে ক্রমশঃ ঐ জ্ঞান জন্মিয়া থাকে।এইজন্য আধুনিক পাশ্চাত্য-চিকিৎসকগণ ঘড়ির মিনিটের সহিত মিলাইয়াএকরূপ সাধারণ নাড়ী-পরীক্ষা আবিষ্কার করিয়াছেন। মূলবুদ্ধি বা সাধারণচিকিৎসকগণের পক্ষে সে উপদেশ জ্ঞাত হওয়া বিশেষ আবশ্যক বিবেচনায় এই স্থলে তাহাও সন্নিবেশিত হইতেছে।

 

বয়ােভেদে স্পন্দনের ভিন্নতা।অধিকাংশ সুস্থব্যক্তির নাড়া
প্রতিমিনিটে ৬০ বার হইতে ৭৫ বার পর্যন্ত স্পন্দিত হয়। কোন কোন সুস্থ
ব্যক্তির নাড়ী নসংখ্যায় মিনিটে ৫ বার এবং উৰ্দ্ধসংখ্যায় ৯ বার পর্যন্ত
স্পন্দিত হইয়া থাকে। বয়সের তারতম্য অনুসারে নাড়ীস্পন্দন বিভিন্ন হয়।জরায়ুস্থ ভ্রুণের নাড়ী প্রতিমিনিটে ১৬০ বার, ভূমিষ্ঠ হইলে ১৪ • হইতে ১৩০বার, একবৎসর বয়স পর্যন্ত ক্রমশঃ ১৩০ হইতে ১১৫ বার, দুইবৎসর বয়সেরসময় ১১৫ হইতে ১০০ বার, তিনবৎসর বয়সে ১০০ হইতে ১০ বার, তাহারপর সাতবৎসর বয়স পর্যন্ত ৯০ হইতে ৮৫ বার, সাতবৎসরের পর হইতে চৌদ্দবৎসর পর্যন্ত ৮৫ হইতে ৮০ বার, যৌবনে ও প্রৌঢ়কালে ৮৩ বার, এবং বৃদ্ধবয়সে ৬৫ হইতে ৫ বার পর্যন্ত স্পন্দিত হইয়া থাকে।বিভিন্ন অবস্থায় নাড়ীস্পন্দন।—পানাহাৰকালে হৃৎপিণ্ডের কার্য| বর্ষিত হয়। এইজন্য নাড়ীস্পন্দনও ঐ সময়ে বুদ্ধি পাইয়া থাকে। ভাবতঃঅজাতির নাড়ী পুরুষের অপেক্ষা প্রতিমিনিটে ১•১৫ বার অধিক গতি।হয়। নাড়ীর গতি স্বাভাবিক গতি অপেক্ষা মন্দগতি হইলে, লঙ্গ বাপ্তিষ্কে রক্তাধিক্যে উপক্রম হইয়াছে বুঝিতে হইবে। অকালে

 

নাড়ীকবিরাজি-শিক্ষা।স্বাভাবিক গতি অপেক্ষা অধিক গতি এবং উষ্ণস্পর্শ হইয়া থাকে। স্নায়বিকদৌর্বল্য হইতে, নাড়ী মৃদুগতি ও পুষ্ট বােধ হয়। জরসংযুক্ত সমুদয় যােগেইনাড়ীর গতি দ্রুত হয়, এবং জরের হ্রাস বৃদ্ধি অনুসারে নাড়ী-গতিরও নানাধিক্য হইয়া থাকে। পূর্ণবয়সে এবং প্রদাহজনিত রােগে প্রতিমিনিটে ১২০ বারের অধিক নাড়ী স্পন্দিত হয় না, তাহার অধিক হইলেই ক্রমশঃ রােগের কঠিনতা,এবং ১৫০ বারের অধিক স্পন্দিত হইলে, সেই রােগে রােগীর মৃত্যু হইবারসম্ভাবনা। 

 

পাশ্চাত্য-চিকিৎসাশাস্ত্রে নাড়ী-পরীক্ষার বিষয়ে এইরূপ সকিপ্ত উপদেশ ব্যতীত অন্ত কোন বিশেষ উপদেশ দেখিতে পাওয়া যায় না।

 

Related Posts

সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না।

  সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না     নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ফাইনাল দিয়েছে।বরাবর সে বিগত পরীক্ষায় ভালাে ফলাফল অর্জন করেছে। পরীক্ষায়সে যে পাস…

সুন্দর চোখ সাজানো।

  সুন্দর চোখ সাজানো   যেন একটা ঘােরের ভেতরে পাখির দিনগুলাে কাটছে আজকাল। এমন একঘাের যে দিন কী রাত পাখির যেন খেয়াল নেই। আর খেয়াল রেখেই-বালাভ কী? দুদিন…

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এসএসসি  পরীক্ষা  শেষ  হতে  না  হতেই  সৌম্য  যেন  নড়ে চড়েবসল। কোথা  ও   ঘুরতে  যেতে  হবে ।  কিন্তু  কীভাবে   বাবার  তােসময়  নেই, মাও যেতে  পারবে …

মোটরসাইকেল চালানো শেখা।

মোটরসাইকেল চালানো শেখা   এ সময়ে সাধারণত তীব্র শীত পড়ে। এবার আবহাওয়ার অবস্থা এলােমেলাে। শীতের কোনাে ভাব দেখা যাচ্ছে না। রাত গভীর হলেখানিক ঠান্ডা লাগে। তা ছাড়া কেবল…

বিরিয়ানি রেসিপি।

বিরিয়ানি রেসিপি   আগুনে ডুবিয়ে শরীর, বিবিয়ানা’র অন্তরে।বিবিয়ানা’ পুড়ে যাওয়া জীবনের গল্প। আস্ত জীবন নয়, জীবনেরকোনাে এক খণ্ড যেন। আচমকাই শুর আবার বােকা বানিয়ে ফুরিয়েযায়। জীবনের নাটাই অন্য…

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়।

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়   সভ্যতার সূচনা থেকেই দেখা যাচ্ছে মানুষের নানা সমস্যা।আদিম যুগ থেকেই মানুষ নানা প্রয়ােজনে নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য আপ্রাণচেষ্টা করছে। মানুষের মৌলিক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *