বিনোদন

রুপকথার গল্প।

রুপকথার গল্প

 

লেখা শুরু করেছিলাম নভেম্বর ২০১৮-এ। ধারাবাহিক গল্প এর আগে আমি লিখিনি।একটা মেয়ে চরিত্র কল্পনা করলাম, যে একা একা শহর থেকে দূরে একটাগ্রামে চাকরি নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে থাকা শুরু করার পরে কী কী হতেপারে।

কবিরাজি শিক্ষা।

লিখতে গিয়ে তানভীর চলে এলাে গল্পে। তানভীরকে ইরার প্রেমিক হিসেবে আনতে মন চাইলাে না। তিন পর্ব লিখে বন্ধ করে দিলাম।এরপর মার্চ ২০১৯-এ আবার লেখা শুরু করি।

 

তানভীর ইরার কাছে আসতে চাইলাে, কিন্তু ইরাকে পড়তে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিলাম।অনলাইনে পাঠক রােজ জানতে চায়, ইরা কি ফিরবে না? ইরা কেমন আছেকানাডায়, তানভীরের সাথে যােগাযোগ হয়? তখন একটা অদৃশ্য সম্পর্ক ভেবেতানভীর আর ইরাকে নিয়ে আবার লিখলাম। কিন্তু দেশে ফেরা পর্যন্ত লিখলাম না সবশেষে ভাবলাম,

 

এই সম্পর্কটা ব্যক্তিত্বের লড়াইয়ের সাথে ভালােবাসার-গল্প । ইরা চমৎকার একটা মেয়ে। খুবই সাধারণ পরিবারের মেধাবী মেয়ে, যেবি য়েটাকে জীবনের লক্ষ্য মনে করেনি। ব্যক্তিত্বকে ভালােবাসার কাছে হেরেযেতে দেয়নি।

 

https://usabcnews.com/%e0%a6%ae%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ae%e0%a6%a3/

 

তানভীর ইরাকে ভালােবেসে এগিয়ে এসেছে।এই সম্পর্কের শুরু থেকে দূরত্ব আর টানাপােড়েনের সাধারণ গল্পটি ‘রূপকথা নয়’ শিরােনামে মলাটবদ্ধ হলাে একই সাথে । রূপকথা নয়’ সাধারণ প্রেমের গল্প হলেও ঠিক সাধারণ মাপকাঠিতে মাপা যাবে না একে। দুজন আলাদা জগতের মানুষের কাছে আসার গল্পটি সম্পর্ক, ব্যক্তিত্ব ও টানাপােড়েনের। সবশেষে গল্পটি একটি মিষ্টি প্রেমের গল্প হিসেবে

 

পাঠকের ভালাে লাগলেই আমার কষ্ট সার্থক হয়েছে ধরে নেওয়া যাবে।শানজানা আলম জানুয়ারি ২০২০ ট্রেন চার ঘণ্টা লেট।ইরা ভেবে দেখলাে, কেউ নিতে যদি আসেও, এতক্ষণে চলে গিয়েছে, এই প্রত্যন্ত এলাকায় তেমন কেউ নামেনি।ট্রেন থেকে নেমে এদিক ওদিক তাকলাে ইরা, কাউকে দেখা গেল না। মানে কেউ নিতে আসেনি, বা আসলেও ট্রেন লেট দেখে চলে গিয়েছে।

 

এখন প্রায় পােনে চারটা বাজে।ইরার সাথে নামলাে তিনজন, একজন বয়স্ক লােক, তার সাথে তার ছেলেছিলাে। লােকটি অসুস্থ। তােকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলাে, আগে থেকেই ভ্যানগাড়ি অপেক্ষা করছিলাে।আর একজন মহিলা, আপাদমস্তক বােরখায় ঢাকা হওয়া তার বয়স বােঝাযায়নি, হাতে ছিলাে একটা ব্যাগ আর দুটো হাঁস।সে কোথা থেকে হাঁস নিয়ে ট্রেনে উঠলাে, এটা একটা ভাবার বিষয়।

 

স্টেশনে কাউকে দেখা যাচ্ছে না। দূরে একটা টিনশেড বিল্ডিং সম্ভবত এটাই স্টেশন মাস্টারের ঘর। তার পাশে একটা খুপড়ি মতাে কিছু দেখা যাচ্ছে।সােবাহান সাহেব বলেছিলেন, স্টেশনে নেমে একজন বয়স্ক মতাে লােক দাঁড়ানাে দেখতে পাবে। ট্রেন চার ঘণ্টা লেট হওয়ায় লােকটা হয়তাে চলে গিয়েছে।

এটা কোন বড় স্টেশন নয়

 

 

একটু থেমে কয়েকজনকে নামিয়ে ট্রেন চলে গেল । কাউকে ট্রেনে উঠতেও তাে দেখা গেল না, ইরা ভাবলাে। ইরা আস্তে আস্তে সামনে এগােয় সামনের খুপড়ি টং আর স্টেশন মাস্টারের ঘরের লাগেজ, একটা ট্রাভেল ব্যাগ আর বইয়ের বস্তা- এতকিছু নিয়ে তাে হেঁটেওযাওয়া যাবে না। যদিও | থেকে বেশি দূরে নয় সােবাহান সাহেবের বাড়িরূপকথা নয় ইরা বকুলতলা সৃষ্টি ফাউণ্ডেশন স্কুলে ইংরেজি ও কম্পিউটার পড়াতে এসেছে। সােবাহান সাহেবের প্রতিষ্ঠান।

 

ইরা ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী। তবে ইন্টারভিউ এর দিন কথা হয়েছে, আপাতত ওর কম্পিউটার ক্লাসটাও নিতে হবে। কম্পিউটার বিষয়ে কোন আবেদন জমা পড়েনি। অবশ্য এ অজপাড়াগাঁয়ে কেউ শখ করে আসে না চাকরি করতে। ঢাকা থেকে তাে নয়ই। ইরা আস্তে আস্তে সামনে

 

নতুন কিছু – মঙ্গলবাসীর পৃথিবী আক্রমণ

 

হাঁটে স্টেশনটা নির্জন। দুপুর প্রায় শেষের দিকে, বিকেল হয়ে আসছে, রােদের তেজ কমে এসেছে। যতদূর চোখ যায় শাল গাছ, অনেক উঁচু উঁচু। নভেম্বরের মাঝামাঝি, তাই রােদের তীব্রতা কম। ঢাকায় এখনাে শীত পড়েনি। এখানে তাে উত্তরের মৃদু শীতল বাতাস বইছে। খুপড়ি ঘরের সামনে এসে ইরা দেখলাে ওর ধারণা ঠিক, এটা চায়ের টং।

 

সামনে এগিয়ে এসে ইরা জিজ্ঞেস করলাে, সৃষ্টি ফাউণ্ডেশনের স্কুলটা কোন দিকে?জিজ্ঞেস করে কিছুটা অপ্রস্তুত বােধ করলাে। ওর জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল সােবাহান সাহেবের বাড়িটা কোন দিকে।”হলুদ মাফলার পরা, ময়লা ধরনের চাদর জড়ানাে একজন চায়ের দোকানে।বসে ছিল। ইরাকে জিজ্ঞেস করলাে, আপনে কি স্কুলের নতুন ম্যাডাম?

 

একটু অবাক হলাে, আপনি জানেন আমার আসার কথা- আপনাক নিতে মজিবর বাই আসছেল সকালে, সে সংবাদ দিছে আপনের আসার কথা। এটটু দাঁড়ান অটো ডাইকা দিই। মজিবর বাইয়ের বড় বাড়িতে মেলা কাম থাকে। সে আমাগের বলছে আপনার দেখলে যেন আটা ঠিক কইরা দিই। ইরার ক্লান্তি লাগছিল। কষ্টও হচ্ছিল ব্যাগগুলি নিয়ে । তাই আর কথা বাড়লাে অটোরিকশা আসতেই উঠে পড়লাে সােবাহান সাহেবের বাড়ির উদ্দেশ্যে।সৃষ্টি ফাউণ্ডেশন-এর স্কুলের সামনে এসে ইরা হকচকিয়ে গেল। তার ধারণা ছিল টিনশেড বিল্ডিং হতে পারে বড়জোর । রীতিমত এলাহি ব্যাপার স্কুল পাঁচতলা বিল্ডিং, কলেজ তিনতলা, বড় মাঠ, সাজানাে ফুলের বাগান, পাশে।প্রায় দিঘির মত বড় একটা পুকুর আছে, টলটলে জল, পুকুরের পাড় ঘেঁষে লম্বা।

 

তাল গাছ আর নারকেল গাছ। ইরা বেশি সময় দাঁড়ালাে না। অটো ইভারকে বলেছিল স্কুলটা দেখিয়ে নিয়ে যেতে। অটো চলতে শুরু করলাে। এত প্রত্যন্ত এলাকায় এত টাকা খরচ করে এত বড় স্কুল করেছেন,কলক|| নয় ৭-১০ ভাবতেই অবাক লাগে।ইরার ইন্টারভিউ হয়েছে ঢাকায়, সােবাহান সাহেবের হেড অফিস,ধানমণ্ডিতে। ইন্টারভিউ কার্ডে অফিসের ঠিকানা দেখে ইরা একটু অবাক হয়েছিল। কর্পোরেট অফিসে প্রত্যন্ত গ্রামের একটা স্কুলের ভাইভা, ভাইভা দিয়েছে আরাে চারজন। একজন কিছুদিন পরে জয়েন করবে, বাকি দুজন রাজি হয়নি এতদূর আসতে। ইরার শহরে ভালাে লাগছিল না, প্রাইভেট হােস্টেলে।হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাই ঢাকার বাইরে ভালাে বেতন দেখে আবেদন করে ফেলে। একটু সমস্যা হবে সবকিছু সামলাতে। কিন্তু কিছুদিন নিজের মত থাকা যাবে।

 

অটো থামলাে সােবাহান সাহেবের বাড়িতে। আপতত এখানেই থাকার। ব্যবস্থা হয়েছে। পরে নিজের মত ব্যবস্থা করে নেয়া যাবে। অবশ্য সােবাহান সাহেব বলেছেন, তার কোন দরকার নেই। বাড়িটা দেখে ইরা কথাটার অর্থ বুঝতে পারলাে।বিশাল বড় বাড়ি। এত সুন্দর বাড়ি- একটা সুন্দর নাম থাকা দরকার ছিল।ইরা অটো থেকে নামলাে। অটো ভাইভার বলল, ব্যাগ ভেতরে পৌঁছে দিয়ে আসবে। ভাড়া মিটিয়ে ইরা হেঁটে ভিতরে ঢুকলাে। এত বড় ঝুল বারান্দাওয়ালা। বাড়ি ইরা আগে দেখেনি। বাড়ির ভিতরে অনেক মানুষ। ইরা কাকে ডাকবে বুঝতে না পেরে পিছনে তাকলাে। অটো ড্রাইভার এসে গেছে, মজিবর নামে লোকটা এগিয়ে আসছে বােধ হয়। আসসালামু আলাইকুম আপা। আপনাক আনতে গেছিলাম। তাে, মাস্টারসাহেব বলল ট্রেন লেট।তাই থাকতে পারলাম না। আমার এইদিকে ব্যস্ততা ছিল

 

ইরা উত্তর দিল, আচ্ছা, কোন সমস্যা হয়নি। টি স্টলে বসা একজন লােকঅটো ঠিক করে দিয়েছে।- এইখানে কোন সমস্যা হবে না আপা। সবাই সবাইরে চেনে, জানে।মানুষগুলা ভালাে, মজিবর ইরাকে বললে।বাড়িতে সােবাহান সাহেবের পরিবারের কেউ নেই। তারা আসে মাসে বা সপ্তাহে। তার দুরসম্পর্কের বিধবা বােন আয়শা বাড়ির দেখাশােনা করে। মজিবর আছে ম্যানেজার কাম কেয়ার টেকার। ইরাকে নিজের ঘর দেখিয়েদিয়ে।মজিবর জানালাে, একটা মেয়ে আছে, ফুট ফরমাশের জন্য।খাবার জন্যডাইনিং-এ গেলেই হবে। অথবা রুমেও পাঠিয়ে দেয়া যাবে।

 

রূপকথা নয়ইরার ঘুম ভাঙলাে দরজা নক করার আওয়াজে। ঘড়িতে দেখলাে ছয়টা দশ,মানে প্রায় দু ঘণ্টা ঘুমিয়েছে। নিজেরই লজ্জা লাগছে, এত গভীর ঘুম যে ঘুমেরআগে কোথায় ছিল, মনে করতেই কষ্ট হচ্ছে। সেলফোনে সাতটা মিসড কল।ইরা দেখলাে জামিল ফোন করেছিল। কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। এখন একটু খিদেও লাগছে। জার্নি করতে হবে তাই ভেবে সেভাবে কিছু খাওয়া হয়নি গতরাতে। তারপর থেকে হালকা কেক, কফি খাওয়া হয়েছে।

 

এখন পর্যন্ত ভাত জাতীয় কিছু খাওয়া হয়নি, এই বেলায় ভাত খাওয়া ঠিক হবে না।ইরা শাওয়ার নিলাে অনেক সময় ধরে। গিজার্ড থাকায় গরম পানি পাওয়াগেল সহজেই।নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়। শীত ভালােই পড়ে গিয়েছে গ্রাম এলাকায়।অবশ্য এখানে ঢাকার সব সুযােগ সুবিধাই আছে। কোন কোন ক্ষেত্রে ঢাকারচাইতে বেশি ভালাে ব্যবস্থা। ফ্রেশ হয়ে হালকা নীল একটা চাদর জড়িয়েঅনেকক্ষণ আয়নায় তাকিয়ে থাকলাে ইরা। আয়নাটা কারুকাজ করা, এন্টিক ডিজাইনে।মজিবর সাহেব যে মেয়েটির কথা বলেছিল ও ডাকতে এসেছে খাবার জন্য।

 

ইরা জিজ্ঞেস করলাে, তােমার নাম কী?মরিয়ম বাড়ি কাছে? না, সুতানড়ি, তিনটে গেরাম পরে।আচ্ছা চলাে তাহলে, বলে ইরা রুম থেকে বের হলাে।রুম থেকে বেরিয়ে লম্বা করিডর। ওরা হেঁটে নিচে চলে এলাে। ডাইনিং রুমটা হলঘরের মতাে। বড় বড় অয়েল পেইন্টিং দুইপাশের দেয়ালেই । টেরাকোটা কাজ করা । যখন এসেছে তখন বেশ কিছু লােক ছিল, এখন ফাঁকাই আছে।রূপকথা নয়

 

Related Posts

কক্সবাজার  ভ্রমণ ২০২১

  কক্সবাজার  ভ্রমণ   নভেম্বরের ২৩ তারিখে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা উঠলো কক্সবাজারের – সেন্ট মার্টিন।তারিখ ও ঠিক করে ফেললাম ৫ ই ডিসেম্বর। কথা অনুযায়ী ট্রেনে…

সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না।

  সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না     নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ফাইনাল দিয়েছে।বরাবর সে বিগত পরীক্ষায় ভালাে ফলাফল অর্জন করেছে। পরীক্ষায়সে যে পাস…

সুন্দর চোখ সাজানো।

  সুন্দর চোখ সাজানো   যেন একটা ঘােরের ভেতরে পাখির দিনগুলাে কাটছে আজকাল। এমন একঘাের যে দিন কী রাত পাখির যেন খেয়াল নেই। আর খেয়াল রেখেই-বালাভ কী? দুদিন…

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এসএসসি  পরীক্ষা  শেষ  হতে  না  হতেই  সৌম্য  যেন  নড়ে চড়েবসল। কোথা  ও   ঘুরতে  যেতে  হবে ।  কিন্তু  কীভাবে   বাবার  তােসময়  নেই, মাও যেতে  পারবে …

বিরিয়ানি রেসিপি।

বিরিয়ানি রেসিপি   আগুনে ডুবিয়ে শরীর, বিবিয়ানা’র অন্তরে।বিবিয়ানা’ পুড়ে যাওয়া জীবনের গল্প। আস্ত জীবন নয়, জীবনেরকোনাে এক খণ্ড যেন। আচমকাই শুর আবার বােকা বানিয়ে ফুরিয়েযায়। জীবনের নাটাই অন্য…

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়।

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়   সভ্যতার সূচনা থেকেই দেখা যাচ্ছে মানুষের নানা সমস্যা।আদিম যুগ থেকেই মানুষ নানা প্রয়ােজনে নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য আপ্রাণচেষ্টা করছে। মানুষের মৌলিক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *