আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ

ক্রিমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম।

ক্রিমির ঔষধ খাওয়ার নিয়ম

 

প্রকারভেদ ও নিদান।—ক্রিমি দুই প্রকার—অভ্যন্তর-দোষজাতএবং বহির্মুলজাত। আভ্যন্তর ক্রিমি তিন ভাগে বিভক্ত—পুরীষজ, কফজ ও রক্তজ। অজীর্ণসৰে ভােজন, সৰ্ব্বদা মধুর ও অম্নরস ভােজন, অতিমাত্র তরলদ্রব্য পান, অপবিস্তৃত জল পান, গুড়, পিষ্টক, মাংস, শাক, মাষকলাই ও দধিপ্রভৃতি গুরুপাক দ্রব্যের অতিমাত্র ভােজন, ক্ষীরম ৎস্যাদি। 

কবিরাজি শিক্ষা।

সংযােগবিরুদ্ধদ্রব্যভােজন, ব্যায়ামশূন্য তা ও দিবানিদ্রা প্রভৃতি কারণে আভ্যন্তর ক্রিমি উৎপন্ন হইয়া থাকে। এই ক্রিমি উৎপন্ন হইলে, জ্বর, বিবর্ণতা, শূল, হৃদ্রোগ, অবসন্নতা,ভ্ৰম, আহারবিদ্বেষ, বমনবেগ, বমি, মুখ হইতে জলস্রাব, অজীর্ণ, অরুচি, নাসিকা-কণ্ডুয়ন (নাক চুলকান), হাঁচি ও নিদ্রাবস্থায় দন্তশব্দ (ধাত-কড়মড়ি) প্রভৃতিলক্ষণ প্রকাশিত হয়।

 

পুরীষজ ক্রিমির লক্ষণ।—পুরীষজ ক্রিমি পাশয়ে জন্মে। ইহার।প্রায়ই অধােদিকে বিচরণ করে। কিন্তু কদাচিৎ আমাশয়ের দিকে উখিত হইয়াথাকে। ঐরূপ উদিকে বিচরণ করিলে রােগীর নিশ্বাসে বিষ্ঠার গন্ধ অনুভূতহয়। পুরীষজ ক্রিমি নানাপ্রকার হইয়া থাকে । সূক্ষ্ম, স্কুল, দীর্থ গােলাকার ,এবং শ্যা, পীত, খেত, বা কৃষ্ণবর্ণ, প্রভৃতি ইহাদের নানাপ্রকার আকৃতিগতবিভিন্নতা

 

দেখিতে পাওয়া যায়। কতকগুলি ধাক্কুরের ন্যায় সূক্ষ্ম, কতকগুলিকেঁচোর ন্যায় দীর্ঘ ও স্কুল, কতকগুলি গােলাকার, কতকগুলি বা চর্মলতারন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট ; এইরূপ নানাপ্রকার পুৰীষজ ক্রিমি হইয়া থাকে। গ্রথিতলাউবীজের মত আর এক প্রকার ক্রিমি আছে; তাহারা দৈর্ঘ্যে ১২ হাতপৰ্যন্ত লম্বা হয়। অতিরিক্ত পরিমাণে মাংসভোজন অথবা অল্পসি, মাংসভােজন, এবং অধিক পরিমাণে শূকরমাংস

 

ভােজন করিলে, প্রায়ই এইরূপক্রিমি উৎপন্ন হইয়া থাকে। ইহাদিগকে বাহির করিতে হইলে, সুত্রের ন্যায়টানিয়া বাহির করিতে হয়। এইসমস্ত ক্রিম বিমার্গগামী হইলে, মলভেদ, শূল,উদবের স্তব্ধতা শারীরিক শতা, কর্কশ, পাণ্ডুবর্ণতা, নােমা, অগ্নিমান্দ্য এবংগুদেশে কওন প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হয়।

 

 

https://usabcnews.com/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80%e0%a6%b9%e0%a6%be-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8/

কফ-ক্রিমিলক্ষণ।–কফজনিত ক্রিমি আমাশয়ে উৎপন্নহইয়া,উদরের চতুর্দিকে বিচরণ করে। ইহাদের আকৃতিও পুরীষ-ক্রিমির ন্যায় নানা-বর্ণও ঐরূপ বিভিন্ন হইতে দেখা যায়। কফ-ক্রিমি জন্মিলে, বমনবেগ, মুখ হইতে জলাব, অজীর্ণ, অরুচি, মূৰ্ছা, বমি, আর, মল-মূত্রবােষ, তা,হাঁ চি ও পীনস, প্রভৃতি লক্ষণ অধিকপরিমাণে প্রকাশিত হয়।

 

রক্ত ক্রিমি

 

বাহমলজাত-ক্রিমিলক্ষণ।—বাহমলজাত ক্রিমিসমূহ গাত্রের মলএবং স্বেদ হইতে উৎপন্ন হয়, অতএব অপরিলতাকেই ইহার কারণ বলা যাইতেপারে। ইহাদের আকৃতি ও পরিমাণ তিলের রায়। বাক্রিমি ঘূক ও লিখ্যনামভেদে দুইপ্রকার। যুক অর্থাৎ উকুন নামক ক্রিমি বহুপদযুক্ত ও কৃষ্ণবর্ণ ;তাহারা কেশবহুলস্থানে অবস্থিত থাকে। লিখ্যসকল সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম ও শ্বেতবর্ণ, ইহারাবতে অবস্থান করে।

 

চিকিৎসা। -আভ্যন্তর ক্রিমিবিনাশ জয় ঘেঁটুপাতার অথবা আনা-রসের কচিপাতার রস কিঞ্চিৎ মধুমিশ্রিত করিয়া সেবন করাইবে। বিড়ল• এক আনা মাত্রায় জলস, অথবা ২ দুইতােলা বিড়ঙ্গের কাথ পান করাইবে।ক্রিমিবিনাশের জন্য বিড়ঙ্গ অতি শ্রেষ্ঠ ঔষধ। খেজুর-পাতার রস বাসি করিয়া৷ খাইলে, অথবা খেজুরের মাতি খাইলে ক্রিমি বিনষ্ট হয়

 

পালিধাপাতার রস,কেঁউপাতার রস, শালিঞ্চশাকের রস, পলাশবীজের বস, দাড়িমমূলের ছালের কাণপ্রভৃতি দ্রব্যও আশু ক্রিমিনাশক। সৈন্ধবলবণ ও খােরাসানীমানী সমভাগেএকত্র মিশাই। চারি আনা মাত্রায় জলসহ প্রাতঃকালে সেক্স করিলে,| ক্রিমিনােগ, অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য ও আমবাত প্রশমিত হয়। তিতলাউবীজেরচূর্ণ। চাৰি আনা, মাত্রায় থােল বা ডাবের জলের সহিত, অথবা কমলাফি• চাৰি আনা মাত্রায় গুড়ের সহিত মিশ্রিত করিয়া সেবনে জিমি আনােগ ।

 

নতুন কিছু জানুন – বিজয়ের হাসি ফিলিস্তিনিরাই হাসবে। ইনশাআল্লাহ্

 

সােমরাজীবীজ ॥ অন্ধভােলা, • এক ছটাক জলের সহিত ৫৬ ঘণ্টা কালভিজাইয়া রাখিয়া, সেই জল অথবা ঘােলের সহিত বিড়ঙ্গ, সৈন্ধব লবণ, যবক্ষার,কমলাগুড়ি ও হরীতকী একত্র পেষণ করিয়া অর্থ তােলা মাত্রায় সেবন করিলেক্রিমি বিনষ্ট হয়। অর্পজল-মিশ্রিত ঘােল এবং বিড়ঙ্গ, পিপুলমূল, সজিনা-বীজ ও মরিচের সহিত বা প্রস্তুত করিয়া, তাহাতে সজ্জিকাক্ষার প্রক্ষেপ দিয়াপান করাইবে। এই সমস্ত যােগ ক্রিমিনাশের উত্তম ঔষধ। ইহা ব্যতীত পারসী-মাসী চূর্ণ, মুস্তাদি কষায়, ক্রিমিমুদগর রস, ক্রিমিরস, বিড়ঙ্গলৌহ, ক্রিমিঘাতিনী. বটিকা, ত্রিফলাদ্যঘৃত, প্রভৃতি ঔষধ যথামাত্রায় প্রয়োেগ করিবে।আমাদেরক্রিমিঘাতিনী-বটিকা সেবনে সকল প্রকার ক্রিমিই অতিশীবিনষ্ট হয়।

 

 

বাহক্রিমি-বিনাশের জন্য ধুতুরাপাতার অথবা পালের রসের সহিত কপূরমাড়িয়া প্রলেপ দিবে। নালিতার বীজ কাজির সহিত বাটিয়া মস্তকে প্রলেপদিলেও সমুদায় উকুন মরিয়া যায়। বিড়ঙ্গতৈল ও ধূস্বর তৈলবাক্রি উৎকৃষ্ট ঔষধ।পথ্যাপথ্য।পুরাতন-ততুলের অন্ন, ক্ষুদ্ৰমৎস্যের ঝােল, পটোল, মােকউচ্ছে, কৰােলা, বেতের ডগী, মাণকচু ও ডুমুর প্রভৃতি তরকারী, কাজি, মাদু, তিক্ত-কষায়-কটু সবিশিষ্ট দ্রব্যসমূহ, এবং পাতি বা কাগজি নেবুর ফুস,—এই পড়ায় উপকারী।

 

দুইবেলা অঙ্গ ভােজন না করিয়া, রাত্রিতে সাগু, বার্লি,এরাট প্রভৃতি লঘুপথ্য ভােজন করা উচিত। যেহেতু, ক্রিমিনােগে যাহাতেঅঞ্জীর্ণ না হয়, তদ্বিষয়ে বিশেষ সাবধান হওয়া উচিত।পিষ্টকাদি গুরুপাক দ্রব্য, মিষ্টদ্রব্য, গুড়, মাষকলাই, দধি, অধিক ঘৃত,অধিকপরিমাণে তরলদ্রব্য ও মাংস প্রভৃতি দ্রব্য ভােজন, এবং দিবানিদ্রা ওমলমূত্রাদির বেগধারণ বিশেষ অনিষ্টজনক।পাণ্ডু ও

 

কামলা।নিদান। অতিরিক্ত ব্যায়াম ও মৈথুন, অথবা অধিক পরিমাণে অস্ত্র,লবণ, মদ্য, অথবা লঙ্কামরিচ, রাইসৰ্ষপ প্রভৃতি তীবীর্য দ্রব্য এবং মৃত্তিকা,প্রভৃতি কদৰ্য্য দ্রব্য ভােজন করিলে, বাতাদি দোষত্ৰয় রক্তকে দূষিত করিয়াপাতুরােগ উৎপাদন করে। এই রােগ প্রকাশিত হইবার পূর্বে দেহচর্ম ফাটাফাটা, মুখ দিয়া সৰ্ব্বদা জল উঠা, শরীরের অবসন্নতা, মৃত্তিকাভক্ষণে প্র ল ইচ্ছা,অক্ষিগােলকে শােথ, মল-মূত্রের পীতবর্ণতা ও অপরিপাক প্রভৃতি পূৰ্বরূপপ্রকাশিত হয়। পাতুরােগ পাঁচকার, বা-বাত, পিত্তজ, কফজ, সন্ধিপাতজও মৃত্তিকাঙক্ষণজাত।

 

ভিন্ন ভিন্ন পরােগের লক্ষণ।-বায়ুজনিত পাণ্ডুরােগে ত্বক, মুত্র,এক্ষু ও নখ কৃষ্ণ বা অরুণবর্ণ ও রুক্ষ হয়, এবং শারীরিক কম্প, সুচীবেধৰৎবেদনা, আনাহ ও ভ্ৰম প্রভৃতি লক্ষণ লক্ষিত হইয়া থাকে। পিঙ্কজ পাণ্ডুরাগেসমস্ত দেহ, বিশেষতঃ মল, মুত্র ও নখ পীতবর্ণ হয়, এবং ইহাতে দাহ, তৃষ্ণ,জ্বর ও ভাঙ্গা ভাঙ্গা মলভেদ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হইয়া থাকে। শ্লেষ্মজ-পারােগে ত্বক, মূত্র, নয়ন ও মুখ শুক্লবর্ণ হয় এবং মুখ ও নাসিকা হইতজলাব, শােথ, তন্দ্রা, আলস্য, দেহের অত্যন্ত গুরুতা প্রভৃতি লক্ষণ দেখিতেপাওয়া যায়। সন্নিপাতজ

 

পাণ্ডুরােগে উক্ত বাতজাদি পাণ্ডুরােগের লক্ষণসমূহমিশ্রিত ভাবে লক্ষিত হয়। এই সন্নিপাতজ পাণ্ডুরােগে অর, অরুচি, বমির বেগবা বমি, তৃষ্ণা, ক্লান্তি ও ইন্দ্রিয়শক্তির না প্রভৃতি উপদ্রব উপস্থিত হইলে, তাহাঅসাধ্য হইয়া থাকে।

 

মৃত্তিকাভক্ষণজনিত পাথুরোগে ভুক্ত-মৃত্তিকার গুণ-বিশেষানুসারে যে কোন একটা দোষ কুপিত হইয়া তাহাই আরম্ভকরূপে পরিণতহয়। কয়রসবিশিষ্ট মৃত্তিকাতক্ষণে বায়ু, ক্ষারবিশিষ্ট মৃত্তিকাভক্ষণে পিত্ত ওমধুররসবিশিষ্ট মৃত্তিকাভক্ষণে কফ কুপিত হইয়া,পূৰ্ব্বাজ্ঞলক্ষণানুসারে স্ব স্বলক্ষণ প্রকাশ করে। ভূষ্টমৃত্তিকা ভক্ষণ করিলে, সেই মৃত্তিকার রৌক্ষগুণবশতঃরসাদি ধাতুসমূহ এবং ভুক্ত অন্নও

 

রুক্ষ হইয়া যায়। আর সেই ভূক্ত তৃষ্টমৃতি।অজীর্ণ অবস্থাতেই সৰহাদি যেতঃসমূহকে পূর্ণ ও রুক্ষ করিয়া, ইক্রিয়শক্তি,দীপ্তি, বীৰ্য ও ওজঃপদার্থের বিনাশপূর্বক সহসা ৰল, বর্ণ ও অগ্নি বিনষ্ট করিয়া,পাওয়ােগ উৎপাদন করে।পাওয়ােগর কোষ্ঠে ক্রিমি জন্মিলে, অক্ষিগােলক, গণ্ডস্থল, জ, পদ, নাতি,ও লিজে শােথ , এবং রক্ত ও কফের সহিত মিশ্রিত মল নিঃসৃত হইয়া থাকে।

 

সাধ্যসাধ্য লক্ষণ।—পাণ্ডুরােগ দীর্ঘকাল অচিকিৎস্যভাবে অবস্থিতথাকিলে অসাধ্য হয়। আরও, যে পাণ্ডুরােগী শােথযুক্ত হইয়া সমস্ত বস্তু পীত-বর্ণ দেখে, তাহার সেই পাণ্ডুরােগ অসাধ্য বলিয়া বুঝিতে হইবে।

 

সাঘাতিক-লক্ষণ।—পাওয়ােগীয় সৰ্বাঙ্গ যদি কোন শ্বেতপদার্থ-যারা প্রলিপ্ত বলিয়া বােধ হয়, এবং শারীরিক প্লানি, বমি, মুচ্ছা, ও পিপাসাপ্রভৃতি উপদ্রব লক্ষিত হয়, তাহা হইলে তাহার মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। রক্তক্ষয়-বশতঃ যাহার শরীর একেবারে শুক্লবর্ণ হইয়া যায়, তাহার জীবনের আশা কম।অথবা যে পাণ্ডুরােগীর দন্ত, নখ ও নেত্র পাণ্ডুবর্ণ হয়, এবং সেই ব্যক্তি দৃশ্য বস্তু| সমূহ যদি পাণ্ডুবর্ণ অনুভব করে, তবে তাহারও মৃত্যু নিশ্চিত। পাণ্ডুরােগীয়হাত পা ও মুখ শােথযুক্ত হইয়া

 

মধ্যভাগ ক্ষীণ হইলে, অথবা মধ্যভাগ শােথযুক্তহইয়া হস্তপদাপি ক্ষীণ হইলে, তাহাও মৃত্যুলক্ষণ বুঝিতে হইবে। যে পাওরােগীর।গুদেশে, লিঙ্গে ও অণ্ডকোষে শােথ, এবং মূৰ্ছা, জ্ঞাননাশ, অতিসার ও জরপ্রভৃতি উপদ্রব উপস্থিত হয়, তাহারও মৃত্যু ঘটিয়া থাকে

কামলারােগের নিদান।—পাওয়ােগ উৎপন্ন হওয়ার পরে বাহুল্য-রূপে পিত্তকর দ্রক সেবন করিলে, পিত্ত অধিকতর কুপিত হইয়া, রক্ত ও মাংসদূষিত করে ; তাহাতেই কামলারােগ জন্মিয়া থাকে ; যকৃৎদোষ হইতেও ক্রমশঃএই রােগ উৎপন্ন হইতে দেখা যায়। পাণ্ডুরােগে যে সমস্ত নিদান কথিত হই-আছে, সেইসকল নিদান হইতে এবং অতিরিক্ত দিবানিদ্রা প্রভৃতি কারণেওকামলারােগ উৎপন্ন হইতে পারে। যকৃৎ হইতে পিত্ত বাহির হইয়া যদি তাহারসমস্ত অংশ পাকস্থলীতে না গিয়া, কতক অংশ রক্তের সহিত মিশ্রিত হয় ; তবেতাহা হইতেও কামলা উৎপন্ন হইয়া থাকে।

 

লক্ষণ।—এই রােগে প্রথমে ফেল চক্ষু পীতবর্ণ হয়।ৎপরেত্বক, নখ, মল, মূল, প্রভৃতি সমস্ত শরীরাবয়বই পীতবর্ণ হইয়া, ক্রমশঃবর্ষাকালের ডেকের ভায় পীত বর্ণ হইয়া উঠে।’ কাহারও বা মল ও মূত্র রক্ত| বর্ণ হইতে দেখা যায়। আরও, এইবােগে মলের শুক্লবর্ণতা ও কঠিনতা,গাত্রে কণু চুলকানি , বমনেচ্ছ, ইক্রিয়শক্তির নাশ, দাহ, অপরিপাক, দুর্বলতা ,অরুচি ও অবসা প্রভৃতি লক্ষণসমূহ লক্ষিত হয়। এইরােগের চলিত নাম

 

সাতিক লক্ষণ।—কামলায়ােগে অত্যন্ত শােথ, মূৰ্ছা, মুখের ওচক্ষুয়ের রক্তবর্ণ, মল ও মূত্রের কৃষ্ণ পীত বা লােহিতবর্ণত, এবং সর্বাঙ্গে| দাহ,  অরুচি, পিপাসা, আনাহ, তন্দ্রা, মুচ্ছ, অগ্নিমান্দ্য ও সংজ্ঞনাশ প্রভৃতি উপদ্রব উপস্থিত হইলে, সেই রােগীর মৃত্যু ঘটিয়া থাকে।

 

কুম্ভ-কামলা -কামলালােগ বহুদিন পর্যন্ত শরীরে অবস্থিত থাকিয়া পূর্বোক্ত  লক্ষণসমূহ অধিকতর প্রকাশ করিলে, কুম্ভ-কামলা নামে অভিহিত হয়।এই অবস্থা স্বভাবতঃ কষ্টসাধ্য। বিশেষতঃ ইহাতে অরুচি, বমনবেগ, জ্বর, দোষজমানি, খাস, কাস মলভেদ প্রভৃতি উপদ্রব উপস্থিত হইলে, রােগীর জীবনেরআশা থাকে না

হলীমক।—পাও বা কামলারােগ উৎপন্ন হওয়ার পর ক্রমশঃ শরীরেরর্ণ হরিৎ, শ্যাব বা পীতবর্ণ হইলে, এবং তাহার সহিত বল ও উৎসাহের হ্রাস,তন্দ্রা, অগ্নিমান্দ্য, মৃদুজর, স্ত্রী-সহবাসে অনিচ্ছা, অঙ্গবেদনা, দাহ, তৃষ্ণ, অরুচি,ও ভ্ৰম প্রভৃতি উপদ্রব উপস্থিত হইলে, তখন তাহা হলীমক নামে অভিহিতহইয়া থাকে।চিকিৎসা।যেসকল কাৰ্যদ্বারা যকৃতের ক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে সাধিতহয়, তাহার অনুষ্ঠানই এইসকল রােগের প্রধান চিকিৎসা। পাণ্ডুরােগে।| হরিদ্রার কাথ ও কঙ্কের সহিত সিদ্ধ ঘৃত, অথবা আমলকী, হরীতকী ও বহেড়া,এই তিন দ্রব্যের কাথ ও কঙ্কসহ সিদ্ধ ঘৃত, কিংবা বাতব্যাধি-প্রসঙ্গে

 

কথিততিন্দুকত সেবন করা উচিত। কোষ্ঠবদ্ধ থাকিলে ঐ সমস্ত ধৃতের সহিতবিরেচক ঔষধ মিশ্রিত করিয়া সেবন করা আবশ্যক। বাত-পাওয়ােগে ধৃত| ও চিনির সহিত ত্রিফলার কাথ সেবনে উপকার হয়। পিত্তজ-পারােগে২ দুই ভােলা ৫ পাঁচ মাফ ও চারি রতি চিনির সহিত ১• দশ মা ৮ আট রতি| পরিমিত তেউড়ীচুণ মিশ্রিত করিয়া সেবন ব্যবস্থায়। কফজ পারােগে হরীতকীগগামূত্রে ভিজাইয়া, সেই

 

হরীতকী গােমূত্রের সহিত মিশ্রিত করিয়া সেবন ব্যবস্থাকরিবে, অথবা গােমূত্রের সহিত ওঠচুর্ণ ও চারিমা ও লৌহভস্ম ১ এক মাষা,কিংবা গােমূত্রসহ পিপুলচুর্ণ ৪ চারি মা ও ৩ঠচূর্ণ ৪ চারি মাষা, অথবা গােমূত্রেরসহিত শশাধিত শিলাজিতু ৩ তিন মা, কিংবা ঘৃতপিষ্ট গুগগুলু ৮ আট মাষসেবন করিতে দিবে ; লৌহচুর্ণে ৭ সাত দিন গােমূত্রের ভাবনা দিয়া সেই লৌহ২ দুই রতি মাত্রায় দুগ্ধের সহিত সেবন করিলেও কফজ-পাণ্ডুরােগে বিশেষউপকার হয়।প্রত্যহ গুড়ের সহিত হরীতকী সেবন

 

করিলে, সকলপ্রকার পাণ্ডুরােগইউপশমিত হয়। লৌহর্ণ, কৃষ্ণতিল, ঠ, পিপুল, মরিচ ও কুল-আঁটীর শাসপ্রত্যেকের চূর্ণ সমভাগ এবং সমুদায় চূর্ণের সমভাগ স্বর্ণমাক্ষিকচুর্ণ একত্র উত্তম-রুপে মিশ্রিত করিয়া মধুর সহিত মােক প্রস্তুত করিবে। এই মােক |• চারিআনা মাত্রায় একছটাক ঘােলের সহিত সেবন করিলে, অতিকষ্টসাধ্য পাণ্ডুরােগও |প্রশমিত হয়।

 

পাশােথের চিকিৎসা।—পাণ্ডুরােগীর শােথ থাকিলে, অগিতে
৭ সাতবার মঞ্জুর উত্তপ্ত করিয়া প্রত্যেক বারেই তাহা গােমূত্রে নির্ধাপিতরিবে; পরে ঐ শােষিত-মঞ্জুরচূর্ণ ২ দুইরতি মাত্রায় মৃত ও মধুর সহিতমিশ্রিত করিয়া, অঙ্গের সহিত সেবন ব্যবস্থা করিবে। ইহাছারা পাণ্ডু ও শােথনিবারিত হয় এবং অস্থির দীপ্তি হইয়া থাকে।

 

কামলা-চিকিৎসা।—কামলারােগে গুলঞ্চের পাতা বাটিয়া • অর্থভােলা মাত্রায় ঘােলের সহিত পান করিতে দিবে। ওঠর গুড়ার সহিত গব্যদু-পান উপকারী। হরিদ্রাচুর্ণ।• চারি আনা ২ দুই ভােলা দধির সহিত প্রত্যহপ্রাতঃকালে সেন বিশেষ ফলপ্রদ। ত্রিফলা, গুলঞ্চ, দারুহরিদ্রা ও নিমছালেরকাখ, মধুর সহিত প্রত্যহ প্রাতঃকালে সেন ব্যবস্থা করিবে । লৌহচূর্ণ ২ দুইরতিএবং ৩ঠ, পিপুল, মরিচ, ও বিড়ঙ্গের চুর্ণ সমুদয়ে।•

 

চারি আনা একত্র মিশ্রিতকরিয়া, অব হরিদ্রা, আমলকী ও বহেড়ার চুর্ণ একত্র মিশাইয়া।• চারিআনা মাত্রায় সেবন করতে দিবে। সহপুটিত বা পাঁচশত-পুটিত লৌহচুর্ণ-মধুও গৃতের সহিত সেবনে অথবা হরীতকীচু, এবং গুত্ব ও মধুর সহিতঐরূপ লৌহফুণ লেনে অথবা লৌহচূর্ণ, আমলকী, ওঠ, পিপুল, মরিচ ওহরিদ্রা চূর্ণ-বৃত, মধু এবং চিনির সহিত সেন করিলেও কামলা রােগেরশান্তি হয়।

 

কুম্ভকামলা ও হলীমকের চিকিৎসা।–কুম্ভকামলায়ােগে এবং হলীমরােগে পাও ও কামলা রােগেরই সমুনয় বিধান কর্তব্য। বিশেষতঃকুম্ভকামলায়, ছেড়াকাষ্ঠের অগ্নিতে মঞ্জুর দগ্ধ করিয়া, ক্রমশঃ তাহা ৮ আটবারগগামূত্রে নির্বাপিত করিবে; পরে সেই মঞ্জুরচূর্ণ ২ দুইরতি মাত্রায় মধুর সহিতলেহন করিতে দিবে। আর হলীমকবােগে জারিত লৌহ ২ দুই অতি মাত্রায়খদিরের কাথ ও মুতার চূর্ণের সহিত লেহন ব্যবস্থা করিবে। কটকী, বেড়ে,যষ্টিমধু, হরীতকী, বহেড়া, হরিদ্রা, ও দারুহরিত্রা, সমভাগে চূর্ণ করিয়া, চারি আনামাত্রায় ঘৃত, মধু ও চিনির সহিত লেহন করিলেও হলীমক রােগ নিবারিত হয়।ফলত্রিকাদিকষায়, বাসাদিকষায়,

 

নবয়সলৌহ, ত্ৰিকত্রদলৌহ, ধাত্রীলৌহ,| অষ্টাদশাঙ্গলৌহ, পুনর্নবাদি মঞ্জুর, পাপঞ্চাননরস এবং হরিদ্ৰাদ্যদ্বত, ব্যাথ্য-বৃত, পুনর্নবাতৈল প্রভৃতি অবস্থা বিবেচনা পূৰ্বক, পাণ্ডু, কামলা, কুম্ভকামলাও হলীমক রোগে প্রয়ােগ করা আবশ্যক।চক্ষুদ্বয়ের পীতবর্ণতা নিবারণের জন্য দ্রোণপুষ্প অর্থাৎ গলঘষিয়া পাতাররস চমধ্যে দিবে; অথবা হরিদ্রা, গিরিমাটী ও আমলকীর চুর্ণ-মধুর সহিতমিশ্রিত করিয়া, চক্ষুতে অঞ্জন দিবে। কাকরােল-মূলের রসের, বা ঘৃতকুমারীররসের, অথবা পীতঘােফল জলে ঘষিয়া তাহার ন লইলেও চক্ষুবয়ের পীত-বর্ণতা পরিষ্কৃত হয়।

 

পথ্যাপথ্য।– এইসমস্ত রােগে জীর্ণকারের ও যকৃৎরােগের পথ্যাপথ্যপ্রতিপালন করিতে হয়। কোনরূপ উত্তেজক পানাহার সম্পূর্ণ নিষেধ

Related Posts

সাফল্যের চাবি আপনার হাতে

নতুন বছরে নিজকে সফল করতে পারেন   নতুন বছর শুরু হয়েছে। সবারই ইচ্ছা তার এ বছরটি যেন গত বছরের থেকেআরাে বেশি ভালাে ও সুন্দর কাটে। আর আপনার এ…

কক্সবাজার  ভ্রমণ ২০২১

  কক্সবাজার  ভ্রমণ   নভেম্বরের ২৩ তারিখে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা উঠলো কক্সবাজারের – সেন্ট মার্টিন।তারিখ ও ঠিক করে ফেললাম ৫ ই ডিসেম্বর। কথা অনুযায়ী ট্রেনে…

বাংলাদেশের

    বাংলাদেশে কয়েক দিন দরে লক্ষ করা যাচ্ছে     হিন্দু ভাইদের পুজো চলা কালিন,, আমাদের ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআন শরিফ,যাকে আমরা সম্মান করে মাথায় রাখি সেই…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার

    তথ্য মাধ্যমে চাকরি বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত   চাকরির ধরন ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রয়ােজনীয় অভিজ্ঞতাপত্রপত্রিকায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক চাকরির বিজ্ঞাপন সাধারণত ইংরেজিতেই প্রকাশিত হয়েথাকে। তাই…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান

  বাংলা ফন্ট সমস্যা     সমস্যা-১ কমপিউটারে বাংলা বিশেষ করে বিজয় বাংলা ব্যবহারে অনেক সময় অনেক জটিলতা দেখাদেয়। বিজয় বাংলা সঠিকভাবে ইন্সটল করা থাকলেও অনেক শব্দ টাইপ…

সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না।

  সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না     নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ফাইনাল দিয়েছে।বরাবর সে বিগত পরীক্ষায় ভালাে ফলাফল অর্জন করেছে। পরীক্ষায়সে যে পাস…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *