বিরিয়ানি রেসিপি।

বিরিয়ানি রেসিপি

 

আগুনে ডুবিয়ে শরীর, বিবিয়ানা’র অন্তরেবিবিয়ানা’ পুড়ে যাওয়া জীবনের গল্প। আস্ত জীবন নয়, জীবনেরকোনাে এক খণ্ড যেন। আচমকাই শুর আবার বােকা বানিয়ে ফুরিয়েযায়। জীবনের নাটাই অন্য কারও হাতে। লেখকের সাধ্য নেই এইজীবনকে নিয়ন্ত্রণ করার! লেখক দূর বা কাছ থেকে দেখতে পারেন।আর অনুভব করে গল্পটা বলে যেতে পারেন এতটুকুনই। বিবিয়ানা’সহজ সরল জীবনের জটিলতা নিয়ে

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়।

কথা বলে। এই মায়া মেশানােজটিলতা পাঠকের মন জয় কর। সুখ, দুঃখ, আনন্দ,  বেদনার মতাে‘বিবিয়ানা’ নামের এই উপন্যাসটিও যদি কোনাে একটা ভালাে লাগারঅনুভূতির নাম হয়ে ওঠে তবেই এই লেখক জীবন ,সংগ্রাম, ছােটাছুটিসার্থক মনে হবে। বইয়ের কথা ছড়িয়ে পড়ুক। পৃথিবী বইয়ের হােক।নারী, পাল্লায় ভারী

 

পুকুরের মাঝখান থেকে সােনার মােহর ভর্তি কলস উঠে এসেছে।রাত নামবে নামবে করছে। ঝিঝি পােকা তৈরি হচ্ছে ডাকাডাকির জন্য।গরুগুলাে ফিরেছে একটু আগে। সকাল সকাল খালের পানিতে চুবিয়ে গােসল করানাে হয়েছিল সবগুলােকে। নারকেলের ছােবড়া দিয়ে ডলা হয়েছেশরীর ইচ্ছেমতাে। সন্ধ্যের ভেতর আবার সবগুলাের গায়ে ময়লা!কি একটা ছোঁয়াচে রােগ হয়েছে কয়েকটা গরুর ক্ষুরের আশপাশ টায়। পঁচে পঁচে যাচ্ছে।

 

চামড়ার সীমানা ঘেষে কালচে দাগ। একটু, একটু রক্ত জমাটবেঁধেছে। ওলানে ফোসকা পড়েছে। খেতে পারে না গরুগুলাে। মুখেরভেতরেও ঘা। একজন বলল মুখ ফিটকিরির পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে। কথাশুনে কালা মিয়া তাই করেছে কিন্তু লাভ হয়নি।ইমাম সাহেব ফু দেওয়ার পর কালা মিয়া একটু সহজ হয়। তারমেয়ে রােখসানার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে, “মা, একটু পানি দে।ভয়ডা পানি দিয়া গিলা ফালাই। বুক কাঁপে। কী দেখলাম! মাফ করােমাবুদ!

 

নতুন কিছো  –  দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচুন, আমাদের সকলেরই কিছু না কিছু দুশ্চিন্তা থাকে,তাই এর থেকে বাচার উপায়।

 

রােখসানা বাবার কথা তেমন একটা শােনে না। শােনার মতাে বাবাকালা মিয়া নয়। অন্য সময়ে হলে ঝাড়ি দিয়ে রােখসানা বলতাে, ‘নিজেপানি আইনা খাইয়া লন। পারুম না আমি। কাজ আছে। এখন সেটাবলা হয় না। চারপাশে অনেক মানুষ। এরমাঝে এভাবে কথা বলাটাখারাপ দেখাবে। রােকসানা বােকা নয়। সমাজ ববাঝে।

 

পানি এনে কালা মিয়ার হাতে দেওয়া হয়। ঢকঢক করে খেয়ে নেয়সে। এক গ্লাসে হয় না। আরও এক গ্লাস আসে। রােখসানা বিরক্ত হয়েপানি আনে আবার। আপন মনে গজগজ করতে থাকে বাবাকে নিয়ে।বলে, ‘মরেও না। মরলেই শান্তি।’ বাবাকে দেওয়া রােখসানার এইঅভিশাপ অন্যদের কানে আসলেও তারা না শােনার ভান করে থাকে।

 

ধীরে ধীরে লােকের ভিড় একটু বাড়তে থাকে। কালা মিয়াকে ঘিরেইভিড়টা হয়। সবাই কালা মিয়ার কথা শুনতে চায়।সােনার মােহর ভর্তি কলসের গল্প শােনা দরকার। এমন ঘটনাসচরাচর ঘটে না। এসব গল্পে সবার আগ্রহ।ইমাম সাহেবকে লেবুর শরবত আর মুড়ি দেওয়া হয়। তিনি থাকবেনআরও কিছুক্ষণ। দোআ পড়বেন পুরাে বাড়িটার চারপাশ ঘিরে। ইমামসাহেবের দোআর প্রবল শক্তিতে মুশকিল আসান হবে। এতে মােহর ভর্তিকলসের পাহারায় থাকা সাপগুলাে আর আসবে না। সাপগুলাে নাকি প্রতিশােধপরায়ণ হয়। যে একবার এই কলস নিজ চোখে দেখতে পায়।তাকে দংশন না করা পর্যন্ত শান্তি পায় না। ভয়ংকর!

কালা মিয়া ঘটনা বলতে পারবা ঠিকঠাক

 

পুরাডা না জানলে সমস্যার ঠিকঠাক সমাধান দিতে পারবাে না। পারবা?”‘জ্বি হুজুর। কালা মিয়া বলে আস্তে করে। এখনও ভয় কাটেনিতার।বললা তাইলে। দেখি সমাধান আছে কিনা! যদিও সমাধান আমিদেবাে না। দেবেন মাবুদ। ইমাম সাহেব কথাগুলাে চোখ বন্ধ করেবলেন। এতে শান্তি পাওয়া যায়। করুণাময়ের কথা আসলেই তার চোখবন্ধ হয়ে যায়।‘মাগরিবের নামাজের লাইগা ওযু করতে গ্যাছিলাম ঘাটে। ওযু শুরুকরছি আর দেহি পানির মইদ্যে বুদবুদ। ফেনার মতাে কী জানি উঠতেইআছে পানি দিয়া। আজিব কাণ্ড। তারপর সাপের মাথাটা ভাইসা উঠে।কালা, কুচকুইচ্চা সাপ। বিষের থলি রমরমা বােঝা যায়।

 

একের অধিকসাপ। একটা আরেকটারে জড়ায় ধইরা আছে। একটু দিক পাইলে বুঝিএকটা কলসের মাথা প্যাচায়ে আছে। কলসের ভেতর থাইকা আলােবাইর হইয়া আসতাছে একটু একটু। সােনালি রং চিকচিক কইরা বাইরহইয়া আসে। বুঝি কলসভর্তি সােনার মােহর। কলসটা একটু একটুকইরা আগাইয়া আসে আমার দিকে। সুতার মতাে চিকন সাপ গুলাওকাছাকাছি হয়। তারপর আর খেয়াল নাই। ভয়ে চিৎকার দিয়া উঠি। লগেলগে অজ্ঞান। আর খেয়াল নাই। কিছু খেয়াল নাই। রক্ষা করাে মাবুদ।কথাটা বলে এদিক ওদিক তাকায় কালা মিয়া। তার মনে হয় সাপগুলােআশেপাশেই আছে। তার কথা শুনছে। কী ভয়ানক!

 

মটরছাইকেল

কালা মিয়ার কথা মনোেযােগ দিয়ে শােনে সবাই। এরপর প্রশ্নের ঝড়শুরু হয় কালা মিয়াকে ঘিরে। সবাই মােহরের কথা জানতে চায়। মােহরনিয়েই বেশি আগ্রহ। কালা মিয়া এই বিপদ থেকে বেঁচে যে ফিরতে পারলএই নিয়ে কারও ভাবনা নেই। কালা মিয়ার কেন যেন এসব দেখে মনখারাপ হয়। সে চুপ করে থাকে। আর কোনাে প্রশ্নের উত্তর দেয় না।

 

চোখ বন্ধ করে সে শুয়ে থাকে। এতে সুবিধা। প্রশ্নের উত্তর নাদেওয়ায় কেউ খারাপ ভাববে না। মনে করবে ভয় কাটেনি বলে চোখ বন্ধকরে শুয়ে আছে। সে অসুস্থ! বারাে মাসই তাে অসুস্থ থাকে এই লােক।কালা মিয়াকে শুয়ে থাকতে দেখে ইমাম সাহেব এক প্রকার ধমকদিয়ে লােকজনের ভিড় কমান। ইমাম সাহেবের অবাধ্য হতে নেই। তিনিসম্মানী লােক। অনিচ্ছা নিয়ে লােকজন চলে যায়। ভিড় কমে অনেকটাই।

 

শুননা, আইজকা গেলাম। সকাল, সকাল আসব। আলাদা করেতােমার সাথে বসতে হবে। তার আগে কারও সাথে কোনাে কথা বলারদরকার নাই এই বিষয়ে। বুঝলা? আগে আমার জানতে হবে। শক্ত দোআলাগবে এই বিপদ থেকে বের হওয়ার জন্য। সাবধান। কালা মিয়াকেবলেন ইমাম সাহেব।কালা মিয়া কোনাে জবাব দেয় না ইমাম সাহেবের কথার। বন্ধ চোখখােলে একটু। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে কিছু ক্ষণ। তারপর আবারচোখ বন্ধ করে। ঘুম পাচ্ছে খুব। চোখ ভারী হয়ে আসছে। মনে হচ্ছেচোখের পাতার সাথে বিশ কেজি ওজনের দটোবাট খারা বেঁধে দিয়েছেকেউ।

 

‘আমি গেলাম। তােমার সাথে কথা বইলা তারপর চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়িতে যাবাে। তার আগে কারও সাথে টু শব্দও করবা না।যাই। আল্লাহ হাফেজ। এই বলে ইমাম সাহেব ওঠেন। তার সাথে থাকালােকটা হাতে টর্চ নিয়ে পথ দেখতে দেখতে বের হয়। মুখ দিয়ে হুশ,হুশ’ শব্দ করতে থাকে। বলা যায় না। পথে সাপ ঘাপটি মেরে থাকতেপারে। এই রাতে এমন ঘটনার পর মনের ভেতর সাপের ভয় ঢােকাটাঅস্বাভাবিক কিছুনা।

 

সবাই চলে যেতেই উঠোন খালি। শুধু ঝিঝি পােকার ডাক শােনাযায়। গুরুগুলােও চুপচাপ। একটাও হাম্বা বলে ডাক দেয় না।কেন যেন খুব ক্ষিধে পায় কালা মিয়ার। ভয়ের কারণে হয়তাে!ভাতের ক্ষিধে। ভাত আর লাল আলুর ঝাল ঝাল ভর্তা। বােম্বাই মরিচদিয়ে কচলানাে। আহা ঘ্রাণ! সাথে সামান্য পাতলা ডাল আর একটাপিয়াজ। খুব সমস্যা হলে পিয়াজ না দিলেও চলবে।

 

‘বউ, ও রােখসানার মা, ভাত দিবা? পেট পােড়ে ক্ষিধায়। আস্তেকরে বলে কালা মিয়া। বউকে সে ভয় পায়। খুব ভয়।জবাব আসে না। জবাব পাবে না জেনেও জবাবের অপেক্ষায় কিছুক্ষণচুপ করে বসে থাকে কালা মিয়া। তারপর দুর্বল শরীরটা টেনে ধীরে ধীরেযায় ঘরের ভেতর। দেখতে পায় পরিবারের সবাই খেতে বসেছে। তার স্ত্রী,মেয়ে রােখসানা আর ছেলে সৈকত। চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে সবাই। কালামিয়াকে নিয়ে

 

ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। থাকেও না কখনাে।খাবারের তালিকায় আলু ভর্তা নেই। চাল কুমড়াে আর ডিম ভাজি।নিজেই পাকের ঘরের রান্নাঘর) পাশ থেকে গিয়ে পেতলের প্লেটটা এনেখেতে বসে কালা মিয়া। ডিম তাকে দেওয়া হয় না। ডিম রােখসানা আরসৈকতের জন্য। ছেলেমেয়েরা বড় হচ্ছে। তাদের গতরের জন্য পুষ্টি দরকার।

 

অনেকখানি লবন দিয়ে মাখিয়ে তাই খায় কালা মিয়া

 

সাে সাে শব্দে শিসদেওয়ার মতাে করে এক এক লােকমা ভাত মুখে তােলে সে। ভাত শেষহতে দেরি হয় না। আরেকবার ভাত নিতে চাইলে ধমক দিয়ে ওঠে তারস্ত্রী ফজিলাত। বলে, “অত গিলার দরকার নাই। বমি হইবাে। প্যাডে তােরাখবার পারেন না কিছু। ডাকতরের খরচ জোগাইবাে কেডা?’ এরপরভাত, প্লেট, গ্লাস সব নিয়ে চলে যায় বাড়ির পেছন দিকে থাকা

 

ডিপটিউবয়েলের কাছে। বােয়া মােছার যন্ত্রণা আছে।ছেলেমেয়েরা যে যার ঘরে গিয়ে পড়াশােনায় মন দেয়। কী পড়ে কেজানে!সৈকত সুরে সুরে এক লাইনই বলে যায় বারবার। প্রতিটি ক্রিয়ারইসমান ও বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া আছে। আছে। আছে। আছে এএএ।মনে হয় এটা কোনাে গানের কোরাস!

 

 

রােখসানার কণ্ঠ শােনা যায় না। তার হাতে বই। ব্যাস অতটুকুনই।পড়াশােনায় ভালাে নয় মেয়েটা। ফেল করছে প্রতিবছর। গায়ে গতরে বড়হয়ে উঠেছে অল্প সময়েই। শরীরে ঢেউ আছে। এই ঢেউ দেখে ছেলেরাপাগল হয়। রােখসানা সেটা জানে। শরীর নিয়ে তার রাজ্যির চিন্তা।কসমেটিকস্, গন্ধসাবান, লিপস্টিক এইসব নিয়ে পড়ে থাকতেই

 

ভালােলাগে। সে জানে পড়াশােনা দিয়ে হবে না তেমন কিছু। অই শেষ পর্যন্তবিয়ে হবে বছর দুইয়ের ভেতর। তারপর উর্বর শরীরে সন্তান আসবে। সেমন্দ নয়। রােখসানা এতেই খুশি। তার কাছে জীবন মানে এই। আদর,সােহাগ, বিছানা, সন্তান। সহজ হিসাব। ভাবনা কম।কাইল সকালে যে লােকজন জাল ফেলবাে সেই খেয়াল আছে? ধােয়া

 

মােছর কাজ শেষ করে ঘরে আসে ফজিলাত। দোতলা টিনের ঘর তাদের।উপর তলায় দুটো রুম। এক পাশে সৈকত থাকে অন্য পাশে রােখসানা। নিচতলায় ঘুমায় কালা মিয়া আর ফজিলাত। মেঝে মাটি দিয়ে লেপা। ঘরেরপেছনে ছােট্ট একটু রান্নাঘর, টিউবয়েল আর পায়খানা, প্রসাবের জায়গা।

 

কী জন্য আসব?’ বলে কালা মিয়া। মাটির মেঝেতে তার চোখ।ভয়ের কারণে বেশিরভাগ সময়েই বউয়ের দিকে তাকিয়ে আজকাল সেকথা বলতে পারে না।‘মােহরের জন্য আসব। সােনাদানার জন্য আসব। বােধ বুদ্ধি তােকিছু দেয় নাই খােদা! জীবন শ্যাষ হইয়া গ্যালাে ভােতা পুরুষ লইয়া।জালডা লইয়া যান। দ্যাহেন কিছু পান কিনা! পােলামাইয়ার ভবিষ্যৎ তােআছে! কিছু একটা পাইলে চিন্তা কমবাে। আর

 

কেউ তাে দেখবাে নাআমাগােরে।’ এই বলে গজগজ করতে থাকে ফজিলাত। চিৎকার করেকথা বলতে বলতে তার কণ্ঠ শিরিষ কাগজ কাঠের ওপর ঘষলে যেমনআওয়াজ পাওয়া যায় তেমন হয়ে গেছে!কালা মিয়ার মনে হয় রােখসানার মায়ের নাকের নিচে সামান্যগােফের রেখাও আসি আসি করছে। বােঝা যায় তাে যায় না এমন!একটা বয়সের পর কিছু নারীর

 

ভেতর নাকি মর্দানি ভাব জেগে ওঠে!রােখসানার মায়ের এমন হয়েছে মনে হয়। অন্তত বিছানায় গেলে তাইমনে হয় কালা মিয়ার। প্রায় রাতেই শাড়ির আঁচল সরিয়ে ছােটখাটোবাটির মতাে নাভিতে যখন কালা মিয়ার মুখ চেপে ধরে ফজিলাত তখনদম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। শক্তিতে পারা যায় না। রাক্ষুসে শক্তি।অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠে কালা মিয়া। তারপর গালি শুনতে হয়। কালামিয়াকে বিয়ে করে ফজিলাতের নাকি জীবন যৌবন সব শেষ। এই বয়সেআর কিসের যৌবন ভেবে পায় না কালা মিয়া!

 

এই ন্যান জাল

 

পুকুর পাড়ে যান। কলার ভেলা ফালানাে আছে।ঘুইরা ঘুইরা সারারাইত জাল মারবেন। সকালে ঘুমাইলেই হইবাে।নিজেই ঘরের এক কোণ থেকে জাল এনে কালা মিয়াকে দেয় তার স্ত্রী।শরীরে নাই বল। এই শরীরে সারা রাইত জাল মারলে মইরা যামু।তাছাড়া সাপের ভয়ওআছে। কও কী!’ বলে কালা মিয়া। অবাক হয়।এই অবস্থায় জাল মারার কথা ভাবে কী

 

করে! এরা মানুষ?‘মরলে মরবেন। পরিবারের জন্য তাও তাে কিছু কইরা যাইতেচাইছিলেন এইডা বলতে পারবাে। অখন যান। রাইত হইছে। দুয়ারে খিলদেবাে।’ বলে রােখসানার মা। তাকে দেখে বােঝা যায় সে মশকরা করছে। উপায় নেই বুঝতে পারে কালা মিয়া। যেতেই হবে। নারী বড়নিষ্ঠুর। লােভী।

 

একলা যাবাে? সৈকত যাক? কী বলাে? জাল মারা শিখলাে। বাপেরলগে খােশ গল্প করবাে।’ একা যাবার সাহস হয় না কালা মিয়ার।ছেলেটাকে সাথে নিয়ে চায় সে। বউকে ভুজং ভাজং বুঝিয়ে নেওয়াগেলেই বেঁচে যাওয়া।

 

‘পােলাটারে মারতে চান? জাল মারা শিখা কী হইবাে? হুম! পােলাআমার ডাকতর হইবাে। আপনের লাহান বানামু না। একলা যান। কথাবাড়ায়েন না। রাইত হইছে।’ এই বলে জাল হাতে ধরিয়ে কালা মিয়াকেঘর থেকে বের করে দেয় রােখসানার মা।

 

হাতে টর্চও নেই। চাঁদের আলােয় কোনােরকমে পথ ঠাওর করেপুকুর ঘাটের দিকে এগিয়ে যায় কালা মিয়া। খুব ক্লান্ত লাগে। মনে হয়।আবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাবে মাটিতে। এইবার পড়লে আর ওঠা হবেভয় নিয়ে ঘাটের পাশে বসে থাকে কালা মিয়া। বাঁধানাে ঘাট।আরাম করে বসা যায়। চাঁদের আলাে পড়েছে পুকুরের পানির উপর।সামান্য ঢেউ। শীত শীত লাগে এখন। বুক ঢিপ ঢিপ করে।

 

আবার নাউঠে আসে কলসিটা সাপসহ। একটু ঘুমও পায়। ক্লান্তিতে। কলারভেলায় ওঠার সাহস হয় না। পাড়ে দাঁড়িয়েই জাল ফেলতে হবে। চুপচাপবসে থাকা যাবে না। বসে থাকলে বউটা আস্ত রাখবে না। এত রাগ কেনবউয়ের? জালালের জন্য? জালাল তার ছােট ভাই। একমাত্র ভাই।মেধাবী ভাই। পেশায় মস্ত ইঞ্জিনিয়ার। ঢাকায় বসবাস।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.