জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার।

জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

 

যাহা দ্বারা দোষ কুপিত হইয়া রােগােৎপাদন করিতেপারে, তাহাকে নিদান কহে। বিপ্রকৃষ্ট ও সন্নিকৃষ্ট ভেদে নিদান দুই প্রকার।বিরুদ্ধ আহার-বিহারদিকে বিপ্রকৃষ্ট অর্থাৎ দূরী নিদান, এবং কুপিত বাদিদেষকে সন্নিকৃষ্ট অর্থাৎ নিকটী নিদান বলা যায়। রােগবিশেষ প্রকাপাইবার পূর্বে যে সমস্ত লক্ষণরা ভাবী রােগ  অনুমান করা যায়, তাহার নামপূৰ্বরূপ। পূৰ্বরূপও দুইভাগে  বিভক্ত—সামান্য ও বিশেষ । যে পূৰ্বরূপ যারবায়ু, পিত্ত বা শ্লেষ্ম, এই তিন দোষের কোনও বিশেষ লক্ষণ প্রকাশ না হই,

সকল রোগ পরীক্ষা করার নিয়ম।

কেবল ভাবী রােগমাত্র অনুমান করা যায়, তাহাকে সামান্য পূৰ্বরূপ কহে ।যে পূৰ্বরূপধারা ভাৰী রােগের দোষভেদ পৰ্যন্ত অনুমান করিতে পারা যায়,তাহাকে বিশিষ্ট পূৰ্বরূপ বলা যায়। এই বিশিষ্ট পূৰ্বরূপ সুস্পষ্টরূপে প্রকাশিতহইলে তাহাকে রূপ কহে। বস্তুতঃ যেসমস্ত লক্ষণদ্বারা উৎপন্স-রােগ অবগতহইতে পারা যায়, তাহারই নাম রূপ।

 

নিদান-বিপরীত বা রােগ-বিপরীত,অথবা এতদুভয়ের বিপন্নীত কাৰ্যকারক ঔষধ বিশেষ সেবন এবং জাপআহার-বিহারাদি দ্বারা রােগের উপশম হইলে, তাহাকে উপশম কহে। ইহারবিপরীতের নাম অনুপশয়। এই উপশয় ও অনুপশয় দ্বার রােগের গুঢ়-লক্ষণনিশ্চয় করিতে হয়। দোষসমূহ যেরূপে কুপিত হইয়া শারীরিক অবয়ববিশেষে অবস্থান বা

 

বিচরণপূর্বক নােগােৎপাদন করে, তাহাকে সম্প্রাপ্তি বলা
যায়। সংখ্যা, বিকল্প, প্রাধান্ত, বল ও কালানুসারে এই সম্প্রাপ্তি ভিন্ন ভিন্ন হইয়া থাকে। আটপ্রকার অর, পাঁচপ্রকার গুল, এবং আঠার প্রকার কুষ্ঠ প্রভৃতি বিভেদের নাম সংখ্যা। বিদোষজ বা ত্রিদোষজ রােগের কুপিতদোষসমূহের মধ্যে কোন দোষ কি পরিমাণে কুপিত হইয়াছে, তাহা জানিবার জন্য প্রত্যেক দোষের লক্ষণ বিবেচনাপূৰ্ব্বক, যে অংশাংশ বিভাগ করা হয়,তাহার নাম বিকল্প। এইরূপ বােগের মিলিত দোষসমূহের মধ্যে যে দোষ স্বকীয় নিদানারা দূষিত হয়, তাহাই প্রধান এবং সেই ৷কুপিদোষের সংসর্গে অন্যদোষত্বয় কুপিত হইলে, তাহা অপ্রধান নামে অভিহিত হয়। যে রােগ সমুদায় নিদানার উৎপন্ন হয়, এবং যাহার পূর্বরূপ ও রূপ সম্পূর্ণরূপে

 

আপনার কি আমাশয় রােগ আছে তাহলে কবিরাজি চিকিৎসায় নিজেকে সুস্থ করুন

প্রকাশিত হয়, সেই রােগ বলবান্ ; আর যাহা অল্প নিদানারা উৎপন্নহইয়া অল্পমাত্ৰ পূৰ্বরূপ ও রূপ প্রকাশ করে, তাহাকে হীনবল বলিয়া বুঝিতেহইবে। নাড়ী-পরীক্ষা প্রসঙ্গে কাদি দোষত্রয়ের প্রাতঃকালাদি যে সকলপ্রগোপাল কথিত হইয়াছে, সেই সেই প্রকোপকালে সেই সেই নদষজনলেগের আক্রমণ বা প্রকোপ হইয়া থাকে।দোষজ ও আগন্তুক রােগ।সমুদায় রোগই সাধারণতঃ দুই-ভাগে বিভক্ত-দোষজ ও আগন্তুক। যেসফল মােগ বায়ু, পিত্ত ও কফ, এইতিন দোষের মধ্যে পৃথক এক একটী, বা মিলিত দুইটা অথবা তিনটী দোষ হইতে| উৎপন্ন হয়, তাহাদিগকে দোষ কহে। একটা গােষ কুপিত হইলে, অপর দুইদোষকেও কুপিত করিয়া থাকে, এজন্য কোন রােগই এগোষজ হয় না ;ইহাই

 

সাধারণ নিয়ম। তবে, যে একটা, দুইটা বা তিনটা দোষ রােগের প্রথমউৎপাক হয়, তদনুসারে’ গেও একদোষজ, দ্বিদোষজ বা ত্রিদোষজ নাম পাইয়াথাকে। যে সকল রেস অতিঘাত, অভিচার, অভিশাপ ও ভূতাবেশ, প্রভৃতিকারণবশতঃ সহসা উৎপন্ন হয়, তাহাদের নাম আগন্তুক।’ খ নিদানানুসারে| দোষবিশেষ কুপিত না হইলে, দোষ রােগের উৎপত্তি হয় না; কিন্তু আগন্তুকগোগের প্রথমেই যাতনা প্রকাশ পাইয়া, পরে দোষবিশেষকে কুপিত করে।ইহাই উভন্ন রােগের বিভিন্নতা।

 

প্রকুপিত বায়ু, পিত্ত, ও ফফ এই ত্রিদোষ-দোষ রােগেৎপত্তি বিষয়েসন্নিকৃষ্ট দিন’; বিবিধ অহিতজনক আহার-বিহামদিরূপ নিদানারা ঐ তিনদোষ প্রকুপিত হইয়া বােগােপান করিয়া থাকে। এতদ্ভিন্ন কতিপয়উৎপন্ন রােগও রােগবিশেষের নিদান হয়; যেমন অসাপ হইতে রক্তপিত্ত,রক্তপিত্ত হইতে জর, জর ও রক্তপিত এই উভয় গােপ হইতে রাজযঙ্গ, প্লীহাকৃদ্ধি হইতে উদরগোগ, উদয়রােগ হইতে শােখ, অর্শঃ হইতে উনােগ বাগুলু, প্রতিস্যায় হইতে কাসরােগ, কাস হইতে ক্ষয়রোগ, এবং ক্ষয়রােগহইতে ধাতুৰে প্রভৃতি রােগের উৎপত্তি হইতে দেখিতে পাওয়া যায়। এই সস্তরােগােৎপাদক রােগের মধ্যে কোন কোন কােগ অন্যবােগ উৎপাদন ওস্বয়ং বর্তমান থাকে।

 

 

নতুন কিছোমঙ্গলবাসীর পৃথিবী আক্রমণ

 

এই নিদানালি পাঁচটী বিষয়ই সমুদায় রােগনের উপস্বরূপ। এস্কুলকেবল তাহাদের সাধারণ লক্ষণমাত্ৰ কথিত হইল। অতঃপর এক একটারােগ পৃথক পৃথক ভাবে অবলম্বন করিয়া তাহাদের নিদানদির বিশেষ লক্ষণনির্দিষ্ট হইবে।জ্বরের প্রাধান্য।জীবগণের জন্ম ও মৃত্যুকালে জরশংসৃষ্ট হওয়ানিয়ত নিয়ম। শরীরের প্রথম উৎপত্তিকালেই আর তাহাকে আৰুণ ॥বলিয়া, সমুদায় রােগমধ্যে সরেরই প্রথম উল্লেখ করা উচিত।

 

আরও, অওরােগ অপেক্ষা আর অধিকতর ভয়ঙ্কর, এবং জ্বর হইতে যাবতীয় রােগেরই উৎপত্তিসম্ভাবনা প্রভৃতি বিবেচনা করিলে, সমুদায় রােগমধ্যে সরেরই প্রাধান্য লক্ষিতহয়। সুতরাং অতি প্রাচীনকাল হইতেই বােগাধ্যায়ের প্রথমে জরােগের বিষয়উল্লিখিত হইয়াআসিতেছে।আমরাও তদনুসারে জ্বররােগের বিষয় প্রথনেসন্নিবেশিত করিলাম।

 

জ্বরের সাধারণ লক্ষণ।—সরের সাধারণ লক্ষণ শারীরিক ও মান-সিক সন্তাপ, যেহেতু সন্তাপলক্ষণশুন্য আর দেখিতে পাওয়া যায় না। এতএকেবারে ঘৰ্ম্মনিরােধ এবং সর্বাঙ্গে বেদনা প্রভৃতি জুরের আরও কয়েকটা সাধ্যরণ লক্ষণ আছে। বস্তুতঃ, যে রােগে সন্তাপ, ঘনিম্নেষ ও সর্বাঙ্গে বেদনা একসময়ে লক্ষিত হয়, তাহারই নাম জর। ইহার মধ্যে ঘর্মনিয়ােট নিত-লক্ষণনহে। পিত্তজরে কখন কখন ঘর্ম হইতেও দেখিতে

 

পাওয়া যায়। যদিও লক্ষণ-ভেদে জর অপরিসংখ্যেয় ভাগে বিভক্ত, তথাপি চিকিৎসাকার্যের সুবিধার জন্যশাস্ত্রবিশেষে কতকগুলি পরিমিত সংখ্যা নির্দিষ্ট আছে। এইসকল বিভাগেরমধ্যে স্বরের আট প্রকার সাধারণ বিভাগ চিকিৎসাশাস্ত্রে অধিক প্রচলিত।আমরা তাহারই উল্লেখ করি। সেই আটপ্রকার:স্বর, যথা-বাত, পিত্ত,গেজ, বাতপিত্তজ, বাগে, পিগেম, সন্নিপাতজ ও আগন্তুক। যথাক্রমেইদের পৃথক পৃথক লক্ষণাদি নির্দিষ্ট হইবে।

 

সাধারণ পূৰ্বরূপ।-সমুদায় জরেরই সাধারণ-পূৰ্বরূপ এক প্রকার ;যথা—মুখের বিরসতা, শরীরে ভাৰবােধ, পান-ভােজনে অনিচ্ছা, চক্ষুয়ের আকু-লতা, অপূর্ণতা, অধিক নিদ্রা, অনবস্থিতচিত্ততা, জ্বা, অর্থাৎ ঘন ঘন হাই-উঠা, শরীর সঙ্কুচিত করিবার ইচ্ছা, এন্তিবােধ, প্রান্তি, প্রলাপ, রাত্রেঅনিদ্রা, লােমহর্ষ, দহ, অর্থাৎ দাত শিগ শির করা, বায়ু প্রভৃতি শীতলদ্রব্যেও আতপাদি উষ্ণদ্রব্য ক্ষণে ক্ষণে ইচ্ছা ও দ্বেষ, অরুচি, অজীর্ণ, দুর্বলতা, শরীরেবেদনা, শারীরিক অবসন্নতা, দীর্ঘসূত্রতা অর্থাৎ প্রত্যেক কাৰ্যেই বিলম্ব করা,আলস্য, হিতবাক্যেও বিরক্তিৰােষ, এবং উষ্ণ, লবণ, কটু ও অন্নবস্তুতে অভি-| লাষ ;-এইসমস্ত পূৰ্বরূপের নাম

 

সামান্য পূৰ্বরূপএতদ্ভিন্ন বাতাদি দোষভেদেআরও কতকগুলি  বিশেষ পূৰ্বরূপ লক্ষিত হইয়া থাকে। যথা—বাতজ-জ্বরেরপূৰ্বে অতিরিক্ত জ্বা, পিত্তজনিত-জরের পূর্বে চক্ষুয়ের অত্যন্ত দাহ, এবংকফ জরের পূর্বে অতিশয় অৰুচি হইয়া থাকে।দ্বিদোষজ-জরে পূর্বোক্তসামান্থ-পূৰ্বরূপের সহিত সেই সেই দুইটা দোষের বিশিষ্টপূৰ্বরূপ, এবংত্রিদোষ-জ্বরে ঐরূপ তিনটা দোষের বিশিষ্টপূৰ্বরূপ প্রকাশ পায়। এইসমস্তপূৰ্বরূপ সমুদায় অরেই যে প্রকাশিত হইবে, এরূপ নির্দিষ্ট নিম নহে;দোষপ্রকোপের নূনাধিক্য অনুসারে পূৰ্বৰূপ কখন অল্প এবং কখনওবাঅধিক, প্রকাশ পায়।

 

সাধারণ সম্প্রপ্তি ।অনিয়মিত আহারাদিদ্বারা বায়ু প্রভৃতি দোষকুপিত হইয়া, আমাশয়ে প্রবেশপূৰ্ব্বক আমাশয়কে দূষিত করে, এবং তৎপরেকোষস্থ সন্তাপ বাহিরে আনিয়া জ্বর উৎপাদন করিয়া থাকে। এইরূপে সাপবাহিকে নিক্ষিপ্ত হওয়ার জন্যই সমুদায় জরে ত্বক উষ্ণ হয়।’ ইহাই অবরােগেরসাধারণ-সম্প্রপ্তি।

পিত্তজ জ্বরের লক্ষণ

ইহাতে অরের তীক্ষ্ণবেগ, তীব্ৰসন্তাপঅতিসার রােগের ন্যায় তরল মলভেস, অনিদ্রা, বমন, ঘৰ্মনিৰ্গম, প্রলাপ,মুখের তিস্তা, অরুচি, মূৰ্ছার স্তায় জ্ঞানশূন্যতা, অন্তর্দাহ, দাহ, মত্ততা,পিপাসা, গাত্ৰঘূর্ণন, কণ্ঠ, ওষ্ঠ ও নাসিকা প্রভৃতি স্থানের পাক অর্থাৎ ঐসকলস্থানে ঘা হওয়া, শরীর রক্তবর্ণ ও চাকা চাকা দাগের উৎপত্তি, শীতলম্পর্শেঅভিলাষ, এবং মল-মূত্র ও নেত্রাদির পীতবর্ণতা, প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়।থাকে।

 

কফ-জ্বরের লক্ষণ।ইহাতে জ্বরের মন্দবেগ, আলস্য, মুখেরমধুৱতা, প্রসেক (মুখ দিয়া জল উঠা ), শরীরের স্তব্ধতা ও ভাইবােধ,পানভােজনে অনিচ্ছ, শীতবােধ, স্বল্পাস অর্থাৎ সর্বদা গা বমি বমি করা,রােমাঞ্চ, তৃষ্ণা, অতিনিদ্রা, প্রতিস্যায় অর্থাৎ মুখ ও নাসিকা হইতে জলআৰ, অৰুচি, কাস, হৃদয় লিপ্ত থাকার ন্যায়, অনুভব, শরীরেশ্বেতপিড়কাউৎপত্তি, অগ্নিমান্দ্য, উষ্ণস্পর্শে অভিলাষ, মল-মূত্র ও নেত্রের শুরুবর্ণতা এবংস্তৈমিত্য অর্থাৎ শরীরে আব আচ্ছাদনের ন্যায় অনুভব প্রভৃতি লক্ষণ| লক্ষিত হয়।

 

বাতপিত্তজ জলক্ষণ

 

এইরে তৃষ্ণা, মুক্ষ্মা, গান, না,অনিদ্রা, মন্তকে বেদনা, কণ্ঠের ও মুখের শুষ্কতা, বমন, অরুচি নােমা,জা, সন্ধিস্থলে বেদন, এবং অন্ধকারদর্শন প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়।

ফিলিস্তিনের বর্তমান অবস্থা।

বাতশ্লেষ্মঞ্জ লক্ষণ

 

এইরে স্তৈমিত্য, অর্থাৎ শরীর আর্ক বন্দ্র আচ্ছাদনের ন্যায় অনুভব, সন্ধিস্থলে বেনা, অধিক নিত্রা, মঞ্চকে বেদনা প্রতিশ্যায় অর্থাৎ মুখ ও নাসিকা হইতে জলাব, কাস, সর্বাদে খ এবং সন্তাপ ‘ভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হয় ; ইহাতে অরের বেগ অধিক তীক্ষ্ণ বা অধিক মৃদু হয় না।

 

পিত্তশ্লেষ্মজ জ্বলক্ষণ

 

—এই জরে মুখমধ্য শ্লেষ্মম্বার লিপ্ত পগু তিক্ত হইয়া পাকে ; আরও, ইহাতে শরীরের স্তব্ধতা, তন্দ্রা, মুচ্ছা,কাস, অরুচি, তৃষ্ণা, কফপিত্তের নির্গম, এবং বারংবার দাহ ও বারংবার শীতপ্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পাইয়া থাকে।

 

সাপাত জ্বলক্ষণ

 

।—চলিতকথায় ইহাকেই জ্বর-বিকার কহে। এই ‘ভর ক্ষণে ক্ষণে পাহ, আবার পরক্ষণেই শীত, অথবা নিরবচ্ছেদে অত্যন্ত শরণােধ ;অস্থিসমূহে, সন্ধিস্থলে ও মস্তকে ‘বেদনা, চক্ষুদ্বয় অপূর্ণ (ছল আবিল (ঘঘালাটে ), রক্তবর্ণ এবং বিস্ফোরিত বা অতিকুটিল ; কর্ণ বরমধ্যে নানাপ্রকার শব্দের অনুভব ; কত যেন শূকাদি ( ধান্যাদি১) দ্বারা আবৃত অর্থাৎ শুঙ্গ শুঙ্গে ; তন্দ্রা, মুচ্ছা, প্রলাপবাক্য, স্বাস,কাস, অরুচি, ভ্ৰম, তৃষ্ণা, নিদ্ৰানাশ অথবা অত্যন্ত নিদ্রা কিংবা দিবসে অধিক ও রাতে একেবারে নিদ্রানা; জিহ্বা অঙ্গারের ন্যায় কৃষ্ণবর্ণ এবং গরুর জিহবার স্থায় কর্কশস্পর্শ; সর্বাঙ্গে শিথিলভাব, কফমিশ্রিত রক্ত বা পিত্তের ভীবন ; ইতস্ততঃ শিশ্চালন ( লালুঠান, মল, মূত্র ও

 

ধর্মের কদাচিৎ নির্গমন অথবা অধিক ঘর্ষ ;দোষপূর্ণতা বশতঃ শরীরের অনতিকৃশতা; কণ্ঠ হইতে নিরন্তর অব্যক্ত শব্দনিগম ; মুখ ও নাসিকা প্রভৃতি স্থানে পাক অর্থাৎ ক্ষত, দরে ভাৰােধ, অপূর্ণতা বশতঃ বাদি-দোষসমূহের বিলম্বে পরিপাক, শরীরে খাব । রক্তবর্ণ কোঠ অর্থাৎ বােলদষ্টস্থানের ন্যায় শশাথের উৎপত্তি এবং নৃত্য, গীত, হাস্য ও রােদম প্রভৃতি নানাপ্রকার বিকৃত চেষ্টা, এইসমস্ত লক্ষণকাশিত হয়।

 

নিউমােনিয়া।-পূর্বোক্ত সন্মিপাত-জরের অবস্থাবিশেষকেই ডাক্তারগণ “মিমােনিয়া” বলে। সমিপাত-জরের সাধারণ লক্ষণ ব্যতীত আরওকতক গুলি বিশেষ লক্ষণ তাহাতে প্রকাশ পাইয়া থাকে। এই পীড়া-প্রকাশের পূর্বেঅতান্ত দুর্বলতা ও ক্ষুধামান্দ্য অনুভূত হয়। . পীড়ার এখৰয় কর, বমন, বক্ষোবেদনা; শিরঃপীড়া, প্রলাপ, অস্থিরতা, ও আক্ষেপ অর্থাৎ হাত প- ছেড়া প্রতি লক্ষণ দেখিতে পাওয়া যায়। সম্পূর্ণরূপে পীড়াপ্রকাশ পাওয়াপরেওঐ সমস্ত বক্ষণ, অধিক পরিমাণে বর্তমান থাকে, এবং আরও কতকগুলিঅধিক লক্ষণ লক্ষিত হয়; যথা বক্ষস্থল স্পর্শ করিতেও বেনাথে, নিশা প্রশ্বাসে

 

কষ্টবােধ, অত্যন্ত কাস, লােহার মরিচার ন্যায় মলিন এবং গড় ঠা আঠা শ্লেনিৰ্গম ; ঐ গো কোন পাত্রে নিক্ষিপ্ত হইলে তাহা হইতে ছাড়ান যায় না; কখন কখন সেই গেমার সহিত মিশ্রিতভাবে অল্প রক্তনির্গম; সপ্তম বা অষ্টম দিবসে মূত্র ও ঘনিৰ্গমের আধিক্য প্রতি মিনিটে ১ হইতে ১০২বার পর্যন্ত নাড়ীস্পন্দন ; শারীরিক-উত্তাপ থার্মোমিটারে ১০৩ হইতে ১০০ ডিগ্রী ( কাহার কাহারও ১০৭ ডিগ্রী পর্যন্ত উত্তাপ হইলে ও তাহাকে আবােগ লাভ কবিতে দেখা গিয়াছে ; মুখমণ্ডল মলিন ও চিন্তাযুক্ত ; গণ্ডস্থল লাল ও

 

কৃষ্ণবর্ণ; ওষ্ঠ ফাটা ফাটা, দিবা শুষ্ক ও মলাবৃত, ক্ষুধামান্দ্য, শহরে কষ্ট,উদরাময়, অনিদ্রা, আলােক দেখিতে কষ্টবােধ, এবং পীড়া-প্রকাশের দ্বিতীয় ফি তৃতীয় দি সে মুখমণ্ডলে পিড়কার উৎপত্তি। ফুসফুস্ দূতি হওয়া, এই পীড়ার একটী প্রধান লক্ষণ ; অনেকস্থলে তাহা পচিয়া গিয়া থাকে। ফুসফুস দূষিত হইলে, শুষ্ক-কুলগোলা জলের স্থায় এক প্রকার তরল শ্লেষ্মার নিষ্ঠীবন হইতে থাকে। পচিয়া গেলে দুর্গন্ধযুক্ত দুগ্ধেব সরের ন্যায় শ্লেষ্মা নির্গত হয়।| এইরূপে ফুসফুস্ দূষিত হইলে, পীড়া নিতান্ত কষ্টসাধ্য হইয়া উঠে। ফুসফুসে দাহ থাকিলে, তাহাও একটা কষ্টসাধ্যের লক্ষণ। শিশু, বৃদ্ধ, স্ত্রীলেক, বিশেষত  গর্ভিণী এবং মদ্যপায়ী ব্যক্তিগণের এই পীড়া হইলে, সাধারণতঃ তাহা দুঃসাধ্য হইয়া থাকে।

 

 

সন্নিপাতের ভােগকাল।-সন্নিপত জর কখনই সুখ নহে। যদি মল ও বাতাদি দোষ বিশুদ্ধ থাকে, অঞ্জি নষ্ট হইয়া যায়, এবং সমুদা ক্ষণসম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাহা হইলে ইহা অসাধ্য হয় ; ইহার বিপরীত হইলে, কষ্টসাধ্য হইয়া থাকে। ৭ দিন, ৯ দিন, ১০ দিন, ৯ দিন, ১২ দিন, ১৪ ‘দন, ১৮ দিন, ২২ দিন বা ২৪ দিন পর্যন্ত, জর, হইতে মুক্তিলাভের ঝ মৃত্যু ঋটিবার সীঘকাল, নির্দিষ্ট আছে; অর্থাৎ এইরে যদি ক্রমশঃ বরের ও বাতাদি দোষ জয়ের লঘুতা, এবং মনের স্থিরতা ও বলল প্রভৃতি সুক্ষণ প্রকাশ পাই, ঐ সমস্ত নির্দিষ্ট সীমা অতিবাহিত ইয়া যায়, তাহা হইলে সেই রােগীআৱগ্যলাভ করে। যদি দিন দিন নিদ্রাশ, স্তব্ধত, উফরে বিষ্টা,দেহের ভারবােধ, অরুচি, মনের অস্থিরতা ও বলহানি প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশহয়, তাহা হইলে ঐ

 

নির্দিষ্টকালধ্যেই রােগীর মৃত্যু ঘটিয়া থাকে। সন্নিপাত-জ্বরের শেষ অবস্থায় কর্ণমূলে কষ্টদায়ক শােথ হইলে, রােগী কদাচিৎ রক্ষা পায় ;কিন্তু ঐ শােথ জয়ের প্রথমাবস্থায় হইলে সাধ্য, এবং মধ্য-অবস্থায় হইলে কষ্টসাধ্যহইয়া থাকে।

 

অভিয্যাস-জ্বর। বাতাদি দষত্ৰয় অতিমাত্র কুপিত হইয়া, যদি বক্ষস্থলস্থ শ্রোতঃসমূহে প্রবিষ্ট হয়, এবং আমাসের সহিত মিলিত হইয়া আনেন্দ্রিয়ও মনকে বিকৃত করিয়া তুলে, তাহা হইলে অতি ভয়ঙ্কর কষ্টসাধ্য অভিঘাস,নামক এর উৎপন্ন হয়। এই জয়ে রােগ নিশ্চেষ্ট, এবং দর্শন, শ্রবণ ও শ্রাণশক্তিরহিত হয়, পার্শ্বস্থ ব্যক্তিকে চিনিতে পারে না; কাহারও কোন কথা বা শাদিবুঝিতে পারে না; কিছুই খাইতে চাহে না; নিরন্তর সূচিকাবিদ্ধবৎ (চুচফোটার মত) যাতনা অনুভব করে; প্রায়ই কোন কথা কহে না; আরও সর্বদামন্তসঞ্চালন, কুন্থন ও পার্শ্ব-পরিবর্তন করিতে থাকে। এই জর সর্বথা অসাধ্য ;তবে কদাচিৎ কেহ দৈবানুগ্রহে মুক্তিলাভ করিয়া থাকে। ইহাও সন্নিপাত জ্বরেরএকপ্রকার তোমায়।

আগন্তুক জ্বরের কারণ ও লক্ষণ

, লােষ্ট্র, মুষ্টি বা লণ্ড-ডালি দ্বারা আঘাত, অভিচায়, অর্থাৎ কাহাকেও মারিবার জন্য মানিউচ্চারণ পূর্বক বাগাদি ক্রিয়াবিশেষ, অভিষজ অর্থাৎ ভূতগ্রহাদির অথবাকামাদি রিপুর উত্তেজনা এবং ব্রাহ্মণাদির অভিশাপ, এইসকল কারণে আগন্তুকজয় হইয়া থাকে। অভিঘাতাদি কারণবিশেষে বাতাদি যে দেশের প্রকোপসভাবনা, সেই কারণ হইতে আগন্তুক উৎপন্ন হইলে, তাহাতে সেই দোষঅনুবন্ধ থাকে।বিষ-জ্বর।-বিষজজরে মুখের খাববর্ণতা, অতিসার, অরুচি, পিপাসা,| অঙ্গে সূচীবেধবৎ বেদনা ও মূৰ্ছা হইয়া থাকে।

 

ওষধিঘ্রাণ-জ্বর।-ওষধিবিশেষ আণজ আর ইলে, মূচ্ছ, শিনােবদনা ও বমি প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হয়।কাম-জর।-অভিলষিত রমণীর,অপ্রাপ্তি বশতঃ, কামৰূর হইয়া থাকে; তাহাতে অস্থিরতা, তা, আল ও অরুচি প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশপায়।ভয়, শােক, বা ক্রোধ হইতে জর উৎপন্ন হইলে, তাহাতে প্রলাপ ওকম্প হইয়া থাকে অভিচারাদিজাত জ্বর।অভিচার ও অভিশপজনিত জ্বয়ে মােহও তৃষ্ণা, এবং ভূতাভিষঙ্গজ-অরে চিত্তের উদ্বেগ, হাত, মােন ও কম্প

 

প্রভৃতিলক্ষণ লক্ষিত হয়।কামজ, শােকজ ও ভয়জনিত জ্বরে বায়ুর প্রকোপ, ক্রোধ আরে পিত্তেরপ্রকোপ এবং ভূতাভিষজ অরে বাত, পিত্ত ও কফ এই তিন দোষেরই প্রকোপইয়া থাকে। আরও, এই অর যে ভূতবিশেষের সংসৰ্গদোষে উৎপন্ন হয়, সেই ভূতবিশেষের হাস্য-রোনাদি অনুসারে রােগীর হাগু-রােনাদি বিভিন্নরূপে হইয়া থাকে।বিষম-জ্বর।যে জয়ের আগমন বা বৃদ্ধির সময়ের নিয়ম নাই, এবং যে জ্বরে উষ্ণতা বা জরবেগেরও সমতা নাই, তাহার নামবিষমকার।এই জয়ের প্রধান লক্ষণ-মুক্তানুবন্ধিত্ব অর্থাৎ ছাড়িয়া ছাড়িয়া স্বরাগম।

 

কারণ।-নবজয়ের যথাবিধি চিকিৎসা না করিয়া, যদি কোন উষ্ণবীৰ্য্য ঔবধাদিদ্বারা সহসা তাহা নিবৃত্ত করা হয়, তাহা হইলে অয়ােৎপাদক কুপিত বাতাদিদােষ সম্পূর্ণরূপে প্রশান্ত না হইয়া বলহীন হইয়া থাকে। পরে আহার- বিয়াদির অনিয়মবশতঃ সেই হীনবল মেষ পুনৰ্বার বলবান্ হয়, এবং রক্তাদি কোন ধাতুকে আশ্রয় করিয়া বিষমজর উৎপাদন করে। এতদ্ভিন্ন একবারে প্রথম হইতেও বিষম-জর হইয়া থাকে।অবভেদ।এই বিষমজর লক্ষণানুসারে সন্তত, সততক, অন্তে, তৃতীয় ও চতুর্থাদি নামে অভিহিত হয়। দোষ রসস্থ হইলে-সন্তত, রক্তাতহইলে—সততক, মাৎসালিত হইলে—অদ্য, মেদোগত হইলে—তৃতীয় এবং অস্থি-মজ্জগত হইলে-চাতুর্থক জর উৎপন্ন হয়এইকয়েকপ্রকার জয়ের মধ্যেচাতুর্থজরই অধিক ভয়ঙ্কর।

 

সস্তুত লক্ষণ

 

সস্ততকার একাদিক্রমে সাতদিন, দশদিন বা শদিন ভােগ করিয়া ছাড়িয়া যায়।সততকরলক্ষণ—যে এর দিকারানের মধ্যে দুইবায় অর্থাৎ দিনে একবার ও রাত্রিতে একবার, অথবা দিনের মধ্যেই দুইবার, কিংবা রাজি মধ্যেই দুইবার হইয়া থাকে, তাহার নাম সততক বা ঘিকালীন কর।অন্যে, তৃতীয় ও চতুর্থক জ্বর।—দিবারাত্রের মধ্যে এক- বারমাত্র জর, হইলে, তাকে অন্ত্যেক্ষ কহে। যে জ্বর প্রতি তৃতীয়দিনেঅর্থাৎ একদিন অন্তর হয়, তাহার নাম তৃতীয়ক; এবং যাহা প্রতি চতুর্থ |দিনে অর্থাৎ দুই দিন অন্তর হইয়া থাকে, তাহার নাম চাতুৰ্থক অৱ।তৃতীয়করে পিত্ত ও শ্লেষ্মর আদিকা থাকিলে, এই জ্বর আরম্ভ হইবারসময়ে, ত্ৰিকস্থানে

 

 

অর্থাৎ কটি ও মেরুদণ্ডের সন্ধিদেশে বেদনা, বায়ু ও”শ্লোেব আধিক্য থাকিলে পৃষ্ঠে, এবং বায়ু ও পিত্তের আধিক্য থাকিলে মস্তকেবেদনা হইয়া থাকে। চাতুর্থজরে প্লেয়ার আধিক্য থাকিলে প্রথমে উতদ্বয়ে,এবং বায়ুর আধিক্য থাকিলে প্রথমে মস্তকে বেদনা হয় ; তৎপরে সমুদায়শরীরে জর ব্যাপ্ত হইয়া থাকে। যে জর মধ্যের দুইদিন নিয়ত ভােগ করিয়া,আদি ও অন্ত এই দুইদিন বিরত থাকে, তাহাকে চাতুর্থক-বিপৰ্যয় কহে।ইহাও একপ্রকার বিষমজর। কেহ কেহ ভূতাভিষঙ্গজ জরকেও বিষম-জর।কহিয়া থাকেন।

 

 

বাত-বলাস ও প্রলেপক জ্বরের লক্ষণ।—যে জ্বরে প্লেয়ারআধিক্য দেখিতে পাওয়া যায়, রােগী রুক্ষদেহবিশিষ্ট, অৰসন্ন ও জড়পদার্থেরমত হয়, এবং যে জর নিত্যই মন্দ মন্দ ভাবে হইয়া থাকে, তাহাকে বাত বাসকজয় কহে। আর যে জ্বরে শরীরে ভারবােধ, এবং সর্বদা ধবশতঃ শরীর লিপ্তবােধ হয় তাহার নাম প্রলেপক জর। এই জরও মন্দ মন্দ ভাবে হইয়া থাকে।যক্ষ্মরােগে প্রায়ই এইরূপ র দেখিতে পাওয়া যায়।দোষের স্মৃতিভেদে অঙ্গের শীতােষ্ণতা।যদি দুৰু আহার বুস পরিপাক ন পাইয়া দূষিত হয়, এবং যদি দুষ্টপিত্ত ও ষ্টপ্লেয়া, শরীরের উ,অধঃ, অথবা বাম-দক্ষিণ বিভাগাক্ষুসারে

 

অর্ধভাগে অবস্থিত হয়, তাহা হইলেশরীরের যেভাগে পিত্ত- সেই ভাগ উষ্ণ, এবং যে ভাগে খো অবন্ধিত থাকে,সেই ভাগ শীতল হইয়া থাকে। আর কৰি কোঠে দুষ্টপিক্ক ও হস্তপদে গ্নেয়াঅবস্থিত হয়, তাহা হইলে রােগীর শরীর উষ্ণ এবং হগম কতল হইয়া থাকে।ইহার বিপরীত হইলে অর্থাৎ কোষ্ঠে গেয়া এবং হস্তবে পি অবস্থিত হইলে,শরীর শীতল এবং হস্তপদ উষ্ণ হয়।

 

 

শীতপূর্ব ও দাহপূৰ্ব্ব জ্বর লক্ষণ।—যদি দুষ্টশ্লেষ্মা ও দুষ্ট বাৰু ত্বকে অথবা স্বগত রসে অবস্থান করে, তাহা হইলে প্রথমে শীত জন্মাইয়া আর হয়, তৎপরে বায়ু ও গ্লেমার বেগ করিয়া আসিলে, পিত্ত-দাহ উৎপাদন ইহার নাম শীতপূৰ্ব জর। আর যদি দুষ্টপিত্ত ত্বৰ্গত হয়, তাহা হইলে প্রথমে দাহ হইয়া জরাগম হয়; পরে পিত্তবেগ কমিয়া আসিলে গেয়া ও বায়ুশত উৎপাদন করে ; ইহাকে দাহপূৰ্ব্ব জর কহে। উভয়-জরই বাতাদি দুইদোষের বা তিন দোষের সংসর্গে উৎপন্ন হয়। ইহার মধ্যে দাহপূৰ্ব্ব-জর কষ্টসাধ্যও কষ্ট-প্রদ।অর, রসাদি সপ্তধাতুর মধ্যে যে কোন ধাতুকে বিশেষরূপে আশ্রয় করিলেতাহাকে ধাতুগত জ্বর কহে।

 

ভিন্ন ভিন্ন ধাতুগত জ্বর-লক্ষণ।—রসধাতুগত-জরে শরীর ভারী-বােধ, বমনেচ্ছা, বমন, শারীরিক অবসন্নতা, অরুচি, চিত্তের ক্লান্তি প্রভৃতিলক্ষণ প্রকাশিত হয়। রক্তগত-জরে অল্প রক্তমন, দাহ, মােহ, বমন, ভ্রান্তি,প্রলাপ, পিড়কা অর্থাৎ ব্রণবিশেষের উৎপত্তি ও তৃষ্ণা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিতহয়। মাংসগত-জরে, ওর মাংসপিণ্ডে অর্থাৎ পায়ের জিমে দাদিরাআঘাতের ন্যায় বেদনা, তৃষ্ণা, অধিক পরিমাণে মল মূত্রের নির্গম, বাহিরেসন্তাপ, অজ্যরে দাহ, পদাদির বারংবার সঞ্চালন ও শারীরিক গ্লানি প্রভৃতিলক্ষ লক্ষত হয়। মেদোগত স্বরে অতিশয় বৰ্ম, পিপাসা, মুচ্ছ

 

, প্রলাপ,বমন, শরীরে দুর্গন্ধ, অরুচি, মানি ও অসহিষ্ণুতা প্রভৃতি লক্ষণ দেখিতেপাওয়া যায়। অস্থিগত জ্বরে অস্থিসমূহে ভগবৎ বেদনা, কুন্থন, খাস, অধিকপরিমাণে মলপ্রবৃত্তি, বমন ও হস্ত-পদের বিক্ষেপ প্রভৃতি সাক্ষণ লক্ষিত হয়।মজ্জাগত-জরে অন্ধকারদর্শন, হিকা, কাস, শীতবােধ, বমি, অভ্যন্তরে দাহ,মহাখাস, ও হৃদয়ের মধ্যে কৰ্ত্তন বোনাে, প্রভৃতি লক্ষণ লক্ষিত হইয়াথাকে। গুগত-জরে লিঙ্গ সর্বদা জড়বৎ শুদ্ধ হই থাকে, অথচ তাহাবইতে নিয়ন্তর শুক্র ও রাগি ক্ষতি হয় । এই জয়ে রোগীর মৃত্যু নিশ্চিত

অন্তৰ্বেগ ও বহির্বেগ লক্ষণ।যে জ্বরে অধিক অর্পা, অধিক তৃষ্ণা, প্রলাপ, খাস, ভ্ৰম, সন্ধি-স্থানে ও অস্থিসমূহে শূলবৎ বেদনা, ঘৰ্ম্মরােধ এবং বাতাদিদোষের ও মলের বন্ধতা প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশিত হয়, তাহার নাম অন্তৰ্বেগ জ্বর; আর যে জ্বরে বাহিরের সন্তাপ অধিক, কিন্তু তৃষ্ণাদি উপদ্রবসমূহ অল্প হয়,তাহাকে বহির্বেগ জর কহে।প্রাকৃত ও বৈকৃত-বর্ষা, শরৎ ও বসন্তকালে ক্রমান্বয়ে বাতালি দোষত্ৰয়দ্বারা যে আর উৎপন্ন হয় তাহাকে প্রকৃত জর কহে; অর্থাৎ বর্ষাকালে বাতিক, শরৎকালে পৈত্তিক, ও বসন্তকালে শ্লৈষ্মিক জ্বর হইলে, তাহার নামপ্রাকৃত-জর। ইহার, অন্যথা হইলে, অর্থাৎ বর্ষাকালে শ্লৈষ্মিক বা পৈত্তিক, শরৎকালে ৰাতিক বা শ্লৈষ্মিক, এবং বসন্তকালে বাতিক বা পৈত্তিক জ্বর হইলে,তাহার না

 

বৈকৃত-জর। প্রাকৃতজরের মধ্যে বাতিক-জর ব্যতীত অন্যান্য জর সুখসাধ্য। বৈকৃত অর সকলগুলিই দুঃসাধ্য। প্রাকৃতজ্বরে ঋতুবিশেষায় সারে এক একটা দোষ আরম্ভক হইলেও অপর দুই দোষ তাহাতে অনুবন্ধ থাকে।অপক-জ্বর। যে অরে লালাস্রাব, বমনেচ্ছা, হৃদয়ের অশুদ্ধি, অরুচি, নিদ্রা, আলস্য, অপরিপক্ক, মুখে বিরসতা, শরীরে বােধ, স্তব্ধতা, ক্ষুধানাশ, অধিক প্রস্রাব ও জ্বরের প্রবল প্রভৃতি দেখিতে পাওয়া যায়, তাহাকে অপক আম জর কহে

পচ্যমান।–অরবেগের আধিক্য, তৃষ্ণ, প্রলাপ, খাস, এম, মল-প্রবৃত্তি,বমনেচ্ছা প্রভৃতি লক্ষণসমূহ পচ্যমান-জ্বরে অর্থাৎ জ্বরের পরিপাক অবস্থায়প্রকাশিত হয়।পর।- সুধবােধ, দেহের লঘুতা, জ্বরের উপশম, বায়ু, পিত্ত, কফ ও মলের নিঃসরণ, এই কয়টা পৰু-জরের লক্ষণ। আট দিন অতিবাহিত হইলে তাহাকেও পকর বলা হয়।জ্বরের উপদ্রব =াস, মুচ্ছ, অরুচি, বমি, কৃষ্ণ, অতিসার, মল-বন্ধতা, হিকা, খাস, অঙ্গবেনা, এইদশটীরের উপদ্রব।সাধ্য জ্বলক্ষণ।যে আর অল্পদেষ জাত ও উপত্রব , এবং সেই জরে যদি বলের হানি না হয়, তবে তাহা মুখসাধ্য হইয়া থাকে

অসাধ্য লক্ষণ

 

যে আর অন্তর্ধাতু দীকালস্থায়ী, অথবা অতি বলবান, এবং যে জ্বরে রােগী ক্ষীণ হইয়া যায় ও শেযুক্ত হয়, আর যে জ্বরে রােগীর কেশ সীমন্তযুক্তের ন্যায় হয়, অর্থাৎ আপনা আপনি চুলে সিঁতিকাটার চাষ হয়,তাহা অসাধ্য জ্বর। বহুবিধ প্রবলকারণে যে জর উৎপন্ন হইয়া বলক্ষণযুক্ত হয়,এবং যে জরে ইন্দ্রিয়শক্তি বিনষ্ট হইয়া যায়, সেই জ্বর মারাত্মক। অন্তৰ্দ্দাহ, তৃষ্ণ,মলবদ্ধতা এবং কাস ও শ্বাসযুক্ত প্রবল অরকে গম্ভীর জর কহে। এই আরওঅসাধ্য। বিশেষতঃ গম্ভীজরে রােগী ক্ষীণ বা রুক্ষ দেহ হইলে, তাহা প্রাণনাশকহইয়া থাকে। যে জর প্রথম হইতেই

 

বিষম বা অতি দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়, তাহাওঅসাধ্য। বাহিরে শীত এবং অন্তৰে দহযুক্ত এর মারাত্মক।.যে জ্বরে শরীর রােমা-| কিত, চকু রক্তবর্ণ ও চঞ্চল, মূৰ্ছা, তৃষ্ণা, হিকা, শ্বাস, সাবাতিক নিখাতবৎবেদন, এবং কেবল মুখঘারাই শ্বাস-প্রশ্বাস নির্গত হয়, তাহাতেও রােগীর মৃত্যু ঘটিয়াথাকে। যে জররােগীর কান্তি ও ইন্দ্রিয়সমূহের শক্তি নষ্ট হইয়া যায়, বল ও মাংস
ক্ষীণ হয়, অরুচি ও অরবেগের গাম্ভীৰ্য অথবা তীক্ষ্ণতা দৃষ্ট হয়, তাহাও অসাধ্য।

জ্বর ত্যাগলক্ষণ

 

সান্নিপাতিককার, অন্তর্বেগ-জ্বর ও ধাতুগত জরছাড়িবার পূর্বে দাহ, ঘ, ভ্রান্তি, তৃষ্ণ, কম্প, মলভেদ, সংজ্ঞনাশ, কুম্বন ওমুখের দুর্গন্ধ প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পাইয়া থাকে। আর সম্পূর্ণরূপে নিবারিতহইলে ঘৰ্ম্ম, শরীরের লঘুত, মস্তক চুলকান, মুখে ক্ষত, হাঁচি ও অন্নভােজনেঅভিলাষ হইয়া থাকে।উপবাসের ব্যবস্থা।-নজরে প্রথমতঃ লম্বন অর্থাৎ উপবাসদেওয়া আবশ্যক; তাহা দ্বারা বাত- পিকফের পরিপাক, অখির দীপ্তি, শরীরের লঘুতা, জ্বরের উপশম এবং ভােজনে ইচ্ছ। জন্মিয় থাকে।বাতজ-অরে ভয়, ক্রোধ, শােক, কাম ও পরিশ্রমজনিত জরে,

ধাতুক্ষয়জনিতম্বরে, এবংব্রাজ্যষ্মাকৃত অরে উপবাস দেওয়া কর্তব্য নহে। আরও যে সকল ব্যক্তি বায়ুপ্রধান, যাহারা ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত, মুখশােষধুক্ত ৰা ভ্রমযুক্ত, এবং যাহারা বালক, বৃদ্ধ, গর্ভিণী বা দুর্বল, তাহাদেরও উপবাস বিহিত নহে উপবাস বিহিত জুরেও অধিক উপবাস দিয়া রােগীকে দুর্বল করা অনুচিত। বিশেষতঃঅধিক উপসরা

 

অস্থিসন্ধিসমূহে বা সমস্ত শরীরাবয়বে বেদনা, কাস, মুখশােষ, ক্ষুধানাশ, অরুচি, তৃষ্ণা, শ্রবণেন্দ্রিয়ের ও দর্শনেন্দ্রিয়ের দুর্বলতা, মনেরচঞ্চলতা বা ভ্রান্তি, অধিক উদগার, মােহ ও অগ্নিমান্দ্য প্রভৃতি নানাপ্রকারউপদ্রব উপস্থিত হয়। উপযুক্ত পরিমাণে যথারীতি উপবাস দেওয়া হইলেইসম্যকরূপে মল, মূত্র ও বায়ু নিঃসরণ, শরীরের লঘুতা, ধৰ্মনিৰ্গম, মুখ ও কণ্ঠপরিষ্কার তন্দ্রা ও ক্লান্তির নাশ, আহারে কচি, একই সময়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণারউদয়, অন্তঃকরণের প্রসঙ্গত, এবং বিশুদ্ধ উদ্বার প্রভৃতি উপকার প্রাপ্ত হওয়া।যায়।অপদোষে ব্যবস্থা।-জ্বর হওয়ার প্রথম দিন হইতে আট দিনপৰ্য্যন্ত অপকাবস্থা; এইসময়ে জরনাশক কোন পাচন বা ঔষধ প্রয়ােগ করাউচিত নহে। তবে বড় পানীয় বা দোেষ পরিপাকের

 

জন্যধনে ও ১ এক তােলা পটোলপত্রের ব্যাথ, অথবা পঠ, দেবদারু, ধনে বৃহতী ও কণ্টকারী, এই সকল দ্রব্যের কাথ দেওয়া যাইতে পারে ; মুতা, ক্ষেৎপাপড়,বেণামূল, রক্তচন্দন, বালা ও ঠ, এই ছয়টী দ্রব্য মিলিত ২ দুই তােলা, ৪ চারি সের জলে সিদ্ধ করিয়া, ২ দুই সের থাকিতে ছাঁকিয়া লইবে। ইহাকেই ষড়ঙ্গপানীয় কহে। এই জল শীতল হইলে পান করাইতে হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে আর হইৰামাত্রই যেরূপ ভয়ানক হইয়া উঠে, তাহাতে ঐরূপ ৮ আট দিন সময় প্রতীক্ষা না করিয়া, বিবেচনাপূৰ্ব্বক ঐ সময়ের মধ্যেই পাচনাদি প্রয়ােগ করা আবশ্যক।

 

অবিচ্ছিন্ন জ্বরে।-অবিচ্ছিন্ন জ্বরে ইন্দ্রপটোলপত্র, কটকী, এই
তিনটী দ্রব্যের কাথ সেবন করাইতে, ২৩ বার ভেদ হইয়া আর ছাড়িয়া যায়।পিত্তের আধিক্য থাকিলে, ইবের পরিবর্তে ধ’নে বা ক্ষেপাপড়া দেওয়া উচিত।রােগী দুর্বল হইলে, এই ভেদক পাচন না দেওয়া ভাল।এতদ্ভিন্ন জরায়ুশ,স্বচ্ছন্দভৈরব, হিঙ্গুলেশ্বর, অগ্নিকুমার ও মৃত্যুঞ্জয় (লাল), প্রভৃতি ঔষধ মধুসহমাড়িয়া তুলসীপত্রের রস অথবা পাণের রসসহ প্রয়ােগ করিবে। বিচ্ছেদেরপরেও এই সকল ঔষধ প্রয়ােগ করা যাইতে পারেবাতজ-জ্বরে বাতজরে শতমুলীর ও গুলঞ্চের আঁস একত্র গুড়মিশ্রিত করিয়া সেবন করাইতে হয়; এবং পিপুল, গুলঞ্চ ও ৩ঠ এই তিন দ্রব্যেরকাথ, অথবা বিশ্বালি, পঞ্চমূল, কিরাতাদি, রানি, পিপ্পল্যাদি, গুড়চ্যাদি, দ্রাক্ষাদিপ্রভৃতি পাচন প্রয়ােগ করিবে।

 

 

পিত্তজ-রে। পিজ-জনে ক্ষেংগপড়ার কাণ, অথবা ক্ষেৎপাপড়া,বালা, ও রক্তচন্দন এই তিন দ্রব্যের কাথ কেবন করাইবে; এতক্তি কলিঙ্গালি,লােখাদি, পটোলাবি, দুরালতানি ও ত্রাদি প্রভৃতি পাচন প্রয়ােগ করাআবশ্যক।শ্লষ্মজ-জরে। সেখজ-আরে মিশিয়ে কাখে পির প্রক্ষেপদিন্ধ সেবন করাইবে। দশমূল এবং সকলের কাথও এই জৰে বিশেষউপকারী; অথৰ পিল্যালিগণের কাখ, টুকলি পাচল, নিনাদি পাচম প্রভৃতিপ্রকােপ কৰিকে।

 

 

দ্বিদোষ রেদ্বিমােজ-রে, যে দুইটী সােষ ঝরেআরাক,তাহাদের পশমকারক দ্রব্য বিবেচনা করিয়া, পাচন কল্পনা করা উচিত।তন্তি, বাতপিত্তরে নবাদ, পঞ্চদ্র, ত্রিফলাদি, নিদিন্ধিকালি প্রভৃতি পাচনপ্রমােগ করিবে। বাতজেৰে, বাসকের পত্র ও পুলের স্বাস, মধু ও চিনি-মিশ্রিত করিয়া সেবন করিতে দিবে। রক্তপিরে এবং কামলাক্ষরেও ইহাবিশেষ উপকারী। গুড় চ্যাদি, মুস্তালি, দাৰ্বাধি, চাতুর্ভদ্র, পাঠাসপ্তক ওকষ্টকাৰ্যাদি পাচন বাতপ্লেগ-জরে ব্যবয়ে। এই অবে”বালুকালে বিশেষউপকারী। একখানি মাটীর খােলায় বালুকা উত্তপ্ত করিবে; পরে একখণ্ডৰত্রে

 

এরপত্র, আকন্দপত্র বা পাণ পাতিলা, তাহার উপর ঐ উত্তপ্ত বালুকা ঢালিবে ; তৎপরে তাহাতে অল্প অল্প কঁজি লেচন কলিজা, ঐ সমস্ত জব্যের একটা পুটুলি বাঁধিবে ; ঐ পুটুলি দ্বারা সর্বাদে (বস্থল বাদ দি) স্বেদদিতে হয়। ইহাকেই ঝাবে কহে। এই কালুকা- স্বের বাত-গেমজ এবং তজ্জনিত শিক্ষক ও অবেদনা, প্রভৃতি প্রশমিত হয়।পিজেরে, পটোলাদি, অষ্টক ও পঞ্চঙিক্ত প্রভৃতি পাচন প্রয়ােগকরিতে হয়।

 

জ্বরের মগ্নাবস্থায় ঔষধ।এই সর্মত নজরে, আগের মগবস্থায়,সৰ্ব্বজরঙ্গুণ বটী, চর, চন্দ্রশেখর রুল, ৰৈগাখ বটী, নৰৱেসিংহ, মৃত্যুঞ্জয় # (কাল), খের, ত্রিপুর, তারি ক্ষস, কফকেতু ও প্রতাগণ্ডমূল প্রভৃতি ঔষধ, সদরে অনুপান বিবেচনা করিয়া তাহার সহিত প্রয়ােগকরিবে। ইচচুর্ণ ৬, ছয় রতি মাত্রায় ২ ঘণ্টা অন্তর ২৪ বার সেবন করাইলে অথবা ২ রুতি পিপুলচূর্ণের সহিত ৪ চাৰি ৰতি মাত্রায় নাটার বীজের শস্য চূর্ণ সেবন করাইলেও বিশেষ উপকার হয়।

 

সঙ্গিপাতে প্রথম কর্তব্য ।–সান্নিপাতসরে প্রথমতঃ আমদোষও কফের চিকিৎসা করা আবশ্যক। তৎপরে পিত্ত ও বায়ুর উপশম করিতে হয়। আমদোষ শান্তির জন্য পঞ্চকোল ও আরশ্বধাদি পাচন সেবন করাইবে।মে শান্তির জন্য সৈন্ধব লবণ, ঠ, পিপুল ও মরিচের চুর্ণ আদার রসের সহিত মিশ্রিত করিয়া, আক মুখে ধারণ করিয়া পুনঃ পুনঃ নিষ্ঠবন অর্থাৎ থুথু ফেলিতে হয়। সমস্ত দিবসের মধ্যে এইরূপ ৩৪ বার নিষ্ঠীবন ত্যাগ

করাইলে, দয়, পার্থ, মস্তক এক গলদেশের শুক ও গাঢ় সে নিঃসৃত হইয়া যায়। টানের রস ও আদার রসের সহিত সৈন্ধব, বিটু ও সচল-লবণ একত্র মিশ্রিত করিয়া বারংবার নষ্ট দিলেও শ্লেষ্মা তরল হইয়া উঠিয় যায়। রােগী অচেতন হইয়া থাকিলে, পিপুলমুল, সৈন্ধব, পিপুল ও মউল ফুল সমভাগে চূর্ণ করিয়া তাহাদের সমষ্টির সমপরিমিত মরিচ চুর্ণমিশ্রিতএই চূর্ণ উষ্ণ জলের সহিত মিশাইয়া নখ দিলে, রােগীর চেতনা লাভ হয়, এবং অজ্ঞা, প্রলাপ, মস্তকতার প্রভৃতিও নিবারিত হয়। স্ত্রী নিবারণে অন্য সৈন্ধব লবণ, শজিনার বীজ, শ্বেতসর্ষপ ও কুড়সমপরিমিত এই সকল

 

দ্রব্য ছাগসূত্রের সহিত পেষণ করিয়া দিবে। শিরীষের বী; পিপুল, মরিচ, সৈন্ধব লবণ, মনঃশিলা,ও বচ,-সমপরিমিত এই সকল দ্রব্য গােমূত্রসহ বটিয়া চক্ষুতে অঞ্জন দিলেও রােগীয় চেতনা হইয়া থাকে। মস্তক অত্যন্ত উষ্ণ, চক্ষু রক্তবর্ণও প্রবল শিরঃপীড়া হইলে ॥• অতােলা সােরা ও• অন্ধতােল নিশাদল, ১ এক সের জলে মিশাইয়া রাখিবে। গলিয়া গেলেসেই জলে একখণ্ড ভিজাইয়া গে ও ব্রহ্মতালুতে পটী, বসাইয়া দিবে শিরঃপীড়াপির শান্তি না হওয়া পর্যন্ত ঐ জলরাই থও বাবার ভিজাইতে হইবে। পরে তাহার শান্তি হইলে সুখ তুলিয়া ফেলিবে। এই কারে ক্ষুদ্রাদি চাতুর্ভদ্রক, পঞ্চমূল, দশমূল, নাগরদি, কুশাঙ্গ, ত্রিবিধ অষ্টাশা, ভার্গ্যাদি, শাকি, বৃহত্যাদি, ব্যোদি ও তিবৃত্যাদি প্রভৃতি পাচন, এবং স্বল্প ও বৃহৎ করী| ভৈরব, সেকালানল রস, কালানলয়, সন্নিপাত ভৈরব ও বেতাল-য়স প্রভৃতি ঔষধ প্রয়ােগ করিতে হয়।

 

নাড়ীক্ষীপাবস্থায় কর্তব্য সর্জিপতর্কে গীত ওনাড়ী ক্ষীণহইয়া আসিলে, মকর এক আঁতি, ফর্ণনাতি এক রতি ও কপূর ১ একরতি, এফ, কিঞ্চিৎ অপুর সহিত মাড়িয়া, ১ এককাে পাশের বস যা আদরসের সহিত মিশ্রিত ফরিঙ্গা, উপর্যুপরি তিন চাৰিবার তা লেন করাইবে।-মৃগমদাসব ও মৃতসঞ্জীবনী নুরাও এই অবস্থায় বিবেচনা করিয়া প্রয়ােগ করাযাইতে পারে। আর যখন দৃর্শন, শ্রবণ ও ব্যক্তি একি ক্রমশঃ লােপ পাইতেথাকে, নাড়ী বসিয়া যায়, এবং সঞ্জনাশ হইতে থাকে, সেই সময়ে সূচিকাভরণ

,

ঘােরসি, চক্রী (চাকি, এবং ব্রহ্মরন্ধ-রস প্রভৃতি উকট বিষাক্ত ঔষধপ্রয়োেগ করা আবশ্যক।নিউমােনিয়ায় কর্তব্য।-সন্নিপাত-কারের যে অবস্থাকে ডাক্তারগণ“নিউমােনিয়া বলেন, তাহাতে সন্নিপাতজনােক্ত পাচন, লক্ষ্মীবিলাস, স্বরী-| তৈর, ফফকেতু, এবং কাসবােগােক্ত কতিপয় ঔষধ দোষাদি বিচেনা করিয়াপ্রয়ােগ করিতে হয়।অভিন্যাস-জরে কারব্যাদি ও শৃঙ্গ্যাদি প্রভৃতি পাচন এবং স্বচ্ছন্দনায়ক ওপূর্বোক্ত সন্নিপাত-জ্বরের ঔষধসমূহ বিবেচনা করিয়া প্রয়ােগ করা আবশ্যক।

 

উপদ্রব-চিকিৎসা।—নবরে, বিশেষতঃ সন্নিপাতরে, দোষসমূহের আধিক্য ও হঠকারিতার জন্য প্রায়ই নানাপ্রকার উপদ্রব প্রকাশ পাইয়া থাকে।মূলৰােগ অপেক্ষা ঐ সমস্ত উপদ্রব অধিক ভয়ঙ্কর, যেহেতু তাহাতে হঠাৎ প্রাণ-নাশের সম্ভাবনা। এইজন্য সেইসময়ে উপদ্রবের চিকিৎসাবিষয়ে অনােযােগদেওয়া আবশ্যক।সান্নিপাতিক-শােচিকিৎসা সারিপাতিক-জ্বরের পর কাহারও কাহারও কণমূলে: শােখ উৎপন্ন হয়। এই শোথ অধিকাংশ স্থলেই প্রাণনাশকহইতে দেখা যায়। তবে সন্নিপাতনের প্রথমাবস্থায় ঐ শোথ হইলে তাহাসাধs” এবং মধ্য অবস্থায় হইলে তাহা কষ্টে নিবারিত হইয়া থাকে। এই শােখেরপ্রথম অবস্থাকে রক্তমােণ, সমপরিমিত গিৰিমাটী, পাঙ্গালৰণ, ৩,ও গাই-সপি, কাজির

 

সহিত বাটি, খসূমপরিমিত কুলখকলাইক,ও জীয় জলের সহিত বাটি ও গল্প ঋষি প্রলেপ দিলে; সেই উপ-মিত । আর যদি উপযুক্ত চেষ্টাকাও. উপাত্ত না হইয়াখে কম: বৃদ্ধি পাইতে থাকোহা হইলে তাহা পাকানই উচিত। জলের সহিত মসিনাবাটিয়া বৃতাক্ত ফন্ধিয়া অগিতে উত্তপ্ত করিতে হইবে। সেই উত্তপ্ত মধিনার পুলটিস বারংবার দিলে শােখ পাকিয়া উঠিৰে ; তখন তাহাতে শত্ৰপ্ৰয়ােগ করিতেহইবে। ক্ষতস্থান করিবার জঙ্ক লন্ডন-তৈল বা নিক তাৰিতৈলপ্রভৃতি ঔষধ ব্যবহার কয় আবশ্যক

 

জয়ে তৃষ্ণা-নিবারণাম গেযুক্ত করে অতিরিক্ত পিপাসা থাকিলে,বারংবায় জলপান করিতে দেওয়া উচিত নহে। উফজল কতল করিয়া তাহারসহিত ঘষা-শ্বেতচন্দন মিশ্রিত করিবে, এবং সেই জলে একটা মৌরীর পুলভিজাইয়া, সেই পুটুলীটা মধ্যে মধ্যে চুষিতে দিবে। তাহাতে ক্রমশঃ পিপাসারশান্তি হইয়া যায়। অথবা মধ্যে মধ্যে খরফ দেওয়া যাইতে পারে। ঘড়-পানীয়পান করানই এই অবস্থায় সদব্যবস্থা।

 

জ্বরে দাহনিবারণ।—অত্যন্ত দাহ হইলে, কুকশিমার রস গাছে
মাখাইবে, অথবা মনসা-সীজের পাতার রসের সহিত যমানী বাটি সর্বাঙ্গে তামর্দন করাইবে। কঁজিতে ক ভিজাইয়া ও নিঙড়াইয়া সেই ধারা সৰ্বালকিছুক্ষণ আচ্ছাদন করিয়া রাখিবে। কুলের পৰ অল্প কাজির সহিত বাটিপরে অধিক কঁজির সহিত মিশাইয়া কাঠদশুরা যুইবে; ঘুলাইতে ঘুলাইজেফেন উখিত হইলে, তাহাই সর্বাঙ্গে মর্দন কৰাইৰে। এইরূপনিমের বহইতে কেন তুলিয়া, তাহাও মর্দন করা যাইতে পারে। কালিয়াকাঠ, রুক্ষন,অনন্তমূল, যষ্টিমধু ও কুলের আঁটির সাস, সমপরিমিত এইসকল ত্ৰৰ কাজিসহবাটিয়া, মস্তকের তালুতে প্রলেপ দিলে, দাহ ও তৃষ্ণা উভয়ই

 

নিবায়িতহয়।ধৰ্ম্মনিবারণ অতিরিক্ত হইলে, কুলখ-কলাই ডালিয়া তাহারচূর্ণ অথবা আৰীর সর্বাঙ্গে ঘর্ষণ করিবে। চুল্লির অর্থাৎ উঁছুনের ভিতরে পােড়।মাটা চুর্ণ করিয়া সর্বাঙ্গে ঘর্ষণ ফলিলেও গ সিরিত।বন-নিবারণ আয়ের মন-ইপ নিবাৰণৰ এলচর শখ অল্প অল্প মাত্রায় বারংবার পান করাইতে অখলঞ্চের মধু এক্ষেপ সিঙ্ক পান করাইবে।

 

ফোনুল ১ এক তােলা উপেটি এবং তেমন : অর্থতাল থিকা এক বাসায় সবতে সহিত মিশাইয়া, ১ এক পোশা শাহবােৰ ভাইও।অথবা ক্ষেৎপীড়া ১ এক তোলা • অসের জলে সি ৰি, পােয়থাকিতেছাফিক্স ২৩ দুই তিন অঞ্জ এর ফরিয়া সেই ফাৎ সেবন ফাইবে।মধু, চন্দন, অথবা চিনির সহিত মক্ষিকায় বিষ্ঠা লেন ফাইলে, কিংবা আপা| অর্থাৎ তেলাপােকার বিষ্ঠা ও তিন চারি না শীতল জলে ভিজাইয়া, সেই জল।পান ফাইলে, মন নিধারিত হয়। বরফের টুকয় মুখে রাখিলেও, বমন ও হিকা| উভয়ই নিবারিত হইয় থাকে। দুর্দিকােপােক্ত এলাচুির্ণও এই বমনে প্রবােগকরা যায়। অতিসার উপদ্রব থাকিলে,

 

অতিসারের চিকিৎসা করিতে হইবে।জ্বরে মলবন্ধে কৰ্তব্য।-মল বন্ধ হইলে, এৱতৈল ২ দুই তােলাবা ২|| আড়াই ভােলা মাত্রায় গরম জল বা দুগ্ধসহ সেবন করাইবে; অথবাপূর্বোক্ত ইব, পটোলপত্র ও কী এই তিনটা দ্রব্যের কাখ সেবন করাইবে।| তদ্ভিন্ন কারকেশরী, গরমুরারি, ইচ্ছাভেদী রস প্রভৃতি বিরেচক ঔষধ ও প্রয়ােগকরা যাইতে পারে। এইসকল ঔষধ তীব্র বিরেচক; সুতরাং প্রয়ােগকালেরােগের ও বােগীর অবস্থা বিশেষরূপে বিবেচনা করা আবশ্যক।

 

জ্বরে মূত্ররােধে কৰ্ত্তব্য।—মূত্ৰৱেধ হইলে, বার ২ দুই রতিহইতে ৬ ছয়রতি পর্যন্ত মাত্রায় শীতলজলের সহিত ২ দুই ঘণ্টা অন্তর সেবনকরাইবে। স্কারের অভাবে ঐ পরিমাণে সােরাচূর্ণ সেবন করাইলেও চলিতেপারে। বেণায় মুল, গােক্ষুরীজ, দুরালভা, শসার বীজ, কঁহুত্ববীজ, কাবাবচিনিও বরুণহাল প্রত্যেক। চারি আনা, একত্র • অর্ধপােয়। জলের সহিত২ দুই ঘণ্টা কাল ভিজাইয়া, সেই জল কিঞ্চিৎ কিঞ্চিৎ প্রতি অর্থ খণ্টা অন্তরপান করিতে দিবে। ইহার মূত্রনােধ এবং মূত্রকালীন জ্বালা নিবারিত হয়।॥ অর্ধতোলা সোয়া, • এক পােয় জলে ভিজাইয়া, এবং তাহাতে কিঞ্চিৎ চিনিমিশ্রিত

 

কঙ্গিয়া, সেই জল মধ্যে মধ্যে পান করিলেও, ক্রমশঃ প্ৰাৰ পরিষ্কার,এবং নাভীর ও গায়ে উষ্ণতা হ্রাস হইয়া র ম ইয়া যায়।হিনিৰাৱণ।-হিক-উপদ্রব শান্তির জন্য নিধূম অঙ্গারাগিতে হিন্দু,গোলমবিমাষকলাই গুদ অপুরী (ঘােড়র নাম পােড়ইয়া, তাহারধুম না এলে করাইবে। অন্ধতৌল আঁই-সপচুর্ণ অন্ধসের জলের সহিত| মিশ্রিতয়িয় লিখিয়া দিবে, হিইলে তাহার জংশ ২১০ টাকপৰিমাণে দুই তিন ঘন্টা অন্তর সেন ফরাইৰে। উপ-পেটে তৈলমর্দন করিয়া আহতে খরুম স্কুলের খেদ দিয়ে। জলের সহিত কিঞ্চিৎ সৈঙ্কঅথবা ছিনিৰ সহিত চুর্ণ মিশ্রিত করিয়া তাহার ন লইতে দিবে। অশ্বশ্বাহেরও ছাল পােড়াইয়া, তাহা জলে ডুঝাইয়া নির্বাপিত করিবে। পরে সেই জলকিয়া পান

 

করাইলে, হিকা ও বমি উভয়ই নিবারিত হয়। ডাৰেয় এল গরমকরিয়া, অল্প অল্প তাহা পান করাইলে শীঘ্রই কি প্রশমিত হয়। লােপােকবা আলায় অঙ্কভাগ, তাহার অর্ধাংশ-পরিমিত গোলমরিচের সহিত বটিয়া,সিকি রুতি পরিমাণে শীতল জলের সহিত ২৩ দুই তিনবার সেবন করাইলে,অতি প্রবল হিকাও আত নিৰাতি হয়।শ্বাস-নিবারণ-শাসউপদ্রব নিবারণের জন্য, বৃহতী, কণ্টকারী,দুরালা, পটোলী, কঁকড়াঙ্গী, বামুনহাটী, কুড়, কটকী ও শঠী এইসকলদ্রব্যের কাথ সেবন করাইবে; অথবা পিপুল, কটুফল ও কঁকড়াশী, ইহাদেরচুর্ণ মধুর সহিত সেবন করাইবে। অন্তধূমে ময়ূরপুচ্ছ ভস্ম করিয়া সেই ভন্ম২ দুই রতি ও পিপুল চুর্ণ ২ রতি, অথবা বহেড়ার শাস ২ দুই অতি মাত্রায় মধুরসহিত বেহন করাইবে; বনঘুটের অগিতে দা গরম করিয়া তাহার অগ্রভাগদ্বারা পারায় দাগ দিলে, অতি উগ্ৰশ্বাসও প্রশমিত হয়।

 

 

কাস-নিবারণ।-কাল-উপদ্রব থাকিলে, ২৩ দুই তিন ঘণ্টা অন্তরপিপুলমূল, বহেড়া, ক্ষেৎপাপড়া ও গুঠ, ইহাদের চুর্ণ মধুর সহিত লেহন করিতেদিবে। বাসকের রস মধুর সহিত লেহন করাইবে। বহেড়ায় ঘৃত মাখাইয়াসেই বহেড়া গােবরের ঠুলির মধ্যে পরিবে; পরে তাহা অগ্নি-সন্তাপে সিদ্ধ করিয়া,সেই বহেড়া মুখে রাখিলে, কাসের আশু শান্তি হইয়া থাকে।অরুচি-নিবারণ।-অরুচি হইলে, সৈন্ধবলবণের সহিত আদার রস ;সৈন্ধব লবণের সহিত টানেবুর কেশুর ; ঘৃত ও সৈন্ধবলবণের সহিত টাবানেররস, অথবা আমলকী ও দ্রাক্ষার কক মুখে ধারণ করিত্রে দিবে। একটুকরা পাতি-| নেবু বা কাগজীলেবুর উপরে একটু চিনি ছড়াইয়া, সেই নেবুকারা, বিহুৰ মাজি-লেও অরুচির উপশম হয়।জীর্ণ ও বিষমজ্বর-চিকিৎসা-সাধারণ জীর্ণর মাত্রেই সেফা-লিকাপত্রের রস মধুর সহিত পান করিতে দিবে। পােপ ষ্টোলিকা-পুত্র ও গুলঞ্চ, এই তিনটী দ্রব্যের ; অথবা গুলঞ্চ, ক্ষেৎপাপড়া, থানকুনী,, হেলেঞ্চা ও পটোল

 

পত্র, এই পাঁচটা প্রয্যের “সাত করিয়া সেনকরাইবে। ঐ সমস্ত দ্রব্য এক বেঁধ্যে করিয়া, কলার পজে এড়াইয়া তাহারউপর অল্প মাটীর লেপ দিয়া, অগ্নিতে পুটখ করিবে, এবং কতল হইলেতাহার রস নিংড়াইয়া লইবে; ইহাকেই “ঘুড়া কহে। হাড়কাকড়ারমূল, ছাল, প, পুল ও ফল কুষ্টিত করিয়া ঐরূপে পুটদ করিতে হইবে; তাহার রস ২ তােলা •-দুই আনা চূর্ণের সহিত মিশ্রিত করিয়া সেবনকরাইলেও জীর্ণ প্রশমিত হয়। একটা ভৃঙ্গরাজমূলের ৭ সাতটী খণ্ড করিয়া,তাহার এক একটা খণ্ড, এক একখণ্ড আদার সহিত সেবন করাইলে, সর্বপ্রকারজীর্ণ প্রশমিত হয়। গুগগুল, নিমপত্র, বচ, কুড়, হরীতকী, যব, শ্বেতসর্ষপও ঘূত এক মিশ্রিত করিয়া, এই সকল দ্রব্যের ধূপ রােগীর শরীরে লাগাইলেবিষমজার

 

প্রশমিত হয়; ইহার নাম অষ্টাধূপ। বিড়ালের বিষ্ঠার ধুম প্রয়ােগকরিলে কম্পজর নিরিত হয়। গুগগুলু, গন্ধ, তবে বেলাল, খচ,ধুনা, নিমপাতা, আকন্দমূল, অগুরু, চন্দন ও দেবদা, এই সকল দ্রব্যের ঘুমপ্রদান করিলে, সকলপ্রকার জরই নিবারিত হইয়থাকে। ইহাকে অপরাজিতধূপ কহে। নিদিম্বিকাদি, গুচ্চাশি, দ্রাক্ষাদি, মহৌষধাদি, পটোলাদি, বিষমবঙ্গভার্গ্যাদি, বৃহৎ ভার্গ্যাদি, মধুকাদি, দাস্যাদি ও দাাদি প্রভৃতি পান, সর্ববিধজীর্ণ ও বিষমজরে, দোষ বিবেচনা করিয়া প্রযোগ করিবে। যেহেতু বিষমজরেতিনদোষই আরম্ভক, এজন্য তন্মধ্যে দোষ বিশেষের আধিক্য ও নুনিতা বিবেচনাকবিয়া ঔষধ কল্পনা করা আবশ্যক।

 

তৃতীয় ও চতুর্থক জ্বর চিকিৎসা।- তৃতীয়ক-জরে মহৌষধাদি,| উশীরানি ও পটোলাদি এবং চতুর্থক-আয়ে বাসাদি, মুস্তাদি ও পৃথ্যাদি পাচনপ্রয়ােগ করা উচিত। কাকজা, বেড়েল, শ্যামলতা, বামুনহাটী, লজ্জাবতী-লতা, চাকুলে এবং আপাং বা ভৃঙ্গরাজ ইহাদের মধ্যে কোন একটা গাছের মূলপুষ্যানক্ষত্রে তুলিয়া, লাল সূতায় বাঁধিয়া বামকর্ণে ধাৰণ করিলে, তৃতীয়কঅর্থাৎ ঐকাহিক জয় নিবারিত হয়। শিরীষফুলের রস, হরিদ্রা ও দারুহরিদ্রাএক বাটিয়া, তাহার সহিত কিঞ্চিৎ ধৃত মিশ্রিত করিয়া নন্য ইলে, অথবাবককুলের পাতার প্রসের নস্য লইলে চাতুর্থক ( স্বাহিক) আর বিনষ্ট হয়।অশ্বিনীনক্ষত্রে তে-আকন্দের মূল উঠাইয়া তাহা ৬ ছমরতি মাত্রায় আপ- সউল-বােরা জলের সহিত বটিয়া সেন ঝনুইলে, খুব একহাজার আলপাতার সহিত

 

যথানিয়মে চাউলের পো এত কফি পান করালে, চাতুর্থআর প্রশমিত হয়।রাত্ৰিৰূরে।- কাফমাচী মূল ফর্ণে বধিলে, রাত্রিকার নিঝরিত ইন্সথাকে। নিদিপ্তিকাদি পাচন সায়ংকালে সেবন করাইলে, রাত্রিকারে বিশেষ উপকার হয়।শতপূৰ্ব ও দাহপূৰ্বরে।শীতপূৰ্ব আরে ভদ্ৰালি ও ধনাদি পাচনএবং হপূৰ্ব্ব-আরে বিভীতকাদি ও মহাবলাদি কয় প্রয়ােগ করিতে হয়।তাহা দোষ-দূষেব অবস্থানুসারে বিবেচনা পূর্বক বিষম-কারােক্তি অন্যান্য কষায়ওপ্রয়ােগ করা যায়।

 

জীর্ণ ও বিষমরে ঔষধ।– এই সমস্তজীর্ণ ও বিষনজরে দোষেরবলাবল বিবেচনা করিয়া, অন্যপান বিশেষে সহিত সুদর্শনচূর্ণ, অরভৈর চু,চন্দনাদি লৌহ, সৰ্ব্বরর লৌহ, বৃহৎ সৰ্ক জরহব লৌহ, পঞ্চানন রস, অশনিরস, অৰকুরপারী রস, জয়মঙ্গল ধ্বস, বিষ জরান্তক লৌহ, পুটপাকের বিষয়-জরান্তক লৌহ, কল্পতরু বস, তাহিকায়ি বস, চাতুর্থকারি রস, মকরধৰজ ওঅমৃতারিষ্ট প্রভৃতি ঔষধ প্রয়ােগ করিবে।জীর্ণজরে শ্লেষ্মর সংযােগ না থাকিলে, অঙ্গারক, বৃহৎ অঙ্গায়ক, লাক্ষাদি,মহালক্ষাদি, কিবাতাদি ও বৃহৎ কিরাতাদি প্রভৃতি তৈল সর্বাঙ্গে মর্দন ফাইৰে।ঐরূপ জৰে দশমূলষ টুপলক এবং বাসাঙ্গ ও পিপ্পল্যাদি প্রভৃতি ঘৃত সেবন কইলে,বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

 

জ্বরে দুগ্ধ পান।—এইরূপ হীনকফ-কারে কয়েকবার সংস্কৃত দুগ্ধঅমৃতের ন্যায় উপকার করিয়া থাকে। কিন্তু তরুণরে সেই সমস্ত দুগ্ধই বিষযয়ন্যায় অনিষ্টকারক।শালপাণী, চাকুলে, বৃহতী, কণ্টকারী ও গােক্ষুর এই স্বল্পপঞ্চমূলের বহিতদুগ্ধ পাক করিয়া সেবন করাইতে, কাল, খাস, শিমুল ও সংযুক্তনৰারিত হয়। গােঙ্কুর, বেড়েল, বেহাল ও ১ এই সফল বৰুদুগ্ধ পাক করিয়া সেবন করাইলে, কোরুদ ও মূল পরিক্ষা এবং

 

শোকজীর্ণজব প্রশমিত হয়। শ্বেত-পর্নধা, বেলমুলের ছাএাবা, এই লক্ষণ,দ্রব্যের সহিত দু পাক কফি পান করাইস ফার্গ প্রশমিতকইয়া থাকে। কায়রােগে গুদেশে নবৎ পীড়া থাকিলে, এণ্ডতৈলেরসহিত দুখ পাক করিয় পান করিয়ে দিবে।২য় দুখপাক-বিধি। এই সব দুখ পাক করিবার নিয়ম -বেকয়েকী দ্রব্যের সহিত দু পাক করিতে হইবে, তাহার প্রত্যেকগুলি সমভাগেলইয়া মিলিত ২ দুই ভােলা হওয়া আবশ্যক; দুখ তাহার আট গুণ অর্থাৎ১৬ সােল তােল এবং ল—দুয়ের চারিগুণ অর্থাৎ ৬৪ চৌষটি ভােলালইতে হইবে। এই সমস্ত দ্রব্য একত্র অঙ্কিতাপে জাল দিয়া, যখন সমুদায়জল মরিয়া দুভাগ মাত্র অবশিষ্ট থাকিবে, সেই সময় কি লইয়া ঈষদুষ্ণ পানকরিতে দিতে হয়।আধুনিক প্রায় সকল রােগীরই নবজব অপকাবস্থায় বুইনাইন প্রভৃতিতীব্র ঔষধদ্বারা আবদ্ধ করা হয়

 

,

এইজন্য তাদের জীরকালেও কফের| সংস্রব থাকিয়া যায়; সুতরাং ঘৃত বা তৈলপ্রয়ােগের উপযুক্ত অবসর পাওয়াযায় না।আগন্তু চিকিৎসা।আগন্তু অরে বাতাদি যে কোন দোষেরলক্ষণ প্রকাশ পাইবে, সেই দোষেই চিকিৎসা করিতে হয়; তদ্ভিন্ন আরওকতকগুলি বিশেষ নিয়ম আছে; যথা—অভিঘাত আগৰুকারে উষ্ণ-বৰ্জিতক্রিয়া এবং কষায় ও মধুর রসসংযুক্ত স্নিদ্রব্যের পান ভোজনাদি ব্যবস্থয়।অভিচার ও অভিশাপজনিত আগন্তুজবে হােম, পূজা ও প্রশ্চিত্তাদি কর্তব্য।উৎপাত ও গ্ৰহবৈগুণ্যজনিত আশ্বস্ত করে দান, স্বস্ত্যয়ন ও অতিথি-সংকায়করা আবশ্যক। ওষধিগন্ধ ও বিষনিত আগন্তু-জরে বিষনাশক ওপিত্তনাশক ঔষধদ্বারা চিকিৎসা করিবে, এবং চিনি, এলাচ, নাগ-কেশর, তেজপত্র,

 

কপূর, কাকল, অগুরু, ফুল ও লবঙ্গ ইহাদিগেব কাথসেবন করাইবে। এই সমস্ত দ্রব্যকে সৰ্বগন্ধ হে-ক্রোধ জরে অভি-অধৃিত যয় প্রান ও হিতবাক কখন এবং ঋম, শােক ও ভয়জনিতজ্বয়ে আনুকু, অভীষ্ট বস্তু-প্রদান, হর্ষোৎপাদন ও বায়ুর প্রশমন করাঅবক। অনেকে ক্রোধের উদয় হইলে কামজ জর, এবং কাম ওক্রোধের উঃ ইতে, ভয় ও শােকর প্রশমিত হইয়া থাকে। ভূতাকে জনিত জ্বরে বন্ধন ও তাড়নাদি এবং মানসিক অরে মনের প্রসঙ্গতকারক কাৰ্য্যালিকরিতে হয়।

 

আরােগ্যের পর ব্যবস্থা।—এইরূপ নানাবিধ চিকিৎসার জ্বরনিবারিত হওয়ার পর ২৭৩ সপ্তাহ পর্যন্ত জারিত লৌহ ২ দুই রতি, হরীতকীচূর্ণ২ দুই তিও ঠচূর্ণ ২ দুই রতি, এক চিরতা ডিজান জলের সহিত সেবনকরাইলে, শরীর সবল ও রক্তের বৃদ্ধি হইয়া থাকে। এই অবস্থায় চিরতা-ভিজানজলসহ মকরধ্বজ সেবন কইলেও ঐরূপ উপকার পাওয়া যায়।নবত্বরে পথ্যাপথ্য।নূতন জরে দোষের পরিপাক না হওয়া পর্যন্তউপবাস আবশ্যক। তৎপরে দোষের পরিপাক ও ক্ষুধাদির পরিমাণ বিবেচনাকরিয়া, মিছরি, বাতাস, দাড়িম, কেশুর, দ্রাক্ষা, পানিফল, ইক্ষু, খই, খইয়ের মণ্ড,জলসাগু, এরারুট ও বার্লি প্রভৃতি লঘুপাক দ্রব্য ভােজন করিতে দিবে।

 

গরমহল কতল করিয়া পানের ব্যবস্থা করিবে; কিন্তু শ্লেষ্মজ-জ্বরে, বাতশ্লেখজ-জরেও সন্নিপা-জরে জল শীতল না করিয়া পান করিতে দিবে। জ্বরত্যাগের পরদুই তিন দিন অতিবাহিত হইলে, যদি সেই সময়ে শারীরিক কোন গ্লানিন থাকে,তাহা হইলে পুরাতন-সূক্ষ্ম চাউলের তন্ন, মুগ বা মসুরের দাল, কটু-তিক্তরসবিশিষ্টতরকারী ও ক্ষুদ্র মৎস্য প্রভৃতি ভােৱন করিতে দিবে। নবজরে কোষ্ঠ পরিষ্কাররাখা নিতান্ত আবশ্যক।

 

সতি-জরেও পথ্যাদি ঐরূপ ; তবে রােগী নিতান্ত দুৰ্বলহইয়া পড়িলে,এক-বা দুগ্ধ, মুগ মসুরের যুষ এবং লঘুপাক মাংসের সহিত মৃত-সঞ্জীবনী সুরা,অল্প অল্প করিয়া পান করিতে দেওয়া আবশ্যক।এই সমস্ত জ্বরে জরত্যাগের পূর্বে অন্নভােজন, অত্যাগের পরেও সৰ্ব্ব-প্রকার গুরুপাক কফবৰ্ধক দ্রব্য ভােজন, তৈলমর্দন, ব্যায়াম, পরিশ্রম,মৈথুন, স্নান, দিবানিদ্রা, অতিক্রোধ, শীতল জলপান ও গাত্রে হাওয়া লাগান প্রভৃতিঅনিষ্টজনক ; অতএব এই সমস্ত কাৰ্য্য হইতে সর্বতােভাবে বিরত থাবিবে।জীর্ণ ও বিষমজ্বরে।-জীর্ণ ও বিষনজরে জ্বর অধিক থাকিলে, খইয়েরমণ্ড, সাগু, বার্লি, এরারুট ও কুটী প্রভৃতি বিবেঃনা করিয়া ভােজন করিতে|

 

দিবে। জব্দের আধিক্য না থাকিলে, দিবসে পুরাতন সাউলের অন্ন, মুগও মসুরের দাল, পটোল, বেগুন, ডুমুর, মাণ কচু, কচি,ঠোটেকলা ও সজিনার ডাটা প্রভৃতির তরকারী ; কই, মাগুর, শিঙ্গী ও মউয়ােলা প্রভৃতি ক্ষুদ্রমৎস্যের ঝােল, এবং অল্পপরিমাণে এক-বা দুগ্ধ আহার করিতে দিবে। উষ্ণ জলশীতল করিয়া পান করিতে দিবে। রােগী অধিক দুর্বল থাকিলে, কপােত, কুকুটবা হামাসের রস (বথ। খাইতে দেওয়া আবশ্যক। রাত্রিকালে অধিক রাত্রিকরিয়া, ক্ষুধার অবস্থানুসারে সাগু প্রভৃতি বা কুটী দেওয়া যাইতে পারে।

 

নিষিদ্ধ কর্ম-ঘৃতক প্রভৃতি গুরুপাক দ্রব্য ভােজন, দিবানিদ্রা, রাত্রিজাগরণ, অধিক পরিশ্রম, শীতল হাওয়া লাগান, মৈথুন ও মান প্রভৃতি:অনিষ্টকারক। তবে, যে সকল রােগীর বাতাধিক ও পিত্তাধিক জ্বর, অথচ স্নাননা করিলে তাহাদিগের যদি কষ্টবােধ হয়, তাহা হইলে তাহারা গরম জল শীতলকরিয়া তাহাতে গামছা ভিজাইয়া তারা গাত্র মুছিয়া ফেলিবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published.