তথ্য ও প্রযুক্তি

মহাশূন্যে ছুটে চলছে স্কাউটশিপ ওমেগা

৩১১৭ সাল

 

মহাশূন্যে ছুটে চলছে স্কাউটশিপ ওমেগা। তাদের লক্ষ্য মাদারস্পেসশিপ প্রিটিনিন। প্রিনিন বিশাল আকৃতির একটা অনুসন্ধানীস্পেসশিপ । প্রিটিনিনের মূল কাজ নতুন নতুন গ্রহে অভিযান পরিচালনাকরা। পৃথবী থেকে রওনা করে প্রিটিনিন যাস তিনেক হলো একটা মাঝামাঝি অবস্থান করছে। সেখান থেকে ছোট ছোট অনুসন্ধানীস্কাউটশিপে অভিযাত্রীরা আশেপাশের গ্রহে অভিযান পরিচালনা করছে

এরকমই একটা অনুসন্ধানী স্কাউটশিপ ওমেগায় করে ব্রিটি গ্রহে অভিযানেগিয়েছিল চব্বিশ বছর বয়সী নাহিদ অভিযাত্রী জীববিজ্ঞানী নিয়ানা এবং বত্রিশবছর বয়সী নভোচারী সিভিন। তথ্য সংগ্রহের মূল দায়িত্ব ছিল নিয়ানারওপর আর সিভিনের দায়িত্ব ছিল স্কাউটকিপ পরিচালনাসহ সার্বিক বিষয়েসহায়তা করা। তাদের আর একজন সঙ্গী ছিল আইটু নামের একটি সপ্তমমাত্রার রোবট । আইট্ তিন ফুট হলেও অনুসন্ধানী কার্যক্রমে অত্যন্ত দক্ষ।

সিভিন, নিয়ানা এবং আইটু তিন দিন আগে মাদার স্পেসশিপ প্রিটিনিন
থেকে যাত্রা শুরু করে। ব্রিটি গ্রহ অতিরিক্ত দূরত্বে হওয়ায় কয়েকবার
হাইপার ডাইভ দেওয়ার পরও সেখানে পৌছাতে তাদের দুই দিন লেগে
যায়। তারা ব্রিটি গ্রহে একদিন ছিল। ব্রিটি সম্পূর্ণই নিরস একটি গ্রহ।
পাথর ছাড়া সেখানে কিছু নেই। নেই এক ফোঁটা পানিও । ব্রিটি গ্রহে
মানুষের বসতি স্থাপনের কোনো সম্ভবনাও নেই। পৃথিবীর মানুষ এখন
দ্বিতীয় আর একটি গ্রহ খুঁজছে যেখানে তারা বসবাস করতে পারে । এই
গ্রহটা হবে মানুষের জন্য দ্বিতীয় পৃথিবী ।

পৃথিবী থেকে এখন মহাশূন্যে যতঅভিযান পরিচালিত হচে সেগুলোর অধিকাংশ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য এইদ্বিতীয় পৃথিবীকে খুঁজে বের করা। কারণ অতিরিক্ত মানুষ আর যুদ্ধবিগ্রহেরকারণে পৃথিবী এখন বসবাসের হয়ে পড়েছে। তাছাড়া কয়েকটিদেশের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে কোনো মুহূর্তেযুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এজন্য পৃথিবীরবিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগেছেন পৃথিবীর মতো নতুন আর একটি গ্রহ খুঁজোবের করতে।

 

এ মুহূর্তে সিভিন ওমেগার গতি নিয়ন্ত্রণ করছে

 আর নিয়ানা মূলপ্রতিবেদন তৈরির আগে ব্রিটি গ্রহ সম্পর্কে আইটুকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাদিচ্ছে।আইটু বলল, নিয়ানা, তাহলে এটাই সত্য যে, ব্রিটি গ্রহে মানুষেরবসবাসের কোনো সম্ভাবনা নেই ।নিয়ানা চোখ তুলে বলল, না নেই। সেখানে পানিও নেই, নেইবাতাসও। তাছাড়া গ্রহটি খুব ঠাণ্ডা।পর্যাপ্ত নক্ষত্রের আলোও আসে না ।তুমি ঠিক বলেছ।. আমরা তাহলে সুপারিশ করব ব্রিটি গ্রহে যেন আর কোনো অভিযানপরিচালনা করা না হয়।

আমরা ঠিক সেরকম করব না। আমরা বলব, সেখানে কখনো মানুষ
বসবাস করতে পারবে না। তবে মূল্যবান ধাতু কিংবা জ্বালানির জন্য
অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে। আমার ধারণা, বিটি গ্রহে নতুন বা মূল্যবান মৌল পাওয়া যেতে পারে।

অনেক গ্রহে এরকম নতুন মৌলের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু
সেগুলো তেমন কোনো কাজে আসেনি।কোনটা যে কাজে আসবে তা আমরা বলতে পারব না। আমাদের উচিতহবে সুপারিশ করা । আমরা সুপারিশ করব ।ঠিক আছে নিয়ানা। তোমার কথামতো মূল প্রতিবেদনে ব্রিটি গ্রহেমূল্যবান ধাতু এবং জ্বালানির জন্য অভিযানের বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করব।

আমি..
আইঁটুর কথার ফাঁকে সিভিন বলে উঠল, নিয়ানা হাইপার ডাইভের
প্রস্তুতি গ্রহণ করো। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে হাইপার ডাইভ দেব। হাইপারডাইভের সময় আমরা প্রায় আলোর গতিতে চলব ।

সিস্টেম কি সম্পূর্ণ প্রস্তুত?

 

হ্যা। সম্পূর্ণ প্রস্তুত ।
আমি তৈরি হয়ে নিচ্ছি। আমাকে তিন মিনিট সময় দাও ।তিন মিনিট পর সবাই হাইপার ডাইভের জন্য সবাই প্রস্তুত হয়ে গেল।প্রত্যেকে নিজ নিজ সিটে বসে শক্তভাবে সিটবেল্ট বেঁধে নিল। হাইপারভাইভের সময় প্রথম পাঁচ মিনিট স্কাউটশিপের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে কেন্দ্ৰীয়কম্পিউটার সিসির হাতে। সিসি তখন অটো-পাইলটিং সিস্টেমে স্কাউটশিপ
নিয়ন্ত্রণ করে। সিভিন সিসির কাছে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে সিসি উল্টো দিকে
গুনতে শুরু করল, ত্রিশ, উনত্রিশ, আটাশ, সাতাশ….দুই…এক…
প্রচণ্ড একটা ঝাঁকি দিয়ে সামনের দিকে ছুটতে শুরু করল ওমেগা।
সিভিন, নিয়ানা, আইটু সবাই সিটের সাথে শক্ত হয়ে বসে থাকল। পাঁচ
মিনিটের মধ্যে দুই মিনিট অতিবাহিত হতে ওমেগার ভেতরের সব লাল
বাতি জ্বলে উঠল। লাল বাতি দেখে সিভিন সিসিকে ডেকে উঠে বলল,
সিসি, লাল বাতি জ্বলছে কেন?আমরা ভয়ঙ্কর বিপদের মধ্যে পড়েছি।

 

কী বিপদ

 

হঠাৎই আমাদের সামনের গতিপথে একটা উল্কার ঝড় এসে পড়েছে।সিভিন চোখ বড় বড় করে বলল, কী বলছ তুমি!হ্যাঁ সিভিন ।
কীভাবে এলো? আগে টের পাওনি?না।উল্কাঝড়টি নিউটিনো গ্রহের পেছনে ছিল। এজন্য আমাদের রাডার সেটাধরতে পারেনি। এখন একেবারে সামনে।দিক পরিবর্তন করো ।আমাদের গতি এখন সেকেন্ডে প্রায় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার মাইল।গতি পরিবর্তন করলে আমরা অন্যদিকে চলে যাব। তাছাড়া গতি পরিবর্তনকরলে আমাদের যে কৌণিক দূরত্বে ঘুরতে হবে, তাতে উল্কাঝড়ের কিছু অংশে আমাদের পড়তেই হবে ।

তুমি কী করতে চাচ্ছ?আমি উল্কাবড়ের মধ্য দিয়ে যেতে চাচ্ছি।
কী বলছ তুমি! ঐ কোটি কোটি উত্তপ্ত পাথরের টুকরোর মধ্য দিয়ে
ওমেগাকে তুমি চালাবে কীভাবে?পারব। কারণ অটো-পাইলটিং সিস্টেম অ্যাকটিভ আছে। এ ছাড়াকোনো বিকল্প নেই।

অটো-পাইলটিং সিস্টেম উল্কাঝড়ের মধ্য দিয়ে আমাদের বের করতে
পারবে না। তুমি এখনই গতি পরিবর্তন করো ।আমার গাণিতিক বিশ্লেষণ বলছে সেটা মোটেও নিরাপদ হবে না।আমি বলছি তুমি করো। আর কোনো কথা বলবে না।নিয়ানা… নিয়ানা ।অনেক দূরে অস্পষ্ট একটা কণ্ঠ শুনতে পেল নিয়ানা।নিয়ানা…নিয়ানা…।এবারের ডাকগুলো নিয়ানার খুব কাছে মনে হলো। সে পিটপিট করেভাকাতে চেষ্টা করল । কিন্তু তার চোখের পাতা দুটো খুব ভারী মনে হচ্ছে ।নিয়ানা… নিয়ানা… চোখ খোল ।

নিয়ানা এবার চোখ মেলে তাকাতে পারল। প্রথমে চোখের সামনে
সবকিছু অস্পষ্ট মনে হলেও ধীরে ধীরে সবকিছু স্পষ্ট হতে শুরু করল। সেস্পষ্ট দেখতে পেল তার ওপর রোবট আইটু ঝুঁকে আছে। এতক্ষণ সে-ইডাকছিল তাকে ৷নিয়ানা চোখ মেলে তাকাতে আইটু বলল, নিয়ানা, তুমি উঠতে পারবে?নিয়ানা অস্পষ্ট স্বরে বলল, হ্যাঁ পারব।আমি তোমাকে সাহায্য করছি। তুমি আমার হাত ধরে ওঠো ।আইটুর হাত ধরে উঠতে উঠতে নিয়ানা বলল, আমরা কোথায় আছি?আমি জানি না। তবে সুন্দর একটা গ্রহের পাশে। গ্রহটা বেশ উজ্জ্বল,দূর থেকে সাদা দেখা যায়। তবে নীলের একটা আভা আছে ।

 

কী নাম গ্রহটার

 

আগেই বলেছি, জানি না।নিয়ানা অবাক হয়ে বলল, কেন জানবে না? ওমেগার ডাটাবেজে নামসংরক্ষিত নেই?না, নেই । গ্রহটি একেবারে নতুন। তুমি দেখলে বুঝতে পারবে।নিয়ানা প্রতিরক্ষা ক্যাপসুল থেকে বের হয়ে এলো। তার খুব দুর্বললাগছে । পাশে একটা চেয়ারে বসে বলল, সিভিন কোথায়?আইটু একটু সময় নিয়ে বলল, আমি দুঃখিত নিয়ানা, সিভিন মারাগেছে ।নিয়ালা চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠে বলল, কী বলছ আইটু!

Related Posts

ই-কমার্স অনলাইন বিজনেস ও আইডিয়া

উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প   সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যম ফেসবুকে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। ই-কমার্স অ্যাসােসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০ হাজারের বেশি ফেসবুক পেজে কেনাকাটা…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার

    তথ্য মাধ্যমে চাকরি বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত   চাকরির ধরন ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রয়ােজনীয় অভিজ্ঞতাপত্রপত্রিকায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক চাকরির বিজ্ঞাপন সাধারণত ইংরেজিতেই প্রকাশিত হয়েথাকে। তাই…

সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না।

  সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না     নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ফাইনাল দিয়েছে।বরাবর সে বিগত পরীক্ষায় ভালাে ফলাফল অর্জন করেছে। পরীক্ষায়সে যে পাস…

সুন্দর চোখ সাজানো।

  সুন্দর চোখ সাজানো   যেন একটা ঘােরের ভেতরে পাখির দিনগুলাে কাটছে আজকাল। এমন একঘাের যে দিন কী রাত পাখির যেন খেয়াল নেই। আর খেয়াল রেখেই-বালাভ কী? দুদিন…

কম্পিউটার-হ্যাকিং ।

  কম্পিউটার হ্যাকিং   ১.১ সাইবার জগৎ বলতে আমার কি বুঝিআমাদের সমস্ত ইন্টারনেট ভিত্তিককার্যকলাপকে বলা হয় ভার্চুয়াল বাসাইবার জগৎ। বর্তমানে আমরা সবাইকম/বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করি।ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের এক…

জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার।

জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার   যাহা দ্বারা দোষ কুপিত হইয়া রােগােৎপাদন করিতেপারে, তাহাকে নিদান কহে। বিপ্রকৃষ্ট ও সন্নিকৃষ্ট ভেদে নিদান দুই প্রকার।বিরুদ্ধ আহার-বিহারদিকে বিপ্রকৃষ্ট অর্থাৎ দূরী নিদান, এবং…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *