ব্রনের কালো দাগ দূর করার উপায়।

ব্রনের কালো দাগ দূর করার উপায়

 

বিধি বা ফোড়-নিদান ও প্রকারভেদ।—বিধির সাধারণ নাম-“ফোড়া”। সরল ফলের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট, এবং দাহ, বেদনা ও পরিণামে পাকযুক্ত পিেথবিশেষকে বিদ্রধি কহে। বিধি দুই প্রকার :-বাহ, বিধি ও অন্তর্বিদ্রধি। কুপিত বাতাদি দোষ অস্থিতে অবস্থিত থাকি, ত্বক, রস, মাংস ও মেদেধাতুকে দূষিত করিলে, বিধি রােগ জন্মে। বাহবিধি শরীরের যে কোন স্থানে উৎপন্ন হইতে পারে। কিন্তু অন্তর্বিদ্রপি গুহাদেশ, বস্তি- মুখ, নাভি, কুক্ষি, কুঁচকিস্থান, পা, প্লীহা, যকৃৎ, হৃদয় ও ক্লোম (পিপাসাস্থান) এই কয়েকটা স্থানে উৎপন্ন হয়। গুহনাড়ীতে বিদ্ৰধি হইলে

বাত ব্যথার লক্ষণ।

, অধােবায়ুর নিরােধ ; বস্তিদেশে হইলে মূত্রকৃচ্চ ও মূত্রের অল্পতা; নাভিতে হইলে হিকা ; উদরে হইলে বেদনার সহিত গুড় গুড়, শব্দ ; কুক্ষিতে হইলে পার্শ্বসঙ্কোচ ; প্লীহায় হইলে শ্বাসরােধ এবং হৃদয়ে হইলে বারংবার জলপান করিতে ইচ্ছা হইয়া থাকে। এইসমস্ত বিশেষ লক্ষণ ব্যতীত যন্ত্রণা প্রতি অন্যান্য লক্ষণ সর্বপ্রকার বিধিরই একরূপ।

 

সাধ্যাসাধ্য নির্ণয় ।নাভির উদ্ধভাগে অর্থাৎ প্লীহা, যকৃৎ, পার্থ,
কুক্ষি, হৃদয় ও ক্লোমস্থানে যেসকল অন্তবিধি জন্মে, তাহারা পাকিয়া ফাটিয়া গেলে, পূয়াদি মুখ দিয়া নিঃসৃত হয় ; আর নাভির নিম্নভাগে অর্থাৎ বস্তি ও কুঁচকি প্রভৃতি স্থানে জন্মিলে, গুহ্নদ্বার দিয়া পূদিস্রাব হইলে, রােগীর জীবনের আশা থাকে না; কিন্তু গুহ্যদ্বার দিয়া প্রস্রাব হইলে, জীবনের আশা করা যাইতে পারে। যে বিধিরােগে উদরা খান, মূত্ররােধ, বমি, হিক্কা, পিপাসা, অত্যন্ত বেদনা ও শ্বাস, এই সমস্ত উপদ্রব উপস্থিত হয়, তাহা অবশ্যই রােগীর প্রাণনাশক।

 

ব্রণ বা ঘা।- ব্রণের সাধারণ নাম—“ঘ” অথবা “ক্ষত”। যেস্থানে ব্ৰণ উৎপন্ন হইবে, প্রথমতঃ সেইস্থানে একটা শােথ উৎপন্ন হয়। পরে তাহা
পাকিয়া, আপনা হইতে ফাটিয়াই হউক বা অস্ত্রপ্রয়োগ দ্বারাই হউক, যে ক্ষত উৎপন্ন হয়, তাহাকেই ব্রণরােগ কহে। ব্রণশােথ পাকিবার পূর্বে শােথস্থানে অল্প তাপ, কঠিনতা, অল্প বেদনা এবং গাত্রের সমান বর্ণ থাকে। পাকিবার সময়ে তাহা যেন অগ্নি বা ক্ষারপদার্থদ্বারা দগ্ধ হইতেছে, শস্ত্ৰদ্বারা যেন কৰ্ত্তিত হইতেছে, পিপীলিকা কর্তৃক যেন দষ্ট হইতেছে, দণ্ডাদিদ্বারা যেন আহত হইতেছে, সূচী প্রভৃতিদ্বারা যেন বিদ্ধ হইতেছে, অঙ্গুলিধারা যেন কেহ ঘাটিয়া দিতেছে, অথবা কেহ যেন টিপিয়া দিতেছে, এইরূপ যাতনা অনুভূত হইয়া থাকে। আরও, তাহাতে অত্যন্ত দহ ও উত্তাপ হয় এবং বায়ুপূর্ণ চৰ্ম্মপুটকের ন্যায় আখান হইয়া উঠে।

 

আন্য কিছোআপনার কি বাতব্যাধি আছে, তাহলে খুব সহজেই সমাধান করোন। কবিরাজি শিক্ষায়

 

রােগীও বৃশ্চিকষ্ট ব্যক্তির ন্যায় ছটফট করিতে থাকে এবং জ্বর, তৃষ্ণা ও অরুচি প্রভৃতি পীড়ায় পীড়িত হয়। পাকিয়া গেলে, বেদনা ও শােথ কমিয়া যায়, রক্তবর্ণ হইয়া উঠে, উপরের মাংস কুঁচকিয়া যায় ও ফাটা ফাটা হয়, টিপিলে শােথস্থান বসিয়া যায়, ভিতরে পূয় জন্মে, সূচীবেধের ন্যায় বেদনাযুক্ত হয় এবং সৰ্ব্বদা চুলকাইতে থাকে। ব্রণ পাকিয়া ফাটিয়া যাওয়ার পরে, অথবা শস্ত্রপ্রয়ােগদ্বারা পূয়াদি নিঃসৃত হইয়া গেলে, অল্প অল্প বযুক্ত এবং সূচীবেধের ন্যায় বেদনা ও দপদপানিবিশিষ্ট ক্ষত রূপে পরিণত হয়। এই সকল অবস্থায় তৃষ্ণা, মােহ, জর প্রভৃতি উপদ্রবও উপস্থিত হইতে দেখা যায়।

 

আরোগ্য-উন্মুখ-ব্রণ লক্ষণ।—যে ব্ৰণ ক্রমশঃ জিতলের ন্যায় কোমল, মসৃণ, চিকণ, আবলু, সমতল ও অল্পবেদনাযুক্ত হয় তাহা আরােগ্যের

 

উপযােগ ; এবং যে ব্রণ দেশূন্য, বিদীর্ণতাশূন্য ও মাংসারযুক্ত, তাহা আরােগ্য- উন্মুখ বলিয়া বুঝিতে হইবে।

 

দুষ্টব্রণ।—ব্রণ দুর্গন্ধ-বিশিষ্ট হইলে, পূয়-রক্তাদির অত্যন্ত স্রাব হইলে, কোটরে বসিয়া গেলে, বা দীর্ঘকালেও আরােগ্য না হইলে, তাহাকে দুষ্টব্ৰণ কহে।

 

অসাধ্য ও প্রাণনাশক ব্রণ। যে ব্রণ হইতে বসা, চর্বি বা মা প্রভৃতি দ্রব্য নির্গত হয়, যে ব্রণ মৰ্ম্মস্থানে জন্মে, যাহা অত্যন্ত বেদনাযুক্ত, যে ব্রণের অভ্যন্তরে দাহ ও বাহিরে শীতলতা, কিংবা বাহিরে দাহ ও অভ্যন্তরে শীতলতা এবং যে ব্ৰণে বল ও মাংসের ক্ষয়, খাস, কাস ও অরুচি প্রভৃতি উপদ্রব উৎপাদন করে, সেই সকল ব্ৰণ অসাধ্য। আর যে ব্রণ হইতে মদ্য, অগুরু, ধৃত, চন্দন বা চম্পকাদি পুষ্পের ন্যায় সুগন্ধ বহির্গত হয়, তাহা প্রাণনাশক। অস্ত্রশস্ত্রাদিদ্বারা কোন স্থান ক্ষত হইয়া, অথবা কোন স্থান আগুনে পুড়িয়া যে ব্রণ উৎপন্ন হয়, তাহাকে সঙ্গে ব্রণ কহে। সদ্যোব্রণ হইতে বসা, চর্বি, মজ্জা, বা ঘিলু পদার্থ নির্গত হইলেও তাহা অসাধ্য হয় না; কিন্তু মর্মস্থান আহত হইয়া ব্রণ জন্মিলে, তাহা অসাধ্য হইয়া থাকে। ইহার অন্যান্য লক্ষণ সাধারণ ব্রণের ন্যায় বুঝিতে হইবে।

 

করোনার লক্ষণ গুলো কি কি।

নাড়ী-ব্রণ বা নালী-ঘা।—ব্রণশোথ পাকার পরে, উপযুক্ত সময়ে তাহার পূয়াদি নির্গত না হইতে পাইলে, সেই পূয় ক্রমশঃ ত্বক, মাংস, শিরা, স্নায়ু,
সন্ধি, অস্থি, কোষ্ঠ, মৰ্ম্ম প্রভৃতি স্থানসমূহ বিদীর্ণ করিয়া অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ; সুতরাং সেই ব্ৰণস্থান হইতে ভিতর দিকে একটী নালী উৎপন্ন হয় ; ইহাকে নাড়ীব্রণনালী-বা) কহে ।

 

বিধি ও ব্রণশােথের চিকিৎসা।–বিধি ও ব্রণশােথের অপ- কাবস্থায় রক্তমােক্ষ, মৃদুবিরেচন, ঔষধ প্রয়ােগ এবং স্বেদক্রিয়াদিদ্বারা তাহা
বসাইবার চেষ্টা করা উচিত। যব, গম ও মুগ সিদ্ধ করিয়া তাহার প্রলেপ দিলে অথবা শজিনামুলের প্রলেপ ও তাহারই স্বেদ দিলে, বিধি বসিয়া যায়। অপক অন্তর্বিদ্রধিতে শজিনামুলের ছালের রস মধুর সহিত পান করাইবে; অথবা শ্বেত- পুনর্নবা-মূলের বা বরুণের মূলের কাথ পান করিতে দিবে। আকনাদির মূল– মধু ও আতপচাউলধৌত জলের সহিত সেবন করাইলে, অপক অস্তবিধির উপশমহ য়। বরুণাদি ঘৃত সেবনেও অন্তর্বিদ্রধির উপশম হইয়া থাকে। ব্রণশােথেরঅ পকাবস্থায় ধুতুরার মূল ও সৈন্ধব-লবণ একত্র বাটিয়া গরম করিয়া প্রলেপদিবে; অথবা বট, যজ্ঞডুমুর, অশ্বখ, পাকুড় ও বেত, ইহাদের ছাল সমভাগেপে ষণ করিয়া, তাহার সহিত কিঞ্চিৎ ঘৃত মিশাইয়া প্রলেপ দিবে। ইহাদ্বারা ব্রণসােথ বসিয়া যায়।

 

ব্রণশােথ পাকাইবার উপায় ।এই সকল ক্রিয়াদ্বারা বসিয়া না গেলে, বিধি বা ব্রণশোেথ পাকাইয়া তাহা হইতে পূয়াদি নির্গত করা আবশ্যক।পাকাইবার জন্য শণবাজ, মূলার বীজ, শজিনাবীজ, তিল, সর্ষপ, ম’সনা, যব, গম, ও সুরাবীজ প্রভৃতির পুলটিশ দিবে।ব্রণ ফাটাইবার ও আরােগ্যের উপায়।–ব্রণ পাকিলে, শস্ত্র-প্রয়ােগ করাই সৎপরামর্শ। তাহাতে সুবিধা না হইলে, কঞ্জ, ভেলা, দন্তীমূল,চিতামুল ও করবীরমূল এবং পায়রা, কাক বা শকুনির বিষ্ঠা বাটিয়া অথবা. গেরুর দাত মলে

 

ঘষিয়া, উপযুক্ত স্থানে লাগাইয়া দিবে। তাহা হইলে সেই স্থান ফাটিয়া পূয়াদি নির্গত হইয়া যাইবে। শেলু ও শিমুল প্রভৃতি পিচ্ছল দ্রব্যের ছাল ও মূল এবং যব, গম ও মাষকলাই প্রভৃতি দ্রব্যের প্রলেপ দিলে, পূয়াদিআ কৃষ্ট হইয়া, বিস্তৃত মুখ দিয়া নির্গত হইয়া যায়। ক্ষতস্থান ধৌত করিবারজ ন্য পটোলপত্র, নিমপত্র বা বটাদি ছালের কাথ ব্যবহার করিবে। ধৌতের পরক্ষতস্থানে করঋদ্য ঘৃত, জীবক-গৃহ, জাত্যাঘ-বৃত ও তৈল, বিপরীত-

 

মল্লতৈলও ব্রণ-রাক্ষস-তৈল প্রভৃতি ক্ষতনিবারক ঔষধ প্রয়ােগ কবলে ক্ষতস্থান শুদ্ধ হইয়া যায়। ব্রণ দূষিত হইলে, অর্থাৎ দুষ্টব্রণের লক্ষণযুক্ত হইলে, নিমপাতা, তিল, দন্তীমুল ও তেউড়ীমুল, এইসকল দ্রব্য সমভাগে বাটিয়া তাহার সহিত কিঞ্চিৎ সৈন্ধব-লবণ ও মধু মিশ্রিত করিয়া প্রলেপ দিবে। কেবল অনন্তমূলের প্রলেপ কিংবা অশ্বগন্ধা, কটকী, লােধ, কল, যষ্টিমধু, লজ্জালু লতা ও ধাইফুল, ইহাদের প্রলেপ দিলে, অথবা ছাতিমের আঠা লাগাইলেও দুষ্ট- ব্রণ আরোগ্য হয়।

 

সদ্যোব্রণ-চিকিৎস।—সদ্যোব্রণের প্রথম অবস্থাতেই উপযুক্ত চিকিৎসা হইলে, তাহা আর ক্ষতরূপে পরিণত হইতে পারে না। অন্ত্রাদিদ্বারা কোন স্থান ক্ষত হইবামাত্র তাহাতে জলপটী বাঁধিয়া দিবে; তাহারা রক্তস্রাবনি বারিত হয়। আপাংপাতার রস, আপানার রস, কুশিমার রস, দন্তীপাতার রস বা দূর্বাঘাসের রস প্ৰয়ােগ করিলেও রক্তস্রাব বন্ধ হইয়া যায়। শতধৌত- গৃতের সহিত কপূর মিশাইয়া, তাহাদ্বারা ক্ষতস্থান পূর্ণ করিয়া বাধিয়া রাখিলে,ক্ষতস্থান পাকিতে পারে না ; অথচ তাহার ব্যথা নিবারিত হইয়া ক্ৰমশঃ সেইস্থান পূর্ণ হইয়া যায়। এইসকল ক্ৰিয়াদ্বারা ব্রণ আরােগ্য না হইয়া, ক্ষতরূপে,পরিণত হইলে, পূর্বোক্ত প্রলেপ ও তৈদি প্রয়ােগ করিতে হইবে। আগুনেপুড়িয়া ঘা হইলেও ঐ সমস্ত তৈলাদি প্রয়ােগ করা

 

আবশ্যক। আগুনে পুড়িবা-মাত্র দগ্ধস্থানে তিলতৈলের সহিত যবভস্ম মিশ্রিত করিয়া, অথবা দুগ্ধ ও মাহিয়-নবনীতের সহিত তিল বাটিয়া, কিংবা কেবল গােল-আলু বাটিয়া প্রলেপদিলে, জালার শান্তি হয়। দগ্ধস্থানে মধু মাখাইয়া তাহার উপর ঘৰচুর্ণ-লেপন করিলে, বা কেবল গুড় বা কেবল যবচুর্ণ লেপন করিলেও জ্বালার শাস্তি হইয়া থাকে।

 

নাড়ীব্রণ-চিকিৎসা।—নাড়ীৱণ অর্থাৎ নালীঘায়ে হাপরমারি আঠা
লাগাইবে। শ্বেত ভেরেণ্ডার আঠা ও খদির একত্র মন্দিত করিয়া তাহার
প্রলেপ দিবে। শেয়াকুল, মদনফ, সুপারীর ছাল ও সৈন্ধব-লবণ সমভাগে
লইয়া, সীজ ও আকন্দের আঠার সহিত মর্দনপূর্বক বাতি প্ৰস্তুত করিতে
হইবে। সেই বাতি নালীমধ্যে প্রবিষ্ট করিয়া রাখিবে; অথবা মেষলােম
পােড়াইয়া, সেই ছাই ও তিলাউয়ের বীজের সহিত তৈল পাক করিয়া, তার তুলা ভিজাইয়া সেই ভূল। নাণীমধ্যে প্রবেশ করাইবে। সজ্জি কাদ্য তৈল,নিও তৈল ও হংসপদী তৈল প্রভৃতি তৈল নাড়ীব্ৰণে প্ৰয়ােগ করা আবশ্যক।ইহার সহিত সেবনের জন্য সপ্তাঙ্গগুগগুলু প্রভৃতি ক্ষতনিবারক ঔষধ প্রয়ােগকরা যাইতে পারে।

 

পথ্যাপথ্য।—দিবসে পুরাতন চাউলের অন্ন, মুগ ও মসুরের দাল,পটোল, বেগুন, ডুমুর, কাচকলা, মােচা, শজিনার ডাটা ও মাণকচু প্রভৃতিরঘৃতপক তরকারী এবং বলাদি ক্ষীণ হইলে, ছাগ প্রভৃতি লঘুমাংসের রস আহার করিতে দিবে। রাত্রিকালে রুটী ও পূর্বোক্ত সমস্ত তরকারী আহার ব্যবয়ে।গরম জল শীতল করিয়া পান ও মধ্যে মধ্যে আবশ্যকমত সেই জলে স্নান করিতে দিবে।

 

নিষিদ্ধ কৰ্ম্ম।সকল প্রকার গেজনক ও গুরুপাক দ্রব্য, দুস্থ, দধি, মৎস্য, পিষ্টক ও সর্ববিধ মিষ্টদ্রব্য ভােজন এবং দিবানিদ্রা, রাত্রিজাগরণ, কান,মৈথুন, পথপৰ্যটন ও ব্যায়াম প্রভৃতি কাৰ্য, এইসকল রােগে অনিষ্টকারক।

ভগন্দররােগ

 

সংজ্ঞা।-গুহাদেশের দুই অঙ্গুলি পরিমিত পার্শ্ববর্তী স্থানে নাড়ীব্রণের
ন্যায় যে ক্ষত উৎপন্ন হয়, তাহাকে ভগন্দর কহে। কুপিত বাতাদি দোষ প্রথমতঃঐ স্থানে একটা ব্রণশােথ উৎপাদন করে। পরে তাহা পাকিয়া বিদীর্ণ হইলে, অরুণ বর্ণের ফেন ও পূয়াদি স্রাব হইতে থাকে ; ক্ষত অধিক হইলে, সেই পথ দিয়া মল, মূত্র ও শুক্র প্রভৃতিও নির্গত হয়। গুহাদেশে কোনরূপ ক্ষত হইয়া ক্রমে তাহা পাকিয়া উঠিলে, তাহাও ভগন্দররূপে পরিণত হইতে পারে।

 

সাধ্যসাধ্য-নির্ণয়।-সৰ্ব্ব প্রকার ভগন্দরই অতিশয় যন্ত্রণাদায়ক এবংকষ্টসাধ্য। যে সকল ভগন্দর পথে অপােবায়ু, মল, মূত্র ও ক্রিমি নির্গত হয়, তাহাতে রােগীর প্রাণনাশ হইবার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা। যে ভগন্দর প্রথমে গােস্তনেরকায় উৎপন্ন হইয়া, বিদীর্ণ হইলে নদীজলের আবর্তের ন্যায় আকারবিশিষ্ট হয়,তাহা অসাধ্য।

 

চিকিৎসা।–পাকিবার পূর্বেই ইহার চিকিৎসা করা আবশ্যক, নতুবাএই রােগ নিতান্ত কষ্টসাধ্য হইয়া পড়ে। অপকাবস্থায় রক্তমােণই ইহারপ্রধান চিকিৎসা। ব্রণশােথ বসাইবার জন্য বটপত্র, জলমধ্যস্থিত ইষ্টকের চূর্ণ,শুঠ, গুলঞ্চ ও পুনর্নবা এইসমস্ত দ্রব্য বটিয়া প্রলেপ দিবে। বিধি বসাইবার।জন্য যেসকল উপায় লিখিত হইয়াছে, তাহাও ইহাতে প্রয়ােগ করা যাইতে পারে। নিতান্তই না বসিয়া পাকিয়া উঠিলে, শস্ত্রপ্রয়ােগ করা আবশ্যক। অথবা পূর্বোক্ত উপায়ে ফাটাইয়া পূয়াদি নির্গত করাইবে।

 

ক্ষতনিবারণ জ মনসা- সীজের আঠা, আকন্দের আঠা ও দারুহরিদ্রা-চুর্ণ, এইসমস্ত দ্রব্যের বন্তি।. প্রস্তুত করিয়া, ভগন্দরমধ্যে তাহা নিহিত করিয়া রাখিবে। ত্রিফলার কাথৰাৱা।তগন্দর ধৌত করিয়া, ত্রিফলার কাথের সহিত বিড়ালের বা কুকুরের অস্থি ঘর্ষণ-পূৰ্ব্বক, তাহার প্রলেপ দিবে। নাড়ীব্ৰণনাশক সৰ্ববিধ তৈলই ভগন্দরবােগেপ্রয়ােগ করা যায়। এই রােগে সপ্তবিংশতিক-গুগুলু, নবকার্ষিক-গুগগুলু ও ব্ণগজাঙ্কুশ রস প্রভৃতি এবং সালসায় ন্যায় রক্ত পরিষ্কারক ঔষধ সমূহ সেবন করান নিতান্ত আবশ্যক।

 

পথ্যাপথ্য।-বিধি ও ব্রণরেগে যেসকল পথ্যাপথ্য বিহিত হইয়াছে,ভগন্দর রােগেও সেইসমস্ত প্রতিপালন করিতে হয়। অগ্নিবল ক্ষীণ না হইলে, ছাগলের মাংস ভােজন ভগন্দররােগে বিশেষ উপকারক।উপদংশ ও ব্ৰধু।

 

নিদান ও লক্ষণ।-দূষিতযােনি রমণীর সহিত সহবাস, ব্রহ্মচারিণী-সহ-
বাস, অতিরিক্ত মৈথুন, মৈথুনের পর লিঙ্গ ধৌত না করা, অথবা ক্ষারমিথিত উষ্ণ জলে ধৌত করা এবং কোন কারণ বশতঃ লিঙ্গ ক্ষত হওয়া, এই সমস্ত কারণ হইতে উপদংশরােগ জন্মে। এইরূপ দূষিত-পুরুষ সহবাস প্রভৃতি কারণে স্ত্রীদিগেরও এই রােগ উৎপন্ন হয়। এই পীড়ায় প্রথমে লিঙ্গমুণ্ডে বা আবরক চর্মে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পিড়কা বন্মে ও পিড়কার চতুর্দিক কঠিন হইয়া উঠে। ক্রমে ঐ সকল পিড়কা পাকিয়া, তাহা হইতে পূ ও জলবৎ পদার্থ নির্গত হইতে থাকে। ক্ষতস্থান অত্যন্ত বিবর্ণ হয়; আর ইহার সহিত সামান্য জ্বর, বমনােদ্রেক, অগ্নি- মান্দ্য, জিহ্বা বিকৃতাস্বাদ ও মলযুক্ত, অস্থিতে বেদনা, শিরঃপীড়া এবং কাহারও কুঁচকি-স্থানে বেদনা অথবা ব্ৰ (বাগী ) উপস্থিত হয়। ক্ষতস্থানের মূলভাগ কঠিন এবং মধ্যস্থান

 

কিছু নিম্ন ও তাহার চতুর্দিক কিছু উন্নত হইয়া থাকে।এই পীড়া অধিক দিন অচিকিৎস্যভাবে থাকিতে পাইলে, ক্রমশঃ সৰ্ব্বালে পিড়কার| উৎপত্তি, স্থানে স্থানে ক্ষত বা স্ফোটক, নেত্রবােগ, কেশ ও ললামের ক্ষয়, সন্ধি- স্থানসমূহে বেদনা, পীনস এবং কখন কখন প্রকৃত কুষ্ঠরােগও জন্মিতে পারে। আরও, ঐরূপ অচিকিৎসা বশতঃ ক্রমশঃ ক্ষতস্থানে ক্রিমি উৎপন্ন হইয়া একেবারে লিঙ্গক্ষয় করিতে পারে। এইরূপ হইলে রােগীর প্রাণনাশ হয়।

 

চিকিৎসা।-উপদংশক্ষত নিবারণ জন্য করঞ্জাদ্যদ্বত, ভূনিখাদ্যত,বিচৰ্চিকারি তৈল প্রভৃতি ক্ষতনিবারক ঔষধ প্রয়োেগ করিবে। অথবা আমলকী,হরীতকী ও বহেড়া, একটী ঘড়ির মধ্যে রাখিয়া ও উপরে শুরা কাদিয়া অখি-দলে দগ্ধ করিতে হইবে এবং সেই ভস্ম মধুর সহিত মিশ্রিত করিয়া ক্ষতস্থানেলাগাইবে। কিংবা মধুর সহিত রসান ও হরীতকী মিশ্রিত করিয়া ক্ষতস্থানেলাগাইবে। বালাপাতার চূর্ণ, দড়িমের ছালচুর্ণ অথবা মনুষ্যের অস্থিচুর্ণ ব্যবহারে উপদংশের ক্ষত নিবারিত হয়। এইসমস্ত

 

প্রলেপ বা তৈলাদি প্রয়ােগের পূৰ্ব্বে ত্রিফলার কাথ কিংবা ভীমরাজ অথবা করবীর, জয়ন্তী, আকন্দ ও সােন্দাল- পত্রের কাথ দ্বারা ক্ষতস্থান উত্তমরূপে ধৌত করা আবশ্যক। সেবনের জন্য বরানি-গুগগুলু ও রসশেখর প্রভৃতি ঔষধ প্রয়োেগ করিবে। জর থাকিলে, জ্বর- নিবারক ঔষধ তাহার সহিত সেবন করা উচিত। পীড়া পুরাতন হইলে, রক্ত-পরিষ্কারক কোনরূপ ভাল সালসা সেবন করা আবশ্যক।

 

পারদ-সেবনের পরিণাম ।উপদংশরােগ হইতে আত মুক্তিপাইবার জন্য অনেকে পারদ সেবন করিয়া থাকেন। পারদ যথারীতি শশাধিতবা যথাযথরূপে প্রযুক্ত না হইলে, শরীরমধ্যে প্রবিষ্ট হইয়া নানাপ্রকার উৎকট রােগ উৎপাদন করে। অস্থিতে জ্বালা, সন্ধিসমূহে বা সর্বাঙ্গে বেদনা, শরীরের নানাস্থানে ক্ষত বা পিড়কার উৎপত্তি এবং কৃষ্ণ বা শ্বেতবর্ণের দাগ, হস্ততল ও পদতল হইতে চৰ্ম্ম উঠিয়া যাওয়া, মুখনাসিকাদিতে ক্ষত, পীনস, মুখরােগ, দস্ত চ্যুতি, নাসিকাক্ষয়, শিরঃপীড়া, পক্ষাঘাত, অণ্ডকোষে শােথ ও কঠিনতা, স্থানে স্থানে গ্রন্থির ন্যায় শােথােৎপত্তি, চক্ষুরােগ, ভগন্দর, নানাপ্রকার চর্মরােগ এবং

 

কুষ্ঠবােগ পৰ্য্যন্ত অযথা পারদ-সেবনের জন্য উৎপন্ন হইতে দেখা যায়। পারদ-বিকৃতিতে সালসা এবং কুষ্ঠরােগােক্ত পঞ্চতিক্ত ঘৃত প্রভুতি কতিপয় ঔষধ বিবেচনাপূৰ্ব্বক প্রয়ােগ করা যাইতে পারে। শােধিত গন্ধক ৪ চারি রতি মাত্রায় ধ্বতেরসহিত, কিংবা গর্জনতৈল ১৩ দশ কিংবা ১২ বার ফোটা, অথবা চাউলমুগরার তৈল ৫ পাঁচ ফোটা মাত্রায় দুগ্ধের সহিত প্রত্যহ সেবন করাইলে, পারদ-বিকৃতি যােগে বিশেষ উপকার হয়। ক্ষত-নিবারণের পূর্বোক্ত ক্ষতনিবারক ঔষধ এবং চর্মরােগশান্তির জন্য সােমরাজী-তৈল, মরিচাদ্য তৈল, মহারুদ্রগুডুচী তৈল ও কন্দর্পসার তৈল প্রভৃতি গাত্রে মর্দন করা আবশ্যক।

 

জ্বরের কারণ।-উপদংশ হইলে, প্রায়ই ব্ৰধ অর্থাৎ বাগী রােগ উৎপন্নহইতে দেখা যায়। কফজনক বা গুরুপাক অন্ন ভােজন, শুষ্ক বা পচা মাংসমভােজন, অসমতল স্থানে গমন, অতিদ্রুত গমন এং পাদদেশে স্ফোটক বা কোন রূপ আঘাত প্রাপ্তি প্রভৃতি কারণেও এই রােগ উৎপন্ন হইতে পারে। এই রােগেবক্ষণ-সন্ধি অর্থাৎ কুঁচকি স্থানে শােথ ও তৎসঙ্গে জ্বর হইয়া থাকে। উপদংশ- জনিত ব্ৰ পাকিয়া উঠে, কিন্তু অন্য ব্র প্রায়ই পাকিতে দেখা যায় না।ব্ৰধু-চিকিৎসা ‘উপদংশজনিত ব্ৰঃ পাকাইয়া, শস্ত্রপ্রয়ােগ পূর্বক দূষিত পূরক্তাদি নিঃসারিত করাই সৎপরামর্শ ; নতুবা তাহা হইতে অন্যান্য রােগজ ন্মিবার সম্ভাবনা। ব্ৰপণােথ পাকাইবার জন্য এবং পাকার পরে বিদারণ ও ক্ষত শুরু করিবার জন্য যেসকল যােগদি লিখিত হইয়াছে, বরােগেও সেই সমুদায় প্রয়ােগ করিবে। অন্যান্য ব্ৰস্তু অথবা উপদংশজনিত ব্ৰস ও অবস্থাবিশেষে বইবার আবশ্যক হইলে, উৎপন্ন মাত্রই তাহা বসাইবার চেষ্টা করিবে।

 

জোক দ্বারা রক্তমােক্ষণ, বটের আঠা লেপন এবং গন্ধবিবর্জ বা কুকুটডিম্বের দ্ৰবভাগেরপটি বসাইয়া দিলে, ঐ বসিয়া যায়। • এক ছটাক জলে । চারি আনানিশাদল বা সাের। গুলিয়া, সেই জলে বস্ত্রখণ্ড ভিজাইয়ঃ, তাহার পটি দিলেও ব্ৰস্তুশীঘ্র বসিয়া যায়; অথবা কৃষ্ণজী, হবুষা, কুড়, তেজপত্র ও কুল, এইসমস্ত দ্রব্যকজিতে পেষণ করিয়া প্রলেপ দিবে। বেদনাশান্তির জন্য ভেড়ীর দুগ্ধের সহিতগােধূম বা কুন্দুবখােটা বাটি ও গরম করিয়া প্রলেপ দিবে। জ্বরনিবারণ জন্যজ্বরনাশক ঔষধ ব্যবস্থা করিবে। কোষ্ঠশুদ্ধি রাখা এই পীড়ায় বিশেষ আবশ্যক।

 

পথ্যাপথ্য।এইসমস্ত পীড়ার, দিবসে পুরাতন সূক্ষ্ম চাউলের অন্ন,মুগ, মসূব, অড়হর ও ছােলার দাল, পটোল, ডুমুর, মাণকচু, বেগুন, শজিনার ডাটা ও পুরাতন কুমড়া প্রভৃতির নৃতপক তরকারী; মধ্যে মধ্যে ছাগ, পায়রা বা কুকুটের মাংসরস। রাত্রিকালে রুটী এবং পূর্বোক্ত সমস্ত তরকারী। জর অধিক থাকিলে, অন্ন বন্ধ করিয়া, রুটি বা সাগু প্রভৃতি লঘুপথ্য ব্যবস্থা করিবে।

 

নিষিদ্ধ কৰ্ম্ম।–মিষ্টদ্রব্য, শীতলদ্রব্য, কফবৰ্ধক দ্রব্য, দুগ্ধ ও মৎস্যভােজন এবং সান, মৈথুন, দিবানিদ্রা, ব্যায়াম প্রভৃতি এইসমস্ত পীড়ায় অতিশয় অনিষ্টকারক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.