আন্তর্জাতিক খেলার খবর বাংলাদেশ রাজনৈতিক

সকল রোগ পরীক্ষা করার নিয়ম।

সকল রোগ পরীক্ষা করার নিয়ম

 

 

পরীক্ষার নিয়ম।—নাড়ীজ্ঞানদ্বারা রােগ-পরীক্ষা সাধারণ চিকিৎসকগণের নিতান্ত দুঃসাধ্য ; এইজন্য পাশ্চাত্য চিকিৎসকগণ শারীরিকসস্তাপপরীক্ষা করিয়া রােগনির্ণয় করিবার উপযােগী এক যন্ত্রের আবিষ্কার করিয়াছেন।এই যন্ত্রের ইংরাজী নাম থার্মোমিটার। ইহারা শারীরিক তাপের পরিমাণ স্থির করা যায় বলিয়া, বাঙ্গালা ভাষায় ইহাকে “তাপমান

কবিরাজি শিক্ষা।

 

যন্ত্র কহে।এই যন্ত্রৰারা সভাপ-পরীক্ষা করিতে হইলে, রােগীকে “কাইত” ভাবে শয়ন কইতে হয়; এবং যে পার্থ তাহার নিয়দিকে থাকে, সেইপাৰে কক্ষদেশে অর্থাৎ বগলের নীচে তাপমান-যন্ত্রের মূলভাগ অর্থাৎ যে ভাগে পারদ থাকে, সেই ভাগটা চাপিয়া রাখিতে হয়। কক্ষদেশ ঘর্মাক্ত থাকিলে অফ দ্বারা তাহামাইয়া দেওয়া আবশ্যক। চাপিয়া ধরিবার সময় ঐ যন্ত্রটা যেন উত্তমরূপে আবৃত

সাপ পরীক্ষা

 

শারীরিক-সন্তাপস্পর্শে ঐসময় যন্ত্রস্থ পায় ক্ৰমশঃ উপরদিকে, উঠিতেথাকে। এই উচ্চাংশে কতকগুলি অঙ্ক ও দাগ বা চিহ্ন আছে। সেই সমস্তদাগ ও অঙ্কচিহ্নের প্রত্যেকটীকে এক এক ডিগ্রী কহে।, পা যত ডিগ্রী পৰ্যৰু উখিত হয়, শরীরের সন্তাপও সেইপরিমিত বলিয়া নিশ্চয় করিবে।তাপমান-যন্ত্র কক্ষদেশে স্থাপন করিয়া পরীক্ষা করাই সাধারণ নিয়ম। তক্তি উরু, মুখমধ্য ও সরল:অন্ত্রের মধ্য প্রভৃতি স্থানেও. তাপমান-যন্ত্ৰ দিয়া সন্তাপ-পরীক্ষার নিয়ম আছে। সরলামধ্যে, তাপনির্ণয় করিতে হইলে রােগীকে বাম পার্শ্বে শয়ন করাইয়া যন্ত্র ব্যবহার করিতে হয়; এবং মুখমধ্যে, ব্যবহার করিতে হইলে জিহবার নীচে ঐ যন্ত্র দিয়া মুখ বন্ধ

 

 

করিয়া থাকিতে হয়। অত্যন্ত শীর্ণ,অচেতন বা অস্থির শিশু-রােগিগণের তাপনির্ণয়কালে সুবিধামত এইসকল স্থানে।| তাপমান-যন্ত্র ব্যবহৃত হইয়া থাকে। যে কোন স্থানে ব্যবহারকালে ৫ হইতে | ১০ মিনিট পর্যন্ত যন্ত্রটা ঐরূপ আবৃত করিয়া রাখিতে হইবে। পারদ উখিত হইবার সময়ে কিরূপভাবে অর্থাৎ দ্রুতগতিতে কি মৃদুগতিতে উখিত হইতেছে,তাহার প্রতিও লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। অধিকাংশ যােগেই প্রাতঃকালে বাস ন্ধ্যাকালে তাপনির্ণয় করিতে হয়। তাপনির্ণয়কালের এক ঘণ্টা কাল পূর্ব ।| হইতে রােগীর সুস্থিরভাবে থাকা উচিত। কঠিন রােগসমূহে সর্বদাই দুই বাএক ঘণ্টা অন্তর তাপনির্ণয় করা বিশেষ আবশ্যক।

 

 

https://usabcnews.com/%e0%a6%b8%e0%a6%95%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf/

সুস্থশরীরে স্বাভাবিক সন্তাপ ;-৯৮৪) ৯৮ দশমিক ৪ ডিগ্রী ফারহিটু,২৬ বৎসরের বয়স্ক ব্যক্তিদিগের স্বাভাবিক সন্তাপ (৯৯৪ ) ৯৯ দশমিক৪ ডিগ্রী ফারহিট এবং ৪০ বৎসরের অধিক বয়স্কদিগের স্বাভাবিক সন্তাপ (৯৮৮) ৯৮ দশমিক ৮ ডিগ্রী, ফারহিট হইয়া থাকে। ব্যায়ামাদি কাৰ্য্যধারা অঙ্গচালনা করিলে অগ্নির তাপ বা রৌদ্রের উত্তাপ লাগিলে, গ্রীষ্ম প্রধান দেশে বাস করিলে এবং স্বারের পরে সন্তা-পরিমাণ ইহা

 

অপেক্ষা অধিকও হইয়া থাকে। দিবা-নির পরে, বিশ্রামসময়ে এবং কোনরূপ পরি-শ্রম না করিলে, স্বাভাবিক সন্তাপ অপেক্ষা দেড় ডিগ্রী ফারহিট কম সন্তাপ হইয়া  থাকে। সুস্থশরীরে স্বাভাবিক সন্তাপ রাত্রি দ্বিপ্রহরের সময়ে সর্বাপেক্ষা অল্প, এবং প্রাতঃকাল হইতে ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাইয়া দিবা দ্বিপ্রহরে সর্বাপেক্ষাঅধিক

কবিরাজি শিক্ষা

রােগভেদে সন্তাপভেদ।-সামরূপজয়ে শীত-সন্তাপ ১০১ডিগ্রীফারহিটে  অধিক হয় না। প্রবলজয়ে ১০ ডিগ্রীর অধিক সন্তাপ হয় না।০৬.৫ ডিগ্রী সন্তাপ হইলে, সেই জ্বর সাতিক, এবং ১০৮৫ ডিগ্রী হইলে,সেই করে রোগীর মৃত্যু হইয়া থাকে। অর বা অন্ত কোন প্রদাহযুক্ত পীড়ায়কোন উপসর্গ উপস্থিত হইলে, উত্তাপের নির্দিষ্ট পরিমাণ অপেক্ষা অধিক উত্তাপ  হইয়া থাকে। মুখমণ্ডলের বিসর্গ, মস্তিষ্ক-আবরক

ঝিল্লীর তীব্র প্রদাহ, ফুসফুসের প্রখর-প্রদাহ, অভিন্যাস আর, এবং বসন্তবেগে সন্তাপ ১০৬ বা ১০৭ ফারহিটু পর্যন্ত হইয়া থাকে। হাতাপমান যন্ত্র।ব্যতীত অপরাপর জয়যুক্ত রােগেকাচিৎ ১০ বা ১০১ ডিগ্রীহইলে রােগ সামান্য বলিয়া বুঝিতেহইবে; কিন্তু যদি ১০৪ বা ১০৫১৭ মহাসঙ্কটডিগ্রী হয়, এবং সেইরূপ সন্তাপউৎকট জ্বর১০২ অধিকারসর্বদা থাকে, তবে সেই মােগ ক-সাধ্য হইয়াছে বুঝিতে হইবে।৯৯ স্বাভাবিক তাপ১০৬ বা, ১৭ ডিগ্রী

 

পর্যন্ততাপহ্রাসসন্তাপ ভয়জন, ১০৯ বা ১১০৯৫ স্তিমিত (কোত্যা।)ডিগ্রী সন্তাপ হইলে নিশ্চয়ই মৃত্যুহইয়া থাকে। উরঃক্ষত বা রাজহ্মারােগে অথবা ফুসফুস বা শরীরের।অভ্যন্তরস্থকনগোটক হইলে শরীরের সন্তাপ১২ হইতে ১০৫ ডিগ্রী এবং কখনকখন ইহার অধিকও হয়। যে পরি-মাণে ফোটকের বৃদ্ধি হয়, সঙ্গেসুরে সন্তাপও, সেই পরিমাণে| বৃদ্ধি পাইয়া থাকে। ক্ষোটক পাকিয়া, তাহাতে অতি সামান্সপহইলে, শারীরিক সন্তাপ ১০১ ডিক্রী হয়। আভ্যন্তরীণ স্পোটকের

অন্যান্যযায়।আকম।ক্ষণ প্রকাশ পায় অনেক পুর্ন হইতেই শারীরিক সন্তাপ ক্রমশঃ বৃদ্ধিপা ইতে থাকে।অত্যন্ত রক্তস্রাব, অনাহার, পুরাতন রােগ, মস্তিষ্ক ও মজায় আঘাত, অথবাহৃদগে, ফুসফুসে, বা মূত্রযন্ত্রে কোন পুরাতন বােগ থাকিলে, শারীরিক সন্তাপ দিবা-ভাগে,ফে পরিমাণে থাকে, রাত্রিকালে তাহা অপ্ৰেক্ষা কম হইতে দেখা যায়।

 

যাবতীয় লােকেই শারীরিক সন্তাপ ১০ হইতে ১০৫ ডিগ্রী হইয়াজন্মগতএক অবস্থায় থাকিলে, তাহা হইতে কোন না কোন উপসর্গ প্রকাশ পাইবারসম্ভাবনা। রােগ উপশম হইবার সময়ে শত সন্তাপ যথাক্রমে অল্প হইয়াআসিলে, রােগের পুনরাক্রমণের আশ থাকে । বিষমজরে, পুরান ক্ষয়-কারক রােগে, এবং তরুণরে মৃত্যু নিকটবর্তী হইলে শরীরের সন্তাপ স্বাভাবিকসন্তাপ অপেক্ষা কম হইয়া যায়। কিচিকা রােগে মৃত্যুলক্ষণ উপস্থিত হইলে,সন্তাপ ৭৭ হইতে ৭৯ ডিগ্রী ফারহিট প্যন্ত নামিয়া থাকে

 

 

নতুন কিছু – জুরাধিকার

 

 

আকর্ণন প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ।বণেন্দ্রিয় দ্বারা বকের নানাবিধ শব্দ-পরীক্ষা–আকর্শন নামে অভিহিত। ইহা দুইপ্রকারে সাধিত হয়। যথা গ্ৰত্যক্ষ ওপরােক্ষ বা যন্ত্রসাপেক্ষ। বক্ষের উপরিভাগেই কর্ণ স্থাপিত হইতে পারে, অথবাবক্ষের উপর একখানি তোয়ালে বা রুমাল অথবা পরিধেয় ব্রাংশ স্থাপিত করিয়াতদুপরি আফর্ণন করা যাইতে পারে। এই প্রক্রিয়াকেই প্রত্যক্ষ আকর্শনকহে। দ্বিতীয় পরােক্ষ বা যন্ত্রসাপেক্ষ; “ষ্টেথস্কোপ নামক যন্ত্রয়া এইএকার আকর্শন সম্পাদিত হয

 

নানাকারণে এই যন্ত্রই এখন সর্বদা ব্যবহৃতহইয়া থাকে। কিন্তু স্থানবিশেষে প্রত্যক্ষ প্রক্রিদ্ধারাও বন্দোগরের শব্দ সময়েসময়ে আকর্ণিত হয়; শিশুদিগের বক্ষঃপরীক্ষাকালে এবং পৃষ্ঠদেশে কর্ণ স্থাপনকরিতে চইলে, এই প্রণালী অবথিত হইয়া থাকে।

 

‘ষ্টেথস্কোপ’ নানাবিধ ; কিন্তু যে প্রকার “ষ্টেথস্কোপ সৰ্ব্বদা ব্যবহৃত হয়,এস্থলে তৎসম্বন্ধে দুই চাটি ল যাইতেছে। এই যন্ত্র নলাকার, ইহাকা, বার বা ধাতুনির্শিত। যন্ত্রের এক প্রান্ত (৩ চিহ্নিত)“ইয়ার-পি” অর্থাৎকর্ণফলক এবং অপর প্রান্ত (১ চিহ্নিত। “চেষ্ট-এণ্ড” অর্থাৎ বক্ষঃপ্রান্তনামেঅভিহিত। এই দুই প্রান্তের মধ্যস্থ (২ চিহ্নিত) অংশ নলাকার শূন্যগর্ভকাষ্ঠখণ্ড অথবা রবারের নল। ইহাকে “ষ্টে” বলা যায়। ষ্টেথস্কোপব্যবহার করিবার সময় বিশেষ সাবধান হওয়া আবশ্যক; তৎকালে পরীক্ষকেরদেখিতে হইবে যে, যন্ত্রের বক্ষঃপ্রান্ত সম্পূর্ণভাবে বক্ষের উপরিভাগে স্থাপিতহইয়াছে এবং কর্ণফলকে কর্ণ যথানিয়মে নিবেশিত হইয়াছে। আকৰ্ণন-কালেযন্ত্রটী

 

 

অঙ্গুলিরা ধারণ করা এবং ইহার বক্ষঃপ্রান্ত বক্ষের উপর জোরে চাপিয়ারাখা অনুচিত। আরও, সেই সময়ে যন্ত্রের গাত্রে যাহাতে বস্ত্রাংশ বা অন্য কোনপদার্থ না লাগে, তদ্বিষয়ে সতর্ক হওয়া আবশ্যক। অধুনা রবারের দ্বিনবিশিষ্ট“ষ্টেথস্কোপ প্রায়ই ব্যবহৃত হইয়া থাকে (৩য় চিত্র।) কিন্তু এস্থলে একথা বলাআবশ্যক যে, যন্ত্রের পারিপাট্য বা গৌরব বিষয়ে অধিক মনােযােগী না হইয়া আকৰ্ণন-কাৰ্য্যে অধিকতর মনোেযােগ করিলে, চিকিৎসক বক্ষঃপরীক্ষায় পারদর্শিতা 

 

 

১। ট্রেকিয়্যাল।-কণ্ঠের সম্মুখে শ্বাসনালীর উপরিভাগে ষ্টেথ-স্কোপ, স্থাপন করিলে, এই শব্দ শুনতে পাওয়া যায়। ইহা অত্যুচ্চ এবং অল্প বাঅধিক পরিমাণে শূন্যগর্ভ। ইহা খাসের সহিত সমকালে উদ্ভূত হয় এবং সমানবেগে আদ্যোপান্ত অবস্থিতি করে। ইহা প্রধানতঃ কণ্ঠনালী হইতে উদ্ভূত।

 

২। ব্রঙ্কিয়্যা।-ইহা পূর্বোক্ত শব্দের ন্যায় উচ্চ বা শূন্যগর্ভ নহে,ইহা কর্কশ। ইহাও কণ্ঠনালী হইতে উদ্ভূত; তবে বৃহত্তর ব্রঙ্কিয়াই দ্বারা বাহিরহইবার সময় পরিবর্তন হইয়া থাকে।

 

৩। পালমােনারী বা ভেসিকিউলার।-আকৰ্ণন করিলে বক্ষের অধিকাংশ স্কুলেই খাসগ্রহণ কালে মৃদুসমীরণবৎ একপ্রকার শব্দ নিরৰুচ্ছেদেশুনিতে পাওয়া যায়। ইহাই পালমােনারী বা ভেসিকিউলার শব্দ।স্ত্রী পুরুষের বয়সভেদে এইসকল শব্দের তারতম্য ঘটিয়া থাকে; শিশুদিগেরমধ্যেও অনেক প্রভেদ লক্ষিত হয়। শিশুদিগের এইসকল শব্দ অত্যুচ্চ, এবংনিঃশাস অপেক্ষা, প্রশাস বিলম্বিত। বৃদ্ধদিগের শব্দ মৃদু । কিন্তু তাহাদিগেরফুসফুসের উপাদানসমূহের অগজননবশতঃ এখাস-শব্দ, শিশুদিগের ন্যায় বিলম্বিত।মন্ত্রগণের শ্বাস প্রায়ই উচ্চ; কখন কখন ইহা :জার্কিং” অর্থাৎ ঝাকি দেওয়ারমত প্রকৃতিবিশিষ্ট।

 

মূর্ত পরীক্ষা

পরীক্ষার উপযুক্ত মূত্র রোগসমূহের বা বাতাদি দোষের নিরূপণ-বিষয়ে পরীক্ষাও বিশেষ উপযােগী। নির্দিষ্ট লক্ষণানুসাৰে মূত্রের বর্ণ বাঅন্যান্য বিষয়ের বিকৃতিবিশেষ দোষভেদ নিশ্চয় কাকে মুত্র-পরীক্ষা কহে।রাত্রি চাহিদণ্ড থাকিতে নিদ্রা ত্যাগ করিবার সময় প্রথম মুত্রধার পরিত্যাগপূৰ্ব্বক, মধ্যের মূত্র-ধারা একটা কাচপাত্রে ধরিয়া রাখিতে হয়। এইরূপ মূত্রইপরীক্ষার উপযুক্ত। মূত্র পরীক্ষাকাণে বারংবার তাহা আলােড়িত করিয়া,তাহাতে বিন্দু বিন্দু তৈল নিক্ষেপ করা আবশ্যক।

 

 

প্রকৃতিভেদে মূত্রের বর্ণ।- বাত-প্রকৃতিক ব্যক্তির স্বাভাবিক মূত্রশ্বেতবর্ণ; পিত্ত-প্রকৃতিক ও পিশ্লেষ্ম-প্রকৃতিকের মূত্র তৈলের স্যায় কফপ্রকৃতিকের মূত্র আবিল অর্থাৎ ঘােলা ; বাতশ্লেষ্ম-প্রকৃতিকের মূত্র ধন ও শ্বেত-বর্ণ; রক্তবাত-প্রকৃতিকের মূত্র রক্তবর্ণ; এবং রক্তপিত্ত-প্রকৃতিকের মূত্র কুসুমফুলের ন্যায় বর্ণবিশিষ্ট হইয়া থাকে। রােগবিশেষের অন্যান্য লক্ষণাদি প্রকাশনা পাইলে, কেবল এইরূপ মূত্র পরীক্ষাদ্বারা কোনরূপ পীড়ার আশঙ্কা করাউচিত নহে।

 

 

দূষিত-মূত্রলক্ষণ।—বাত-দুষ্ট মূত্র মি, পাষণ অর্থাৎ কৃষ্ণপীতবর্ণ,অথবা অরুণবর্ণ-হয়; এই সুত্রে তৈলবিন্দু নিক্ষেপ করিলে, সেই তৈলমিশ্রিত বিন্দু বিন্দু মূত্রবিহু উপরে উঠিতে থাকে। পিত্ত-দুই মূত্র রক্তবর্ণ ; তাহাতে তৈলবিন্দু নিক্ষেপ করিলে, তাহা হইতে বুদবুদ উৎপন্ন হয়। শ্লেষ্ম-তুষ্ট মূত্র ফেনযুক্ত এবংজলাশয়ের (ডােবার) জলের স্যায় অবিল অর্থাৎ ঘােলা হইয়া থাকে। আম-পিত্তদুষিত মূত্র

 

শ্বেতসর্ষপতৈলের ন্যায় বােধ হয়। বাত-পিত্তদ্বারা দূষিত মূত্রে| তৈল নিক্ষেপ করিলে, তাহা হইতে খাববর্ণ বুদবুদ উৎপন্ন হয়। বায়ু ও গোএই উভয় দেবিদ্বারা দুষিত মূত্রে তৈল নিক্ষেপ করিলে, ঐ মুত্র তৈলের সহিত| মিশ্রিত হইয়া কাজির ন্যায় লক্ষিত হয়। শ্লেষ্ম ও পিত্ত এই উভয়দোষরা দূষিতমূত্র পাণ্ডুবর্ণ হয়। সন্নিপাত দোষ অর্থাৎ বাত, পিত্ত ও গো, এই তিনদোষদ্বারা মুত্র দুষিত হইলে, তাহা রক্ত বা কৃষ্ণবর্ণ হইয়া থাকে। পিস্ত

নেত্ৰ পরীক্ষা

 

প্রধান সন্নিপাথরােগীর মূত্র ধরিয়া রাখিলে, তাহার মধ্যভাগ পীতবর্ণ এবংঅধােভাগ রক্তবর্ণ বােধ হয়; এইরূপ বাতপ্রধান-সন্নিপাতে মধ্যভাগ কৃষ্ণবর্ণ ওকফাধিক সন্নিপাতে মধ্যভাগ তরুণ বােধ হইয়া থাকে।

 

 

বিশেষ লক্ষণ।– প্রায় সমুদায় রােগেই এই সমস্ত লক্ষণ বিকেনাকরিয়া, রােগের দোযভেদ অনুমান করা আবশ্যক। কয়েকটা মাত্র রােগেমূত্রলক্ষণের কিঞ্চিৎ বিশেষ লক্ষণ নির্দিষ্ট আছে; যথা জুরাদি রােগে রসেরআধিক্য থাকিলে, মুত্র ইক্ষুরসের স্থায় হয়; জীর্ণজরে মূত্ৰ ছাগমূত্রের ন্যায় হয় ;জলােদর রােগে মুত্রে ঘৃতকণার ন্যায় পদার্থ দেখিতে পাওয়া যায় ; মূত্রাতিসার অধিক পরিমিত হয় এবং তাহা ধরিয়া রাখিলে, তাহার নিম্নভাগ রক্ত-বর্ণ বলিয়া বােধ হয়।

 

আহা জীর্ণ হইলে, মুত্র নি এবং তৈলের ন্যায় আভাযুক্তহয়; সুতরাং অজীর্ণ রােগে মূত্র ইহার বিপরীত-লক্ষণযুক্ত হইয়া থাকে।ক্ষয়রােগে মুত্র কৃষ্ণবর্ণ হয় এবং এই রােগে মূত্র শ্বেতবর্ণ হইলে, তাহা অসাধ্যলিয়া বুঝিতে হইবে।এতদ্ভিন্ন প্রমেহরোগে যেরূপ মূত্রাদি হইয়া থাকে, তাহা প্রমেহরােগের বর্ণন- কালে বিস্তৃতরূপে লিখিত হইবে।যােগে মুত্র’

 

দোষভেদে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ।—বায়ু কুপিত হইলে, চক্ষুর তীব্র,ক্ষ, ধোয়ার স্যায় আভাযুক্ত, মধ্যভাগ পীতবর্ণ বা অরুণবর্ণ এবং চঞ্চল-তারকাযুক্ত হইয়া থাকে, অর্থাৎ তারকাথয় সৰ্ব্বদাই যেন ঘুরিতেছে বলিয়া বােধ হয়। পিত্তপ্রকোপে চকু উষ্ণ এবং পীতবর্ণ, রক্তবর্ণ বা হরির্ণ হইয়া থাকে। ইহাতে চক্ষুয়েদাহ হয় এবং রোগী প্রদীপের আলোক সই করিতে পারে না। কফ-প্রকোপেনয়নয় মিথ, অপূর্ণ, জ্যোতিঃপূত, গুরু ও স্থিরদৃষ্টিহীন হইয়া থাকে। দুইদেবের আধিক্যে সেই সেই দোষের মিশ্রিত লক্ষণ প্রকাশ পায়।

 

ত্রিদোষপ্রকোপেঅর্থাৎ সন্নিপাতরােগে চক্ষুৰ কৃষ্ণ বা রক্তবর্ণ, বক্রদৃষ্টি কোটরগত (বসিয়াযাওয়া ), বিকৃত ও তীব্রতারকাযুক্ত, তন্দ্রাচ্ছন্ন এবং ক্ষণে ক্ষণে উন্মীলিত ও নিমীলিত হইয়া থাকে। আরও এই রােগে চক্ষুর তারকায় কখন অদৃশ্য হইয়াযায়; কখনও বা চক্ষুতে নানাবিধ বর্ণ প্রকাশিত হয়।রােগ নিবারিত হইতে আরম্ভ হইলে, ক্রমশঃ চক্ষুর স্বাভাবিক সৌন্দৰ্য্য,প্রসন্নতা ও শান্তদৃষ্টি প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পাইয়া থাক

 

 

দূষিত জিলক্ষণ।—বায়ুর আধিক্য থাকিলে, দিবা শাকপত্রেরন্যায় বর্ণযুক্ত বা পীতবর্ণ গোভির ন্যায় কর্কশস্পর্শ এবং ক্ষুটি (ফাটা ফাটা)হইয়া থাকে; পিত্তাধিক্যে বিনা রক্ত বা বর্ণ; শ্লেমাধিক্যে শুক্লবর্ণ স্রাবযুক্ত, ঘন ও লিপ্ত; এবং সন্নিপাত অর্থাৎ তিনদোষের আধিক্য অবস্থায় কৃষ্ণবর্ণ |কর্কশস্পর্শ, গুদ, টেকযুক্ত ও দৎ হইয়া থাকে।রক্তের আধিক্য ও মাহ থাকিলে, হিবা উষ্ণস্পর্শ ও রক্তবর্ণ হয়। আওদাহরােগে জিৰা নীরস হয়। নজরে, প্রবল দাহরােগে, আমাজীর্ণে

 

এবংআমবাতের প্রথমাবস্থায়, জিহবা যেন গুরুবর্ণ প্রলেপারা আবৃত বলিয়া বােধ হয়।সান্নিপাতিক অরে জিহ্বা স্কুল, শুক, প্রলেপথাকা আবৃত, রুক্ষ, এবং নির্বাপিত-অঙ্গারের ন্যায় কৃষ্ণবর্ণ হয়। যকৃৎক্রিয়ায় বৈষম্য হইলে, এবং মল বা পিত্তঅবরুদ্ধ হইলে, জিহবা পাণ্ডুবর্ণ মলদ্বারা লিপ্ত হইয়া থাকে

 

যকৃৎ ও প্লীহা প্রভৃতিপীড়র শেষাবস্থায় এবং ক্ষয়রােগের শেষে,জিরায় ক্ষত হইয়া থাকে। বিছি,মুচ্ছা ও স্বাসরােগে জিহ্বা শীতলস্পর্শ হয়। অত্যক দৌর্বল্য বা দহ হইবে,বিবার বৃদ্ধি হইয়া থাকে। সুস্থ্যক্তির জি সৰ্ব্বদা আত্র থাকে। মদ্যপারি-‘গণের জিহ্বা বিদীর্ণ অর্থাৎ ফাটা ফাটা হইয়া যায়।অর্থাৎ সন্নিপাতরােগে চক্ষুৰ কৃষ্ণ বা রক্তবর্ণ, বক্রদৃষ্টি কোটরগত (বসিয়াযাওয়া ), বিকৃত ও তীব্রতারকাযুক্ত, তন্দ্রাচ্ছন্ন এবং ক্ষণে ক্ষণে উন্মীলিত ও নিমীলিত হইয়া থাকে। আরও এই রােগে চক্ষুর তারকায় কখন অদৃশ্য হইয়াযায়; কখনও বা চক্ষুতে নানাবিধ বর্ণ প্রকাশিত হয়।রােগ নিবারিত হইতে আরম্ভ হইল

 

দূষিত জিলক্ষণ।—বায়ুর আধিক্য থাকিলে, দিবা শাকপত্রের
ন্যায়স্থানের সঙ্কীর্ণতা, সঙ্কীর্ণস্থানের বিস্তৃতি, দীঘের হ্রাস, হ্রাসের দীর্ঘত, পতন-শীলের অপতন, অপতনশীলের পতন, উষ্ণেতল, শীতলের উষ্ণতা, মিঙেররুক্ষতা ও কক্ষের মিত্ব প্রভৃতি। এইরূপ প্রভৃতি স্থান ঝুলিয়া পড়া বাউপরদিকে উখিত হওয়া, চক্ষু প্রভৃতির ঘূর্ণন, মস্তক ও গ্রীবা প্রভৃতি অঙ্গেরধারণাসামর্থ্য অর্থাৎ লুটাইয়া পড়া, স্বর-পরিবর্তন, মস্তক হইতে গােয়-চূর্ণের।=ায় চুর্ণ-পতন, প্রাতঃকালে ললাট হইতে.ঘৰ্মনিৰ্গম, ললাটে শিরাপ্রকাশ, নাসাবংশে রক্তবর্ণ পিড়কার

 

উৎপত্তি, অথবা সৰ্ব্বশরীরে পিড়কা ও তিলকালকপ্রভৃতির উৎপত্তি সহসা প্রকাশ পাইলে, তাহাও অরিষ্ট-লক্ষণ বুঝিতে হইবে।যাহার সর্বশরীরের অন্ধভাগে অথবা কেবল মুখমণ্ডলের অন্ধভাগে একরূপ বর্ণও অপরাভাগে অন্য বর্ণ দেখিতে পাওয়া যায়, তাহাও তাহার অরিষ্ট-লক্ষণ।রােগর ওষ্ঠয় পাকাজামের ন্যায় কৃষ্ণবর্ণ হইলে, তাহাই তাহার মৃত্যুজ্ঞাপক।দন্ত সকল কৃষ্ণ, রক্ত বা বর্ণ হইলে, অথবা মললিপ্ত হইলে, সে রােগীর মৃত্যুহইয়া থাকে। জিহ্বা শােথযুক্ত, অলিপ্ত, কৃষ্ণবর্ণ ও কর্কশ হওয়া—অরিষ্ট-

 

 

চক্ষুর্থ সঙ্কুচিত, পরস্পর অসমান, স্তব্ধ, শিথিল, কৃষ্ণবর্ণ ও অনবরতশ্রাবযুক্ত হওয়া মৃত্যু-লক্ষণ। তবে কোন নেত্ৰয়ােগ বশতঃ শ্রাব হইলে, তাহাকেঅরিষ্ট-লক্ষণ বলিবে না। কেশসমূহ বা আপনা আপনি সীমন্তযুক্ত হইলেঅর্থাৎ সীতিকাটার ব্যায় হইলে, অথবা তৈলাভ না করিয়াও কেশসকলহৈলযুক্তেয় স্যায় চকচকে বােধ হইলে, চক্ষুয়ের পক্ষসমূহ ঝরিয়া পড়িলে, অথবাজড়িত হইলে অর্থাৎ জটা বাধিয়া গেলে, নাসাবংশ স্কুল ও শােথনােগব্যতীতশােখযুক্তোয়, স্নান, বক্র শুদ,

 

ফাটা ফাটা, এবং বিস্তৃত ও ছিদ্রযুক্ত হইলেতাহাও অনিষ্ট-লক্ষণ বুঝিবে। যে রােগীর হস্ত-পদ ও নিশ্বাস শীতল হয়, এবংযে রােগী মুখব্যাদান করিয়া নিশ্বাস ত্যাগ করে, অথবা ছিন্নশ্বাস ত্যাগ করে,কোন কথা বলতে গিয়া মুচ্ছিত হইয়া পড়ে, এবং অধিকাংশ সময়ে উত্তাভাবেঅর্থাৎ চিৎ হয় শয়ন করিয়া পদ ইতস্তত বিক্ষিপ্ত করে, তাহার সদ্যোমৃত্যুহইয়া থাকে।

 

 

এতদ্ভিন্স আরও বহুসংখ্যক অষ্টি-লক্ষণ আয়ুৰ্বেদশাস্ত্রে কথিত আছে; এই স্থানে তাহার সকলগুলির উল্লেখ অনাবশ্যক বিবেচনায় পরিত্যক্ত ।

 

 

 

 

Related Posts

সাফল্যের চাবি আপনার হাতে

নতুন বছরে নিজকে সফল করতে পারেন   নতুন বছর শুরু হয়েছে। সবারই ইচ্ছা তার এ বছরটি যেন গত বছরের থেকেআরাে বেশি ভালাে ও সুন্দর কাটে। আর আপনার এ…

কক্সবাজার  ভ্রমণ ২০২১

  কক্সবাজার  ভ্রমণ   নভেম্বরের ২৩ তারিখে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দেওয়ার সময় কথা উঠলো কক্সবাজারের – সেন্ট মার্টিন।তারিখ ও ঠিক করে ফেললাম ৫ ই ডিসেম্বর। কথা অনুযায়ী ট্রেনে…

বাংলাদেশের

    বাংলাদেশে কয়েক দিন দরে লক্ষ করা যাচ্ছে     হিন্দু ভাইদের পুজো চলা কালিন,, আমাদের ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআন শরিফ,যাকে আমরা সম্মান করে মাথায় রাখি সেই…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার

    তথ্য মাধ্যমে চাকরি বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ এবং একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত   চাকরির ধরন ও প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রয়ােজনীয় অভিজ্ঞতাপত্রপত্রিকায় তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক চাকরির বিজ্ঞাপন সাধারণত ইংরেজিতেই প্রকাশিত হয়েথাকে। তাই…

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান

  বাংলা ফন্ট সমস্যা     সমস্যা-১ কমপিউটারে বাংলা বিশেষ করে বিজয় বাংলা ব্যবহারে অনেক সময় অনেক জটিলতা দেখাদেয়। বিজয় বাংলা সঠিকভাবে ইন্সটল করা থাকলেও অনেক শব্দ টাইপ…

সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না।

  সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না     নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ফাইনাল দিয়েছে।বরাবর সে বিগত পরীক্ষায় ভালাে ফলাফল অর্জন করেছে। পরীক্ষায়সে যে পাস…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *