বাত ব্যথার লক্ষণ।

বাত ব্যথার লক্ষণ

নিদান।-ক্ষ, শীতল, লঘু বা অল্পপরিমিত দ্রব্য ভােজন, অতিশয়মৈথুন, অধিক রাত্রিজাগরণ, অতিশয় বমন-বিরেচনাদি, অতিরিক্ত খাৰসাধ্যাতীত উল্লন, অধিক সন্তরণ, পথপৰ্যটন বা ব্যায়াম, শােক, চিন্তা বানােগাদির ধাতুক্ষয়, মল-মূত্রদির বেগধারণ, আঘাতপ্রাপ্তি, উপবাস এবংকোন দ্রুতযাযাদি হইতে পতন প্রভৃতি কারণে বায়ু কুপিত হইয়া নানাপ্রকার বাতব্যাধি উৎপাদন করে। বায়ুবিকার

প্লীহা রোগের চিকিৎসা করুণ ।

অপরিসংখখ্যম। তন্মধ্যে ৮০ আশপ্রকার মাত্র শাস্ত্রে নির্দিষ্ট আছে; কিন্তু সমুদায়গুলির নামােল্লেখ নাই। যে ফয়েক-প্রকারের নাম কথিত আছে, আমরা সেই কয়েকটামাত্র বিকারের নাম ও লক্ষণাদি বিশেষরূপে নির্দেশ করিতেছি। অপরগুলির নাম নির্দিষ্ট না হইলেও,বিবেচনাপূর্বক বায়ুনাশক চিকিৎসা করিলেই, তাহা নিৰারিত হইয়া থাকে।কয়েক প্রকার বাতব্যাধিতে শ্লেষ্ম ও পিকের বিশেষ সংস্রব থাকে। চিকিৎসাকালে তবিষয়ে লক্ষ্য রাখিয়া, সেই সেই দোষনাশক ঔষধ প্রয়ােগ করা আবশ্যক।

 

 

আক্ষেপ, অপতন্ত্রক ও অপতানক লক্ষণ।—কুপিত বা ধমনী সমূহে অবস্থিত হইয়া, শরীরকে বারংবার ইতস্ততঃ চালিত করিলে, তাহাকেআক্ষেপনা বাতব্যাধি কহে। আক্ষেপের চলিত নাম “খিচুনী। যে রােগেরায়ু-হৃদয়, মস্তক ও ললাট দেশের পীড়া জন্মাইয়া, দেহকে ধনুকের ন্যায় নত ও আক্ষিপ্ত করে, তাহার নাম অপতক। আরও, এই রােগে লােগ মুচ্ছিত,নৰ্ণিমেষ বা নিমীলিতনেত্র ও সংজ্ঞাহীন হয় এবং কষ্টে শ্বাস পরিত্যাগ ও পায়রার ভাৰ শৰ করিতে থাকে। যাহাতে দৃষ্টিশক্তিনাশ, সংজ্ঞালােপ ও কইতে সব্যক্ত শব্দনিৰ্গম হয়, তাহাকে অপতানক কহে। এই রােগে যখন বায়ু বৃদয়ে উপস্থিত হয়, তখনই সংজ্ঞানাশ হইয়া নােগ প্রকাশিত হয় ; তাহাদয় হইতে লিয়া গেলেই মােগ স্বাস্থ্য লাভ করে। কুপিত বায়ু কফের সহিত মিলিত হইয়া মুদায় ধমনীকে অবলম্বনপূর্বক যখন দণ্ডের ন্যায় শরীর স্তম্ভিত করিয়া, তাহার কুঞ্চনাদি শক্তি নষ্ট করে, তখন তাহাকে দণ্ডাপন কহে। যে রোগে দেহ নার মত না হয়, তাহার নাম ধনুঃ চলিত কথায় ইহাকে ধনুষ্টঙ্কায় হে।

 

 

অন্তরায়াম ও বহিরায়াম ভেদে ধনুঃস্তম্ভ দুই প্রকার। অতিকুপিত বেগবান বায়ু অঙ্গুলি, গুল, জঠর, বক্ষঃস্থল, হৃদয় ও গলদেশের স্নায়ুসমূহকে আকর্ষণ করিলে,রােগী ক্রোড়ের দিকে নত হইয়া পড়ে, ইহারই নান অন্তরাম। আরও ইহাতে রােগীর চক্ষুদ্বয় স্তব্ধ হয়, চোয়াল বন্ধ হইয়া যায়, পার্শ্বদ্বয় জালিয়া পড়ে,এবং কফ উদ্গীর্ণ হইতে থাকে। ঐরূপ বায়ু পৃষ্ঠের দিকে পায়ুসমূহ আকর্ষণ করিলে, রােগী পৃষ্ঠের দিকে নত হইয়া পড়ে। ইহাকেই বহিরাম কহে ।বহিরায়ামে বক্ষঃস্থল, কটী ও উরু ভগ্নবৎ হয়। এই রােগ স্বভাবতঃ প্রায়ই অসাধ্য। গর্ভপাত, অধিক রক্তস্রাব বা আঘাতাদি কারণে এই রােগ জন্মিলে,তাহাও অসাধ্য হইয়া থাকে।

 

 

পক্ষাঘাত বা একাঙ্গবাত লক্ষণ :—কুপিত-বায়ুকর্তৃক দেহের অর্থভাগ আক্রান্ত হইলে, সেই ভাগের শিরা ও আয়ুসমূহ সঙ্কুচিত বা বিশুদ্ধ হইয়া যায় এবং সন্ধিবন্ধ সম্যক্ বিশিষ্ট হয় ; সুতরাং সেই ভাগ অকর্মণ্য ওঅচেতনপ্রায় হইয়া উঠে। এই রােগের নাম পক্ষাঘাত বা একাবাত। এইনােগ দুইপ্রকার হইতে দেখা যায় ;-কাহারও বাম-দক্ষিণ বিভাগের একভাগে,কাহারও বা কটিদেশের উ% ও অধােভাগানুসারে একভাগে, এই রােগ উৎপন্ন হইয়া থাকে। পক্ষাঘাতয়ােগে বায়ুর সহিত পিত্তের অনুবন্ধ থাকিলে দাহ,সন্তাপ ও মূৰ্ছ; এবং কফের অনুবন্ধ থাকিলে, পীড়িত অঙ্গের শীতলতা, শােষ ও অঙ্গের গুরুত, এইসকল লক্ষণ লক্ষিত হয়। পিত্তের বা কফের অনুবন্ধ না থাকিয়া, কেবল বায়ুকর্তৃক পক্ষাঘাত রােগ জন্মিলে, তাহা অসাধ্য হয়।শরীরের অন্ধভাগে ঐরূপ পীড়া উপস্থিত না হইয়া সৰ্ব্বাঙ্গে হইলে, তাহাকেসর্বাঙ্গবাত কহে।

 

 

অর্দিত-লক্ষণ।—সর্বদা অতি উচ্চৈঃস্বরে বাক্যকথন ও সঙ্গীত, কঠিন।
দ্রব্য চৰ্ব্বণ, হাস্য, জ্বা, ভারবহন ও বিষমভাবে শয়নাদি কারণে বায়ু কুপিত হইয়া, মুখের অর্থভাগ ও গ্রীবাদেশ বক্র করে এবং শিরকম্প, বাক্যনিবােধ ও নেত্রাদির বিকৃতি উৎপাদন করে। এই রােগকে অতি কহে। মুখের যে পার্শ্বে অর্পিত রােগ জন্মে, সেই পার্শ্বের গ্রীবা, চিবুক ও দন্তে বেদনা হইয়া থাকে।এই রােগে বায়ুর আধিক্য থাকিলে লালাস্রাব, ব্যথা, কম্প, ফুরণ, হনুস্তম্ভ।( চোয়াল-ধরা, বাগবােধ এবং ওষ্ঠাধরে শােথ ও শূলনিখাতৰং বেদনা হয়।পিত্তের আধিক্যে মুখ পীতবর্ণ, জ্বর, তৃষ্ণা, মূৰ্ছা ও দাহ, এই কয়েকটা উপসর্গ দেখিতে পাওয়া যায়। কফের আধিক্য থাকিলে, গণ্ডস্থল, মস্তক ও মন্তা,( ঘাড়ের শিরা), এইসকল স্থান শােথযুক্ত ও স্তব্ধ হইয়া থাকে। যে অর্পিত রােগ ক্ষীণ, নিমেষশুন্য, এবং অতিকষ্টে অব্যক্তভাষী ও কম্পযুক্ত হয়, অথবা বাহার বােগ তিনবৎসর শরীরে অবস্থিত থাকে, সেইসকল রােগীর আরােগ্য-লাভের আশা থাকে না।

 

 

নতুন কিছোপ্লীহা রোগের সমাধান

 

 

বিবিধ বাত ব্যাধি-লক্ষণ।-জিম্বা-নির্লেখনকালে অর্থাৎ জিব চুলি
এর সময়ে, বা কঠিন দ্রব্য চর্বণ করিলে, কিংবা কোনরূপে আঘাতপ্রাপ্ত হইলে,মুমূলস্থ বায়ু কুপিত হইয়া, হনুদ্বয় (চোয়াল) শিথিল করে ; তাহাতে মুখ সংবৃত { বুজিয়া) থাকিলে বিবৃত হ} করা যায় না, অথবা বিবৃত থাকিলে সংবৃত করিতে (বুজিতে) পারা যায় না; ইহাকে হনুগ্রহ কহে। দিবানিদ্রা, বিষমভাবে তীবাস্থাপন, বিকৃতভাবে উদ্ধানেত্রে নিরীক্ষণ প্রভৃতি কারণে বায়ু কুপিত ও Pফাবৃত হইয়া, মা অর্থাৎ গ্রীবদেশস্থ শিরায়কে স্তম্ভিত করে ; তাহাতে গ্ৰীৰ ফরাইতে বা ঘুরাইতে পারা যায় না। এই রােগের নাম মন্যাগ্রহ। কুপিত নায়ু বাগবাহিনী শিরায় অবস্থিত হইলে, জিহবাস্তম্ভ রােগ উৎপন্ন হয়, ইহাতে রাগী পান-ভােজন করিতে ও বাক্যকথনে অসমর্থ হয়। গ্রীবাদেশস্থ শিরাসমূহে টুপিত বায়ু অবস্থিত হইলে, শিরাগ্রহ বা শিরােহ নামক রােগ উপস্থিত হয়;ইহাতে শিরাসফল

 

 

রুক্ষ, বেদনাযুক্ত ও কৃষ্ণবর্ণ হয়, এবং রােগী মন্তক-চালনা করিতে পারে না। এই লেগ স্বভাবতঃই অসাধ্য। যে বাতব্যাধিতে প্রথমেকক (পাছা’, তৎপরে যথাক্রমে কটি, পৃষ্ঠ, উরু, জানু, জবা, ও পাদদেশেব্ধতা, বেদনা ও সূচীবেধবং যন্ত্রণা উপস্থিত হয়, তাহাকে গৃধসী বাত কহে ;এই রােগে বাধিক্য থাকিলে বারংবার স্পন্দন; এবং বায়ু ও কফ উভয়ের ৰাধিক্যে তন্দ্রা, দেহের গুরুতা ও অরুচি, এই কয়েকটী অধিক লক্ষণ প্রকাশিত হয়। বাহুর পশ্চাদভাগ হইতে যেসকল বড় শিরা অঙ্গুলিতল পৰ্য্যন্তবস্তৃত আছে, বায়ুকর্তৃক সেই শিরাগুলি দুষিত হইলে, বাহু অকর্মণ্য অর্থাৎ..

 

 

কুঞ্চন-প্রসারণালি ক্রিয়াশূন্য হইয়া যায়; ইহাকে বিশ্বচী রােগ কহে। ইহা Fখন একটী বাইতে, কখন বা দুইটী বাহুতেও হইতে দেখা যায়। কুপিত য়ুি ও দুষিত রক্ত উভয়ে মিলিত হই, জামধ্যে শৃগালের মস্তকের ন্যায় একপ্রকার শােথ উৎপাদন করে ; তাহাকে ক্রোকশীর্ষ কহে। কটিদেশ কুপিতবায়ু যদি এক পায়ের উজির বড় শিয়াকে আকর্ষণ করিয়া রাখে, তাহাহইলে খঞ্জতা, আর ঐরূপ দুই পায়ের জঘাদেশস্থ শিয়া আকর্ষণ করিলে,পঙ্গু রােগ উৎপন্ন হয়। প্রথম পা ফেলিবার সময়ে, পা যদি কপিতে কপিতেপড়ে, তাহা হইলে তাহাকে কলাক্স-খঞ্জ কহে। এই রােগে সন্ধিসমূহ শিখিলহইয়া যায়। অসম অর্থাৎ উচু নীচু পাদবিন্যাস ৰা অধিক পরিশ্রম জন্য বায়ু।কুপিত হইয়া গুলফদেশে বেদনা জন্মাইলে, তাহাকে বাতকণ্টক ( খড়কা বাত )কহে। সৰ্ব্বদা ভ্রমণ করিলে পিত্ত, রক্ত ও বায়ু কুপিত হইয়া, পাদদাহনামকরােগ উৎপাদন করে। পদদ্বয় স্পর্শশক্তিহীন, বারংবার রােমাঞ্চিত, এবংঝিনিঝিনি-বেদনাযুক্ত হইলে, তাহাকে পাদহ করে। সাধারণ ঝিনিঝিনি-বেদনা অপেক্ষা এই রােগের বেদনা অধিকক্ষণস্থায়ী। বায়ু ও শ্লেষ্ম এইউভয় দোষ কুপিত হইয়া, পাহবােগ উৎপাদন করে। স্কন্ধসেশস্থিত বায়ু কুপিতহইয়া, স্কন্ধের বন্ধনম্বরূপ ..মাকে শুষ্ক করিলে, অংসশােষ রাে

 

 

https://usabcnews.com/%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ae/

 

 

গ জন্মে ; কেবল বাঃ। ঐ স্কন্ধস্থিত কুপিত বায়ু শিরাসমুহকে সঙ্কুচিত করিলে, তাহাকে অথবাহক রােগ কহে। বায়ু ও কফ এই উভয় দোষ হইতে অববাহক রােগ জন্মে। কফসংযুক্ত বায়ু শব্দবাহিনী ধমনীসমূহকে দূষিত করিলে, মনু বােবা,মিনমিনে ( অক্ষুটভাষী) বা গদভাষী তােলা) হইয়া থাকে। যে রােগে মলা-শয় বা মূত্রাশয় হইতে বেদনা উখিত হইয়া, গুহ্নদেশে ও লিঙ্গ বা যােনিপ্রদেশে | বিদায়ণষৎ বেদনা জন্মায়, তাহার নাম তুণী। আর ঐরূপ বেদনা, গুদেশ ও  লিঙ্গ বা যােনিপ্রদেশ হইতে উখিত হইয়া, প্রবলবেগে পাকাশনে গমন করিলে,তাহাকে প্রতিতুণী কহে। পাকাশয়ে বায়ু নিরুদ্ধ থাকিলে, উদরকে স্ফীত, বেদনা-যুক্ত ও গুড়গুড় শব্দবিশিষ্ট করিলে, তাহাকে আনবােগ কহে । ঐরূপ বেদনা।পাকাশয়ে না হইয়া আমাশয় হইতে উথিত হইলে, এবং তাহাতে উদর বা পার্শ্ব-

 

 

দেশে স্ফীতি না থাকিলে, তাহাকে প্রত্যাখান কহে। কফকর্তৃক বায়ু আবৃত হইলে, এই প্রত্যাখান রােগ জন্মে। নাভির অপােভাগে, পাষাণখণ্ডের গায় কঠিন উদিকে বিতত ও উন্নত এবং সচল বা অচল গ্রন্থিবিশেষ উৎপন্ন হইলে,তাহাকে অঙলা কহে। অষ্ঠীলা বক্রভাবে অবস্থিত থাকিলে, তাহার নাম প্রত্যষ্ঠীলা। এই উভয় বােগেই মল, মূত্র ও বায়ু নিরুদ্ধ হইয়া যায়।

 

 

সৰ্বাঙ্গ বিশেষতঃ মন্তক কাপিতে থাকিলে, তাহার নাম বেপথু। পদ, জন্য,
উরু ও করমূল মােচড়াইলে, তাহাকে খৰী অর্থাৎ খাইল-ধরা কহে।সাধ্যসাধ্য।–সকলপ্রকার বাতব্যাধিই কষ্টসাধ্য। য়ােগ উৎপন্ন হই-মাত্র যথাবিধি চিকিৎসা না করিলে, প্রায়ই তাহা অসাধ্য হইয়া উঠে। পক্ষাঘাতপ্রভৃতি বাতব্যাধির সহিত বিসর্প, দাহ, অত্যন্ত বেদনা, মলমূত্রের নিরােধ, মূচ্ছ,অরুচি, অগ্নিমান্দ্য, শােথ, স্পর্শশক্তি-লােপ, অঙ্গভঙ্গ, কম্প ও উদরাগান প্রভৃতিউপদ্ৰৰ মিলিত হইলে এবং রােগীর বল ও মাংস ক্ষীণ হইলে, প্রায়ই আরােগ্যের আশা থাকে না।

 

 

চিকিৎসা।—ত-তৈলাদি স্নেহপ্রয়োগই সমুদায় ৰাতব্যাধির সাধারণ
চিকিৎসা। অপর্তক ও অপতানক প্রভৃতি রােগে চেতনা সম্পাদন জন্য তীক্ষ নস্য দেওয়া আবশ্যক। মরিচ, সজিনাবীজ, বিড়ঙ্গ ও ক্ষুদ্ৰপত্ৰ-তুলসী-সমভাগে এই-সকল চূর্ণের নন্য লইলে, অপতন্ত্রক প্রভৃতি রােগে সংজ্ঞালাভ হইয়া থাকে।হরীতকী, বচ, রান্না, সৈন্ধবলবণ ও থৈকল এইসকল দ্রব্যের চূর্ণ, আদার রসের সহিত সেবন করিলে, অপ তন্ত্রক রােগের উপশম হয়। অপতনক রােগে দশ-মূলের কাথে পিপুলচুর্ণ প্রক্ষেপ দিয়া পান করাইবে। ভােজনের পূর্বে মরিচচূর্ণের সহিত অমুদধিভােজন অপতানক রোগে হিতকর। পক্ষাঘাত রােগে মাষকলাই,
আলকুশীমুল, এরশুমূল ও বেড়েলা, ইহাদের কাথে হিং ও সৈন্ধব-লৰণ প্ৰক্ষেপ দিয়া পান করাইবে। পিপুলমূল, চিতামুল, পিপুল, শুঠ, রানা ও সৈন্ধবলবণ ইহাদের কল্ক এবং মাষকলায়ের কাথের সহিত সঙ্গবিধি তৈল পাক করিয়া মর্দন করিবে। অথবা মাষকলাই, আলকুণী, আইচ, এরমুল, রান্না, শুফা,ও সৈন্ধব-লবণ এইসকল দ্রব্যের কঙ্ক, তৈলের

 

 

চতুগুণ-পরিমিত মাষকলাই ও বেড়ের পৃথক পৃথক কথের সহিত তৈল পাক করিয়া মর্দন করিবে। অতি রােগে মুখ বিকৃত (হা হইয়া থাকিলে, অঙ্গুষ্ঠদ্বারা হনুস্থান এবং তর্জনীঘারা। চিবুক ধরিয়া চাপ দিয়া মিলিত করিয়া দিবে। হমু শিথিল হইয়া পড়িলে যথাস্থানে সন্নিবেশিত করিবে। মুখ স্তব্ধ হইয়া থাকিলে স্বেৰ প্ৰদান কৰ্তব্য। সুন হেঁচিয়া মাখনের সহিত ভক্ষণ করিলে, অর্পিত-রােগের উপশম হয়। বেড়েলা,মাষকলাই, আলকুশীমূল, গন্ধতৃণ ও এরমূল, ইহাদের কাথ পান করিলে, এবং ঐ কাথের নস্য লইলে, অর্পিত, পক্ষাঘাত ও বিশ্বচী রােগ প্রশমিত হয়।

 

 

মন্যাস্তম্ভরােগে কুকুট-ডিম্বের দ্ৰবভাগ, লবণ ও ঘৃতের সহিত মিশ্রিত এবং উষ্ণ করিয়া,তাহাদ্বারা গ্রীবাদেশ মর্দন করিবে। অশ্বগন্ধামুলের প্রলেপ দিলে, এবং সর্ষপতৈল মর্দন করিলেও মন্যাস্তম্ভের উপশম হয়। বাগবাহিনী শিৱা বিকৃত হইলে, ঘৃত, তৈল প্রভৃতি স্নেহপদার্থের কবলধারণ হিতকর। বিশ্বচী ও অববাহুক রােগে দশমূল,বেড়েলা ও মাষকলাই, ইহাদের কাখে তৈল ও ঘৃত প্রক্ষেপ দিয়া, রাত্রিভােজনেরপর তাহার নস্য হইতে দিবে। বাহুশােষ রােগে শালপাপীর সহিত দুগ্ধপাক করিয়া,সেই দুগ্ধ পান করাইবে। গৃসী রােগে মৃদু অগিতে নিসিন্দার কাথ প্রস্তুত করিয়া পান করাইবে। এরমূল, বেলছল, বৃহতী ও কণ্টকারী, ইহাদের কাথ সচল  বণের সহিত পান করিলে, গৃসীবশতঃ বক্ষণ ও বস্তিদেশের স্থায়ীবেদনা প্রশমিত হয়। ত্রিফলার কাথের সহিত এণ্ডতৈল সেবন করিলে, খৃসী ও উরুগ্ৰহরোগ | প্রশমিত হয়। দশমূল, বেড়েল, বাম), গুলঞ্চ ও শুঠ, ইহাদের কাথের সহিত এরও- তৈল পান করিলে, গৃসী, খঞ্জতা ও পঙ্গুতারােগের উপশম হয়। আদ্মনরােগে পিপুচুৰ্ণ ২ দুই ভােলা, তে উড়ীর মূলচুর্ণ ৮ আট ভােলা, এবং চিনি ৮ আট তোলা,একত্র মিশ্রিত করিয়া,[• অৰ্দ্ধতোলা মাত্রায় মধুর সহিত সেবন করাইবে।দবদারু বা কুড়, শুফা, হিং ও সৈন্ধব-লবণ একত্র কাজির সহিত বাটিয়া ও গরম করিয়া প্রলেপ দিলে, শূল ও আখান রোগ প্রশমিত হয়। প্রত্যাবান রােগে বমন লঘন এবং অগ্নিদীপক ও পাচক ঔষধ

 

 

প্রয়ােগ,অথবা পিচকারী দেওয়উপকারক।শিরাগ্রহ বা শিরােহেেগ দশমূলের কাথ ও টাবানেবুর রসের সহিত তৈল পাক করিয়া, সেই তৈল মর্দন করিবে। অষ্ঠীলা ও প্রত্যষ্ঠীলা রােগে গুল্মরােগের ন্যায় সমস্ত চিকিৎসা কর্তব্য। তুণী ও প্রতিতুণী রােগে মেহপিচকারী দেওয়া আবশ্যক এবং হিং ও যবক্ষারমিশ্রিত উষ্ণদ্বত পান করাইবে। খীরােগে তৈলেরহিত, কপূর বা কুড়, সৈন্ধব লবণ ও চুক্র মিশ্রিত ও গরম করিয়া মর্দন করিবে। বাত-কণ্টক রােগে জোক প্রভৃতিদ্বারা রক্তমােণ, এণ্ড তৈল পান এবং উত্তপ্ত-সূচী প্রভৃতিদ্বারা পীড়িত স্থান দগ্ধ করা উচিত। ক্রোক-শীর্ষ ও পাদদাহ রোগের চিকিৎসা-বাত রক্তরােগের ন্যায় কর্তব্য। মসুরকলাই প্রথমতঃ পেষণ করিবে, পরে তাহা জলে সিদ্ধ করিয়া তদ্বারা প্রলেপ দিলেও পাদদাহ রােগেয় শান্তি হয়। অথবা :পদদ্বয়ে নবনীত মাখাইয়া অগ্নির উত্তাপ দিবে। পাদহ রােগে কুপ্রসারিণী তৈল হিতকর।

 

 

ব্যবয়ে ঔষধ ও তৈলাদি।–সকলপ্রকার বাতব্যাধিতেই তৈল-মর্দন করা প্রধান চিকিৎসা। ভিন্ন ভিন্ন তৈলের উপকারিতা, এবং প্রত্যেক রােগের অবস্থাবিশেষ বিবেচনা করিয়া, স্বল্প-বিষ্ণুতৈল, বৃহৎ-বিষ্ণুতৈল, নারায়ণ-তৈল, মধ্যম-নারায়ণ তৈল, মহানারায়ণ তৈল, সিদ্ধার্থক হৈল, হিমসাগর তৈল,বায়ুচ্ছায়া-সুরেন্দ্র তৈল, মাষবাদি তৈল, পুষ্পরাজ-প্রসারিণী তৈল, কুপ্রসারিণীতৈল ও মহামাষ তৈল প্রভৃতি প্রয়ােগ করা আবশ্যক। সেবনের জন্য রাদি পাচন, কল্যাণালেহ, স্বল্পবসােনপিণ্ড, ত্রয়ােদশাঙ্গ-গুগ গুলু, দশমুলাদ বৃত,ছাগলাদ্য ঘৃত ও বৃহৎ ছাগলাদ্য ঘৃত এবং চতুর্থ, বাগজাঙ্কুশ, বৃহৎ-বাগজা-স্কুশ, যােগেরস, চিন্তামণি রস ও বৃহৎ বাতচিন্তামণি রস প্রভৃতি ঔষধ বিবেচনা করিয়া প্রয়ােগ করিবে।

 

 

পথ্যাপথ্য। – বাতব্যাধিমাত্রেই স্নিগ্ধ ও পুষ্টিকর আহারাদি নিতান্ত
| উপযোগী। মুচ্ছারােগে যেসমস্ত দ্রব্য পানাহার জন্য কথিত হইয়াছে, সেইসমস্ত দ্রব্য এবং রোহিত-মৎস্যের মস্তক { মুড়ে) ও মাংসরস প্রভৃতি পুষ্টিকর দ্রব্য ভােজন করিবে। স্নানাদি-মুম্ফারােগাক্ত নিয়মানুসারে করিতে হইবে। পক্ষা-ঘাতরোগে কেবলমাত্র কফের সংস্রব থাকিলে, অথবা অন্য কোন বাতব্যাধিতে কফের উপদ্র ও অরাদি দৃষ্ট হইলে, উষ্ণজলে কদাচিৎ স্নান করা উচিত এবং যাবতীয় শৈত্যক্রিয়া পরিত্যাগ করা আবশ্যক। মুম্ফারোগে যেসকল আহার-বিহার নিষিদ্ধ হইয়াছে, সাধারণ বাতব্যাধিতেও সেই সমস্ত নিষিদ্ধ।

 

উরুস্তম্ভ

 

 

নিদান।—অধিক শীতল বা উষ্ণ দ্রব্য এবং কঠিন, গুরু, লঘু, স্নিগ্ধ বারুক্ষদ্রব্য ভােজন, পূৰ্ব্বের আহার সম্পূর্ণরূপে পরিপাক না পাইতেপুনৰ্বারভােজন,পরিশ্রম, শরীরের অধিক চালনা, দিবানিদ্রা ও রাত্রিজাগরণ প্রভৃতি কারণে,কুপিত বায়ু, শ্লেষ্মা ও আমরক্ত-যুক্তপিত্তকে দুষিত করিয়া, উরুতে অবস্থিত হইলে উরুস্তম্ভ রােগ জন্মে।

 

 

লক্ষণ। -এই বেগে উরু স্তব্ধ, শীতল, অচেতন, ভারাক্রান্ত ও অতিশয়বেদনাযুক্ত হয় এবং উরু উত্তোলন বা চাল না করিবার শক্তি থাকে না।আরও, এই রোগে অত্যন্ত চিন্তা, অঙ্গবেদনা, স্তৈমিত অর্থাৎ অঙ্গে ভিজাবআচ্ছাদনের ন্যায় অনুভব, তন্দ্রা, অরুচি, জ্বর এবং পদের অবসন্নতা, স্পর্শশক্তির নাশ ও কষ্টে অঙ্গচালন এইসমস্ত লক্ষণ লক্ষিত হয় উরুস্তম্ভের নামান্তর আটাৰত।উরুস্তম্ভ প্রকাশিত হইবার পূর্বে অধিক নিদ্রা, অত্যন্ত চিন্তা, স্তৈমিত্য,জর, রোমাঞ্চ, অরুচি, বমি এবং জ্যা ও উরুর দুৰ্বলতা, এইসমস্ত পূৰ্বরূপ প্রকাশিত হইয়া থাকে ।

 

 

মৃত্যুসম্ভাবনা। – এই রােগে দা, চীবেধবৎ বেদনা ও কম্প প্রভৃতি উপদ্রব উপস্থিত হইলে, রােগীর মৃত্যু ঘটিতে পারে। রােগ উৎপন্ন হইব:মাত্র চিকিৎসা না করিলে, ইহা কষ্টসাধ্য হইয়া উঠে। চিকিংসা–যেসকল ক্রিমাদ্বারা কফের শান্তি হয়, অথচ বায়ুর প্রকোপ অধিক না হয়, উরুস্তম্ভে সেইরূপ চিকিৎসা করা আবশ্যক। তথাপি প্রথমে ক্ষক্রিয়া দ্বারা কফের শান্তি করিয়া, পরে বায়ুর শা করা উচিত।প্রথমতঃ স্বেৰ, লঙঘন ও রুক্ষক্রিয়া কর্তব্য। অতিরিক্ত ক্ষক্রিয়াদি দ্বারাবায়ু অধিক কুপিত হইয়। নিদ্ৰানাশ প্রভৃতি উপদ্রব উপস্থিত করিলে, মেহম্বেদপ্রভৃতি ব্যবহার করিবে। ডহর করঞ্জের ফল ও সর্ষপ ; কিংবা অশ্বগন্ধা, আকন্দ,নিম বা দেবদারুর মূল ; অথবা দন্তী ইন্দুরকাণী, রাঙ্গা ও সর্ষপ ; কিংবা জয়ন্তী,রা, সমিনার ছাল, বচ, কুড়চি ও নিম,– এই কয়েকটীর যে কোন

 

 

একটাযােগ, গােমূত্রের সহিত বটিয়া, উরুস্তম্ভে প্রলেপ দিবে। সর্ষপচুর্ণ ও উই-মৃত্তিকামধুর সহিত মিশ্রিত করিয়া অথবা ধুতুরাপাতার সহিত বাটিয়া ও গরম করিয়াপ্রলেপ দিবে। কৃষ্ণ-ধুতুরার মূল, টেড়িফল, রসুন, মরিচ, কৃষ্ণজী, জয়ন্তীপত্র,সজিনাছাল ও সর্ষপ, এইসমস্ত গােমূত্রের সহিত বটিয়া ও গরম করিয়া প্রলেপ দিলেও উরুস্তম্ভের শান্তি হয়।

 

 

ত্রিফল, পিপুল, মুতা, চই ও কী-ইহাদেরচুৰ্ণ, অথবা কেবল ত্রিফলা ও কটকী,—এই দুইটা দ্রব্যের চূর্ণ ॥ অন্ধতােল।মাত্রায়, মধুর সহিত সেবন করিলে, উরুস্তম্ভ প্রশমিত হয়। পিপুলমূল, ভেলারমুটী ও পিপুল, ইহাদের কাথে মধু প্রক্ষেপ দিয়া পান করিতে দিবে। ভাতকাদিও পিপ্পল্যাদি পাচন, গুঞ্জভদ্ররস, অষ্টকটুর তৈল, কুষ্ঠাদ্য তৈল ও মহাসৈন্ধবাদ্যতৈল প্রভৃতি উরুস্তম্ভ রােগে প্রয়ােগ করা আবশ্যক।

 

 

পথ্যাপথ্য।—দিবসে পুরাতন-চাউলের অন্ন, কুলখকলায়, মুগ, ছােলাও মসুরের দাল; পটোল, ডুমুর, মাণকচু, উচ্ছে, করেলা, সজিনার ডাটা,ইচোড়, বেগুন, রসুন ও আদা প্রভৃতির তরকারী; ছাগ, কপোত বা কুকুটপ্রভৃতির মাংসরস ; এবং সহমত ঘৃত ও অল্প ঘোল আহার করিবে। রাত্রিকালেলুচি বা কুটী, ঐ সমস্ত তরকারী এবং ঘৃত, ময়দা, জি ও অল্প চিনি-সংযােগেপ্রস্তুত গজা, মােহনভােগ, মিঠাই প্রভৃতি দ্রব্য অল্প পরিমাণে আহার করা জলখাবারের জন্য কিমি, সােহরা ও খেজুর প্রভৃতি কফনাশকও বায়ুর অবিরােধী ফল খাইতে দিবে। গরম জল শীতল করিয়া পান করিতেহইবে। মান যত কম হয়, তাহাই ভাল ; নিতান্তই স্নানের আবশ্যক হইলে,গরম জলে স্নান করা কর্তব্য। কিন্তু বায়ুর প্রকোপ অধিক হইলে, নদীর জলেসান ও স্রোতের প্রতিকুলদিকে সন্তরণ ব্যবস্থয়।

 

 

নিষিদ্ধ কৰ্ম্ম।গুরুপাক দ্রব্য, কফজনক দ্রব্য, মৎস্য, গুড়, দধি, পুইশাক, মাষকলাই, পিষ্টকাদি, অধিক পরিমিত আহার এবং মলমূত্রাদির বেগধারণ, দিবানিদ্রা, রাত্রিজাগরণ ও হিমলাগান প্রভৃতি উরুস্তম্ভ রােগেঅনিষ্টকারক উচিত।

আমবাত

 

 

নিদান ও লক্ষণ।—ক্ষীরমৎস্যাদি-সংযোেগবিরুদ্ধ দ্রব্য আহার, লিখা ভােজন, অতিরিক্ত মৈথুন, ব্যায়াম, সন্তরণাদি জলক্রীড়া, অগ্নিমান্দ্য ও গমনা-গমনশূন্যতা প্রভৃতি কারণে অপক আহাররস বায়ুকর্তৃক আমাশয় ও সন্ধিস্থল প্রভৃতি কফস্থানে সঞ্চিত ও দূষিত হইয়া, আমবাতের উৎপাদন করে চলিত. কথায় এই রােগকে বাতের পীড়া কহে। অঙ্গম, অৰুচি, তৃষ্ণ, আলস্য, দেহের শুষ্কতা, অনু, অপরিপাক ও শােথ, এই কয়েকটী আমবাতের সাধারণ লক্ষণ।

 

 

কুপিত আমবাতের উপদ্রব।- আমবাত অধিক কুপিত হইলে, সকল রােগ অপেক্ষা অধিক কষ্টদায়ক হয়; এবং তৎকালে হস্ত, পদ, মস্তক,গুলফ, কটি, জানু, উৰু ও সন্ধিস্থানসমূহে অত্যন্ত বেদনাযুক্ত শোস উৎপন্ন হয়। আরও, ঐসময়ে দুষ্ট আম যে যে স্থান অবলম্বন করে, সেই সেই স্থানে বৃশ্চিক- দংশনের ন্যায় অত্যন্ত যাতনা এবং অগ্নিমান্দ্য, মুখনাসাদি হইতে জলাব,| উৎসাহহানি, মুখের বিরসতা, দাহ, অধিক মুত্রস্রাব, কুক্ষিদেশে শূল ও কঠিন,দিবসে নিদ্রা রাত্রিতে অনিদ্রা, পিপাসা, বমি, এম, মুজ্জা, হৃদয়ে বেদনা, মল-বন্ধতা, শরীরের জড়তা, উদরের মধ্যে শব্দ ও আনাহ প্রভৃতি উপদ্রবসমূহ উপস্থিত হইয়া থাকে।

 

 

দোষভেদে লক্ষণ।-বাতজ আমবাতে শূলবৎ বেদনার আধিক্য পৈত্তিকে গাত্রদাহ ও শরীরের রক্তকতা; এবং কফজে আবন্ত্র অবগুণ্ঠনের ন্যায় অনুভব, গুরুতা ও ক এই কয়েকটা লক্ষণ অধিক লক্ষিত হয়। দুই দোষ বা তিনদোষের আধিক্যে ঐসমস্ত লক্ষণ মিলিতভাবে প্রকাশিত হয়। একদোষজ আমবাত সাধ্য, দ্বিদোষজ যাপ্য এবং সন্নিপাতজ ও সৰ্ব্বদেহগত শােখের লক্ষণযুক্ত আমবাত অসাধ্য

 

 

চিকিৎসা।-পীড়ার প্রথমাবস্থাতেই চিকিৎসা করা আবশ্যক, নতুবা তাহা কষ্টসাধ্য হইয়া উঠে। লম্বন, বেদ ও বিরেচন,-আমবাতের প্রধান চিকিৎসা। বালুকার পুটলী উত্তপ্ত করি, তারা বেদনাস্থানে যে দিবে ;অ থবা কার্পাসবীজ, কুলখকলাই, কিন্তু, যব, লাল-ভেরেণ্ডার মূল, মসিনা,পুনর্নবা ও শণৰীজ, এইসমস্ত দ্রব্য অথবা ইহাদের মধ্যে যে কয়েকটা দ্রব্য পাওয়া যায়, তাহাই কুটিত ও কাজিতে সিক্ত করিয়া, দুইটী পুটলী বাঁধিতে হইবে। একটা হাঁড়ির মধ্যে কঁজি দিয়া, একখানি বহুছিদ্রযুক্ত শরা-বাক্স সেই হাঁড়ির মুখ ঢাকিয়া, সংযােগস্থানে কাপড়-মাটীর লেপ দিতে হইবে।পরে ঐ কাজিপূর্ণ হাঁড়িটা অগ্নিজ্বালে চড়াইয়া, শরার উপরে এক একটা পুটলী গরম করিয়া লইবে। ঐ উত্তপ্ত পুটলীদ্বারা স্বেদ দিলে, আমবাতের বেদনা নিবারিত হয়। এই স্বেদকে শঙ্করস্বেদ কহে। কুলেখাড়, কেউমুল,সজিনাছাল ও উইমাটী গােমূত্রসহ বাটিয়া এইসকল দ্রব্যের প্রলেপ দিলে,আমবাতের উপশম হয়। অথবা

 

 

শুলফা, বচ, ওঠ, গােক্ষুর, বরুণছাল,পীত-বেড়েল, পুনর্নবা, শঠী, গন্ধভাদুলে, জয়ন্তীফল ও হিং, এইসকল দ্রব্য কাজির সহিত পেষণ ও উষ্ণ করিয়া প্রলেপ দিবে। কৃষ্ণজীরা, পিপুল, নাটার বীজের শস্ত ও শুঠ, সমভাগে আদার রসের সহিত বঁটিয়া ও গরম করিয়া প্রলেপ দিলেও শীল্প বেদনার শাস্তি হয়। তেকাটাসীজের আঠা, লবণমিশ্রিত করিয়া,বে দনাস্থানে লাগাইলে, বেদনার উপশম হইয়া থাকে। বিরেচন জন্য দশমূলের বা৩°ঠের কাথের সহিত অথবা উষ্ণদুগ্ধের সহিত অর্ধছটাক বা কোষ্ঠানুসারে তদপেক্ষা অল্লাধিক মাত্রায় এর তৈল পান করিতে দিবে। তেউড়া-চূর্ণ ১২

 

 

বার মা, সৈন্ধব-লবণ ১২ বার মাষ ও শুঠের চূর্ণ ২ দুই মাষা, এক মিশ্রিত করিয়া, ।• চারি আনা বা • ছয় আনা মাত্রায় কঁজির সহিত সেবন করিলেও বিরেচন হইয়া আমবাতের শান্তি হয়; অথবা কেবল তেউড়ীচুর্ণে তেউড়ীর কাথেরভাবনা দিয়া, তাহাই ঐরূপ মাত্রায় কঁজির সহিত সেবন করাইবে। চিতামূল, কটকী, অনাদী, ইন্দ্ৰযব, আইচ, ও গুলঞ্চ ; অথবা দেবদারু, বচ, মুতা, আইচ ও হরীতকী, ইহাদের চূর্ণ গরম জলের সহিত পূর্বোক্ত মাত্রায় সেবন, করিলে, আমবাতের উপশম হয়। রান্নাপঞ্চক, রামাসপ্তক, রসােনাদি কষায় ও মহারাদি কাথ-আমবাতের শ্রেষ্ট ঔষধ। বিরেচনের আবশ্যক হইলে, ঐসকল| কাথের সহিত

 

 

এরওতৈল মিশ্রিত করিয়া পান করান যায়। হিজাচুর্ণ, অল-যা চূর্ণ, বৈশ্বানরচূর্ণ, অজমােদাদিবটক, যােগরাজ-গুগগুলু, বৃহৎ যােগরাজ-গুগুলু,সিংহনাদ-গুগগুলু, রসোনপিণ্ড, মহারসােনপিও, আমবাতারি বটিকা, বাতগজেন্দ্র-সিংহ প্রভৃতি ঔষধ ; প্রসারিণীহৈল, বৃহৎ সৈন্ধবা তৈল, বিজয়ভৈরব তৈল,এবং বাতব্যাধিকথিত কুপ্রসারিণী ও মহামায প্রভৃতি তৈল, আমবাতরােগেবি বেচনাপূর্বক প্রয়ােগ করিলে পীড়ার শাস্তি হয়।

 

 

পথ্যাপথ্য।উরুস্তম্ভরােগে যেসমস্ত পথ্যাপথ্য বিধি লিপিত হইয়াছে, আমবাত রােগেও সেইসকল প্রতিপালন করা বিধেয়। স্নান না করিয়া নিতান্ত কষ্টবােধ হইলে, কোন কোন দিন গরম জলে স্নান করিবে। তুলা ও ফ্লানেল দ্বারা যেনাস্থান সৰ্ব্বদা বাধিয়া রাখা আবশ্যক। জ্বর থাকিলে, অন্নাহার বন্ধ করিয়া, কক্ষটা অথবা সাগু প্রভৃতি লঘুপথ্য আহার করিতে হইবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.