পরীক্ষার খবর।

পরীক্ষার খবর

 

লেপের ভেতর থেকে হাত বের করে অ্যালার্ম বন্ধ করেইযত দ্রুত সম্ভব হাতটা আবার ভেতরে ঢুকিয়ে নিল প্রিয়। যদিও অ্যালার্মেরক্যারক্যারে শব্দে ঘুম ভেঙে গেছে, তবু এমন শীতের সকালে আয়েশিবিছানা রেখে উঠতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু অফিস নামক বিভীষিকার জন্যউঠতেই হয়।

শরীর সুস্থ রাখার নিয়ম ।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টাই বাঁধছিল প্রিয়। শুদ্ধ পাশে দাঁড়িয়ে বলল,বাবা, আই নিড সাম প্যাস্টেল কালার।’প্রিয় বলল,“সেদিন না নিকিতাকে বলেছিলাম কিনে দিতে ? দেয় নি ?না। কাল আমার আর্ট এক্সাম পুরাে বক্সটাই তাে হারিয়ে ফেলেছি।আজ যদি না কেনা হয়,

এক্সাম কীভাবে দেব 

 

ঠিক আছে, আজ আমি তােকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি। যা যা লাগে, কিনেদিচ্ছি।”আর কিছু লাগবে না, বাবা। কিন্তু আমাকে স্কুলে দিতে গেলে তােমারঅফিসে দেরি হয়ে যাবে তাে!”একদিন দেরি হলে কিছু হবে না বাবু। ম্যানেজ করে নেব।’“ওকে বাবা।’এমন সময় নিকিতা ঘরে ঢুকে বলল, “এই, তােমরা খেতে এসাে।ব্রেকফাস্ট রেডি।’প্রিয় বলল, ‘শুদ্ধ, তুই গিয়ে দাদার সাথে খেতে বস,আমরা আসছি।শুদ্ধ বেরিয়ে

 

গেল। নিকিতা বলল, “কিছু বলবে ?প্রিয় ঘড়ি পরতে পরতে বলল, তুমি শুদ্ধকে কালার কিনে দাও নিকেন ? টাকাটা কি তােমার বাপের বাড়ি থেকে আসে? টাকাটা তাে আসেআমার পকেট থেকে।কেন দিই নি, সেটা আগে শুনে তারপর না হয় বাপের বাড়িরখোটাটা দিতে!কেন, বাপের বাড়ির কথা বলায় গায়ে ফোসকা পড়ল ?আমি ভুলে গিয়েছিলাম।’

 

ভুলে গিয়েছিলাম মানে ? ছেলের ব্যাপারে এত বেখেয়ালি কেনতুমি ? যে কাজটা ঠিকভাবে করতে পারবে না, তার দায়িত্ব কেননেবে ? তােমার আর শুদ্ধকে স্কুলে দিতে যেতে হবে না। আমিঅফিসে যাওয়ার সময় দিয়ে যাব। স্কুলবাসের জন্য কথা বলছি।ওরা বাসায় দিয়ে যাবে।’নিকিতা একটু ধমকের সুরেই বলল, এমন কথা কেন বলছ ?একদিন একটা ভুল হয়েছে মানে যে প্রতিদিন হবে, তা তাে না।একটা ভুল ? একটা ? ছেলের ব্যাপারে তােমার গাফিলতির শেষনেই। ধমক তােমার বাপেরে গিয়ে দাও।’এ কথা বলে প্রিয় ডাইনিংয়ে গিয়ে খেতে বসল। নিকিতার চোখে জলএসে গেল। কিন্তু সে কাঁদল না।পেট্রা অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল। শিখা তখন ঘরে ঢুকে বললেন,আগে বলে রাখতে, তাহলে আমি ছুটি নিয়ে রাখতাম।

 

‘আগে কীভাবে বলব? ওরা তাে গতকাল জানাল যে আজ আসবে।’ঠিকাছে, তুমি আটটায় আসতে বলাে। আমি এর মধ্যে চলে আসব।‘সারা দিন খেটেখুটে আসবি, ফকিন্নির মতাে লাগবে তখন।লাগলে লাগবে, কিছু করার নেই আমার।এ কথা বলতে বলতে পেট্রা কুর্তির ওপর জ্যাকেটটা গায়ে দিয়েব্যাগটা তুলে বেরিয়ে পড়ল। শিখা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, তারচেহারায় চিন্তার ছাপ।

 

আরো কিছু  – রূপকথা নয় সত্যিই

 

বাবর খান এই নিয়ে পরপররূপকথা নয় সত্যিই দুবার মন্ত্রিত্ব পেলেন। দুই পুরুষ ধরে এবাড়িতে বংশীয় রাজনীতি চলছে। বাবর খানের পিতাও প্রথমে এমপি ওপরবর্তী সময়ে মন্ত্রী হয়েছিলেন। বাবর খানের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে।কিন্তু এই বংশীয় রাজনীতির সমাপ্তি এখানেই। তার বড় পুত্র সড়কদুর্ঘটনায় মারা গেছে। একই দুর্ঘটনায় তিনি স্ত্রীকেও হারিয়েছেন। ছােটপুত্র

 

প্রিয় হয়েছে ইঞ্জিনিয়ার। রাজনীতিতে কোনাে আগ্রহ নেই। অল্প বয়সথেকে পড়াশােনার প্রতি ঝোঁক থাকায় তিনিও ছেলেকে রাজনীতিতেআসতে জোর করেন নি।প্রিয়র জন্য নাশতার টেবিলে অপেক্ষা করছিলেন বাবর খান। কিন্তুপ্রিয় এসে তার সঙ্গে কথা না বলেই নাশতা খাওয়া শুরু করে দিল। অবশ্যতিনি কথা না বললে প্রিয় কখনােই আগ বাড়িয়ে কথা বলে না। ব্যাপারটা

 

সূক্ষ্ম একটা ব্যথা তােলে তার হৃদয়ে। তাই প্রিয়কে দেখামাত্র তিনি আগেকথা বলে নিজেকে এই ভেবে সান্তনা দেন যে, তিনি আগে কথা বলেন,তাই প্রিয় বলার সুযােগ পায় না।বাবর খান বললেন, ‘গুড মর্নিং প্রিয়।প্রিয় বাবার দিকে না তাকিয়ে বলল, গুড মর্নিং।বাবর খান উৎসুক হয়ে বললেন, ‘আমাকে কংগ্রাচুলেটকরবে না?প্রিয় হেসে বলল,ওহতুমি তাে আবার মন্ত্রী হয়েছে গ্রাচুলেশনস ।‘ধন্যবদ প্রিয়। এবার আমার অনুরােধটা রাখাে, এলজিইডির নিয়ােগরী ক্ষায় বসাে শুধু। বাকি সবব্যবস্থা আমি করে দেব।

 

কম্পিউটার-হ্যাকিং ।

শুদ্ধর খাওয়া শেষ। সে বাবার জন্য বসে রয়েছে। কিন্তু শুদ্ধকে আরখানে থাকতে দেওয়া যাবে না। প্রিয় বলল, ‘শুদ্ধ, ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েগাড়িতে গিয়ে বসাে। আমি আসছি।’ শুদ্ধ চলে গেলে বাবর খান বললেন,আমি কিছু বলছি প্রিয়।’প্রিয় না তাকিয়ে বলল, “তােমার সাহায্যের আমার কোনাে দরকারনেই। বেসরকারি হলেও আমি নিজের যােগ্যতায় অনেক ভালাে চাকরিস্মরণ প্রায়ই অফিস ছুটির পর লিফট

 

দিতে চায়, যেটা পেট্রার পছন্দ না।শুধু বন্ধু হিসেবে থাকলে একটা কথা ছিল, কিন্তু তা তাে নয়। ওকেরাসরি না করে দেওয়ার পরও ও বিয়ে করতে চায়। বাসায় প্রপােজালনিয়ে যেতে চায়! এসব আবার কেমন আবদার ? একে তাে বয়সে ছােট,তার ওপর মুসলিম। বিয়ে হলে উভয় পরিবারের লােকের কাছেই কথাশুনতে হবে ওকে। সবাই বাঁকা চোখে ওর দিকেই তাকাবে, স্মরণের দিকে

 

। হ্যা, এসব প্রিয়র সঙ্গে বিয়ের পরও হয়েছে। তখন গায়ে লাগে নিকারণ, প্রিয়কে সে ভালােবাসে। স্মরণকে তাে সে ভালােবাসে না, তাহলেকেন সে এসব সহ্য করবে ?অনেকটা স্মরণকে অ্যাভয়েড করার জন্যই ইদানীং পেট্রা চেষ্টা করেএকটু আগে বের হতে। অন্তত স্মরণের আগে।আজ অফিস থেকে বেরিয়ে পেট্রা দেখতে পেল স্মরণ নয়, প্রিয় গাড়িরগায়ে হেলান দিয়ে হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে প্রিয়কেদেখে নিজের অজান্তেই হাসি ফুটে উঠেছে পেট্রার ঠোটে। দেখেও না-দেখার ভান করতে পারল না। পারল না এড়িয়ে যেতেও। ওই হাসি যেআজও বুকের ভেতর তােলপাড় করে ফেলতে পারে। ট্রেী এগিয়ে গিয়েমুখটা স্বাভাবিক রেখেই বলল, “না বলে এভাবে আসার মানে কী ?প্রিয় হেসে বলল, ‘বলে এলে তাে দেখা করতি না।’

 

পেট্রা চুপ করে তাকিয়ে রইল প্রিয়র দিকে। ঠোটে হাসি। প্রিয় বলল,কিন্তু পেট্রা, তুই গােয়েন্দাগিরি কবে থেকে শুরু করলি, বল তাে ?পেট্রা অবাক হয়ে বলল, ‘কী করেছি?এই যে গােয়েন্দাগিরি করে বের করেছিস আজ আমি আসব, তাইতাে শাড়ি পরে এসেছিস, যাতে দেখেই আমি গরম হয়ে যাই।অসভ্য কোথাকার! যত্ত আজেবাজে কথা। ভালাে কথা বলতে পারিস?’প্রিয় হেসে বলল, ‘আচ্ছা যা, বলছি। প্লিজ, আজ আমাকে কয়েকটাঘণ্টা সময় দে।”

কেন কী করবি 

 

তেমন কিছু নয়,শুধু একটা লংড্রাইভে যাব। সেই ক্রিসমাসে দেখাহয়েছিল। মিস করছিলাম খুব। প্লিজ, ফিরিয়ে দিস না। কন্টিনিউয়াসলিতাে আর দেখা করছি না।’পেট্রার ইচ্ছা করছিল যেতে, কিন্তু কাজটা কি ঠিক হবে ? মনেরবিরুদ্ধে গিয়ে বলল, “দেখা তাে হলােই। এখন চলে যা।‘প্লিজ, পেট্রা। ক্রিসমাসে শুদ্ধর সাথে দেখা তাে করিয়েছি। এখনাে কেন রেগে আছিস আমার ওপর ?‘আমি রেগে নেই। কিন্তু এখন এভাবে আমাদের দেখা করা, ডেটেযাওয়া ঠিক না প্রিয়।প্রিয় চুপ। পেট্রা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। প্রিয় পেট্রার হাতটা ধরেলল, “কী ভাবছিস ?পেট্রা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, ‘আচ্ছা চল।প্রিয় বিশ্বজয়ের হাসি নিয়ে গাড়ির দরজা খুলে ধরল। পেট্রা উঠল।

নিকিতা শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়ের বিয়েতে বসুন্ধরা কনভেনশন হলেএসেছিল। সঙ্গে শুদ্ধও আছে, শ্বশুর সাহেব ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেন।নি। নিকিতা শ্বশুরের গাড়িতে করে এসেছিল। প্রােগ্রাম শেষ করে গাড়িতেউঠতেই শুদ্ধ ঘুমিয়ে পড়ল। নিকিতা তাকে শুইয়ে দিয়ে জানা লায় চোখরেখে বাইরেটা দেখছিল। হঠাৎই চোখ আটকে গেল পাশ কেটে এগিয়েযাওয়া গাড়িটায়। ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল, “হাশেমভাই, এটা প্রিয়রগাড়ি না ?ড্রাইভার হাশেম আলী আমতা আমতা করতেই নিকিতা গাড়িরনম্বরটা দেখে ফেলল এবং নিশ্চিত হলাে, এটা প্রিয়র গাড়ি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.