আন্তর্জাতিক খেলার খবর বাংলাদেশ

মাংসের-রেস্তোরা।

মাংসের রেস্তোরা

 

খুন করেছিস কেন? খগেনকে জিজ্ঞাসা করেন থানার দারােগা। খগেন চুপকরে শােনে। জবাব দেয় না। হাবিব চেয়ারম্যানকে হত্যার মামলায় ওকেগ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার বিবরণ মােতাবেক, খুনি রাতের অন্ধকারেহাবিব চেয়ারম্যানের বাড়িতে ঢুকে ঘুমন্ত চেয়ারম্যানকে প্রথমে চেতনানাশককিছু শুকিয়ে অজ্ঞান করেছে, এরপর তার হাত

https://usabcnews.com/iphone-12-pro-max/

দুটো খাটের সঙ্গে বেঁধেধারালাে বঁটি দিয়ে গলাটা কেটেছে। বঁটিটা পাওয়া যায়নি, কিন্তু বাদীপক্ষকেসের বিবরণে এমনটি বলেছে। বাদী চেয়ারম্যানের দুই ছেলে।খগেনের কাজ ছিল রােজ ঘুম থেকে উঠে চেয়ারম্যানকে একচোটগালিগালাজ করে নেওয়া। এরপর বগলে লাঠি আর কাঁধে ঝােলাটা খুঁজেবের হয়ে যায়

 

সন্ধ্যায় যখন ফেরে, তখন আর গালাগালি করে না।হারিয়ে যাওয়া সংসার, জন্ম না-নেওয়া সন্তানের কথা মনে করে কাঁদে।অনেক রাত পর্যন্ত ওর ঘর থেকে কান্নার শব্দ আসে। কিন্তু সকাল হলেইখগেন ফের বদলে যায় । যা-তা বলে চেয়ারম্যানকে গালি দেয়। এর মধ্যঅনেকবার সে খুন করার ইচ্ছাও প্রকাশ করে। যে রাতে খুন হলাে,সেদিনও বলে গেছে, আজ তােকে না মেরি আমি রাইত পার করবু না।এ কথা পাড়ার আরও পাঁচটা লােক শুনেছে। তাই ভােরে যখন একা ঘরেএই সাবেক চেয়ারম্যানের লাশটা পাওয়া গেল, গলাকাটা অবস্থায়, কেউইআর দ্বিধায় থাকেনি যে খুনটা খগেনই

 

করেছে। ওকে আসামি করারবিষয়ে চেয়ারম্যানের ছেলেদের একবারও ভাবতে হয়নি; বরঞ্চ সুবিধাইহয়েছে। খগেন নিজেও এর প্রতিবাদ করেনি। পুলিশ যখন এসে বলল,‘তুই খগেন?’ তখন খগেনকে দেখে পুলিশের বুঝতে অসুবিধা হলেও সেদিব্যি পুলিশের সামনে গিয়ে বলল, ‘আমাকে তাে বাঁধতি পারবেন না।গাড়িতে উঠি দেন। আমি পালাবু না। তখন আর তারা কোনাে কথা না বাড়িয়ে খগেনকে ধরে নিয়ে গেল।

 

আরো পড়ুন – মাকড়সার জাল

 

খগেন জানে, চল্লিশ বছর ধরে একটা খুন সে করার ইচ্ছা প্রকাশকরে আসছে। এমনকি কত স্বপ্নে খুনটা সে করেও ফেলেছে। সকালেউঠেই নিজের অক্ষমতার জন্য আফসােস হয়েছে। কিন্তু আজ যখন সত্যিসত্যি জানতে পারল চেয়ারম্যান খুন হয়েছে, একবারও মনে হয়নি খুনটাসে করেনি। কিন্তু সে মনে করতে পারছে না খুনটা সে কীভাবে করেছে।তাই দারােগা যখন জিজ্ঞাসা করলেন, এটা তাের কাজ?‘জে, হতি পারে। সে সরাসরি উত্তরটা দিতে পারে না।হতে পারে মানে?

কোনাে সন্দেহ আছে

ক্যান্ত আমার কিছু মনে পড়ছি নারাতি একবার বাজ্জি পেয়ি ঘরের বাইরি গি দ্যাকলাম ঘাের নিশি ।চিয়ারমেনের দু পক্ষির দুই ছেলির মদ্যি ত্যাকুন জমিজমার ভাগাভাগি নিবিবাদ চলচি। বাজ্জি না সেরি ঘরে আলাম। গা-জুড়ানাে বাসাত হচ্ছিল,তাই ঠিকমতন চোখ বন্ধ করার টাইম পালাম না, আরামে তার আগেইঘুম চলি আসলু। ঘুম ভাঙলুএক্কেবারে বিহানে, চেয়ারম্যান বাড়িরহইচইয়ে। মদ্যি রাতি কী হয়ছে আমার কিছু মনে নেই, স্যার।‘মনে করার চেষ্টা কর। রাতে ফের পায়খানার বেগ উঠল। তুইবদনাটা নিয়ে বাইরে গেলি।

 

‘হতি পারে। কেননা, সকালে উঠি দ্যাখলাম প্যাট একদম খালি।এরপর কি করলাম স্যার?’ খগেন জানতে চায় ।‘পায়খানা সেরে ঘরে গেলি। হাতের কাছে বঁটিটা ছিল, তুলে নিলি।’দারােগা ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।“জে, মনে পড়ছে।  তেবে আমার ঘরে বঁটি নেই, হেঁসু হতি পারে ।‘বিবরণে যেহেতু বঁটির উল্লেখ আছে, তুই বঁটির কথা বল। খুন যখন করেছিস, তখন বঁটি আর হেঁসুতে কী এসে যায়! শাস্তি যা হওয়ার তা তােহ বেই।

 

https://usabcnews.com/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%86/

জে, বঁটিই ভালাে। এমনিতেও আসচি হাটে একটা বঁটি কিনতাম।হেঁসুতে তরকারি কাটতি কষ্ট হয়।এরপর তুই বঁটিটা নিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির ভেতর প্রবেশকরলি। মনে পড়ে?“জে, এ রকম একটা খােয়াব আমি দেখছিলাম।’‘তুই চেয়ারম্যানের ঘরের ভেতর ঢুকে তার নাকে ক্লোরােফর্মমা খানাে রুমাল ধরে অজ্ঞান করে নিলি। নিলি তাে? ‘“জে, নিলাম। বলে খগেন একটু থেমে জিজ্ঞাসা করে, ক্লোরাে

 

ফর্মকী, স্যার?”‘অজ্ঞান করতে গেলে লাগে। এর বেশি তােকে বুঝতে হবে না।‘হ, ঠিকই। কম বুইঝি কাজ হলি বেশি বুঝি লাভ নেই।এরপর চেয়ার ম্যান অজ্ঞান হয়ে গেলে তুই চট করে ছাগল বাঁধারদড়ি দিয়ে তার হাত দুটো বেঁধে দিলি। বুড়াে মানুষ, কোনাে ঝুঁকি নিতে নাচাওয়াই স্বাভাবিক। ভুল বললাম?’‘জে না, এই বয়সে আর কুনাে কাজেই ঝুঁকি নিয়া ঠিক হবে না।”‘হাত বাঁধা হলে বঁটিটা দিয়ে গলায় একটা পোঁচ মেরে দিলি; ঠিক কিনা।’

 

‘জে, গায়ির সব মানুষ য্যাকুন বুলচি, আপনিও বুলচেন, ত্যাকুন ভুলহতি পারে না।তার মানে স্বীকার করে নিচ্ছিস যে, চেয়ারম্যানকে তুই মাঝরাতেপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছিস?”‘মেলা দিনের পরিকল্পনা, স্যার।” খগেন আনমনা হয়ে বলে।দারােগা খগেনকে লকআপের ভেতর ঢােকানাের আগে সহকর্মীকেবলেন জবানবন্দিতে একটা টিপসই দিয়ে নিতে।শেষ মাথাটি কাটাপড়ার আগেঘুম থেকে উঠে যা দেখলাম তাতে আমার মাথাটা যেন সত্যি সত্যি ঘুরেগেল।

 

প্রতিদিনের অভ্যাস-মতাে বিছানা থেকে উঠে আয়নার সামনেদাঁড়িয়ে চুলটা ঠিক করে নিলাম। এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। এরপর যখনরােজকার মতাে বারান্দায় দাঁড়িয়ে পথচারীদের একবার দেখে নিতেচাইলাম মাথাটা তখনই ঘুরল। প্রথমে চক্কর দিয়ে ওঠে, মুহূর্তেই মনে হয়পড়ে যাব নিচে। বারান্দা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত গ্রিল দিয়ে আটকানাে ,পড়ে যাওয়ার কোনাে শঙ্কা নেই, কিন্তু মনে হলাে আমি পড়ে যাচ্ছি।নিজের চোখকে কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না। ফের নিচে তাকালাম। রাস্তায়

 

হেঁটে যাচ্ছে মাথাবিহীন মানুষ। রিকশাচালকের মাথা নেই, যে লােকটামুদির দোকানে বসে আছে কিছু বিক্রি করবে বলে তার মাথা নেই, যে কিছুএকটা কিনবে বলে দাঁড়িয়ে পকেটবিহীন টিশার্টের বুকে বারবার পকেটখুঁজে হয়রান হচ্ছে তারও মাথা নেই। ফুটপাতের উপর নিচ দিয়ে যারাহাঁটছে কারাে মাথা নেই। একটা মােটরসাইকেল চলে যায় চোখের পলকে,

 

মাথাবিহীন চালক, মাথাবিহীন পেছনে কেউ বসে। ফুটপাতে দুজন পড়েআছে, মৃত কিংবা জীবিত, মাথা নেই তাদেরও। কাঁধের উপর মাথা যেখানেথাকে সেখানটা এমনভাবে ভোঁতা যেন কোনােদিনই এদের মাথা ছিল না।মাথাবিহীন অন্যরকম এক প্রাণী জগতের বাসিন্দা মনে হয় নিজেকে।

 

রেবেকা

 

ছছটোবােনকে ডাক দিই। ও আসে না। ফের ডাকি।সাধারণত এক ডাকেই চলে আসে কিংবা আসতে না পারলে উত্তর নেয়পাশের ঘর থেকে। আজ এ মুহূর্তে না আসার অনেক কারণ থাকতেপারে। কিন্তু আমার মাথায় তখন অন্য চিন্তা। আমি নিজেই যাই রেবেকারখোঁজ নিতে। ঘর থেকে বের হতেই চোখে পড়ে মাকে। মাথা নেই। শাড়িদেখে চিনে নিতে সমস্যা হয় না। মা আলু কুটছে বঁটিতে। মাথা নেই কিন্তু

 

কাজ করতে কোনাে অসুবিধা হচ্ছে না তার। কী চমৎকার কুচিকুচি করেআলু কাটছেন ধারালাে বঁটিতে! তাতে আশ্চর্য হই না। মা এভাবেইসংসারে রােবটের মতাে কাজ করে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে। মাথা থাকা নাথাকাতে তার কোনাে অসুবিধা হওয়ার কথা না। এরপর বাবাকে দেখি।

 

তিনি হাতে পেপারটা ধরে আছেন। শেয়ার বাজারে ধস নামার পর থেকেতিনি সকাল সন্ধ্যা পেপার খুলে বঙ্গে থাকেন। কিছু পড়েন কিনা বােঝাযায় না। পেপারে যে ছবিগুলাে ছাপা হয়েছে সেখানেও কারাে মাথা দেখিনা। একজনের পাঞ্জাবি পরা ছবি, আঙুল তােলা, ছবির নিচে লেখাজনসভায় বক্তৃতা করছেন মন্ত্রী। বিনােদনের পৃষ্ঠায় ব্রা পরা নায়িকার বড়ছবি। মাথা নেই বলে আন্দাজ করা যায় না। নারীর এমন পােশাক থাকলেচেহারা দেখার খুব প্রয়ােজনও থাকে না পুরুষের।

 

দেহের এতগুলাে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যঙ্গ এক মাথাতেই কেন দেওয়া হয়েছে,এটা ভেবে সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিরক্তি আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেইটের পাই, মাথা না থাকার কারণে মানুষে মানুষে স্বাভাবিক যােগাযােগব্যবস্থাটা ভেঙে পড়েছে। পাশের বিল্ডিংয়ে আগুন ধরেছে, মানুষ পুড়েমরছে, কেউ দেখছে না সে দৃশ্য। রাস্তায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। গাড়িচলছে। চালকের মাথা নেই। পথচারীও হাঁটছে মাথাবিহীন। মানুষ চাপাপড়ছে, রক্তাক্ত হচ্ছে পথ। মানুষ মানুষে ধাক্কা লেগে বদলে যাচ্ছে গন্তব্য।যে যাচ্ছিলাে সামনে, ধাক্কা লেগে ঘুরে পিছনে হাঁটা শুরু করে।

 

Related Posts

সাফল্যের চাবি আপনার হাতে

নতুন বছরে নিজকে সফল করতে পারেন   নতুন বছর শুরু হয়েছে। সবারই ইচ্ছা তার এ বছরটি যেন গত বছরের থেকেআরাে বেশি ভালাে ও সুন্দর কাটে। আর আপনার এ…

কক্সবাজার  ভ্রমণ ২০২১

  কক্সবাজার  ভ্রমণ   নভেম্বরের ২৩ তারিখে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা উঠলো কক্সবাজারের – সেন্ট মার্টিন।তারিখ ও ঠিক করে ফেললাম ৫ ই ডিসেম্বর। কথা অনুযায়ী ট্রেনে…

বাংলাদেশের

    বাংলাদেশে কয়েক দিন দরে লক্ষ করা যাচ্ছে     হিন্দু ভাইদের পুজো চলা কালিন,, আমাদের ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআন শরিফ,যাকে আমরা সম্মান করে মাথায় রাখি সেই…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার

    তথ্য মাধ্যমে চাকরি বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত   চাকরির ধরন ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রয়ােজনীয় অভিজ্ঞতাপত্রপত্রিকায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক চাকরির বিজ্ঞাপন সাধারণত ইংরেজিতেই প্রকাশিত হয়েথাকে। তাই…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান

  বাংলা ফন্ট সমস্যা     সমস্যা-১ কমপিউটারে বাংলা বিশেষ করে বিজয় বাংলা ব্যবহারে অনেক সময় অনেক জটিলতা দেখাদেয়। বিজয় বাংলা সঠিকভাবে ইন্সটল করা থাকলেও অনেক শব্দ টাইপ…

সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না।

  সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না     নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ফাইনাল দিয়েছে।বরাবর সে বিগত পরীক্ষায় ভালাে ফলাফল অর্জন করেছে। পরীক্ষায়সে যে পাস…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *