আন্তর্জাতিক

স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়।

স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

 

 

স্বস্থবৃত্তং যথােদ্দিষ্টং যঃ সমগতিষ্ঠতি।স সমাঃ শতমব্যা ধি রা য়ুযুধান বিধুজ্যতে চরকসংহিতা।চিকিৎসাশাস্ত্রের উদ্দেশ্য।-স্বাস্থ্যসম্পাদনই চিকিৎসাশাস্ত্রের মুখ্য,উদ্দেশ্য। রােগ উৎপন্ন হইলে, চিকিৎসারা তাহার নিবারণ বেরূপ আবশ্যক ,রােগা ক্রমণের পূর্বে যেসকল উপায় অবলম্বন করিলে রােগ উৎপন্ন হইতে না,পারে, তাহার প্রতিপালন করা তদপেক্ষা অধিক আবশ্যক। স্বাস্থ্যরক্ষাই রােগেৎ-পত্তি নিবারণের একমাত্র

পরীক্ষার খবর।

উপায়। যথােপযুক্তবলবর্ণাদি সম্পন্ন নীনােগ শরীরেনি  র্দিষ্ট আয়ুষ্কাল উপভােগের নাম স্বাস্থ্য। যেরূপ আহাবিহারাদির বিধান,দ্বারা স্বাস্থ্যসংরক্ষণ করিতে পারা যায় তাহাকেই স্বাস্থ্য-বিধি কহে। শরীরি,মাত্রেরই স্বাস্থ্য একান্ত প্রার্থনীয় ; যেহেতু ঐহিক, পারজিক—যাবতীয় অনুষ্ঠানই,স্বাস্থ্য-সাপেক্ষ। শরীর সুস্থ না থাকিলে, ঐহিক মুখজনক বিদ্যা, ধন, যশ, ও,

 

অভীষ্টলাভ, অথবা যজ্ঞাদি পারলৌকিক ধমূলক কাৰ্য্য সম্পাদন, এতদুভয়ের,কোন কাৰ্যই সম্পন্ন করিতে পারা যায় না। বস্তুতঃ, একজন সমুদায় সগুণ-সমন্বিত এবং অনুকুল-পুত্ৰকলামি-পৰিবাৰপরিবৃত ব্যক্তি নষ্টস্বাস্থ্য হইলে,পরিণামে অসুখ ভােগ করেন, অপর একজন সম্পূর্ণদ্বাস্থ্যবান ব্যক্তি, ঐসকল সুখের উপাদানে একবারে বঞ্চিত হইলেও, কখনই তাহাকে তাদৃশ অসুখ ভােগক বিরাজি-শিক্ষা,করিতে হয় না।

 

এইসমস্ত কারণ বিবেচনা করিয়াই, যেসকল উপায় অবলম্বনক রিলে মানবগণ জরাব্যাধি প্রভৃতি অসুখনিচয় হইতে অব্যাহতি লাভ করিতে পারে, সেই সমস্ত উপদেশই আমনীষিগণ চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রথমে উল্লেখ,করিয়াছেন। আমও তদনুসারে এই পুস্তকের প্রথমেই, স্বাস্থ্যরক্ষাবিষয়ক,কতকগুলি সক্ষিপ্ত নিয়ম সন্নিবেশিত করিতেছি।

https://usabcnews.com/%e0%a6%95%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a5%a4-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a7%87%e0%a6%97-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%80/

প্রাতঃকৃত্য।—স্বস্থ ব্যক্তি, অর্থাৎ যাদের শরীরে বায়ু, পিত্ত ও কক-এই ত্রিদোষ, রস, রক্ত, মাংস, মেঃ, অস্থি, মজ্জা, শুক্র ও ওজঃ,–এই অষ্ট ধাতু, এবং মুত্র, পুরীষ ও স্বেদাদি মলসমুহ উপযুক্তমাত্রায় অবস্থিত, সেইসকল ব্যক্তি, ব্রাহ্মমুহূর্তে অর্থাৎ চারিদণ্ড রাত্রি থাকিতে শয্যা ত্যাগ করিয়া, মলমূত্রাদি

 

পরিত্যাগ ও দস্তধাবাদি দ্বারা মুখপ্রক্ষালন করিবেন। পূর্ব বা উত্তরমুখে,উপবেশনপূর্বক করঞ্জ, করবীর, আকন্দ, মালতী, অর্জুন, পীতশাল, খদির,অথবা কটু, তিক্ত ও কয়রসযুক্ত যে কোন কাষ্ঠ (কাটা) চৰ্বিত করিয়া,হারা—দন্তমাংসে যেন কোনরূপ আঘাত না লাগ

 

—এরূপভাবে দস্তধাবন,এবং স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র, সীসা, বা পিত্তলনির্মিত সরল ও ধারশূন্য “জিবছােলা”যারা বি পরিষ্কার করা আবশ্যক। এইরূপ মুখপ্রক্ষালন দ্বারা জিহবা ও দস্ত প্রভৃতি পরিকৃত এবং মুখের দুর্গন্ধ নষ্ট হওয়ায় অন্নাদিতে সম্যক্ কচি হইয়া থাকে।অজীর্ণ, বমন, খাস, কাস, কার, তৃষ্ণা, মুখপাক এবং হৃদ্রোগ, নেত্রনােগ, শিল্পে লােগ ও কর্ণরােগে পীড়িত ব্যক্তিগণের দন্ডকাষ্ঠবার শুধাৰন ফাা উচিত নহে।

 

তাঁহারা, এক মন্তকাঠের অসুবিধা হইলে-সকলেই চা-খড়ি, কয়লাচূর্ণ, যুটের ছাই প্রভৃতি দ্বারা মার্জন করিবেন প্রাতঃ কালের আয় বৈকালেওএকবার শুধাবাদিরা মুখ-প্রক্ষালন করা আবশ্যক।ব্যায়াম।—ইহার পর যখমাত্রায় ব্যায়াম করা উচিত। অন্ধভ্রান্তিবােধ,ব্যায়ামের নির্দিষ্ট মাত্রা, অর্থাৎ ললাট হইতে ঘৰ্মনিৰ্গম এবং অনতিদীর্ঘ নিশ্বালানি লক্ষণ৷ অর্থপ্রান্তি অনুভব করিয়া ব্যায়াম বন্ধ করিতে হয়। শীত ও বসন্তব্যতীত অন্য তুতে ইহা অপেক্ষাও অপমাত্রায় ব্যায়াম কল্প বিধেয়।

 

যেহেতু অধিকমাত্রায় ব্যায়াম করিলে, তৃষ্ণা, ক্ষ, এতক (খালবিশেষ), রক্তপিত্ত, ফাস,এর ও বমন প্রভৃতি উৎকট যোেগ জন্মিতে পারে। যথাস্তায় যম করিলে,শরীরের লঘুতা, কষ্টসহিষ্ণু, অগিয় দীপ্তি, শেষক্ষয় ও অজেয় গঠন প্রভৃতি।

স্বাস্থ্য বিধি

 

উপকার হইয়া থাকে। বালক, বৃদ্ধ এবং বাতপিত্ত ও অজীর্ণ রােগীর ব্যায়াম কর্তব্য নহে।ব্যায়ামের পর সমুদায় শরীর কিছুক্ষণ মর্দন করা আবশ্যক; তাহাতে ব্যায়াম-জনিত শ্রান্তি দূরীভূত হইয়া শরীর সুস্থ হইয়া থাকে। সম্পূর্ণরূপে শ্রান্তি হওয়ার পরে সর্বাঙ্গে, বিশেষতঃ মস্তকে, পদতলে ও কর্ণন্ধে উত্তমরূপে তৈল মর্দন করিলে, শরীর দৃষ্ট, পুষ্ট, ক্লেশসহ, সুখস্পর্শ ও সুন্দরত্বযুক্ত হয়; আরও ইহাদ্বারা জ্বর, শান্তি ও

 

বায়ুবিকৃতি নিবারিত এবং আয়ুবৃদ্ধি হইয়া থাকে।মস্তকে তৈলমর্দন করিলে, থালিত্য (টাক), কেশের অকালপকতা ও কেশপতন ( চুল উঠিয়া যাওয়া ) প্রভৃতি পীড়াসমূহ দূরীভূত হইয়া মন্তক ও কপালের বলবৃদ্ধি, কেশের দৃঢ়মূলতা, দীর্ঘত্ব ও কৃষ্ণত্ব, ইন্দ্রিয়সমূহের প্রসন্নতা এবং সুনিদ্রা হইয়া থাকে। পদতলে তৈলমর্পনারা পদদ্বয়ের কর্কশতা, রুক্ষতা ও স্পর্শ-নভিজ্ঞত্ব প্রভৃতি দোষ নিবারিত হইয়া, স্থৈর্য, বলবৃদ্ধি, সুকুমাতা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

ও দৃষ্টির প্রসন্নতা সম্পাদিত হয়। এবং পাদস্ফুটন (পা-ফাটা), গৃসী, বাত ও গায় সঙ্কোচের আশঙ্কা থাকে না। করছে তৈলনিষেক করিলে, উচ্চৈঃশ্রুতি (কাল) ও ৰাধিৰ্য্য প্রভৃতি বায়ুজনিত কর্ণরােগ এবং মাগ্রহ ও সুগ্রহ প্রভৃতি,বাতজ-পীড়া উৎপন্ন হইতে পারে না। বস্তুতঃ তৈলাভ সৰ্ব্বতােভাবে কর্তব্য।চর্ম, কলস ও গাড়ীর অক্ষ যেমন তৈলনিযেকার হুকালস্থায়ী হয়, শy.শরীরও সেইরূপ তৈলাভজদ্বারা বহুদিন সবল ও কর্মক্ষম থাকিতে পারে।বমন-বিরেচনাদি-শুদ্ধিকৰ্ম্মের পর এবং কফরােগীর ও অজীর্ণরােগীর তৈলাভ্যঙ্গ কৰ্তৰ-নহে।

 

অন্ন্য কিছু জানুন – কবিরাজি-শিক্ষা। রােগ-পরীক্ষা

 

বিধি।তৈলমর্দনের পর নির্মল-শ্রোতােজলে স্নান করা বিধেয়।তদভাবে পরিষ্কৃত উফজল শীতল করিয়া তাহাতে স্নান করা উচিত। উফজলেজ্ঞা ন করিতে হইলে, মস্তকে সেই জল না দিয়া শীতল জল দেওয়া আবশ্যক।যেহেতু উষ্ণজলে স্নান শারীরিক বলপ্রদ হইলেও, তাই মন্তকে দিলে কেশ ওচক্ষুর বল নষ্ট হয়। স্নান করিলে, শরীরে দুর্গন্ধ, ময়লা, দাহ,স্বেদ, বীভৎসতা,গুরুত্ব, তন্দ্রা ও কও প্রভৃতি বিনষ্ট হয় এবং শারীরিক বলবৃদ্ধি, আয়ুবৃদ্ধি ও অগ্নি-দীপ্তি হইয়া থাকে।

 

কানের পর প্রথমতঃ ভিজাগামছায়া, পরে গুফ বা তােলে ৰাৱা গালমার্জন কলিন্স, সিল অস্ত্র পরিধান কমিৰে। গানের পর চন্দনাদি গন্ধদ্রব্যের অনুলেপন করিলে বিশেষ উপকার হয়। অর্পিতরােগে,কর্ণ ও মুখরােগে, অতিসাররােগে, পীনসরােগে, অজীর্ণরােগে এবং আহারের পরে স্নান করা অনিষ্টজনক।

 

আহার – গানের পর পরিকৃত স্থানে ঋজুভাবে উপবেশন করিয়া,উপযুক্তমাত্রায় ঈষদুষ্ণ, স্নিগ্ধ, মধুরাদি ছয় সসম্পন্ন, বলকর, রুচজনক ও বিশ্বস্ত প্রিয়জনপ্রদত্ত ভােজ্য নাতিত ও নাতিবিলম্বিতভাবে নীরবে মনােযােগপূর্বক ভােজন করিবে। যে পরিমাণে ভােজন করিলে, কুক্ষি, হৃদয় বা পারে যাতন-বােধ এবং শরীরের গুরুত্ব বােধ হয় না, অথচ উদর ও ইন্দ্রিয়সমুদায় প্রসন্নতা লাভ করে, ক্ষুৎপিপাসার শান্তি হয়, এবং শয়ন, উপবেশন, গমন, নিশ্বাস প্রশ্বাস ও,কথােপকথনে

 

কষ্ট বােধ হয় না, তাহাই আহারের মাত্রা। কিন্তু ভােজ্যদ্রব্যের গুরুত্ব ও লঘুত্ব অনুসারে অন্যবিধ মাত্রাও বিবেচনা করা আবশ্যক ;-গুরুপাক দ্রব্যের মাত্রা অতৃপ্তি,অর্থাৎ “আধপেটা পৰ্যন্ত, লঘুপাক দ্রব্যের মাত্রা-অনতি-তৃপ্তি। উপযুক্ত মাত্রায় আহার না করিয়া, অল্পমাত্রায় বা অধিকমাত্রায় আহার করিলে, তাহা হইতে বিশেষ অনিষ্ট ঘটিয়া থাকে। অল্পাহারদ্বারা তৃপ্তিলাভ হয়।

 

উদাবৰ্ত্ত রােগ জন্মে ; বল, বর্ণ, আধু, রসরাদি ধাতুসমূহ ও ওজঃ ক্ষীণ হয় ; মনঃ, বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়সমুদায় উপতপ্ত হয়, এবং যাবতীয় বায়ুরােগ উৎপন্ন হইতে পারে। অধিকমাত্রায় আহার করিলে, যুগপৎ সমুদায় দোষ কুপিত হইয়া অজীর্ণ, অগ্নিমান্দ্য, বিচিকা, অলসক প্রভৃতি দুরারােগ্য রােগসমুহ উৎপাদন করিয়া থাকে। অপরিষ্কত স্থানে, শত্রুগৃহে, নীচজাতির গৃহে এবং প্রাতঃসন্ধ্যা প্রভৃতি অসময়ে উত্তরমুখে উপবেশন করিয়া, পূৰ্ব্বের আহার সম্যক্ জীর্ণ না ইলে, অন্যমনস্কভাবে, অথবা জরাদি আহার-নিষিদ্ধ রােগে পীড়িত হইলে, আহার করা উচিত নহে।

 

এতদ্ভিন্ন পর্যুষিত ও শুকদ্রব্য, বিষ্ণবীৰ্য্য এবং ক্ষীরমৎস্যাদির  ন্যায় সংযোগবিরুদ্ধ ব্যও আহার করা অনুচিত।আহারান্তে কর্তব্য।-আহারের পরে আতীফল, লতাকস্তুরীফল,লবঙ্গ, হােটলাইচ, কপূর ও সুপায়ী প্রভৃতি প্রচলিত মসলাসংযুক্ত পান খাওয়া উচিত; তাহাতে ভূক্তব্য উপযুক্ত লালাপ্রাপ্ত হইয়া সুখে পরিপাক পায় এবং মুখের বিয়সতা বিনষ্ট হইয়া মুখ সুগন্ধযুক্ত হইয়া থাকে। ইহার পয় কিঞ্চিৎ-ফল বামপার্থে শয়ন করিয়া বিশ্রাম করা আবশ্যক। দিবাভাগে আহায়ের পর

স্বাস্থ্যবিধি

নিদ্রা যাওয়া কদাচ কৰ্তব্য নহে। যেহেতু দিবানিদ্ৰাদ্ধারা শ্লেষ্ম ও পিত্ত প্রকু-পিত হইয়া হলীম, শিরঃশূল, স্তৈমিত্য, গাত্রগৌরব, অথমন্দ, অগ্নিমান্দ্য, হৃদয়ের উপলেপ, শােখ, কাস, অবােচক, স্বাস, পীনস, অৰ্দ্ধাৰভেদক, কুষ্ঠ, ব্রণ, পিড়কা,কণ্ডু, তন্দ্রা, কাস, গলােগ, স্মৃতি ও বুদ্ধির হানি,

 

স্রোতােবােধ, জ্বর এবং ইন্দ্রিয়-সমূহের বলহানি প্রভৃতি অনিষ্ট উৎপাদন করিতে পারে। তবে যাহারা সঙ্গীত,অধ্যয়ন,মদ্যপান, অধিক রাত্রিজাগরণ, মৈথুন, ভারবহন ও পথ-পৰ্যটন প্রভৃতি কাৰ্য্যদ্বারা ক্লান্ত, যাহারা অজীর্ণ, ক্ষত, তৃষ্ণা, অতিসার, শূল, কাস, হিকা, উন্মাদ,ও পতন বা আঘাতাদিদ্বারা পীড়িত এবং যাহার ক্রোধী, শােকার্ত, ভীরু, বৃদ্ধ,

 

বালক, কৃশ বা দুৰ্বল তাহাদের পক্ষে দিবানিদ্রবিশেষ উপকারী। সাধারণতঃদিবানিদ্রা নিষিদ্ধ হইলেও গ্রীষ্মকালে তাহা অনিষ্টকর নহে। কিন্তু যাহারা মেদী, শ্লেষ্ম-প্রকৃতি বা শ্লেয়ােগপীড়িত এবং ধাহারা দূষিবিষাদিদ্বারা আক্রান্ত ,তাহাদের পক্ষে গ্রীষ্মকালেও দিবানিদ্রা অনিষ্টকারক। আহারের অব্যবহিত পরে কদাচ শারীরিক-পরিশ্রমজনক কাৰ্য্য, দ্রুতযানাদিতে গমন এবং অগ্নির সস্তাপ বা আতপ সেবন করিবেন না। বেলা দুই প্রহরের পূর্বে বা তাহার

 

অধিককাল পরে আহার করা অনুচিত।বৈকালে সূর্যকিরণ প্রশান্ত হইলে, কিছুক্ষণ উদ্যানাদি স্থানে ভ্রমণ করা উচিত; তাহা দ্বারা অগ্নির দীপ্তি, শারীরিক মূর্তি এবং মন প্রফুল্ল হইয়া থাকে।ভ্রমণকালে জুতা পায়ে দেওয়া আবশ্যক; তাহাতে পায়ে কোনরূপ আঘাত লাগিতে পারে না, এবং চক্ষুর উপকার হয়। রৌদ্র, বৃষ্টি বা শিশিরপতন সময়ে কোথাও যাইতে হইলে মস্তকে ছত্ৰ দিয়া গমন করিবে।

 

রাত্রিচর্যা-রাত্রি এক প্রহরের মধ্যে পুনৰ্বার পূৰ্বোক্ত ভােজ্য-দ্রব্যআহার করা বিধেয়। রাত্রিকালে দধিভােজন করা কদাচ উচিত নহে। আহা-রের পরে শুষ্ক, পরিষ্কৃত এবং যাহাতে উত্তমরূপে বায়ু আসিতে পারে, এইরূপ গৃহে অবস্থানুসারে পালঙ্ক, চৌকী বা মাচানের উপর, সুকোমল ও ঋতুভেদানুসারে সুখস্পর্শ শয্যা প্রস্তুত করিয়া শয়ন করা উচিত। রাত্রিকালে ছয় ঘণ্টা হইতে আট ঘণ্টা পর্যন্ত নিদ্রা যাওয়া আবশ্যক। উপযুক্ত পরিমাণে নিদ্রা যাইলে শারীরিক পুষ্টি, বল, জ্ঞান, সুখ ও আয়ুর বৃদ্ধি হয়। আর নিদ্রার পরিমাণ অল্প বা অধিক হইলে, শারীরিক শতা, দৌর্বল্য এবং অমুখ, অজ্ঞান ও মৃত্যু পর্যন্ত কবিরাজি-শিক্ষা

অনিষ্ট হইতে পারে। অতএব শরীরিগণের স্বাস্থ্যরক্ষাবিষয়ে অহায়াদিয় ন্যায় উপযুক্ত পরিমাণে নিদ্রাও একান্ত আবশ্যক।স্ত্রী-সহবাস।-শরীর-ঘক্ষাবিয়ে উপযুক্তপরিমাণে মৈথুনাচরণও নিতান্ত উপযােগী। ঋতুভেদে উপযুক্তকাল বিবেচনা করিয়া অনুরাগিণী, অভিলষিত এবং অনুকুল প্রীতে উপগত হইবে। রজঃস্বলা, বুদি-মােগপীড়িতা, স্বকীয়-অভিমতরূপা বা অনভিমত-আচাবিশিষ্টা ও অনাসক্তা স্ত্রী, পরস্ত্রী, দুষ্টযােনি,পশ্বদিদােনি, যােনিভিন্ন গুরাদি অঙ্গ ছিদ্রে, অথবা হাদি দ্বারা

 

মৈথুন করিবে  এতদ্ভিন্ন প্রাতঃস ন্ধ্যা বা সায়ংসন্ধ্যাকালে পূর্ণিমা, অষ্টমী, চতুর্দী, অমা-বস্থা, সংক্রান্তি ও এদিন প্রভৃতি নিষিদ্ধ দিবসে, দেবালয়, চতুর্থ, শান,এলাশৱতীর, গুরুব্রাহ্মণাদির আলয় ও মস্থবিপণী প্রভৃতি স্থানে অথবা লােক-সমাগমযুক্তস্থানে মৈথুন করা উচিত নহে। অনাদি যাবতীয় রােগপীড়িত ব্যক্তি,মৈথুন হইতে সতত বিরত থাকিবেন। অতি মৈথুন সকল সময়ে সকলের পক্ষেই নিষিদ্ধ।

 

ঋতুচৰ্যা (শীত ও হেমন্ত)। এই সমস্ত নির্দিষ্ট নিত্যকর্ম-ব্যতীত ঋতুভেদানুসারে কতকগুলি বিশেষ নিয়ম প্রতিপালন করিতে হয়।ও শত ঋতুতে তলবায়ুস্পশালিবশতঃ অয়লি দগ্ধ হইয়া থাকে ।সুতরাং অগ্নিবলও তখন বৃদ্ধি পাইয়া, উপযুক্ত পরিমাণে আহার না পাইলে,, রসাদি ধাতুসমূহকে পৰিপাক করিয়া ফেলে। এই জয় এই দুই কতুতে অধিকপরিমাণে গােধূমাদি প্রস্তুত, আয় ও লবণযুক্ত বিশ্ব পিষ্ট-কাদি ভােজ, জলজ ও আৰুপ প্রভৃতি মেদুর মাংস, অভ্যস্ত থাকিলে মস্ত,দুধ ও দুগ হইতে প্রস্তুত যাবতীয় অক্ষ্য এবং বিষ্টায় প্রতি এক গুক্ষণ করা উচিত। গান, পান, আচমন ও শৌচাদি কার্যে উষ্ণল ব্যবহা

 

করিবে;রেশম, তুলা ও পশুলােমাধিয়া নিৰ্ম্মিত যত্নে গাত্র আবরিত করিয়া রাখিবে ;এবং উফরে ও উফশয্যায় শয়ন করিবে। এইসময়ে প্রস্তমৈথুন করিলেও শরকের কোন হানি হয় না। ফটু তিক্ত ও ফায় রূপমুক্ত দ্রব্য, লং দ্রঝ ও বায়ুবক দ্রব্য ভােজন, বাছুলেন এবং দিবানিদ্রা প্রভৃতি কেমন ও শীতকালে সর্ব পরিত্যাগ করিবে।এই দুইকালে আরবিরাজি।

 

এয়ই একরূপ ; এজন্য উচ্চ কুচাই এক লিখিত হইল। অৰে শীতপেন্সস্বাস্থ্য-বিধি।নূনাধিক্যবশতঃ পূর্বোক্ত আচরণসমূহও কিঞ্চিৎ কিরুপে প্রতিপালন আবশ্যক।

 

বসন্তচৰ্যা।-হেমন্তকালের সঞ্চিত গেয়া, বসন্তকালে সূর্যের প্রখরকিরণম্পর্শে কুপিত হই, পাচকাগ্নিকে দগ্ধ করে; তজ্ঞ ফান্তে বহুবিধ গয়জ যোগ জমির নিতান্ত সম্ভাবনা। অতএব এই সময়ে ৰমনাদিয়া গেয়ার নিহরণ করা উচিত। এইকালে লঘুপাক, কক্ষৰীৰ্য ও কটু তিক্তরসসংযুক্ত অন্নাদি,হরিণ, শশ, লাব ও চটক প্রভৃতির লঘুমাস ও অত্যন্ত হইলে মধুজাত পুরাতন মদ্য প্রভৃতি আহার; এবং স্নান, পাম, আচমন ও শৌচাদি কাৰ্য্যে ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহার কৰিবে। পরিচ্ছদ ও শয্যাদি হেমন্তকালের জয় ব্য। যুবতী খ্রীসম এই কালে প্রশস্ত। গুরুপাক, লিখ এবং অন্ন ও মধুর রসযুক্ত দ্রব্য ভােজন ও দিবা-নিদ্রা প্রভৃতি বসন্তকালে অনিষ্টজনক।

 

গ্রীষ্মচৰ্যা। গ্রীষ্মকালে মধুসফু, শীতল ও মিখদ্রব্য ব্যবহার এবং পান করিবে। জঙ্গল-পশু-পক্ষীর মাংস, ঘৃত, দুগ্ধ ও শালিধান্তের অন্ন, দিবানি,রাত্রিকালে সুশীতলগৃহে ও শীতলশয্যায় শয়ন এবং শীতল উপবন ও জলাশয়ের তীর প্রভৃতি স্থানে বিচরণ এইকালে হিতকর। কার্পাসনির্মিত ব্রাদির পরিচ্ছদ এই সময়ে ব্যবহার করিবে। লবণ, অঙ্গ ও টুরসযুক্ত এবং উষ্ণৰীৰ্য-দ্রব্যভােজন,মৈথুন ও মদ্যপান গ্রীষ্মকালে নিষিদ্ধ। নিতান্ত অত্যন্ত হইলে, অধিক জলমিশ্রিত কমিয়া অল্প পরিমাণে মদ্য পান করিবে।

 

বর্ষাচৰ্য্যা। বর্ষাকালে গ্রীষ্মসঞ্চিত বায়ু প্রকুপিত হইয়া উঠে; এইজ ক্রিয়া'(গেহপিচকারী) দ্বারা বায়ু প্রশমিত করিবে। এইকালে অগ্নি-বল ক্ষীণ হওয়ায় এ নিতান্ত লঘুপাক দ্ৰৰ ভােজন করা উচিত। বর্ষাকালে কোন সময় ফ্যাদি খারা শীতকালে যায় এবং কোন সময় বা ষ্ট্যালি না হওয়ায় অ গ্রীষ্মকালের গয় হয়। এজন্য এইকালে পান, আহার, শয্যা ও পরিচ্ছদ প্রভৃতি সমুদায় বিষয়ই বিবেচনা করিয়া, শীত, গ্রীষ্ম ও বসন্ত প্রভৃতি ব্যয় সময়ে সময়ে পরিবর্তন করা আবশ্যক। সমুদয় পানীয় ও ভােজ্যদ্রব্য কিঞ্চিৎ মধু মিশ্রিত করিয়া আদায় করা উচিত। জান-মাংস, পুরাতন ঘৰ পােৰ ।ধাদি অ এবং অধিক পমািণ অ, লবণ ও সি দ্রব্য তােজন করিবে।ক জল খপ ওসমােৰয়ে জল, উৰিয়া শীতল হইলে তাহাই পান।

কবিরাজি শিক্ষা

 

তাহা দ্বারা গান করিবে। মদ্যপান করিতে হইলে, গ্রীষ্মকালের ন্যায় পুরাতন মঙ্ক অধিক পরিমিত জল ওকিঞ্চিৎ মধু মিশ্রিত করিয়া পান করিবে। এই সময়ে নির্মল কার্পাস পরিধানাদি করা উচিত; এবং বৃষ্টি ও বৃষ্টিজাত ভূবাষ্প (মাটী হইতে যে একপ্রকার গ্যাস উখিত হয়) কদাচ গায়ে লাগাইবে না।দিবানিদ্রা, শিশির, রৌভ্রাদির আতপ, নদীজলে স্নানাদি, ব্যায়াম ও মৈথুন এইকালে অনিষ্টজনক।

 

শরৎকালচৰ্য্যা।-শরৎকালে বর্ষাকালসঞ্চিত পিত্ত সহসা অধিকতরসূৰ্য্যকিরণ প্রাপ্ত হইয়া কুপিত হইয়া উঠে। এজন্য এইকালে বিরেচন দ্বারা পিত্ত নিরিণ, এবং অলৌকাদি দ্বারা রক্তমােক্ষপ করিতে হয়। লঘুপাক, শীতল, মধুর ও তিক্তরস অনুপান এইকালে হিতকর। যব, গােধূম ও ধান্যাদির অঙ্গ ; লা,চটক, হরিণ, শশ, মেষ প্রভৃতির মাংস; নদীজলে স্নান ও সেই জল পান, নির্মল,ও সূক্ষ্ম পরিধান ; সুকোমল ও স্পর্শসুখকর শয্যায় শয়ন; এবং চন্দ্রকিরণ সেবন করা উচিত। ক্ষদ্রব্য, দধি, জলজ ও আনুপ মাংস ভােজন, তৈলমর্দন এবং শিশির ও পূর্বদিকের বাস্পর্শ, শরৎকালে অনিষ্টজনক।

 

সাধারণতঃ বসন্তকালে বমন, শরৎকালে বিবেচন, এবং বর্ষাকালে অনুবাসনের বিধি ক হইলেও, আসভেদে ইহার বিশেষবিধি বিহিত আছে। যথা-চৈত্র মাসে ধমন, শ্রবণমাসে অনুবাসন, এবং অগ্রহায়ণমাসে বিয়েচন করা উচিত।কিন্তু বর্তমানসময়ে কেবল মধ্যে মধ্যে জোলাপ ওয়া ব্যতীত আর কোনরূপ শুদ্ধি প্রায়ই ব্যবহৃত হয় না।

 

ধাতুভেদে ঋতুচৰ্যা।-ঋতুভেদে যে সকল স্বাস্থ্য-বিধি কথিত হইল,২ ২ প্রকৃতি অনুসারে তাহার কতিপয়াংশের পরিবর্তন করা আবশ্যক। বায়ু প্রকৃতিক ব্যক্তি, যাহাতে তাহার বায়ু প্রশমিত থাকে, সকল ঋতুতেই তদুপযুক্ত আহার-বিহারণির আচরণ করিবেন। এইরূপ পিত্তপ্রকৃতিগত ব্যক্তি পিত্তনাশক এবং, গেল-প্রকৃতিক ব্যক্তি গেমনাশক আহা-বিহুৱাদি বিষয়ে সতত যত্নবান্ থাকিবেন। বি: ও, উষ্ণ, এবং মধুয়, অন্ন ও লবণযুক্ত দ্রব্য ভােজন, শীতল জলে অবগাহন, গাজে শীতলজল সেচন, সন্ধহন (হস্ত পদাতি টেপান), সৰ্ব্বল।সুখজনক কার্ষাধি, ঘৃততৈলাদি প্রব্যের ব্যয়, অনুসন (গে-পিচকারী)এবং অগ্নিদীপক ও শাক ঐবধাদি

 

সেবন যারা, বাকৃতিক ব্যক্তি বা প্রশমিত হয়। মধুর, তিক্ত ও করসসংযুক্ত শীতল দ্রব্যের পান ও ভােজন,্ঘৃতপান, সুগন্ধি দ্রব্যের আত্মাণ গ্ৰহণ, মুক্তা, মণি ও পুষ্পদির মালা ধাৰণ, গীত-কাদিয় ক্ষতিকর শব্দ শ্রবণ, প্রিয়জনের সহিত কথােপকথন, শীতল বায়ু ও চন্দ্রকিরণের স্পর্শ, মনােরম উপবন, নদীতীর বা পৰ্বত-শিখর প্রভৃতি মনােহর স্থানে বিচরণ, এবং বিরেচন ও তিক্ত-দ্বতাদি ঔষধ সেবন প্রভৃতি দ্বারা পি-প্রকৃতিক ব্যক্তির পিত্ত প্রশান্ত থাকে। কটু, তিক্ত ও কষায় রসসংযুক্ত, এবং তীক্ষ্ণ ও

 

উষ্ণৰীৰ্য্যদ্রব্যের পানভোজন, সন্তরণ, অশ্বারােহণ, ব্যায়াম, রাত্রি জাগরণ, রুক্ষ দ্রব্যসমূহঘারা, গাত্রমদ্দন, ধূমপান, উপাস, উষ্ণস্ত্র পরিধান, এবং বমনাদি কাৰ্য্য দ্বারা শ্লেষ্ম-প্রকৃতিক ব্যক্তির শ্লেষ্ম প্রশমিত হইয়া থাকে। অতএব স্ব স্ব প্রকৃতি বিবেচনা করিয়া, এই সকল কার্যের মধ্যে যথাসাধ্য সম্পাদন করা সকলেরই বিধেয়

 

সদাচার।এই সমস্ত প্রাত্যহিক কাৰ্য্য ও ঋতুচৰ্য্যা ব্যতীত আরও  কতকগুলি সদাচার স্বাস্থ্যান্বেষী ব্যক্তিগণের সর্বতােডাবে প্রতিপালন করা উচিত। এজন্য সক্ষেপে তাহাও এস্থানে সন্নিবেশিত করা হইল। প্রাতঃ-কালে, কানের পরে এবং সন্ধ্যাকালে ঈশ্বর-চিন্তা প্রভৃতি ধৰ্ম্মকাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করিবে। দেবতা, ব্রাহ্মণ, গুরু ও পূজ্য ব্যক্তিগণকে সর্বদা ভক্তি করিবে।যথাসাধ্য বিপন্নের সাহায্য এবং অতিথি সৎকার করিবে। জিতেন্দ্রিয়, নিশ্চিন্ত,অনুগ্ধত, নির্ভীক, লজ্জাশীল, ক্ষমাশীল, প্রিয়ভাষী, ধাৰ্মিক, অধ্যবসায়ী ও বিনয়ী হইবে। সৰ্ব্বদা পরিস্কার বস্ত্রাদি পরিধান এবং ভদ্র-জনােচিত বেশভূষা করিবে।সমুদায় জীবের প্রতি

 

আত্মীয়তা প্রকাশ করিবে। পরস্ত্রীতে বা পর সম্পত্তিতে৷ লােভ করিবে না। কখনও কোন পাপকাৰ্য্যের অনুষ্ঠান বা পাপীর সংস্রব ।করিবে না। অন্যের দোষ বা অন্যের গােপনীয় কথা কাহারও নিকট প্রকাশ করিবে না। বড়লােক বা ভাললােকের সহিত বিবাদ করিবে না। কোনরূপ দুঃনে এবং কৃক্ষে বা পৰ্বত-শিখরে আরােহণ, উচ্চৈঃস্বরে হাস্য, উৎকট ভাবে
উপবেশন, অসমানে বা.সঙ্কীর্ণ শয্যায় শয়ন, মুখ আবরিত না করিয়া সৃণ, হাস্য।

 

ঝহাচি, অকারণ নাসিকামৰ্দন, দন্তে দন্তে ঘর্ষণ, নখে নখ বাজান, অস্থিতে অস্থিতে আঘাত, জোতিষ্কপদার্থদর্শন, একাকী শূন্যগৃহে বাস বা বনমধ্যে প্রবেশ, গানকালে পরিধানববায় মন্তক মার্জন, মল, মূত্রাদির বেগধারণ, সন্ধ্যাকালে আহার,

 

কবিরাজি শিক্ষা।নিদ্রা ও মৈথুন, রাত্রিকালে অপরিচিত স্থানে গমন প্রভৃতি কাৰ্যসমুদায় হইতে সততভাবে বিরত থাকিবে। রাত্রিকালে কোনস্থানে যাইবার আবশ্যক হইলে, মন্তকে উষ্ণীষ, পায়ে জুতা, হাতে যষ্টি এবং সঙ্গে নােক ও আলােক লইয়া যাওয়া আবশ্যক। স্বাস্থ্যবিধি সম্বন্ধে সক্ষেপত এই কথা বলিলেই যথেষ্ট হয় যে, যে সমস্ত কাৰ্য্য দ্বারা শারীরিক বা মানসিক কোন প্রকার অনিষ্টের সম্ভাবনা, কদাচ সেই সমস্ত কাৰ্য্যের অনুষ্ঠান করিবে না।নিয়মপালনের ফল।যথাযথরূপে এই সমস্ত স্বাস্থ্য বিধির

 

প্রতিপালন করিলে, নিয়ত নীরােগ থাকিয়া নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল উপভােগ করিতে পারা যায় ।সুতরাং ঐহিক বা পারত্রিক কাৰ্যসমুদায় নিৰ্বিয়ে সম্পাদন করিয়া, ইহকালে সুখী এবং পরকালে সংগতি লাভ করিতে সমর্থ হওয়া যায়। অতএব মানবমাত্রই সৰ্ব্বদা স্বাস্থ্যরক্ষাবিষয়ে যত্নবান্ হইবেন 1 

 

পীড়িতের কর্তব্য।-স্বাস্থ্য-বিধি সম্যক প্রতিপালিত না হইলেই শরীরে বিবিধ পীড়ার প্রাদুর্ভাব হইয়া থাকে। কখন কখন আবার সম্পূর্ণরূপেস্বাস্থ্যরক্ষা করিয়াও অভিধাতাদি আকস্মিক কারণদ্বারা পীড়িত হইতে হয়। যে কারণেই হউক, রােগ উপস্থিত হইবামাত্র তাহার উপশমবিষয়ে সর্বদা সাবধান হইবে। কোন রােগ সামান্য ভাবিয়া উপেক্ষা করা উচিত নহে; ফেহেতু সামান্য বােগও প্রথমাবস্থায় উপেক্ষিত হইলে, ক্রমে তাই দুশ্চিকিৎস্য হইয়া জীবন পৰ্যন্তও নষ্ট করিতে পারে। অতএব য়ােগ

 

হইবামাত্রই চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ লইয়া তাহার প্রতিকার করিবে। কোন রােগ অসাধ্য বােধ হইলেও “তাহা ভাল হইবে না ভাবিয়া চিকিৎসা করিতে বিরত হইবে না; কারণ অনেক অসাধ্য রােগও সময়ে সময়ে আরােগ্য হইতে দেখা যায়। রােগ হইলে ভয় না পাইয়া, তাহার আমুল বৃত্তান্ত চিকিৎসকের নিকট প্রকাশ করিবে, এবং চিকিৎসকের পরামর্শানুসারে সমুদায় কার্য সম্পাদন করিবে।

 

রােগ অসাধ্য বা উৎকট হইলে, চিকিৎসক বা আত্মীয়গণ রোগীর নিকট তাহা প্রকাশ না করি, রােগীকে সর্বদা পামাত জেগ বুলিয়া-আস্ত রাখিবে,যেহেতু রােগী হতাশ বা অসন্তুষ্ট হইলে, অনেক সাধনােগও অসাধ্য হইয়া উঠে।রােগীর অনুগত বিশ্বস্ত ও প্রিয়ব্যক্তি দুই একজন সর্বদা নিকটে থাকিয়া আখাস-পূর্ণ ক্ষিকারা তাহাকে সরু রাখিবে। রোগীর নিকট অধিক লােক থাকাও

 

Related Posts

সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না।

  সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার হয় না     নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ফাইনাল দিয়েছে।বরাবর সে বিগত পরীক্ষায় ভালাে ফলাফল অর্জন করেছে। পরীক্ষায়সে যে পাস…

সুন্দর চোখ সাজানো।

  সুন্দর চোখ সাজানো   যেন একটা ঘােরের ভেতরে পাখির দিনগুলাে কাটছে আজকাল। এমন একঘাের যে দিন কী রাত পাখির যেন খেয়াল নেই। আর খেয়াল রেখেই-বালাভ কী? দুদিন…

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।

  কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এসএসসি  পরীক্ষা  শেষ  হতে  না  হতেই  সৌম্য  যেন  নড়ে চড়েবসল। কোথা  ও   ঘুরতে  যেতে  হবে ।  কিন্তু  কীভাবে   বাবার  তােসময়  নেই, মাও যেতে  পারবে …

মোটরসাইকেল চালানো শেখা।

মোটরসাইকেল চালানো শেখা   এ সময়ে সাধারণত তীব্র শীত পড়ে। এবার আবহাওয়ার অবস্থা এলােমেলাে। শীতের কোনাে ভাব দেখা যাচ্ছে না। রাত গভীর হলেখানিক ঠান্ডা লাগে। তা ছাড়া কেবল…

বিরিয়ানি রেসিপি।

বিরিয়ানি রেসিপি   আগুনে ডুবিয়ে শরীর, বিবিয়ানা’র অন্তরে।বিবিয়ানা’ পুড়ে যাওয়া জীবনের গল্প। আস্ত জীবন নয়, জীবনেরকোনাে এক খণ্ড যেন। আচমকাই শুর আবার বােকা বানিয়ে ফুরিয়েযায়। জীবনের নাটাই অন্য…

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়।

মাথা ব্যথা দূর করার উপায়   সভ্যতার সূচনা থেকেই দেখা যাচ্ছে মানুষের নানা সমস্যা।আদিম যুগ থেকেই মানুষ নানা প্রয়ােজনে নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য আপ্রাণচেষ্টা করছে। মানুষের মৌলিক…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *