করোনার লক্ষণ গুলো কি কি।

করোনার লক্ষণ গুলো কি কি

 

অজগন্ধি কাদি।—বাল কদিগের শরীরে মুগক নব’ স্যার আকৃতি-বিশিষ্ট, চিক্কণ, গাত্রবর্ণ, গ্ৰ ঔ1; গাটু গাঢ় , ও বনাঞ্চ এ ক প্রকারপিড়কা জন্মে ; তাহাকে মজগবি কা বেগ কম। : তার মধ্যস্থল, কঠন?ও গাটু গাঢ় যেসকল পি ডুকা, মাংসল স্থানে, উংসঃ হ, তাহাকে যবখ্যাকহে। অৰ, উন্নত, মণ্ডল। কার, অল্প পূর্বযুক্ত এবং এন-নন্নিবিষ্ট পিড়কাসমুহউৎপন্ন হইলে, তাহাকে অন্নালজী কঙ্গে। এইসকল ক্ষুদ্র তিন প্রকার ব্যাধি বাতশ্নেগ্ন ।

ব্রনের কালো দাগ দূর করার উপায়।

পক-যজ্ঞডুমুরের ন্যায় বর্ণবিশিষ্ট, দাহমুক্ত, মগুলা কার ও বিদীর্ণমুখপিড়কার নামবিকৃতা; ইহা পিত্ত ব্যাধি। কচ্ছপের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট, অতি কঠিন ওপাঁচ ছয়টী একত্র গ্রথিত যে পিড়কা জন্মে, তাহার নাম কচ্ছপিকা ; ইহাও বাত-শ্লেষ্মজ। গ্রীবা, স্কন্ধ, হস্ত, গন, সন্ধিস্থল ও মলদেশে বলীকের ন্যায় বহুশিখর-যুক্ত যে পিড়কা জন্মে, তাহাকে বল্মীক কহে ; ইহা এদোষজ ব্যাধি।প্রথমা-বস্থায় ইহার

 

চিকিৎসা না হইলে, ইহা ফ্রমে বন্ধিত, অগ্রভাগে উন্নত, বহুমুখবিশিষ্টএবং স্রাব ও বেদনাযুক্ত হইয়া উঠে। পদ্মৰীজকোসে পদ্মবীজসমূহ যেরূপমণ্ডলাকারে অবস্থিত থাকে, সেইরূপ মণ্ডলাকারে পিড়ক। উৎপন্ন হইলে, তাহাকে ইন্দ্রবিদ্ধা কহে। ইহা বাতপৈত্তিক রােগ। মণ্ডল কারে উৎপন্ন, উন্নত, রক্ত-বর্ণ বেদনামুক্ত ও গােল গােল পিড়কাব্যাপ্ত ব্যাধিকে ভিকা কহে; ইহাওবাতপিত্তজ ব্যাধি। হনুতে অর্থাৎ চোয়ালের সন্ধিস্থলে যে বেদনাযুক্ত চিকণ শেখজন্মে, তাহার নাম পাষাণগর্দভ ; ইহা বা শ্লেষ্মজ। কমধ্যে উগ্ৰবেদনাযুক্ত যেপিড়কা উৎপন্ন হইরা অন্তর্ভাগে পাকিয়া উঠে, তাহাকে পনসিকা কহে। বিসর্গের

 

ন্যায় ক্ৰমশঃ বিস্তৃতিশীল এবং দাহ ও অরযুক্ত যে শোথ উৎপন্ন হয়, তাহাকে জালগর্দভ বা অগ্নিবাত কহে; ইহার উপরের চামড়া পাতলা হয় এবং ইহা প্রায়ইপাকে না, কদাচিৎ কোনটা পাকিয়া থাকে। এই রােগ পিত্তজনিত। উগ্র-বেদনা ও জরযুক্ত যেসকল পিড়কা মস্তকে উৎপন্ন হয়, তাহার নাম ইরি-হা ত্রিদোষ। পার্শ্ব, বহু, স্কন্ধ, ও কক্ষদেশে (বগলে), কৃষ্ণ-বর্ণ ও বেদনাযুক্ত যে স্ফোটক জন্মে, তাহাকে কক্ষা কহে; এবং শরীরেরবেকি ।

 

মেদ ভুড়ি কমানোর উপায়

অন্যান্য স্থানে ত্বকের উপর কক্ষার ন্যায় স্ফোটক উৎপন্ন হইলে, তাহাকে গন্ধমাণ কহে ; এই উভয় পীড়াই পিত্তজ। কক্ষদেশে (বগলে) প্রদীপ্ত অঙ্গারেরন্যায় এক প্রকার টেক জন্মে ; তাহাতে চৰ্ম্ম বিদীর্ণ হইয়া যায়, ভিতরে অত্যন্তদাহ থাকে, এবং জ্বর হয় ; এই রােগের নাম অগ্নিরােহিণী। ইহা ত্রিদোষও অসাধ্য। ও সাত দিন হইতে ১৫ পেনের দিনের মধ্যে এই রােগে রােগীরত্যু ঘটিবার সম্ভাবনা। বায়ু ও পিত্ত কর্তৃক নখের মাংস দুষিত হইলে, তাহাপাকিয়া উঠে এবং অতিশয়

 

দাহ হয়। এই পীড়ার নাম চিল্প ; চলিত কথায়ইহাকে “আশহারা কহে। নখের মাংস অল্প দূষিত হইয়া, প্রথমে নখেরকোণবন্ত, পরে সমুদায় নখ নষ্ট বা কদর্ঘ্য করিলে, তাহাকে কুনখ বা “কুনী”কহে। পায়ের উপর অল্পশােথযুক্ত গাত্রসমবর্ণ ও অন্তৰে পাকবিশিষ্ট যে রােগউৎপন্ন হয়, তাহার নাম অনুশায়ী। কক্ষ ও বণ কুঁচকী) সন্ধিতে ভূমিকুমাণ্ডেরন্যায় যে শােথ হয়, তাহার নাম

 

বিদারিকা; ইহা ত্রিদোষজ। যে হােগে বায়ুওকফকর্তৃক মাংস, শিরা, স্নায়ু ও মেদ ভুষি , প্রথমে কতকগুলি গ্রন্থিউৎপন্ন হয়, পরে সেইসকলু, গ্রন্থি বিদীর্ণ হই, তাহা হইতে ঘৃত, মধু ওবসার ন্যায় স্রাব হইতে থাকে ও তজ্জন্য ধাতুক্ষয় হইয়া মাংস শুষ্ক হইয়া যায়,সুতরাং সেইসকল গ্রন্থিস্থান অতিশয় কঠিন হইয়া উঠে, তাহাকে শর্করাৰ্ব্বদকহে। ঐ অঞ্চদস্থ শিরা হইতে দুর্গন্ধ, পচা ও নানাবর্ণবিশিষ্ট স্রাব হইতে দেখাযায়, কখন বা সহসা রক্তস্রাবও হইয়া থাকে।

 

পাদদারি প্রভৃতি।—যেসকল ব্যক্তি সর্বদা পদব্রজে অধিক ভ্রমণকরে, তাহাদের পদদ্বয় রুক্ষ হইয়া ফাটিয়া যায়; ইহাকে পাদদারি কহে। কাকরবা কণ্টকাদিদ্বারা পদতল ক্ষত বা আহত হইলে, পদতলে কুল-আঁটির ন্যায় যে গ্রন্থিউৎপন্ন হয়, তাহাকে কদর বা “কুল-আঁটি” কহে। জলে বা কমে সর্বদা পদদ্বয়সিক্ত থাকিলে, অঙ্গুলিদ্বয়ের মধ্যভাগ অর্থাৎ আঙ্গুলের ফাক পচিয়া যায়, এবংতাহাতে দাহ, চুলকানি ও বেদনা হয় ; এই পীড়ার নাম অলসক বা,“পাকুই”।কুপিত বায়ু ও পিত্ত

 

কেশমুলে উপস্থিত হইয়া, যদি মস্তকের কেশ উঠাইয়া লয়এবং দুষ্ট শ্লেষ্মা ও রক্তদ্বারা সে  সেই স্থানে কেশ উঠিতে পায় না। এই পীড়ার নাম ইলুপ্ত বা খালিচলিত কথায় ইহার নাম “টাক। কেশভূমি কঠিন, কওহইলে, তাহাকে দারুণক রাগ কহে ; চলিত-কথায় ইহার নাম “কুক্ষী বাখুকী”। ইহা বাতশ্লেষ্মজ ব্যাধি। মস্তকে বহুক্লেদযুক্ত ব্ৰণসমূহ উৎপন্ন হইলে,তাহাকে অরূষিকা কহে। কফ, রক্ত ও ক্রিমি হইতে এই রােগ জনে। ক্রোধ,শােক ও শ্রমাদি কারণে 

 

আরো জানুনআপনি কি মেদ নিয়ে চিন্তিত , সঠিক চিকিৎসা করুণ,

 

উষ্মা ও পিত্ত শিরোগত হইলে, কেশুসকলঅকালে প্রক্রিয় যায় ; তাহাকে পলিত কহে। যুবকদিগের মুখে শিমুলাটারস্যায় যেসকল পিড়কানন, তাহাত্রে যুবানপিড়ক বা “বয়ােৱণ” কহে। কফ,বায়ু ও রক্তের দোষে এই পীড়া উৎপন্ন হয় ; অতিরিক্ত শুক্রব্য হইতেও এইরােগ উৎপন্ন হইয়া থাকে। ত্বকের উপর পদ্মাটার ব্যয় কণ্টকাকীর্ণ, পাণ্ডুবর্ণ,কযুক্ত ও গােলাকার যে মণ্ডল উৎপন্ন হয়, তাহাকে পদ্মিনী কণ্টক বা “পদ্ম-কঁটা” কহে ; ইহা বাতশ্লেষ্মজ ব্যাধি। ত্বকের উপর মাষকলায়ের ন্যায় আকৃতি-বিশিষ্ট, কিঞ্চিৎ উন্নত, কৃষ্ণবর্ণ ও বেদনাশূন্য যে এক প্রকার পিড়কা জন্মে,

 

তাহার নাম মাষক ; ইহা এক প্রকার আঁচিল। বায়ুপ্রকোপ জন্য এই পীড়াউৎপন্ন হয়। ত্বকের উপর তিলের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট ও কৃষ্ণবর্ণ যে চিহ্নপ্রকাশিত হয়, তাহাকে তিলকালক বা তিল কহে ; ইহা ত্রিদোষজ ব্যাধি।গাত্রে শ্যাব বা কৃষ্ণবর্ণ, বেদনাশূন্য ও মণ্ডলাকার যে চিহ্ন প্রকাশিত হয়, তাহারনাম ন্যচ্ছ বা ছুলি, এই পীড়া প্রথমে বিন্দু বিন্দু আকারে উৎপন্ন হইয়া, ক্রমশঃবহুস্থানে বিস্তৃত হইয়া পড়ে। ক্রোধ ও পরিশ্রম প্রভৃতি কারণে বায়ু ও পিত্তকুপিত হইয়া, মুখে শ্যাবর্ণ, অনুন্নত ও বেদনাশূন্য এক প্রকার মণ্ডলাকার চিহ্নউৎপাদন করে ; তাহাকে মুখব্যঙ্গ বা মেচেতা কহে। ঐ মেচেতা অধিক কৃষ্ণবর্ণ হইলে, তাহা নীলিকা নামে অভিহিত হয়। মুখ ব্যতীত অন্যান্য অবয়বেও |নীলিকা হইতে দেখা যায়।

 

পরিবর্তিকাদি।- লিঙ্গ অতিশয় মর্পিত, পীড়িত, বা কোনরূপে আহতইলে, লিচৰ্ম্ম দুষিত ও পরিবর্ধিত হইয়া, লিঙ্গমণির অধােভাগে গ্রন্থিরূপে লম্বিতএই পীড়ার নাম পরিবর্তিকা বা দো”। ইহাতে বায়ুর আধিক্য থাকিলেএবং কফের আধিক্য থাকিলে ইহা কঠিন ও কযুক্ত হয়। স্বপ্নেরপ্রভৃতিতে গমন বা অন্য কোন কারণে যদি লিচৰ্ম্ম উল্টাইয়া গিয়া মুদিততাহাকে অবপাটিকা কহে। কুপিত বায়ু চিৰ্ম্মে অবস্থিত হইলে,ফযায়

 

না। তাহাতে অত্যন্ত বেদনা হয়, মূত্রস্রোতঃরুদ্ধ হইয়া |যয়, অথবা অতি সূক্ষ্মধারে মুত্র নির্গত হয় ; ইহাকে নিরুদ্ধপ্রকাশ কহে। বেগ-রণাদি কারণে বায়ু প্ৰকুপিত হইয়া গুহদ্বারে অবস্থিত হইলে, গুহদ্বার সঙ্কীর্ণহইয়া যায়, সুতরাং সেই দ্বার দিয়া অতিকষ্টে মল নির্গত হয় ; এই দুঃসাধ্য।ব্যাধিকে সন্নিরুদ্ধ-গুদ কহে। শিশুদিগের গুহাদেশস্থ মল-মুত্র-ঘৰ্ম্মাদি ধুইয়া নাদিলে, ঐ সমস্ত ক্লেদজন্য গুহদেশে কও জন্মে ; তাহা

 

চুলকাইলে শীঘ্র ক্ষত হইয়াসাব নির্গত হয় ; ইহাকে অহিপূতনক রােগ কহে । গান বা গাত্রমার্জনাদি নাকরিলে অণ্ডকোষস্থ ময়লা ঘর্মদ্বারা ক্লিন্ন হইয়া, সেই স্থানে কণ্ড উৎপাদন করে।চুলকাইলে সেইসমস্ত কণ্ড ক্ষত হইয়া স্রাব নির্গত হয় ; ইহার নাম বৃষণকছু।অতিশয় কুন্থন বা অধিকমভেদ জন্য রুক্ষ ও দুল রােগীর গুণনাড়ী বহির্গতহইলে, তাহাকে গুদ:ভ্রংশ রােগ কহে। যে পীড়ায় শরীরের স্থানে স্থানে পাকিয়াক্ষত হয়, ক্ষতের প্রান্তভাগ রক্তবর্ণ হয়; তাহাতে দাহ, কও, তীব্ৰবেদনা ও জ্বরহয়, তাহাকে বরাহক বা ববাহদাড় লােগ কহে।

 

ক্ষুদ্ররােগ-চিকিৎসা — অজগথিকা রােগে নূতন-কণ্টকারী গাছেরকঁাটাধার পিড়কাকল বিদ্ধ করিলে, তাহা পংকিয়া সত্বর প্রশমিত হয়।বাসক মূল ও রাখা শশার এল বাটিয়া প্রলেপ দিলে অজগবি। প্রশমিত হয়।অনুশী রােগে কফ-বিদ্রধির ন্যায় এবং বিবৃতা, বৃদ্ধা, গর্দভী, জাগর্দভ,ইরিবেল্লিকা ও গন্ধমালা রােগে পিত্ত-বিসর্গের ন্যায় চিকিৎসা করিবে। নীলগাছও পটোলমূল বা টিয়া ও তমিশ্রিত করিয়া প্রলেপ দিলে, ভালভ রােগেরবেদনা প্রশমিত হয়। পুনঃ পুনঃ জোকাদিদ্বারা রক্তমােক্ষণ করিলে এবং শজিনা-মূলের ছাল ও দেবদারুর প্রলেপ

 

দিলে, বিদারকা, পনসিকা ও কচ্ছপিকা রােগবিনষ্ট হয়। তাজী, যবপ্ৰখ্যা ও পাষাণগর্দভ রােগে প্রথমে স্বেদ দিয়া, পরেমনছল, দেবদারু ও কুড়, এই তিনটা জব্যের প্রলেপ দিবে ; এবং পাকিলে ব্রণ-রােগের ন্যায় চিকিৎসা করিবে। পাষাণগর্দভ রােগে ব’শ্লৈষ্মিক শেথনাশকপ্রলেপ উপকারী। বল্মীকরােগে শস্ত্রদ্বারা বীক উৎপাটিত করিয়া, অগ্নিদ্বারাসেই স্থান পোড়াইয়া দিবে ; পরে মনঃশিক, হরিতাল, ভো, ছােট এলাচ,অগুরু, রক্তচন্দন ও জাতীপত, ইহাদের কষ্কের সহিত নিমের তৈল পাক করিয়াক্ষতস্থানে সেই তৈল মর্দন করিবে। পাদদারি রােগে

 

মােম, বসা, মজ্জা, ঘৃত,ও যক্ষারদ্বারা ফাটাস্থানে পুনঃ পুনঃ প্রলেপ দিবে। অথবা ধূনা ও সৈন্ধব লবণেরচূর্ণ একত্র মধু, ঘ্নত ও তৈলর সহিত মিশ্রিত করিয়া, তাহারা পাদমাচ্ছন।করিবে। অসক অর্থাৎ পাকুইরােগে কঁজিতে কিছুক্ষণ পা ভিজাইয়া রাখিয়া,তৎপরে পটোলপত্র, নিমছাল, হীরাকস ও ত্রিফলা বঁটিয়া বারংবার প্রলেপদিবে। ওলের ডাটার আঠা পাঁকুইরােগে বিশেষ উপকারী। মেদীপাতা ওহরিদ্রা একত্র কাটিয়া এলেপ দিলে, পাকুই রােগ শীঘ্র নিবারিত হয়। কদরঅর্থাৎ “কুল-আঁটি” অস্ত্র উদ্ধৃত করিয়া, তপ্ত-তৈল কিংবা অগ্নিছারা সেইস্থান দগ্ধ করিলেও ইহা নিরত হয়। চিল্প অর্থাৎ আঙ্গুলহারা রােগে উষ্ণ-জলসেক দিয়া ছেদন করিবে এবং ক্ষত স্থানে ধুনাচূর্ণ বা রণনাশক তৈলপ্রয়ােগ কন্নিবে। একটা

 

কৃষ্ণলৌহপাত্রে হরিদ্রার রস ও হরীতকী একর ঘর্ষণকরিয়া, বারংবার তাহার প্রলেপ দিলে, চিপ্লরােগের উপশম হয়। গাম্ভারীরসাত টী কোমলপত্র বেষ্টন করিয়া বাধিয়া রাখিলে, চিপ্পরােগের সত্বর উপশম হইয়াথাকে। কুনখরােগে নখমধ্যে সােহাগাচুর্ণ প্রবিষ্ট করাইয়া দিবে; অথবা সােহাগাও হাপরালী একত্র নাটিয়া, তার প্রলেপ দিবে। পদ্মকণ্টক রােগে পদ্মেরভাটা পােড়াইয়া, সেই ক্ষারের প্রলেপ দিবে ; অথবা

 

নিমছাল ‘ও সোঁদালপাতাবটিয়া, পুনঃ পুনঃ তাহা মর্দন করিবে। নীলের শিকড় ও পটোলমূল বাটিয়াও ঘৃনিশ্রিত করিয়া প্রলেপ দিলে, জার্দভ রােগের বেদনা নিবারিত হয়।অহিপূতনক বেগে ত্রিফলা ও খদিবের কথদ্বারা ক্ষতস্থান বারংবার ধৌতকরিবে এবং ডানকুনি, রসায়ন ও যষ্টিমধু, একত্র বাটিয়া তাহার প্রলেপ দিবে।গুদভ্রংশরােগে বহির্গত গুদনাড়ীতে গব্যবসা প্রভৃতি স্নেহপদার্থ মর্দন করিয়া, ঐ।নাড়ী ভিতরে প্রবেশ কব্রাইয়া দিবে। শুহাদ্বারে ছিদ্রযুক্ত একখণ্ড চম্মদ্বারা কৌপীনবাঁধিয়া রাখিলে, সেই রােগে বিশেষ উপকার হয়। চাঙ্গেরীষ্মত সেবন এবং মূষি-

 

কাদ্য তৈল গুদনড়ীতে মর্দন করলে, গুদংশ রােগ নিবারিত হয়। পরিবন্ডিকারােগে পরিবর্তিত লিঙ্গচৰ্ম্মে ঘৃত মাখাইয়া, সিদ্ধ-মাষকলাইদ্বারা স্বেদ দিবে। মাংসকোমল হইলে, লিঙ্গচৰ্ম্ম যথাস্থানে সন্নিবেশিত করিয়া, ঈষদুষ্ণ মাংসের প্রলেপদিবে। অবটিক রােগেও পরিবন্তিকার ন্যায় সমস্ত চিকিৎসা কর্তব্য।নিরুদ্ধ-প্রকাশয়ােগে স্বর্ণ-লৌহদিনিৰ্মিত ছিদ্রযুক্ত নল, ঘৃতাদিদ্বারা অত্যক্তকরিয়া, মূত্রমার্গে প্রবেশ করাইয়া মূত্র নিঃসারিত করিবে; মুত দ্বার বিস্তৃতকরিবার জন্য প্রতি তিন দিন অন্তর ক্রমশঃ ঐরূপ স্থূলতর নল প্রবেশ করান5আবশ্যক। ইংরাজিতে ঐরূপ নল প্রবেশ করানকে ক্যাথিটার পাশ করাকহে। সন্নিরুদ্ধ গুদরােগেও ঐরূপ নল প্রবেশ করান আবশ্যক।

 

চৰ্ম্মকীল,মাষক ও তিলকালক শস্ত্ৰদ্বারা উৎপাটিত করিয়া, ক্ষার বা অগ্নিদ্বারা সেই স্থানদগ্ধ করিয়া দিবে। এরগুনানদ্বারা শঙ্খচূর্ণ ঘর্ষণ করিলে, অথবা সাপের খােলসভস্ম করিয়া সেই ভন্ম ঘর্ষণ করিলে, মাষক রােগ বিনষ্ট হয়। বুবানপিড়কানিবারণজন্য লােধ, স’নে ও বচ ; কিংবা গােরোচনা ও মরিচচূর্ণ; অথবা শ্বেত-সমপ, বচ, লােধ ও সৈন্ধব-লবণ একত্র কাটিয়া মুখে প্রলেপ দিবে; শিমূলগাছেরতীক্ষ্ণকাটা যা মসূরে দাল দুগ্ধে বাটিয়ঃ প্রলেপ দিনেও ঘুবানপিড়কা প্রশ-মেচেতা নিবারণের জন্য রক্তচন্দন, মঞ্জি, কুড়, লােধ, প্রিয়, বটেরনূতন পত্র ও মকুল এবং মরের দা এক বাটিয়া নূখে প্রলেপ দিবে।হরিদ্রা তৈল, কনক তৈল ও কুনা-তৈল প্রভৃতি ব্যবহারে যুবানপিড়কা,ব্যঙ্গ ও নীলিকা প্রভৃতি পড়ি। নিবারিত হইয়া থাকে। অরূংসিক রোগে মস্তকমুণ্ডন করিয়া,

 

নিমপাতার কথিদ্বারা ব্ৰণসমূহ ধৌত করিবে এবং ঘােটকের বিষ্ঠাররস ও সৈন্ধব-লবণ একত্র মিশ্রিত করিয়া প্রলেপ দিবে; অথবা পুরাতন সর্ষপখৈল ও কুক্কটের বিষ্ঠা একত্র গোমূত্রের সহিত কাটিয়া প্রলেপ দিবে। দ্বিহরিদ্রান্ততৈল এই রােগে বিশেষ উপকারক। মাথার খুক্তি নিবারণজন্ত কোদোধান্তেরখড়, দগ্ধ করিয়া, জলে গুলিতে হইবে; পরে সেই ক্ষারজলার মস্তক ধৌতকরিবে এবং নীলশুপার কেশর, যষ্টিমধু, তিল ও আমলকী, এইসকল দ্রব্যেরপ্রলেপ দিবে। ত্রিফলাদ্য-তৈল ও

 

বহ্নিতৈল এই রোগে বিশেষ উপকারক।ইন্দ্রলুপ্ত বা টাকরােগে টাকস্থান সূচীবেধদ্বারা অথবা ডুমুর প্রভৃতির কুশ-পত্রঘর্ষণদ্বারা ক্ষতবিক্ষত করিয়া, রক্তবর্ণ-কুঁচফুল বটিয়া প্রলেপ দিবে। ছাগদু,রসাঞ্জন ও পুটদগ্ধ হস্তিদন্তভস্ম একত্র মিশ্রিত করিয়া, টাক স্থানে প্রলেপ দিলেকেশ উৎপন্ন হয়। টাকস্থানে পেঁয়াজের রস মর্দন করিলে, অথবা কেশুরেররসের সহিত মেষরােমভস্ম মিশ্রিত করিয়া প্রলেপ দিলে, শীঘ্র কেশ উদগত হয়।সুহাদ্য-তৈল, মালত্যাঙ্গ-তৈল ও যষ্টিমধ্বাদ্য-তৈল টাকবােগে প্রয়ােগ করিবে।পালিত্যয়ােগ বিনাশের জন্য অর্থাৎ শুরু কেশকে কৃষ্ণবর্ণ

 

করিবার জন্য ত্রিফলা,নীলবৃক্ষের পত্র, লৌহ ও ভীমরাজ প্রত্যেক সমভাগ, এইসকল দ্রব্য পুনঃপুনঃ ছাগমূত্রের ভাবনা দিয়া, কেশে মাখাইবে। অথবা নীল দীকুল, দুগ্ধেরনিত হয় ।সহিত, একটী লৌহপাত্রে করিয়া একমাস গমধ্যে নিহিত রাখিবে; পরেতাহা কেশে মাখাইবে। মহানীল-তৈল এই রােগের শ্রেষ্ঠ ঔষধ। কক্ষা,অগ্নিবরাহিণী এবং ইরিবেল্লিকা রােগে পৈত্তিক-বিসর্পের ন্যায় চিকিৎসা করিতেহইবে। পনসিক রোগে প্রথমে স্বেদ দিয়া, পরে মনছন, কুড়, হরিদ্রা ওদেবদারু, এইসকল দ্রব্যের প্রলেপ দিবে। ইহা পাকিয়া উঠিলে, শস্ত্র প্রয়ােগধারাপূদি নিঃসারিত করিয়া, ব্রণের ন্যায় চিকিৎসা করিবে।

 

শর্করার্ধ্বদেব চিকিৎসাঅদরােগেব ন্যায় কর্তব্য। বৃষণকক্ষুরােগে ধুনা, কু, সৈন্ধব ও শ্বেতসপ,এইসকল দ্রব্য একত্ৰ পেৰণ করিয়া মর্দন করিবে, এবং পামা ও অহিপুনবােগের ন্যায় চিকিৎসা করিতে হইবে। ‘বিচাঙ্গতৈল প্রভৃতি ক্ষত-নিবারতৈল ও মলম ব্যবহারেও এ রােগ নিবারিত হয়। অহিপূতন রােগেহিরাকস,গােরোচন!, তুতে, হরিণ ও বসান, এই সমস্ত দ্রব্য, কাজির সহিত পেষণকরিয়া, প্রলেপ নিবে। শূকরদ করােগে হৰিদ্ৰা, ও ভীমরাজের মুল, শীতল-জলের সহিত বটিয়া, গব্যঘৃতের সহিত সেবন করাইবে। বিসৰ্পরােগের ন্যায়অন্যান্য চিকিৎসাও ইহাতে আবশ্যক। চ্ছ অর্থাৎ ছুলিবােগে সােহাগার খইও শ্বেতচন্দন, অথবা সােহাগার খই ও

 

মধু, একত্র মিশ্রিত করিয়া মর্দন করিবে।শে’কোবিষ, পুরাতন তেঁতুলের জলের সহিত ; অথবা মুলার বী, পচা দধিরসহিত ; কিংবা হরিতাল নেবুর সহিত বটিয়া ১০/১৫ দিন প্রলেপ দিলেইন্যচ্ছ ( ছুলি) রােগ নিবারিত হয়। সিরােগগাক্ত অন্যান্য প্রলেপও ইহাতেপ্রয়ােগ করা যায়। সপ্তচ্ছাদি তৈল, কুঙ্কুমাদি বৃত ও সহচর ঘৃত, ছুলি প্রভৃতিরোগের উৎকৃষ্ট ঔষধ।ক্ষুদ্ৰবােগাধিকারােক্ত পীড়াসমূহের চিকিৎসা অতিসক্ষেপে লিথিত হইল।এইসমস্ত চিকিৎসা ব্যতীত রােগের দোষ ও অবস্থাবিশেষাদি বিবেচনা করিয়া,বুদ্ধিমান্ চিকিৎসক অন্যান্য ঔষধও ইহাতে প্রয়ােগ করিবেন।পথ্যাপথ্য।-পীড়াবিশেষের দোষ ও দূষ্য বিবেচনা করিয়া, সেই সেইদোষের উপশনকারক পথ্য সেবন এবং সেই সেই দোষবর্ধক অপথ্যসমূহেরপরিবর্জন করিতে হইবে।

 

মুখরােগ

 

মুখরােগ, সংজ্ঞা ও নিদান ‘-ওষ্ঠ, দন্তবেষ্ট, দন্ত, জিহ্বা, তালু ওকণ্ঠ প্রভৃতি মুখ ধ্যস্থ অবয়বে যেসকল পীড়া উৎপন্ন হয় তাহাকে মুখরােগ কহে।জলাভূমিজাত জীবের মাংস, মংস্য, ক্ষীর ও দধি প্রভৃতি দ্রব্য অতিরিক্ত ভােজনকরিলে, বাতাদি দোষত্ৰয় কুপিত হইয়া মুখরােগ উৎপাদন করে। অধিকাংশমুখরােগেই অন্যান্য দোষের অপেক্ষা কফের প্রাধান্য অধিক থাকে।ওষ্ঠগত-মুখরোগ, প্রকারভেদ ও লক্ষণ ওষ্ঠগত মুখরােগেরমধ্যে বাতজওষ্ঠরােগে ওন্বয় কর্কশ, শ্যাবর্ণ, রুক্ষ, জড়ৎ, দূচীবেধের ন্যায়বেদনাযুক্ত ও ফাটা ফাটা হয়। পিত্তজ-ওরােগে ওষ্ঠদ্বয় পীতবর্ণ এবং বেদনা,দাহ ও পাকমুক্ত পিড়কাঘারা ব্যাপ্ত হয়। কাজওষ্ঠরােগে ওষ্ঠয় শীতল,খেতাভ, গুরু, পিচ্ছিল, কৰুক্ত, বেদনাশূন্য এবং ত্বকসম-পিড়কাদ্বারা ব্যাপ্তহয়। নিদোষ-এরােগে ওষ্ঠদ্বয় অবস্থা বিশেষে কখন বা শ্বেতবর্ণ হয় এবংনানাবিধ পিড়কাব্যাপ্ত হইয়া থাকে। রক্তকোপজ-ওরােগে, ওষ্ঠদ্বয় পৰুখেজুর-যলের ন্যায় বর্ণবিশিষ্ট

 

পিড়কাদ্বারা ব্যাপ্ত ও রক্তস্রাবযুক্ত হয়। মাংসদোষজ-ওষ্ঠরােগে ওষ্ঠদ্বয় গুরু, স্কুল ও মাংসপিণ্ডের ন্যায় উন্নত হয় এবং ওষ্ঠ প্রান্তদ্বয়েক্রিমি জন্মিয়া, ক্রমে তাহা বন্ধিত হইতে থাকে। মেদোজনিত-ওষ্ঠরােগে ওষ্ঠদ্বয়ভার, কযুক্ত ও স্মৃতের উপরিস্থ স্বচ্ছ ভাগের ন্যায় বর্ণপৃক্ত হয়, আর ইহা হইতেসর্বদা নিৰ্ম্মল স্রাব নির্গত হইয়া থাকে। কোনরূপ আঘাতদিদ্বারা ওরােগউপস্থিত হইলে, প্রথমতঃ তাহাতে ফাটিয়া যাওয়ার নার বা কুঠারাঘাতের ন্যায়বেদনা হয়; পরে যে দোষ কুপিত হয়, সেই দোষের অন্যান্য লক্ষণও তাহাতেপ্রকাশ পাইয়া থাকে।

 

দন্তবেষ্টগত মুখরােগ, লক্ষণ ও প্রকারভেদ।–দস্তাবেষ্টে অর্থাৎ
দাতের মাড়িতে যেসকল রােগ উৎপন্ন হয়, তন্মধ্যে শীতাদ নামক রােগে অকস্মাৎদস্তাবেষ্ট হইতে রক্তস্রাব হয় এবং দন্তমাংসসকল ক্রমশঃ পচিয়া দুর্গন্ধ ক্লেদযুক্ত,কৃষ্ণবর্ণ ও কোমল হইয়া খসিয়া পড়ে। কফ ও রক্ত দূষিত হইয়া এই রােগউৎপাদন করে। দুইটা বা তিনটা দাঁতের গােড়ায় অত্যন্ত শােথ হইলে, তাহাকে| দন্তপুর্গ টক বােগ কহে। ইহা কফ-রক্তজ ব্যাধি। যে পীড়ায় দন্তমূল হইতেপূয়-রক্ত নির্গত হয়, তাহাকে দন্তবেষ্ট রােগ কহে। দম্ভবেষ্টগত রক্তের দোষহইতে এই পীড়া উৎপন্ন হয়। কফ ও রক্তের দুষ্টি জন্য দাঁতের গােড়ায় যন্ত্রণাদায়ক শােথ উৎপন্ন হয় এবং তাহা হইতে লালাস্রাব হইতে থাকে। এই রােগেরনাম শোষির। যে রােগে দন্তসকল নড়িয়া যায় এবং তালু, দন্ত ও ওষ্ঠক্লেদযুক্ত হয়, তাহাকে মহাশোষির কহে ; ইহা ত্রিদোষজনিত ও মারাত্মকরােগ। দন্তমাংস গলিত এবং তাহা হইতে রক্ত নিঃশ্রুত হইলে, তাহাকে,পরিদর কহে ; ইহা রক্ত, পিত্ত ও কফের দুটি হইতে জন্মে। দম্ভবেষ্ট্রে দাহও পাক থাকিলে এবং তজ্জন্য দন্তসকল পড়িয়া গেলে, তাহাকে উপকুশ কহে ;ইহা

 

রক্তপিত্তজনিত পীড়া। দন্তবেষ্ট কোনরূপে ঘর্ষণ পাইলে, যদি তজ্জন্যপ্রবল শােথ হয় ও সকল নড়িয়া যায়, তাহা হইলে তাহাকে বৈদর্ভ কহে,ইহা অভিঘাতজ। বায়ুর প্রকোপবশ ও হনুকুরে প্রবলযাতনার সহিত যেএকটী অধিক দন্ত উদগত হয়, তাহাকে খলীবর্দ্ধন কহে ; দন্ত উদগত হওয়ারপর আর ইহাতে কোন যন্ত্রণা থাকে না। অধিক বয়সে এই দাত উঠে বলিয়াচলিত কথায় ইহাকে “আকেন-দাত” কহে। কুপি বায়ু দন্ত আশ্রয় করিয়া,ক্রমে সেই দন্তকে বিষম ও বিকটরূপে পরিণত করিলে, অর্থাৎ দাতের গঠনাদিকুৎসিত ও বিকৃত হইলে, তাহাকে করালবরাগ কহে ; ইহা অসাধ্য ব্যাধি।হনুকুহরস্থ শেষের দন্তমূলে অতিঘন্ত্রণাদায়ক প্রবল শােথ হইয়া, তাহা হইতে লাল।নির্গত হইলে, তাহাকে অধিংস কহে ; ইহা কফজ। এইসমস্ত পীড়া ব্যতীতদন্তবেষ্টে নানাপ্রকার নাড়ীব্রণ (নালী-ঘ) উৎপন্ন হয়।

 

দন্তগত মুখরােগ।–দন্তগত রােগসমূহের মধ্যে দালন নামক দন্ত-
রােগে দন্তসকল বিদীর্ণ হইয়া যাওয়ার ন্যায় যাতনা হয় ; ইহা বাতজ রােগ।ক্রিমিদন্তক রােগে দন্তে কৃষ্ণবর্ণ ছিদ্র হয় এবং দস্তমূলে অতিশয় বেদনাদায়কশােথ, তাহা হইতে লালাস্রাব ও অকস্মাৎ বেদনার আধিক্য, এইসকল লক্ষণলক্ষিত হয়। ইহাও বাতকোপজ ব্যাধি। ভজনক রােগে মুখ বক্র ও দন্তভগ্ন হয় ; ইহা বাজে ব্যাধি। দস্তহর্ষবরাগে দন্তসমূহ শীত, উষ্ণ, বায়ু ওঅস্পর্শ সহ করিতে পারে না, অর্থাৎ ঐ সমস্ত স্পর্শে দাত শিশি করে ; ইহাবাত-পিত্ত পীড়া। দন্তমাংস দূষিত হইয়া, মুখের ভিতরদিকে ও বাহিরদিকেদাহ ও বেদনাযুক্ত যে শােথ উৎপাদন করে, তাহাকে দন্তবিধি কহে। এইরােগে দন্তে মলােৎপত্তি ও দন্ত হইতে স্রাব হইয়া থাকে ; বিদীর্ণ হইলে, ইহাহইতে পূ-রক্ত নিঃসৃত হয়। বায়ু ও

 

পিত্তদ্বারা দন্তগত মল শােষিত হইয়াকাকরের ন্যায় খরস্পর্শ হইলে, তাহাকে দশর্করা কহে। ঐ দন্তশর্করা ফাটিয়াগেলে, তাহার সহিত দন্তেরও কিয়দংশ ফাটিয়া যায় ; তখন তাহাকে কপালিকাকহে। এই পীড়ায় ক্ৰমশঃ দন্তসকল পড়িয়া যায়। দুষ্ট রক্ত ও পিত্তদ্বারা কোনদন্ত দগ্ধবৎ বা শববর্ণ হইলে, তাহাকে শ্যাবদস্ত কহে।জিহ্বাগত মুখরােগ, লক্ষণ ও প্রকারভেদ।-জিহ্বাগত রােগ-সমূহের মধ্যে বায়ুজনিত জিহ্বা ফুটিত, রসাস্বাদনে অসমর্থ এবং কণ্টকাকীর্ণঅর্থাৎ কঁাটা কাটা হয়। পৈত্তিক জিহ্বারােগে রক্তবর্ণ, দাজনক, ও দীর্ঘাকারকণ্টকসমূহদ্বারা জিহ্বা আকীর্ণ হইয়া থাকে। শ্লেষ্মজ জিহ্বরােগে জিহ্বা গুরুএবং শিমূলকঁাটার ন্যায় মাংসাঙ্গুরবিশিষ্ট হয়। জিহ্বাতলে দূষিত কফ ও রক্তদারুণ শােথ হইলে, তাহাকে অলস কহে। এই রােগ অত্যন্ত বর্ধিত হইলে,জিহ্বামূল পাকিয়া উঠে এবং জিহ্বা স্তম্ভিত হইয়া থাকে। ঐরূপ দূষিত কফ ওরক্ত হইতে যে শােথ জিহ্বাতলে উৎপন্ন হইয়া জিহ্বাকে উন্নত করিয়ারাখে এবং তাহাতে শােথ, দাহ, ক ও লালাস্রাব থাকিলে, তাহাকেউপজিহ্বা কহে।তালুগত মুখরােগ, লক্ষণ ও প্রকারভেদ।-

 

তালুগত মুখরােগ-সমূহের মধ্যে দুষ্টকফ ও দুষ্টরক্তদ্বারা তালুমূলে যে শােথ উৎপন্ন হয় এবংক্রমশঃ বর্ধিত হইয়া বায়ুপূর্ণ চৰ্ম্মপুটকের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট হয়, তাহাকেগলশুন্তী কহে। এই রোগের সহিত তৃষ্ণা ও কাস উপদ্রব থাকে। কফ ওরক্ত কুপিত হইয়া, তালুমুলে বন-কাপাসের ফলের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট এবং দাহও সূচীবেধবৎ বেদনাযুক্ত যে শােথ উৎপাদন করে, তাহাকে তুণ্ডীকেরী কহে ;ইহা পাকিয়া থাকে। রক্তদুষ্টিজ, রক্তবর্ণ, অনতিস্থূল, জর ও তীব্রবেদনাযুক্তবে শােথ তালুদেশে উৎপন্ন হয়, তার নাম অষ। শ্লেষ্মপ্রকোপজন্য তালুদেশেঅবেদনাযুক্ত এবং কচ্ছপের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট শােথ ক্রমশঃ উৎপন্ন হইয়াদীর্ঘকালে বর্ধিত হয় ; ইহাকে কচ্ছপবােগ কহে। রক্ত-প্রকোপজন্য তালুমধ্যে

 

মাংসাঙ্গুর উৎপন্ন হইলে, তাহাকে মাংসঘাত কহে। ইহাতে কোন বেদনা
থাকে না। দূষিত কফ ও মেদঃকর্তৃক তালুদেশে বেদনাবিশিষ্ট বোটাশূন্য কুলেরন্যায় শােথ হইলে, তাহাকে তালুপুগ্নট কহে। সে তালুরােগে তালুদেশ বারংবারশুষ্ক হইতে থাকে, বিদীর্ণ হইয়া যাওয়ার ন্যায় মানা হয় এবং যাহাতেরােগীর শ্বাস উপস্থিত হয়, তাহাকে তালুশেষ কহে , বায়ুপ্রকোপজন্য এইরােগ উৎপন্ন হয়। পিত্তের অধিক প্রকোপবশতঃ তালুদেশ পাকিস্না উঠিলে,তাহাকে তালুপাক কহে।কণ্ঠগত-মুখরােগ, লক্ষণ ও প্রকারভেদ।— বায়ু, পিত্ত ও কফ,| এই তিন দোযের প্রকোপজন্য বমধ্যেও নানাপ্রকার রােগ জন্মে ; তাহারঅধিকাংশই শস্ত্রসাধ্য এবং অসাধ্য। কণ্ঠরােগসমুহের মধ্যে রােহিণী ও অদিজিনামক দুইটী রােগ ঔষধ-প্রয়ােগে আরােগ্য হইয়া থাকে। আমরা কেবল সেইদুইটা রােগেরই লক্ষণাদি নির্দেশ করিতেছি। যে কণ্ঠরােগে কুপিত দোষকর্তৃকমাংস ও রক্ত দূষিত হইয়া, জি হাের চতুর্দিকে মাংসার

 

উৎপাদন করে, তাহাকেরােহিণী কহে। ঐ সমস্ত মাংসার অধিক বন্ধিত হইলে, ক্রমশঃ কণ্ঠরােধ হইয়া,রােগীর প্রাণবিনাশের সম্ভাবনা। জিহ্বার মুলদেশে ও উপরিভাগে, জিহ্বারঅগ্রভাগের ন্যায় আকৃতিবিশিষ্ট যে শােথ উৎপন্ন হয়, তাহাকে অধিজিহ্ব কহে।পাকিলে, এই রােগ অসাধ্য হইয়া থাকে।সৰ্বসর-মুখরােগ।—মুখের সমুদায় অংশে যে রােগ উৎপন্ন হয়,তাহাকে সৰ্ব্বসর-মুখরােগ কহে। বায়ুর আধিক্যে সমুদায় মুখমধ্যে সূচীবেধেরন্যায় বেদনাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘোটক জন্মে। পিত্তাধিক্যে ঐসকল স্ফোটক পীত-বর্ণ বা রক্তবর্ণ হয় এবং তাহাতে অত্যন্ত দাহ থাকে। শ্লেম্মাধিক্যে স্পোটকসমূহেঅল্প বেদনা ও চুলকানি থাকে এবং তাহার বর্ণ গাত্রের সমান হয়।ষ্ঠগত-মুখরােগ চিকিৎসা।–বাতজ ওউরােগে তৈল বা ঘৃতেরসহিত মােম মিশ্রিত করিয়া মর্দন করিবে। লােবান, ধূনা, গুগ্‌গুলু, দেবদারুও যষ্টিমধু, এইসকল দ্রব্যের চূর্ণ ধীরে ধীরে ওষ্ঠে ঘর্ষণ করিবে। মােম ওগুড়ের সহিত ধুনা, তৈল বা ঘৃত পাক করিয়া প্রলেপ দিলে, ওষ্ঠে সূচীবেধবৎবেদনা, কর্কশতা, ব্যথা ও পূয়-রক্তস্রাব নিবারিত হয়। পিত্ত ওষ্ঠরােগেতিক্তদ্রব্য পান-ভােজন এবং

 

শীতল দ্রব্যের প্রলেপ প্রয়ােগ করিবে। পিত্ত-বিধির ন্যায় ইহার চিকিৎসা করা আবঞ্চক। কফজ ওষ্ঠরােগে ত্ৰিকটু, সাচ।ক্ষার ও যবক্ষার, এই তিন দ্রব্যের সহিত মধু মিশ্রিত করিয়া ওষ্ঠে বর্ষণ করিবে।মেদোজনিত ওষ্ঠরােগে অগ্নিপ উপকারক। তাহাতে প্রিয়, ত্রিফলা ও লােধ,ইহাদের চূর্ণ মধুমিশ্রিত করিয়া ওষ্ঠে ঘর্ষণ করিবে। ওক্ষত নিবারণ জন্য ধূনা,গিরিমাটা, ধনে, ঘৃত, সৈন্ধব ও মােম একত্র পাক করিয়া, তাহার প্রলেপদিবে। ত্রিদোষজ ওষ্ঠরোগে যে দোষের অধিক প্রকোপ লক্ষিত হইবে, প্রথমেতাহারই চিকিৎসা করিয়া, পরে অন্যান্য দোষের চিকিৎসা করিবে। পাকিলে,ব্রণরােগের ন্যায় চিকিৎসা করিতে হইবে।

 

দন্তগত-মুখরােগ-চিকিৎসা। দন্তরােগসমূহের মধ্যে শীতাদ নামক
রােগে শুঠ, সর্ষপ ও ত্রিফলা, ইহাদের কাথদ্বারা কবল করিবে। হীরাকস,
লােধ, পিপুল, মনছল, প্রিয় ও তেজবল, ইহাদের চুর্ণ মধুমিশ্রিত করিয়া
প্রলেপ দিলে, শীতাদ রােগের মাংসপচন নিবারিত হয়। কুড়, দারুহরিদ্রা,
লােধ, মুতা, বরাহক্ৰান্তা, আকনাদী, চই ও হরিদ্রা, এইসকল দ্রব্যের চুর্ণদ্বারাদন্তবৰ্ষণ করিলে, রক্তস্রাব, ক ও বেদনা নিবারিত হয়। দণ্ডপুট রােগেরপ্রথম অবস্থায় রক্তমােক্ষণ এবং মধুমিশ্রিত পঞ্চলবণ ও যবক্ষার-চূর্ণের ঘর্ষণউপকারক। চলদন্ত রােগে বট ও অশ্বথ প্রভৃতি ক্ষীরিবৃক্ষের কাথের, অথবানীলঝাটীর কাথের কবল করিবে এবং কাচাবকুলফল চক্মণ করিবে। দন্ত-তােদ ও দন্তহর্ষ বেগে তৈলাদি বায়ুনাশক দ্রব্যের কবল করিবে। বকুল-ছালের কাথের কবল এবং

 

পিপুলচূর্ণ, ধৃত ও মধু একত্র মিশ্রিত করিয়া মুখেধারণ করিলে, দন্তশূল প্রশমিত হয়। দন্তবেষ্ট রাগে রক্তমােক্ষণ ; বট ওঅশ্বত্থাদি বৃক্ষের কাথে ঘৃত, মধু ও চিনি প্রক্ষেপ দিয়া তাহার কবল গ্রহণ; এবংলােধ, রক্তচন্দন, যষ্টিমধু ও লাক্ষা, ইহাদের চূর্ণ মধুমিশ্রিত করিয়া, ধীরে ধীরেতাহার ঘর্ষণ বিশেষ উপকারক। শৈশির রােগে রক্তমোক্ষণ, বটাদির কাথেরগণ্ডযধারণ এবং লােধ, মুত ও রসাঞ্জন, ইহাদের চূর্ণ মধুমিশ্রিত করিয়া তাহারপ্রলেপ দিবে। শীতাল রােগের ন্যায় পরিদর ও উপকুশ রােগের চিকিৎসাকরা আবশ্যক। উপকুশ রােগে পিপুল, শ্বেতসর্ষপ, শুঠ ও হিজলফল, এইসকল দ্রব্য উষ্ণজলে মর্দন করিয়া তাহার কবল করিৰে। দস্তবৈদর্ভ, অধিদন্ত,অধিমাস ও শুষিরবােগ শসাধ্য। দস্তনালীবােগে যে দন্তে নালী হয়, সেই

 

দটা উৎপাটন করিবে; কিন্তু উপর পাটীর দন্তে ইলে, আহা উৎপাটন কয়
উচিত নহে। জাতীপত্র, মদনফল, কটকী ও বৈছিল, ইহাদের, কাৎ মুখে
ধারণ করিবে, এবং লােধ, খদির, মন্নিষ্ঠা ও. যষ্টিমধু, এইসকল দ্রব্যের সহিততৈল পাক করিয়া, সেই তৈল প্রয়ােগ করিলে, দন্তনালী প্রশমিত হয়। দন্ত-শর্করা রােগে, দস্তমূলের কোন হানি না হয়, এরূপভাবে তাহা ছেদন করিয়া,সেইস্থানে মধুমিশ্রিত লাক্ষাচূর্ণ ঘর্ষণ করিবে। কপালিকা রােগে দন্তহর্ষের ন্যায়চিকিৎসা করিবে। ক্রিমিদন্তক রােগে হিং গরম করিয়া প্রলেপ দিৰে। বৃহত্তী,কুশিমা, এরমুল ও কণ্টকারীর ক্বাথের সহিত তৈল মিশ্রিত করিয়া তাহারগণ্ডুষ ধারণ করিবে। দ্রোণপুষ্পের (গলবসিয়ার) রস, সমুদ্রফেন, মধু ও তৈল,একত্র মিশ্রিত করিয়া,

 

তাহাদ্বারা কর্ণপূরণ করিলে, দাতের পােকা নষ্ট হয়।মনসাসিজের শিকড় চর্বণ করিয়া দন্তে চাপিয়া রাখিলে, দাতের পােকা পড়িয়াযায়। কাঁকড়ার পা বাটিয়া দন্তে প্রলেপ দিলে, নিদ্রাকালে দন্তের কড়মড় শব্দনিবারিত হয়। অথবা, কাকড়ার একখানি পা, গব্যদুগ্ধের সহিত পাক করিয়াদুগ্ধ ঘন হইলে, তাহা শয়নের পূর্বে পদদ্বয়ে লেপন করিবে; ইহাদ্বারা দন্তশব্দনিবারিত হয় ; দন্তরোগাশনিচুর্ণ ও দশনসংস্কারচূর্ণ প্রভৃতি দন্তসংশােধক ঔষধযাবতীয় দন্তরােগে বিবেচনাপূৰ্ব্বক প্রয়ােগ করিবে।

 

জিহ্বাগত-মুখরােগ-চিকিৎসা।–বায়ুজনিত জিরােগে বাতজ,
| ওষ্ঠবােগের ন্যায় চিকিৎসা কর্তব্য ; পৈত্তিক-জিরােগে ডুমুর প্রভৃতির কর্কশপত্রাদিদ্বারা জিহবা ঘর্ষণ করিয়া রক্তমােক্ষণ করিবে; পরে শতমূলী, গুলঞ্চ,ভূমিকুষ্মাণ্ড, মুগাণী, মাষাণী, অশ্বগন্ধা, কঁকড়াশৃঙ্গী, বংশলােচন, পদ্মকাষ্ঠ,পুণ্ডরীয়া, বেড়েলা, পীতবেড়েল, দ্রাক্ষা, জীবন্তী ও যষ্টিমধু এই সকল দ্রব্যেরচুর্ণ জিহ্বায় ঘর্ষণ করিবে এবং এইসকল দ্রব্যের কাথ প্রস্তুত করিয়া, তাহারকবল করিবে। শ্লৈষ্মিক-জিহরােগেও এইরূপ কর্কশপত্রের ঘর্ষণাদি দ্বারারক্তমােক্ষণ করা আবশ্যক । তৎপরে পিপুল, পিপুলমূল, চই, চিতামূল, শুঠ,মরিচ, গজপিঞ্জলী, রেণুকা, বড়এলাচ, যমানী, ইন্দ্ৰযব, আকনাদি, জীরা, সর্ষপ,ঘােড়ানিফল, হিং, বামুনহাটী, মুৰ্ব্বামূল, আইচ, যব, বিড়ত্ব ও সৈন্ধৰণৰণেরফবশ ধারণ

 

করিবে। মাণভস্থ সৈন্ধব লবণ ও তৈল একত্র মিশ্রিকলিজিহ্বায় ঘর্ষণ, এবং জামীর নেবু প্রভৃতি অদ্রব্যের কেশর কিঞ্চিৎ সীজেরআঠার সহিত মিশ্রিত করিয়া চর্বণ করিলে, জিবার জড়তা নিবারিত হয়।উপজিহােগে কর্কশপত্রাদ্বিারা জিহবা ঘর্ষণ করিয়া তাহাতে যবক্ষায় ঘর্ষণকরিবে; অথবা ত্ৰিকটু, হরীতকী ও চিতামূল, ইহাদের চুর্ণ ঘর্ষণ করিবে।এইসকল দ্রব্যের সহিত তৈল পাক করিয়া, সেই তৈল ব্যবহার করিলেও উপ-জিরােগ প্রশমিত হয়।

 

তালুরােগ চিকিৎসা!—প্রায় সমুদায় তালুয়ােগই অসুচিকিৎসা-
| সাধ্য। তন্মধ্যে গলশুন্তী নামক তালুবােগে সেফালিকার মূল চৰ্বণ করিলে,অথৰা বচ, আইচ, আকনাদি, রামা, কটকী ও নিমছাল, ইহাদের কাথেরফল করিলে, তাহা প্রশমিত হইয়া থাকে।কণ্ঠরােগ-চিকিৎসা।–বাতজ-বােহিণী রােগে রক্তমােণ করিয়া,তাহাতে লবণ-ঘর্ষণ এবং ঈষদুষ্ণ তৈলের কবলধারণ হিতকর। পৈত্তিকরােহিণী রােগে রক্তচন্দন, চিনি ও মধু একত্র মিশ্রিত করিয়া ঘর্ষণ করিবে; এবংদ্রাক্ষা ও ফলসার কাথের কবল করিবে। শ্লৈষ্মিক-রােহিণী রােগে স্কুল ওকটকীচূর্ণ ঘর্ষণ করিবে; এবং অপরাজিতা, বিড়ঙ্গ, দন্তী ও সৈন্ধব, ইহাদেরসহিত তৈল

 

পাক করিয়া সেই তৈলের নস্য লইবে ও কবল করিবে। রক্ত-ৰােহিণীতে পৈত্তিক-রােহিণীরাগের ন্যায় চিকিৎসা করিবে। অধিজিহবরােগে• উপজিহরােগের ন্যায় চিকিৎসা কর্তব্য। শুঠ ও মরিচ প্রভৃতি তীক্ষুদ্ৰব্যএবং লবণ ও উষ্ণদ্রব্য ঘর্ষণ করিলে, অধিজিহ্বরােগের শান্তি হয়। কালকচুর্ণ,পীতকচূর্ণ, ক্ষারগুড়িকা ও যবক্ষারাদি গুটী প্রভৃতি ঔষধ ব্যবহারে যাবতীয়কণ্ঠরােগেরই শান্তি হয়।

 

সৰ্বসর-মুখরােগ-চিকিৎসা।–সকল প্রকার মুখরােগে পটোলপত্র,
নিমপত্র, জামপত্র, আমপত্র ও মালতীগত্র এই পঞ্চপত্রের কাথদ্বারা কবলকরিবে। জাতীপত্র, গুলঞ্চ, দ্রাক্ষা, দুরালভা, দারুহরিদ্রা ও ত্রিফলা, ইহাদেরকাথ শীতল হইলে, তাহার সহিত মধুমিশ্রিত করিয়া কবল করিবে; ইহারামুখপাক বিনষ্ট হয়। পিপুল, জীর, কুড় ও ইব, ইহাদের চুর্ণ ধারণ করিলে,মুখপা, এবং মুখের ব্রণ, ক্লেম ও দুর্গন্ধ প্রশমিত হয়। সপ্তচ্ছদাদি ও পটোলাদিকাথ, নিরবটিকা ও বৃহৎ খদিয়বটিকা প্রভৃতি ঔষধ এবং বকুলাঙ্গ প্রভৃতি তৈলসর্বপ্রকার মুখরােগেই বিবেচনাপূর্বক

 

প্রয়ােগ করা উচিত।পথ্যাপথ্য।রােগবিশেষে দােষবিশেষের আবিষ্য, বিবেচনা করিয়া,সেই সেই দােষনাশক পথ্য ব্যবহার করিতে হইবে। সাধারণতঃ কফনাশক| দ্রব্যমাত্রই মুখরােগে বিশেষ উপকারক।নিষিদ্ধ কৰ্ম্ম।—মুখরােগমাত্রেই অদ্রব্য, মৎস্য, জলাভূমিজাত জীবেরমাংস, দধি, দুগ্ধ, গুড়, মাষকলাই ও কঠিনদ্ৰব্য ভােজন, অধােমুখে শয়ন, দিবানিদ্র।এবং দন্তকাষ্ঠদ্বারা মুখধাবন অহিতকর।

কর্ণরােগ

 

নামভেদ ও লক্ষণ।-কর্ণগত বায়ু অপারূপে ইতস্ততঃ বিচরণকরিয়া, কৰ্ণমধ্যে অতিশয় কষ্টদায়ক বেদনা উপস্থিত করে এবং তাহার সহিতঅন্য যে দোষ সংসৃষ্ট থাকে, সেই দোষের লক্ষণও প্রকাশ করে। এই ব্যাধিকেকর্ণশূল কহে। কমধ্যে ভেরী, মৃদঙ্গ, বা শঙ্খ প্রভৃতি শব্দের ন্যায় নানা-প্রকার শব্দ অনুভূত হইলে তাহাকে কর্ণনাদ কহে। কেবল বায়ু অথবা বায়ু।ও কফ এই উভয় দোষদ্বারা শব্দবহ স্রোত: অবরুদ্ধ হইলে, বাধিৰ্য্যরােগ জন্মে ;এই রােগে শ্রবণশক্তি নষ্ট হইয়া যায়। কমধ্যে বংশীরবের ন্যায় শব্দ অনুভূতহইলে, তাহাকে কর্ণক্ষেড় কহে। মস্তকে আঘাত লাগিলে, জলমগ্ন হইলে, অথবাকমধ্যে কোনরূপ ফোড়া হইয়া পাকিয়া গেলে, কর্ণ হইতে পায়, রক্ত ও জলদিনিঃশ্রুত হইতে থাকে। ইহাকে কর্ণস্রাব কহে। সর্বদা কর্ণমধ্য চুলকাইলে,তাহার নাম কর্ণক। পিত্তের উন্মাদ্বারা কর্ণমধ্যস্থ শ্লেষ্মা শুষ্ক হইলে, কর্ণমধ্যে

 

একপ্রকার মল জন্মে, তাহার নাম কর্ণগ্‌থ। স্নেহপদার্থাদি প্রয়ােগে ঐ কর্ণগ্‌থদ্রব হইয়া মুখ ও নাসিকাপথে নির্গত হইলে, তাহাকে কর্ণপ্রতিনাহ কহে ।ইহার সহিত অর্ধাবভেদক নামক শিরোেগ উপস্থিত হইতে দেখা যায়।পিত্তপ্রকোপ বশতঃ কর্ণ ক্লেদযুক্ত ও পূতিভাবাপন্ন হইলে, তাহাকে কর্ণপাকবলা যায়। যে কোন কারণে কর্ণমধ্য হইতে দুর্গন্ধ-পূষাদি নির্গ হইলে,তাহাকে পুতিকর্ণ কহে। কমধ্যে মাংস রক্তাদির পচনজয় তাহাতে ক্রিমিউৎপন্ন হইলে, অথবা কমধ্যে মক্ষিকাগণের ডিম্বপ্রসবজ কমধ্যে পােক।জন্মিলে, তাহাকে ক্রিমিকৰ্ণ রােগ কহে।এইসমস্ত পীড়া ব্যতীত

 

বিধি, অৰ্ব্বদ এবং কীটপ্রবেশ বা আঘাতাদি কারণেঅন্যান্য নানাপ্রকার পীড়া কমধ্যে উৎপন্ন হইতে পারে।কর্ণরােগ-চিকিৎসা।–আদার রস ॥ অর্ধতেল, মধু।• চারিআনা, সৈন্ধব ১ এক রতি ও তিলতৈল ।• চারি আনা, এইসকল দ্রব্য একত্রমিশ্রিত করিয়া তাহাদ্বারা কর্ণপূরণ করিলে, কর্ণশূল, কর্ণনাদ, বাধিৰ্য্য ওকর্ণড়ে রােগ উপশমিত হয়। রসুন, আদা, সজিনার ছাল, মূলা ও কলারবাগড়া, ইহাদের মধ্যে যে কোন একটীর বস ঈষদুষ্ণ করিয়া কমধ্যে পূরণকরিলে, বেদনার নিবৃত্তি হইয়া থাকে।

 

অকপত্রের পুটে বীজপত্র পােড়াইয়াতাহার উষ্ণৱস, অথবা আকন্দের পাকা-পাতায় ঘূত মাখাইয়া ও অগ্নিতে কল-সাইয়া তাহার উরস কর্ণে পূরণ করিলে, কর্ণশূল নিবারিত হয়। কর্ণনাদ,কর্ণড়ে ও বাধিৰ্য্যরােগে সর্ষপতৈলদ্বারা অথবা বাতরােগাক্ত মাষতৈলদ্বারাকর্ণপূরণ করিবে। গুড়মিশ্রিত শুঠের কাথের নস্যগ্রহণ ইহাতে বিশেষউপকারক। বট, অশ্বথ, পাকুড়, যজ্ঞডুমুর ও বেতস, ইহাদের ছাল-চূর্ণ এবংকয়েতবেলের রস ও মধু, একত্র মিশ্রিত করিয়া তারা কর্ণপূরণ করিলে,পূতিকর্ণ প্রশমিত হইয়া থাকে। কর্ণগ্‌থ রােগে প্রথমতঃ কমধ্যে তৈল-প্রয়ােগদ্বারা সেই মলপদার্থ ক্লিন্ন করিয়া, শলাকাদ্বারা তাহা নিঃসারিত করিবে। কর্ণের ক্রিমিবিনাশ জন্য হুড়হুড়ে নিসিন্দা ও ঈষলাঙ্গলমূলেররসে ত্ৰিকটুচুৰ্ণ প্ৰক্ষেপ দিয়া দ্বারা কর্ণপূরণ করিবে। সর্ষপতৈল-পূরণও বেগুনের ছাল পােড়াইয়া তাহার ধূম লাগান, ক্রিমিক রােগে বিশেষউপকারক।

 

কর্ণবেধজ শোথ।কর্ণবেধ-সময়ে যথাস্থানে কর্ণ বিদ্ধ না হইলে,
শােথ ও বেদনা জন্মিয়া থাকে ; তাহাতে যষ্টিমধু, যব, মঞ্জিষ্ঠা ও এরশুমুল
একত্র বাটিয়া, ঘৃত ও মধুমিশ্রিত করিয়া প্রলেপ দিবে। এই শােথ পাকিয়া
উঠিলে, ব্রণয়ােগের ন্যায় চিকিৎসা করিবে।প্রযােজ্য ঔষধ।-ভৈরবরস, ইন্দুবটী, সারিবাদি বটিকা, দীপিকাতৈল, দশমূলীতৈল, বিশ্বতৈল, জম্বাতৈল, শম্বুকাদিতৈল, নিশাতৈল ওকুষ্ঠাতৈল প্রভৃতি প্রসিদ্ধ ঔষধসমূহ কর্ণরােগবিশেষে অবস্থা বিবেচনা করিয়াপ্রয়ােগ করা আবশ্যক।পথ্যাপথ্য।–কর্ণরােগসমূহে দোষবিশেষের আধিক্য বিবেচনা করিয়া,পথ্যাপথ্য ব্যবস্থা করা উচিত। কর্ণনাদ, কর্ণড়ে ও বাধিৰ্য্য প্রভৃতি বায়ুপ্রধানকর্ণরােগে বাতব্যাধির ন্যায় এবং কর্ণপাক ও কর্ণস্রাব প্রভৃতি শ্লেষ্মপ্রধান রােগেআমবাতাদি পীড়ার ন্যায় পথ্যাপথ্য ব্যবস্থা করিতে হইবে।

নাসারােগ

 

নামভেদ ও লক্ষণ।—যে পীড়ায় বায়ুদ্বারা শ্লেষ্মা শােষিত হইয়ানাসারন্ধু, রুদ্ধ করে, সামধ্যে ধূমনিগমের ন্যায় যাতনা অনুভূত হয়, নাসিকাকখন শুষ্ক, কখন বা আর্দ্র হইয়া থাকে এবং প্রাণশক্তি ও আস্বাদশক্তি নষ্ট হইয়াযায়, তাহাকে পীনসরােগ কহে। পীনসের অপকাবস্থায় মাথাভার, অরুচি,পাতলা স্রাব, স্বরের ক্ষীণতা এবং নাসিকাপথে বারংবার সন্দি নির্গত হয়।পক হইলে, শ্লেষ্মা ঘন হইয়া নাসিকারন্ধে বিলীন হইয়া যায় এবং স্বর পরিস্কৃতকিন্তু অপক্কাবস্থায় অন্যান্য লক্ষণ ইহাতে বিদ্যমান থাকে। দুষ্ট রক্ত, পিত্তও কফদ্বারা বায়ু তালুমুলে দূষিত ও পূতিভাবাপন্ন হইয়া, মুখ ও নাসিকা পথেনির্গত হইলে, তাহাকে পূতিনশ কহে। যে রােগে নাসাশ্রিত দুষ্ট পিত্ত,নাসিকার মধ্যে পিড়কাসমূহ ও দারুণ পাক উপস্থিত করে, অথবা যে রােগেনাসিকা পুতিভাবাপন্ন এবং ক্লেদযুক্ত হয়, তাহাকে নাসাপাক কহে। বাতাদিদোষ দূষিত হইলে, অথবা ললাটদেশ কোনরূপে আঘাত প্রাপ্ত হইলে,

 

নাসিকাহইতে রক্তমিশ্রিত পূর্য নির্গত হইয়া থাকে, তাহাকে পূ-রক্ত রােগ কহে।জাটক নামক নাসামৰ্ম্মস্থানে কফানুগত বায়ু দূষিত হইয়া, অতি উচ্চ শব্দেরসহিত বারংবার নাসামার্গ দিয়া নির্গত হইতে থাকে ; ইহাকে ক্ষবধু অর্থাৎ হাঁচিকহে। তদ্রব্যের আম্রাণ-গ্রহণ, সূৰ্য্যাভিমুখে দর্শন, অথবা সূত্রাদিরনাসামৰ্ম স্পর্শ করিলেও হাঁচি উপস্থিত হইয়া থাকে ; তাহা আগন্তুক বন্ধু।মস্তকে পূর্বঞ্চিত ঘন কফ, সূৰ্য্যতাপ বা পিত্তরা বিদগ্ধ হইলে, সেই কফণরসবিশিষ্ট হইয়া, নাসিকাদ্বারা নির্গত হয়; ইহার নাম ভ্রংশধু-রােগ।স নাসারােগে নাসিকায় অত্যন্ত দাহ এবং অগ্নিশিখা ও

 

ধূমনির্গমের ন্যায়| যাতনার সহিত উষ্ণশ্বাস নির্গত হয়, তাহার নাম দীপ্ত। বায়ু ও কফদ্বারানিশ্বাসমার্গ রুদ্ধ হইলে, তাহাকে প্রতিনাহ কহে। নাসিকা হইতে ঘন বাপাতলা এবং পীত বা গুরুবর্ণ কফ নির্গত হইলে, তাহাকে নাসাম্রাব কহে।• সাস্রোতঃ ও তদগত শ্লেষ্ম, বায়ুকর্তৃক শােষিত ও পিত্তকর্তৃক প্রতপ্ত হইলে,অতিকষ্টে নিশ্বাস-প্রশ্বাস নির্গত হয়। এই রােগের নাম নাসাশােষ। মল-| মুত্রাদির বেগধারণ, অজীর্ণ, নাসারন্ধে, ধূলি বা ধূমপ্রবেশ, অধিক বাক্যকথন,ক্রোধ, ঋতুবিপৰ্যয়, রাত্রিজাগরণ,

 

দিবানিদ্রা, শীতলজলের অধিক ব্যবহার,শৈত্যক্রিয়া, হিমলাগান, মৈথুন ও রােদন প্রভৃতি কারণে মস্তকস্থ কফ ধনী-ভূত হইলে, বায়ু কুপিত হইয়া তৎক্ষণাৎ প্রতিশ্যার উৎপাদন করে ; আরবায়ু, পিত্ত, কফ ও রক্ত পৃথক পৃথক বা মিলিতভাবে ক্রমশঃ মস্তকে সঞ্চিতএবং স্ব স্ব কারণে কুপিত হইলে, কালান্তরে প্রতিশ্যায় রােগ উৎপন্ন হয়।প্রতিশ্যায় হইবার পূর্বে হাঁচি, মাথাভার, স্তব্ধতা, অঙ্গম, রােমাঞ্চ, নাসিক।হইতে ধূমনির্গমের ন্যায় অনুভব, তালুজালা ও নাক-মুখ দিয়া তরল জলাব,প্রভৃতি পূৰ্বরূপ প্রকাশিত হইয়া থাকে। বাতজ-প্রতিশ্যায়ে নাসিকা বিবদ্ধ ওআচ্ছাদিতের ন্যায় হইয়া থাকে, পাতলা স্রাব নির্গত হয় এবং গলদেশে তালুতেও ওষ্ঠে শােষ, ললাটদেশে সূচীবেধের ন্যায় বেদনা, নিরন্তর হাঁচি, মুখের২ঃসতা

 

এবং স্বরভঙ্গ হয়। পৈত্তিক-প্রতিশ্যায়ে পীতবর্ণ ও উষ্ণস্রাব নিঃসৃত২য়, নাক দিয়া কেন সধুম অগ্নি বাহির হইতে থাকে এবং রােগীও কৃশ, পাণ্ডুবর্ণ ও সন্তপ্ত হইয়া উঠে। শ্লৈষ্মিক প্রতিশ্যায়ে নাসিকা দিয়া বহুপরিমাণে| পাণ্ডুবর্ণ ও শীতল কফ নির্গত হয়, রােগীর শরীর ও চক্ষুদ্বয় শুক্লবর্ণ, মস্তকভারাক্রান্ত এবং কণ্ঠে, ওঠে, তালুতে ও মস্তকে অত্যন্ত কতৃ হইয়া থাকে। যেপ্রতিস্যায় পৰু ৰা অপক—যে কোন অবস্থাতেই অকারণে বারংবার উৎপন্ন ওবারংবার বিলীন হইয়া যায়, তাহা

 

সান্নিপাতিক। রক্ত-প্রতিশ্যায়ে নাসিকাদিয়া রক্তস্রাব, চক্ষুর রক্তবর্ণতা, মুখে ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং ঘ্রাণশক্তির বিনাশহইয়া থাকে।সাধ্যাসাধ্য লক্ষণ ও পরিণাম ।যে কোন প্রতিস্যায়ে নিঃশ্বাসেদুর্গন্ধ, ঘ্রাণশক্তি লােপ এবং নাসিকার, কথন আর্জ, কখন বন্ধ, কখন বাবিবৃত হইলে, তাহা দুষ্ট ও কষ্টসাধ্য হইয়াছে বুঝিতে হইবে। যথাকালেচিকিৎসা না হইলে, প্রতিস্যায় দূষিত হইয়া পড়ে এবং তাহাতে শ্বেতবর্ণের ক্ষুদ্রক্ষুদ্র ক্রিমি জন্মিতে পারে। ঐরূপ ক্রিমি জন্মিলে, ক্রিমিজ-শিবােলগের লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। প্রতিধ্যায় গাঢ়তর হইলে, ক্ৰমশঃ বাধি, নেহীনতা বানানাবিধ উৎকট নেত্ররােগ, ভ্ৰাণনাশ, শােথ, অগ্নিমান্দ্য, কাস ও পীনসবােগউৎপন্ন হইয়া থাকে।

 

নাসাশঃ —অশোরােগােক্ত মাংসাঙ্কুরের ন্যায় নাসিকামধ্যে এক প্রকার
মাংসার উৎপন্ন হয় ; তাহাকে নাসার্শঃ কহে। সচরাচর “নাসারােগ” বা
নাসার নামক এক প্রকার পীড়া দেখিতে পাওয়া যায়; তাহাতে নাসিকার মধ্যেরক্তবর্ণ একটা শােথ উপস্থিত হয় এবং তাহার সহিত প্রবল জ্বর, ঘাড়ে পৃষ্ঠে ওকটিদেশে বেদনা এবং সম্মুথদিকে শরীর আকুঞ্চিত করিতে কষ্টবােধ, এইসমস্তলক্ষণ দেখিতে পাওয়া যায়। ইহাও এক প্রকার নাসাঃ রােগের অন্তর্ভূত।নাসারােগ-চিকিৎসা।–সকলপ্রকার পীনসরােগ উৎপন্ন হইবামাত্রইগুড় ও দধির সহিত মরিচচুর্ণ সেবন করিলে, বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।কফল, কুড়, কাকড়াশৃঙ্গী, শুঠ,

 

পিপুল, মরিচ, দুরালভা ও কৃষ্ণজীরা, ইহাদেরচুর্ণ ও কাথ আদার রসের সহিত সেবন করিলে, পীনস, স্বরভেদ, নাসাম্রাব ওহলীমক প্রভৃতি রােগের শান্তি হয়। বব্যাষাগ-চুর্ণ নাসারােগে বিশেষ উপকারক।ইন্দ্ৰষব, হিং, মরিচ, লাক্ষা, তুলসী, কটকী, কুড়, বচ, সজিনাবীজ ও বিড়,ইহাদের চুর্ণের নস্য লইলে, পুতিনস্ত রােগ প্রশমিত হয়। শিতৈল ও ব্যাস্ত্রী-তৈলের নস্যগ্রহণেও পূতিন নিবারিত হইয়া থাকে। নাসাপাকবােগে পিত্ত-নাশক চিকিৎসা করিবে এবং বটাসি-ক্ষীরিবৃক্ষের ছাল বাটিয়া ও।

 

ঘৃতমিশ্রিতকরিয়া প্রলেপ দিবে। পূৰ-রক্ত রােগে রক্তপিত্তনাশক নস্যগ্রহণ এবং ঐ রোগােক্তঔষধাদি সেবন করিবে। ক্ষৰথুরােগে ওঠ, কুড়, পিপুল, বেলমূল ও দ্রাক্ষা,হাদের কাথ ও কঙ্কের সহিত যথাবিধি ঘৃত ও তৈল পাক করিয়া, তাহার নগ্ৰহণ কৰিৰে। গুগগুলু ও মােম একত্র দগ্ধ করিয়া তাহার ধূম গ্রহণ করিলে,বধু ও ঐশখু রােগ নিৰারিত হয়। স্বতভৃষ্ট আমলকী কঁজিসহ পেষণ করিয়া,১

 

দৃষ্টিশক্তির হানি হয়। তাহাতে দুরস্থ বস্তু বা সূক্ষ্মবস্তু দৃষ্টিগােচর হয় না, অথবারাত্রিকালে কোন বস্তু দেখিতে পাওয়া যায় না। রাত্রিকালে কোন বস্তু দেখিতেপাইলে, তাহাকে ব্যাঙ্ক নামে অভিহিত করা হয়।অভিষ্য-চিকিৎসা করবীরের কচিপত্র ছিড়িলে যে রস নির্গতহয়, তাহা চক্ষুতে দিলে, অথবা দারুহরিদ্রার কাথ, কিংবা স্তনের দুগ্ধের সহিতরসােদ ঘষিয়া চক্ষুতে পূরণ করিলে, অভিষন জন্য অশ্রুস্রাব, দাহ ও বেদনা সত্বরপ্রশমিত হয়। চক্ষুর শােথ নিবারণজন্য সৈন্ধব, দারুহরিদ্রা, গিরিমাটী, হরীতকীও সজন, একত্র মর্দন করিয়া চক্ষুর বাহিরে চতুর্দিকে প্রলেপ দিবে; তাহারাচক্ষুর বেদনা প্রভৃতির শান্তি হয়। অথবা গিরিমানী, রক্তচন্দন, শুঠ, খড়ি ও বচএইসকল দ্রব্য শীতল-জলসহ পেষণ করিয়া চক্ষুতে সেচন করিলে, বাতাভিষন্দনিবারিত হয়।চক্ষুর রক্তবর্ণতা-

 

বিনাশের জন্য ফটকিরির জল বা গােলাপজল চক্ষুমধ্যেদিবে। চক্ষুর শােথ নিবারণ ফন্য পােস্তটেড়ি সিদ্ধ করিয়া তাহার স্বেদ দিবে।গরমভাতে ঘৃত মাখাইয়া, নেকড়ার মধ্যে করিয়া তাহার স্বেদ লইলে, চক্ষুর যন্ত্রণাশীঘ্র নিবারিত হয়। নেত্ৰপাক ও অধিমন্থ প্রভৃতি রােগেও এইসমস্ত ঔষধাদিপ্রয়ােগ করিবে। মস্তকে যন্ত্রণা থাকিলে, শিয়ােলরাগােক্ত শিরঃশূলাদ্রিবরসপ্রভৃতি কতিপয় ঔষধ এবং মহাদশমূল প্রভৃতি তৈল ব্যবস্থা করিবে।নেত্ররােগে অঞ্জন ও ঔষধ – নেত্ৰয়ােগ অপরিপক হইলে, অর্থাৎশােথ, বেদনা, ক ও অশ্রুপাত প্রভৃতির উপশম হইলে, অঞ্জন

 

দেওয়া কর্তব্য।হরিদ্রা, দারুহরিদ্রা, যষ্টিমধু, দ্রাক্ষা ও দেবদারু, এইসকল দ্রব্য ছাগদুদ্ধের সহিতপেষণ করিয়া, চক্ষুতে তাহার অঞ্জন দিবে। বাবলার কাথ পুনৰ্ব্বার পাক করিয়াঘনীভূত হইলে, মধুমিশ্রিত করিয়া, তাহার অঞ্জন নিলে, নেত্রস্রাব নিবারিত হয়।বিপত্রের রস অৰ্ধতােল, সৈন্ধবলবণ ২ দুই রতি ও গব্যঘৃত ৪ চারিতি,একত্র তাম্রপাত্রে একটা কড়ীদ্বারা ঘর্ষণ করিয়া, খুঁটের আগুনে গরম করিবেতৎপরে স্তনদুগ্ধের সহিত মিশ্রিত করিয়া তাহার অঞ্জন লইলে, চক্ষুর শােথ,রক্তদাৰ, বেদনা ও অভিষন্দ প্রশমিত হয়। চন্দ্রোদয়বৰ্ত্তি, বৃহৎ চন্দ্রোদয়ৰক্তি,এবং নাগার্জুনের অঞ্জন লইলেও নানাপ্রকার চক্ষুরােগ নিবারিত হয়। বিভী-তকাদি, বাসাদি ও বৃহৎ বাসাদি পাচন, মহাফিলান্ত ত এবং নয়নচলৌহ প্রভৃতি ঔষধ, যাবতীয় নেত্ররােগে বিবেচনা পূর্বক প্রয়ােগ করিবে। মধুরসহিত ত্রিফলাচুর্ণ সেবন করিলে, সমুদায় নেত্রবােগেই বিশেষ উপকার হয়।দৃষ্টিক্ষীণতা ও রান্ধের চিকিৎসা। দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা উপ-

 

স্থিত হইলে, মহাত্রিফলাদ্য ঘৃত, অশ্বগন্ধা ঘৃত, বৃহৎ ছাগলাদ্য ঘৃত, মকরধ্বজ,বিষ্ণুতৈল, এবং নারায়ণ-তৈল প্রভৃতি বায়ুনাশক ও পুষ্টিকারক ঔষধ প্রয়ােগকরিতে হয়। রান্ধতা নিবারণ জন্যও ঐসমস্ত ঔষধ সেবন করাইবে এবংসান, হরিদ্রা, দারিদ্রা, মালতীপত্র ও নিমপত্র,-গােম-রসের সহিত এইসকল দ্রব্যের বৰ্ত্তী প্ৰস্তুত করিয়া তাহার অঞ্জন দিবে। প্রত্যহ সন্ধ্যাকালে পাণেররস তিন চারি ফোটা চমধ্যে দিলে, রান্ধতায় বিশেষ উপকার হয়। পাণবা কলাফলের মধ্যে নােকােকা পূরিয়া, রােগীর অজ্ঞাতসারে তা ভক্ষুণকরাইলে, রান্ধতা নিবারিত হয়।পথ্যাপথ্য।-অভিষ্য প্রভৃতি পীড়ায় লঘুপাক, রুক্ষ ও শ্লেষ্মনাশকদ্রব্য ভােজন করিবে। কিন্তু জ্বরাদি উপসর্গ থাকিলে, উপযুক্তমাত্রায় উপবাসদেওয়া আবশ্যক।মৎস্য, মাংস, অম্ল, শাক, মাষকলাই, দধি

 

ও গুরুপাক দ্রব্য ভােজন এবংসান, দিবানিদ্রা, অধ্যয়ন, স্ত্রীসঙ্গম, রৌদ্রাদির আতপ-সেবন ও চক্ষুতে আলো ওধুম লাগান,- এইসমস্ত নেত্ররােগে অনিষ্টকারক।দৃষ্টিদৌর্বল্য ও রান্ধ রােগে পুষ্টিকর স্নিগ্ধ ও বায়ুনাশক দ্রব্য ভােজনকরা উচিত। রােহিত-মৎস্যের মস্তক, মাংস, ঘৃত, দুগ্ধ, মাখন, লুচি ও মােহন-ভােগ প্রভৃতি বলকর পথ্য এই রােগে বিশেষ উপকারজনক।রুক্ষ আহারাদি, ব্যায়াম, রৌদ্রাদির আতপ-সেবন, চক্ষুতে আলাে ও ধুমলাগান, পরিশ্রম, পর্যটন, অধ্যয়ন ও স্ত্রী-সহবাস প্রভৃতি ধাতুক্ষয়কারক কাৰ্যাদিএই রােগে অনিষ্টকারক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.